আফিম যুদ্ধ

১৮৩৯ থেকে ১৯৪২ সালে এই যুদ্ধটা হয়েছিল। যুক্তরাজ্য আর চিনের মধ্যে এই যুদ্ধটা হয়। প্রধান কারন ছিল আসলে ট্রেড ডেফিসিট। চাউনিজরা ব্যাঙ খেলে কি হবে, এদের মাথায় বুদ্ধি ছিল সব সময়। কি একটা জিনিস খেয়াল করলে দেখতে পাবা যে, কোন এক বয়স্ক চায়নিজকে দেখলে মনে হবে না যে এরা বুড়া হয়ে গেছে। এর কারণটা কি কেউ জান? Its like anti-aging

যাক যেটা বলছিলাম। চায়নারা তখনকার দিনে অনেক সিল্ক, মসল্লা, চা, ইতায়দি পয়দা করত। আর এগুলোর প্রুচুর মার্কেট ছিল ইউরোপিয়ান মার্কেটে। কিন্তু অন্য দিকে ইউরপিয়ান্দের প্রডাক্ট চায়নায় চায়নিজরা একেবারেই ইম্পরট করত না। এর কারন চায়নিজরা নিজেরাই সব কিছুতে সেলফ সাফিসিয়েন্ট ছিল। আর চায়নিজ সরকার তাদের ট্রেড আইন দ্বারা বাইরে থেকে বিদেশী ইম্পরট বন্ধ করে রেখেছিল। শুধুমাত্র সিল্ভার আর সোনা চায়নিজরা আমদাই করতে পারত যা ইউরপিয়ান্দের কাছে ছিল অনেক। আর শুধুমাত্র এই সোনা আর সিল্ভারের মাধ্যমে ব্যবসা আদান প্রদান করতে গিয়ে ইউরোপে সোনা আর সিল্ভারের দ্রুত স্টক ফুরিয়ে আসছিল।

 কিন্তু ইউরোপিয়ানরা বসে থাকে না। যেটা আজকে ওরা বুঝে, ইন্ডিয়ানরা বুঝে কাল আর বাঙালি বুঝে ৬ মাস পর। ইয়রপিয়ানরা দেখল, যে, চায়নিজরা প্রচুর আফিম খায়। আর আফিম ছিল ইউরোপে নিষিদ্ধ। ইউরোপিয়ানরা করল কি সিল্ভার আর সোনার পাশাপাশি এই আফিমকে আরেকটা ট্রেড আইটেম বানিয়ে প্রচুর পরিমান আফিম চায়নায় রপ্তানি করা শুরু করল। দিনে দিনে চায়নায় আফিমের বিস্তার এতটাই হয়ে উঠছিল যে, কোন সরকার ই এই আফিম খাওয়ানো বন্ধ করতে পারছিল না।

চায়নিজ সরকার প্রতিটি স্থানে চেক পয়েন্ট বসিয়ে দিল কোথা থেকে কিভাবে এই আফিম চায়নায় ঢুকছে তা বন্ধ করার জন্য। একবার কোন এক ব্রিটিশ ব্যবসায়ির কাছ থেকে কাস্টম প্রায় ৩০ লক্ষ পাউন্ড আফিম জব্দ করল। ব্রিটিশ হচ্ছে হারামির জাতের গুরু। যদিও চায়নাকে আফিম প্রতিরোধ করার আইনকে চ্যালেঞ্জ করেনি কিন্তু এই জব্দ হওয়া আফিম তারা অবজেকসন দিল এবং পরবর্তীতে এইসুত্র ধরেই সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছিল। এর ফলে ১৮৪২ সালে ট্রিটি অফ নাঙ্কিং হয় যা ছিল এক তরফা একটা বিচার। এর মাধ্যমে চায়নাকে চায়নার পাচটি পোর্ট খুলে দিতে হয়, এবং হংকং হাত ছাড়া করতে হয়। আর এটাকে বলে অয়ার অব আফিম (১ম আফিম যুদ্ধ)। ২য় আরেক্তা আফিম যুদ্ধ হয়েছিল ১৮৫৬-১৮৬০ সালে।

আর ওটা ও ছিল আরেক ধাপ বড় যেখানে হারামি ব্রিটিশ চায়নাকে বাদ্ধ করেছিল উক্ত ৫ টা পোর্টের বদলে চায়নার সব পোর্ট খুলে দিতে এবং আফিমকে অফিসিয়াল আইটেম হিসাবে ডিক্লেয়ার দিতে। তখন রাজা ছিল কিং ডাইনেস্টি। জাঁদরেল রাজা। ঐ যে বললাম চায়নারা ব্যাঙ খাইলেও ওদের মাথায় একদম খারাপ ব্রেইন নাই। তারা করল কি যারা যারা ব্রিটিশ দের সঙ্গে এই আফিমের ব্যবসাটা করে তাদের সবাইকে টার্গেট করে। আগের চুক্তির (ট্রিটি অফ নাংকিং) খুব একটা আদলে নিচ্ছে না দেখে ব্রিটিশরা "মোস্ট ফেবারড নেশন" নামে একটা বানিজ্যক টার্ম ব্যবহার করে যার মানে হচ্ছে বানিজ্যক সুবিধা দেয়া। এতে চায়নিজ আফিম আমদানিকারকগন ব্রিটিশদের কাছ থেকে আফিম টেক্স ছাড়া কিনতে পারে। আর তখন কিং ডাইনেস্টি চায়নিজ ব্যবসায়িদেরকেও ধরা শুরু করল যে যারা যারা ব্রিটিশ জাহাজে করে এই আফিম আনবে তারা আনঅফিসিয়ালি ধরা খাবে। ব্রিটিশরা আরও হারামি। তারা করল কি ঐ সব চায়নিজদেরকে এই সুবিধাও দিল যে অনেক চায়নিজ ব্যবসাই ব্রিটিশ জাহাজের মালিকান রেজিস্ট্রি পেয়ে যায়। যাতে চায়নিজ কিন্তু ব্রিটিশ জাহাজ আবার আফিম আনতে পারবে। রাজনিতি কি খারাপ, স্বার্থ ছাড়া কিচ্ছু বুঝে না

তখন একটা ব্রিটিশ জাহাজ যার নাম ছিল "এরো"। এটা বেসিক্যালি ব্রিটিশ জাহাজ কিন্তু চায়নিজ ব্যবসায়ির নামে রেজিস্ট্রেসন করা। কিন্তু ১৮৫৬ সালে ঐ ব্রিটিশ জাহাজটি যদিও চায়নিজ এক ব্যবসায়ির নামে নতুন করে রেজিস্ট্রেসন করে দিয়েছিল আফিম ব্যবসাটা চালিয়ে নেবার জন্য কিন্তু ঐ বছর তখনো ব্রিটিশ ফ্ল্যাগটা ব্যবহার করছিল। আর যায় কই। কিং ডাইনেস্টি সুযোগটা হাতছারা করে নি। সিজ করে ফেলল ঐ "এরো" নামক জাহাজটি। অনেক তদবির তদবির করে জাহাজের ক্রুগুলোকে চায়নাদের কাছ থেকে ছারিয়ে নিয়ে গেলে ও চায়না কোনভাবেই ব্রিটিশদেরকে ক্ষমাও করেনি, ক্ষমাও চাননি। তখন যেহেতু হংকং ছিল ব্রিটিশদের আধিনে এবং হংকং এর শাসক ছিলেন ব্রিটিশ। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রির আদেশ ছারাই হংকং শাসক চায়নার ক্যন্টন আক্রমন করে বসে। বললাম না ব্রিটিশরা হচ্ছে হারামির জাত। এই অবৈধ আক্রমণকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রি পালমাস্টোন তার অফিসিয়াল সায় দিয়ে যুদ্ধটা বাধিয়েই দিলেন যা ২য় আফিম যুদ্ধ বা এরো যুদ্ধ ও বলা হয়।    ।