০২/০৯/১৯৯৯- পারিবারিক অন্তর্কলহ

বৃহস্পতিবার, ছুটির দিন, ১৩৫৭ ঘণ্টা, মাঝিরা 

আমাদের পরিবারটির মধ্যে অন্তরকলহ ব্যাপক বেশি। আমি আমার পরিবার বলতে আমি, আমার বোনেরা, আমার ভাইয়েরা কে বোঝাচ্ছি। আমার মা বড় নিরিহ মানুষ। সে কোন পক্ষেই নয়। সে সত্তেই খুব অসহায়। আমি আমাদের পরিবারের সদস্যদের এবং যাদের সংগে আমাদের সদস্যরা মেলামেশা করে, আমি তাদের সবাইকে খুব কাছে থেকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছি। আমি তাদের কারোর মধ্যে কোন difference দেখিনি। এই পরিবারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, প্রতিটি সদস্য প্রতিটি সদস্যকে ভালবাসে, কিন্ত বিশ্বাস করে না। আবার অন্যদিকে, এই ভালবাসার বহিরপ্রকাশ খুব কম। এরা যানেনা কেমন করে ভালবাসার কথা বলতে হয়। ফলে একজন আরেকজনকে খুব সহজেই ভুল বুঝে। আর ভুল বুঝাবুঝির থেকে Gap তৈরি হয়। আমাদের পরিবারেও এই gap অনেক আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল। গ্যাপ তৈরি হয়েছে ভাইয়ের সংগে  বোনের, বোনের সংগে ভাইয়ের, ভাইয়ের সঙে ভাইয়ের। একজন আরেক জন তাদের এই ভুল বুঝার কারন বেখ্যা করতে পারেনা। তারা অবস্য জানে না কি কারনে তাদের  এই সমস্যা। ফলে শেষে যা দাঁড়ায় তা হচ্ছে হৈ চৈ আর রাগারাগি। সমাধান নাই।

এই পরিবারের সদস্যরা নিজের ভুল কখনই স্বীকার করে না, এবং তারা যা ভাবে ওটাই মনে করে যে সবচেয়ে ভাল সিদধান্ত। অন্য কারও সিদ্ধান্ত্ব গ্রহনযোগ্য নয়। এখানে আরো একটা মজার ব্যাপার হল, তারা নিজেরা জয় হবার জন্য  যা কিছু করার তাও করার অবকাশ রাখে। ফলে স্বার্থ বজায় রাখার কারনেই  একই ঘটনা এক এক জনের কাছ থেকে এক এক রকম শোনা যায়। এবং এর কোন শেষ নেই। “I am sorry, or I love you, or I miss you” এই জাতিয় কোন কথা এই ফামিলির লোকজন বলতে শিখেনি। তাই  বলে কি এই সব এই  ফামিলিতে  ঘটছে না?

 অবস্যই ঘটছে, কিন্তু বহির প্রকাশ ঘটছে না। এই গুলোর বহির প্রকাশ থাকাটা অত্যন্ত জররি। তবে  একটা জিনিশ আমি এখন জানি না, তা হল, এরা কি এদের নিজ নিজ ফামিলির সঙে এই বার্তা আদান প্রদান করে? হয়ত করে এবং সেটা আমার জানা নাই। যেমন, আমি চাই আমার  সন্তান বোজক যে আমি ওদের কে ভালবাসি। আমি ভুল করলে সরি বলতে চাই, মিস করলে বলতে চাই, আমি তোমাকে মিস করছি। এবং এভাবেই ওরা শিখুক যে একটা ফামিলি এভাবেই গড়ে  ওঠোক।  আমি এখনো বুঝিনা আমার ভাই আমাকে কতটা ভালবাসে, আমি এখনো বুঝিনা আমার বোন আমাকে  কতটা ভালবাসে, আমি এখনো বুঝিনা আমি আমার ভাইকে বা বোনকে কতটা ভালবাসি। মাঝে মাঝে আমি আসলে কিছুই বোঝতে পারি না। কি জানি একই অভিযোগ না জানি আমার সন্তানেরা করে কিনা কে জানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *