Home

Welcome to My Diary "Kingdom of Wasted Time"

উচ্ছিষ্ঠ সময়ের রাজত্ব

আমার ব্যক্তিগত এই ডায়েরীটার আমি নাম দিয়েছি- 'উচ্ছিষ্ঠ সময়ের রাজত্ব"। নামটা আমার নিজের থেকে নেয়া বা দেয়া নয়। আমার এক বন্ধু মেজর মিজানুর রহমান যাকে সবাই কবি মাইক বলে জানে, তার থেকে ধার করা। হয়তো সে নিজেও জানে না কখন কিভাবে আমি ওর এই চমৎকার নামটি চুরি করেছি। যাই হোক, নিরন্তর এই পৃথিবীতে কেউ যখন আসলেই একা থাকে, যখন তার কথা শোনার কেউ থাকে না বা সে কাউকে তার নিজের কথাগুলি বলতে পারে না অথচ বলা দরকার, কিংবা শেয়ার করা দরকার, তখনই বিকল্প হিসাবে মানুষ তার নিজের সাথে নিজে কথা বলে। আর সেটারই বহির্প্রকাশ এই ডায়েরী। সম্ভবত আমিও ঠিক সে রকমের একটা পরিস্থিতিতেই ছিলাম যাকে বলে Lonely in the Crowdy City আর সেই শহরের মধ্যে আমি আসলেই একা ছিলাম।  প্রতিটা বছর পেরিয়ে গেছে আমার, আর আমি সেই ফেলে আসা বছরগুলির দিকে তাকিয়ে দেখেছি- কি ভেবেছিলাম, কি হয়েছে আর কি হতে পারতো এর মত  বিশ্লেষন। 

যখনই আমি সময় পেয়েছি, লিখার চেষ্টা করেছি। মানুষের মন আবহাওয়ার মতো প্রতি ক্ষনেক্ষনে পরিবর্তনশীল। জ্যোৎস্না রাতের নির্মল আকাশে দিকে তাকিয়ে মন কখনো কখনো একাই হাসে, চৈত্রের দাবগাহনে আবার সেই মন কখনো কখনো অলস সময়ে কি যে ভাবে সেটা মানুষের মন নিজেও জানে না। কোনো এক ক্ষুদ্র ইদুরের খাদ্য চুরির লুকুচুরী দেখে হটাতই মুচকী হাসিতে মুখাবয়ব বিকষিত হয়ে উঠে কিংবা পথের ধারে কোনো এক রোগাকীর্ন শতায়ু বৃদ্ধাকে দেখে মন অতীব দুমরে মুচড়ে উঠে। প্রেয়সীকে না দেখলে যেমন মন উতালা হয়ে উঠে আবার তেমনি তার সাথে কখনো কখনো এমন ভাবের সৃষ্টি হয় যেনো তার সাথে আজীবনের আড়ি থাকলেই মন শান্ত হতে পারতো বলে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র অভিমানের সৃষ্টি হয়। 

এতো বিচিত্র এ পৃথিবী যার প্রতিটা ঋতুতে এর চেহারা ভিন্ন, কখনো অঝোর ধারায় বৃষ্টির সাথে চোখের ধারা প্রবাহিত হয়, কখনো কখনো হিমালয়ের চুড়ায় জমে থাকা অদৃশ্য জলীয় বাষ্পের মতো জলকনাকে পাথরের মতো শক্ত করে বুকে ধারন করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে মন কোনো এক সীমাহীন উচ্চতায়। কেউ তাঁকে ধরতে পারুক বা না পারুক তাতে ঐ হিমালয়ের হয়তো কিছুই যায় আসে না, তারপরেও কোটি কোটি জলকনারা বন্দি হয়েই থাকে সবার নাগালের বাইরে। 

যুদ্ধ দেখেছি, শান্তি দেখেছি, অপমান দেখেছি, দুশ্চিন্তা দেখেছি, ভালোবাসা দেখেছি, ঈশ্বরের মহিমা দেখেছি, অবুঝ শিশুর বায়নায় অঝোর ধারায় কান্না দেখেছি, নীতি দেখেছি, দূর্নীতি দেখেছি, কষ্ট দেখেছি, সুখ দেখেছি, দেখেছি অবারিত অজস্র রঙের ছড়াছড়িতে জলকেলীতে মগ্ন গভীর জলের ভিতরে প্রানীদের খেলা। মৃত্যু দেখেছি, মৃত্যুর কান্না দেখেছি আবার কিছু মৃত্যুর শান্তিও দেখেছি। লোভাতুর মানুষের বেচে থাকার আর্তনাদ দেখেছি, শোষিত হৃদয়ের ভাষাহীন কষ্টের অশ্রুবিন্দু দেখেছি। কিন্তু কোথাও কারো "সব পাওয়ার" সুখ দেখিনি। দেখিনি কোনো মানুষের আজীবনের ইতিহাসের শেষ অধ্যায়টুকু। চোখের জল দেখেছি বটে কিন্তু যে ব্যথায় জল গড়িয়ে পড়েছে সেই ব্যথা দেখিনি, খিলখিল করে আনন্দের ঢেউ দেখেছি বটে কিন্তু আনন্দের কি রং সেটা আজো দেখিনি। মৃত আদরের সন্তানের জন্য কোনো মায়ের আহাজারী দেখেছি কিন্তু তার অন্তরের ভিতরের ক্ষতের পরিমান দেখিনি। কতটুকু কান্নায় কতটুকু রক্তক্ষরন হয় তার পরিমাপ আমার জানা হয় নাই। ককেসাসের মতো বৃহৎ পাহাড়কুঞ্জের সেই নির্গম গিড়ীতে কেনো এতো মনোরোম ফুলের সমাহার বিধাতা তৈরী করে রেখেছেন, গভীর জলে নাম না জানা বৃহৎ মস্যের কেনো এতো দলাদলি কিংবা গভীর থেকে গভিরে কেনো বিধাতা এতো সম্পদ লুকিয়ে রেখেছেন তার খতিয়ান কিংবা হিসাব আমার জানা নেই। সব কিছুই ছিলো এক রহস্যের বেড়াজালে আবৃত বিধাতার কোনো এক বৃহৎ খেলার অনাবিষ্কৃত ছক। তারপরেও যতোদিন এই অবিনশ্বর পৃথিবীতে ছিলাম, ভালো লেগেছে, এর সকাল ভালো লেগেছে, রাতের নিঝুম নিস্তব্দতা ভালো লেগেছে, কোলাহল ভালো লেগেছে, শিশুদের, পাখীদের কিচিরমিচির ভালো লেগেছে। 

আমি জানি, আমাকে মনে রাখার মতো এমন কোনো ঘটনা আমি করিনি, তারপরেও কেউ কেউ হয়তো কিছুটা সময় আমাকে মনে রাখবে। সময়ের বিবর্তনে আমরাও সেই পূর্বসূরীদের মতো শতভাগ হারিয়েই যাবো। কেউ হয়তো মমী হয়ে ইতিহাসে বেচে থাকে, কেউ বেচে থাকে কল্যানে আবার কেউ বেচে থাকে তার কর্মফলে। তারপরেও সবাই মরার পরেও বাচতেই চায় যার কোনো কারন আমি আজো বুঝি নি। কেনো বাচতে চায় তখনো? কি আছে সেই বেচে থাকার মধ্যে যখন তার অন্তর মৃত, যখন তার চোখ বন্ধ, যখন তার কোনো অনুভুতিই আর নাই। 

আমি আমার এই 'উচ্ছিষ্ঠ সময়ের রাজত্ব" ডায়েরিতে যা লিপিবদ্ধ করেছি, তার কোনো কিছুই কল্পনায় ছিলো না। সব ঘটনার মূলে কেউ তো ছিলো। হয়তো প্রকাশ্যে অথবা গোপনে। পাঠকের পড়ার সুবিধার্থে আমি হয়তো একই লেখা বিভিন্ন সেগ মেন্টে ভাগ করেছি। কখনো "ফ্যামিলি" কখনো "লিটারেচার" কখনো "ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস" মেন্যুতে। হয়তো এটার প্রয়োজন ছিলো না। আবার একদিক থেকে কারো কারো জন্য হয়তো প্রয়োজন ছিলো। সবার দৃষ্টি এক নয়। কী হয়তো শুধু ভ্রমনের দিকেই আকৃষ্ট হবেন, কেউ আবার আমার উপর, কেউ হয়তো সাহিত্য নিয়ে জীবন কাটিয়ে দেন, আবার কেউ শুধু কল্পনার রাজ্যে কে কি ভাবছে তার আবিষ্কারে মগ্ন থাকেন। তাই যার যেটা প্রয়োজন সে বিন্নাসেই আমি কিছু কিছু একই লেখা বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে সাজানোর চেষ্টা করেছি।