০১/০১/২০০০-মিলিনিয়াম নাইট

বাক্তার চর, কেরানীগঞ্জ

মিলিনিয়াম নাইট। আর কখনো আসবে না এমন একটা রাত। আবার হাজার বছর পরে এই মিলিনিয়াম রাত আসবে। 

আমরা গ্রামে এসেছি, সবাই আছেন। তাজির ভাইয়ের মেয়ে আমেনা আছে। আমার সব বোনেরাও আছে। এখানে একটা কথা না বললেই হচ্ছে না। আমার উত্তরসুরীর অনেকেই হয়ত জানবে না, এই তাজির আলি কারা, বিল্লাল ভাই  কারা ইত্যাদি। তাহলে আমি তাদেরকেও পরিচয় করিয়ে দেই। 

বিল্লাল ভাই, তাজির আলী এবং অন্যান্যরাঃ  

ঊনি হচ্ছেন আমার সতালু ভাই। অর্থাৎ আমার মায়ের প্রথম ছেলে। আমার মায়ের প্রথম যার সাথে বিয়ে হয়েছিলো, তিনি মারা যাওয়ার পর আমার বাবার সাথে আমার মায়ের পুনরায় বিয়ে হয়। ফলে বিল্লাল ভাই এর মা আর আমার মা একই মহিলা। বিল্লাল ভাইয়ের বাবা আমার বাবা নন। যখন আমার মায়ের প্রথম স্বামী মারা যান, তখন আমার মায়ের বয়স হয়েছিল মাত্র ১৩ বছর। ১৪ বছর বয়সেই আবার আমার বাবা আমার মাকে বিয়ে করেন। আমার বাবা আমার মায়ের থেকে একটু বয়সে বড় ছিলেন। আমার বাবারও তার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি আমার মাকে বিয়ে করেন। আমার মা যখন আমার বাবার সংসারে আসেন, তখন তার সংসারে ইতমধ্যে আমার মায়ের থেকেও বয়সে বড় সন্তান আছে। আমার বাবার প্রথম ঘরে ইতিমধ্যে তিন ছেলে আছে যারা ইতিমধ্যে বিয়েও করে ফেলেছে কেউ কেউ। এই তিন ছেলের নাম হচ্ছে (১) নজর আলী (২) মোহশীন (৩) তাজির আলি। এর মধ্যে আবার কয়েক বোনও আছে। তাদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়, প্রায় চারজন। এমন একটা সংসারে আমার মাকে আসতে হয়েছে বউ হয়ে। খুব কষ্টের দিন কেটেছে এই মাদবর বাড়ির নতুন বউটির।

বিল্লাল ভাইকে মায়ের বিয়ের প্রাক্কালে আমাদের পাশের গ্রামের এক নিঃসন্তান মহিলা খুব আদর করে দত্তক নেন। তারা খুব বিত্তবান মানুষ ছিলেন। বিল্লাল ভাইকে তারা খুব আদরের সাথে বড় করেছেন এবং পরবর্তীতে তারা তাদের সমস্ত সম্পত্তি এই বিল্লাল ভাইয়ের নামেই রেখে গেছেন। আমরাও বিল্লাল ভাইকে আমাদের নিজের ভাইয়ের মতোই দেখি, আমিতো কখনোই তাকে আমার নিজের ভাই ছাড়া অন্য কোনো কিছুই মনে করি না। বিল্লাল ভাইও খুব ভালো মানুষ। 

যাক যেই  মিলিনিয়ামের কথা বলছিলাম। আজ এই মিলিনিয়ামের রাতে আমরা সবাই এক হয়েছি আমাদের গ্রামে। রোজার রাত। ফাতেমা সারা রাত শুধু রান্নাই করে যাচ্ছিলো। প্রকৃতপক্ষে ফাতেমা মায়ের সাথেই থাকে। ফাতেমার ছেলেমেয়েরা আমাদের বাড়িতেই থাকে। ফলে আমরাও একটু সস্থিতে থাকি মায়ের যত্নের ব্যাপারে। ফাতেমা মায়ের অনেক যত্ন নেয়। 

হাবীব ভাই আমাকে ঘরের বাইরে নিয়ে একটা ব্যপারে কিছু উপদেশ কিংবা সাজেসনমুলক কথাবার্তা বলার চেস্টা করেছিলেন। সেটা খুলেই বলিঃ 

বদি ভাইয়ের সাথে আমার বনিবনা হচ্ছিলো না। কেনো বনিবনা হচ্ছে না, সেটা একটা দারুন ব্যাপার। ব্যাপারটা কিছুইনা আবার অনেক কিছু। সেটা হচ্ছে আমার বিয়ে নিয়ে। তাহলে সেটাও কিছু বলিঃ 

১৯৮৮ সালে ৩০ শে মে তে আমি মিতুলকে একা একা বিয়ে করি। প্রায় ১২ বছর আগে। কেনো একা একা বিয়ে করলাম, কেনো তাকে জানালাম না। কেনো ওই মিটুলকেই বিয়ে করলাম, তাকে তিনি পছন্দ করেন না, তারপরেও আমি তাকে বিয়ে করেছি, ইত্যাদি ইত্যাদি। কেনো তিনি মিতুলকে পছন্দ করেন না, তার ব্যাখ্যাও আমি জানি না। এইসব নিয়ে ঊনি চান হয় আমি মিতুলকে তালাক দিয়ে দেই, অথবা আমি আর মিতুল তার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাই, ইত্যাদি। আমি কিছুতেই বুঝতে পারি না কেন আমি ক্ষমা চাইবো তার কাছে? আমি তো অন্যায় কিছু করি নাই। বিয়ে করেছি। আমার সুখটাই কি ঊনি পছন্দ করেন না? তাহলে ঊনি তো আমাকে ভালই বাসেন না। আমি এমন একটা অযুক্তিক কারনে বদি ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়া কারন দেখি না। ফলে দিন গেছে মাস গেছে আমার আর বদি ভাইয়ের মধ্যে ডিস্টেন্স বেড়েই গেছে। এই ব্যাপারটা নিয়েই আজ হাবিব ভাই আমাকে প্রায় দুই ঘন্টা উপদেশ দেওয়ার চেষ্টা করলেন যেন ব্যাপারটা আমরা মিটিয়ে ফেলি। অথচ ব্যাপারটা মিটানোর জন্য আমি অনেক চেস্টা করেছি কিন্তু ঊনি এগিয়ে আসেন নাই। 

মিলিনিয়াম রাত শেষ হয়ে যাচ্ছে। আজ মিতুলের সাথে আদর হলো। মিলিনিয়াম আদর। আগামিকাল ভাইয়া চলে যাবে। সকাল হলেই সবাই যারযার জায়গায় বেরিয়ে পড়বে। শুভ আগমন মিলিনিয়াম শতাব্দি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *