০২/১২/১৯৯৯-হাবিব ভাই বগুড়া সেনানীবাস

মাঝিরা সেনানিবাস, বগুড়া- 

হাবিব ভাই দেশে এসেছেন। সাথে মাসুদ। ভাইয়ের বড় ছেলে। আমার খুব পছন্দের একটা  ছেলে। মাসুদের ভাষায় ঢাকা হচ্ছে একটা ধুলাবালির দেশ আর তার সাথে ধুয়ার একটা চিমনি। সারাক্ষন তার বমি বমি আসে এই অটোরিক্সার ধুয়ায় আর সারাদেশের ধুলাবালির আবহাওয়ায়। মাসুদ কয়েকদিন তার নানীদের বাসায় থাকলো কিন্তু তার কাছে একেবারেই ভালো লাগে নাই। এমনিতেই বাচ্চা ছেলে, তার মধ্যে ঢাকায় তার কোনো বন্ধু বান্ধব নাই। তার মধ্যে আবার কেউ তার সাথে ইংরেজিতে কথা বলতে হয় বলে অনেকেই এড়িয়েই চলে।

একটা কম্পিউটার দিয়ে দিয়েছি ওর জন্য। কিনতে হয় নাই। আমার দোস্ত আলমগীরের ভাই মাহবুব আমাদের ডিভিসনে কম্পিউটার সাপ্লাই দেয়, তাকে বলে দিয়েছিলাম যেন কয়েকদিনের জন্য একটা কম্পিউটার দিয়ে দেয় আমার ভাতিজা মাসুদের জন্য। মাহবুব তাই করেছে। হয়ত এই কম্পিউটারের জন্যই মাসুদ কয়েকদিন একা একা ওর নানীদের বাসায় থাকতে পেরেছে।

গতকাল মাসুদ এবং ভাইয়া সাথে মিটুল বগুড়া সেনানিবাসে এসেছে। আমি আর মিটুল একরুমে, ভাইয়া আর মাসুদকে অন্যরুমে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বেশ শীত পড়েছে বগুরায়। 

হাবিব ভাই সারাদিন বগুড়ার সেনানিবাস দেখলেন, ওনার অনেক বন্ধু বান্ধবের সাথেও দেখা করার সুযোগ হলো। কিন্তু সেনানিবাস হওয়াতে অনেকেই আসতে পারলেন না। জেনারেল আনোয়ারকে ভাইয়ার কথা বলাতে জেনারেল আনোয়ারও ভাইয়ার সাথে দেখা করার মনোবৃত্তি প্রকাশ করলেন। আমি ভাইয়াকে নিয়ে গেলাম জেনারেল আনোয়ারের অফিসে। আর্মি নিয়ে অনেক কথা হলো ভাইয়ার সাথে জেনারেল আনোয়ারের। 

এক সময় ভাইয়া জেনারেল আনোয়ারকে যেতা বললেন সেটা হলঃ 

২১ শতকের সেনাবাহিনী হবে আসলে ভুমিভিত্তিক নয়, এটা হবে সাইবারভিত্তিক। আমরা যদি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে আধুনিকভাবে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সেনাবাহিনীর সাথে সক্ষমভাবে মোকাবেলা করতে চাই, তাহলে আমাদেরকে এখনি এই সাইবার ভিত্তিক সেনাবাহিনির দিকে নজর দিতে হবে। তথ্য প্রযুক্তির দিকে আরো বেশি নজর দিতে হবে। আর এর সাথে সাথে আরসেনালও বাড়াতে হবে। যদি সেনাবাহিনী চায়, তাহলে আমরা আমেরিকায় অনেকেই এই প্রযুক্তির সাথে জড়িত আছি, আমরা বিনে পারিশ্রমিকে এই  সুযোগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দিতে পারি। 

জেনারেল আনোয়ার চীফের সাথে (লেঃ জেনারেল মুস্তাফিজ বর্তমানে বাংলাদেশের চীফ হিসাবে আছেন) কথা বলে ভাইয়ার এই সাজেসনে কি করা যায় জানাবেন বলে আশ্বাস দিলেন। 

বাংলাদেশ আর্মি। কিছুই বলা যায় না। সিদ্ধান্ত নিতে বড্ড ভুল করে। দিন কে দিন এই আর্মির অফিসারেরা মেধাহীন হয়ে যাচ্ছে আর পয়সার দিকে বেশী ঝুকে যাচ্ছে বলে কোয়ালিটি পূর্ণ অফিসার আর তৈরী হচ্ছেনা। দেখা যাক, শেষ তক কি সাজেসন বা সিদ্ধান্ত আসে এই সব জেনারেলদের কাছ থেকে। আমার ধারনা নেগেটিভ হবারই কথা। হয়ত বুঝতেই পারবে না কি নিয়ে কথা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *