০৪/০৪/২০২১- অনলাইন দুনিয়া

Categories

অনলাইন দুনিয়া এখন মানুষের জীবনে একটা অভিন্ন অংশ হয়ে গেছে। এই দুনিয়া কখনো কখনো একদম অপরিচিত দুজন মানুষকে খুব কাছে নিয়ে আসে, বন্ধু বানায়। যখন কোনো মানুষের দুঃখ থাকে, কষ্ট থাকে, একাকিত্ত বোধ করে, কিংবা খুব খুশীতে থাকে, সে অন্য কারো সাথে তার এই অনুভুতিগুলি শেয়ার করতেই চায়। কেউ তো থাকবে যে, ওর কথা শুনবে। বুঝুক না বুঝুক সেটা আলাদা ব্যাপার, কষ্ট লাগব করুক বা না করুক সেটাও আলাদা ব্যাপার। কিন্তু কারো সাথে তো তার এই কষ্টের ব্যাপারগুলি শেয়ার করার খুব দরকার মনে করে। তখন দরকার হয় এমন কেউ যারা খুব কাছের বন্ধু কিংবা তার থেকেও কাছের কেউ। এই বন্ধুত্ব আমাদের জীবনের একটা গুরুত্তপুর্ন অংশ। আমরা আমাদের ভাল বা খারাপ সময়ের সময় আমরা এই বন্ধুগুলির মাঝেই থাকি। কিন্তু এই বন্ধুত্ব যদি এই অনলাইন দুনিয়ার কারনে কোনো ভুল মানুষের সাথে হয়ে যায়, তাহলে আমরা বিপদে মধ্যেও পড়তে পারি। কারন খারাপ সঙ্গের ফল খারাপই হয়। অনেকের জীবনের অনেক কাহিনী আছে যা রহস্যে ঘেরা থাকে। যখন কেউ এই রহস্য ঘেড়া চাদর সরাতে যান, তখন এমন এমন কিছু প্রশ্নের উদয় হতে পারে যা সাভাবিক জীবনের ভীত নড়ে যেতে পারে। এইসব রহস্য ঘেরা প্রশ্ন জানলেও অসুবিধা আবার না জানলেও জীবন সাভাবিক হয়ে উঠে না। এক্ষেত্রে কি জানা উচিত আর কি জানা একেবারেই উচিত না, সেটাই নির্ভর করে পরবর্তী সুখী জীবনের জন্য। তাই এই অনলাইন দুনিয়ার অপরিচিত মানুষগুলির কতটা কাছে যেতে হবে, কতটা তথ্য শেয়ার করতে হবে, কাকে কতটা জায়গা দিতে হবে এটা খুব জরুরী। কাউকে নিজের সম্পকে কতটা জানাতে হবে এই সিদ্ধান্ত হুজুগের বশে নয় ঠান্ডা মাথায় নেয়া উচিত। ইন্টারনেটে কোনো অচেনা মানুষের সাথে বন্দধুত্ত করতে হলে সবার আগে সবচেয়ে যেটা করা উচিত তা হলো নিজের সুরক্ষা। আর বিপদের আচ পাওয়ার সাথে সাথেই  নিজেকে বাচানোর জন্য তৈরী থাকা। ইন্টারনেটের আরেকটি নাম হলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব, একে ওয়েব এই জন্য বলে, কারন এটা মানুষকে, কিছু ইনফর্মেশনকে একটা ওয়েবের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়। কিন্তু এই ওয়েবও একটা ফাদ হতে পারে। একটা জাল, একটা ট্র্যাপ।

এই অনলাইন দুনিয়ায় বেশীরভাগ বিশ্বাস আসে একটা অন্ধ বিশ্বাস থেকে। কোনো কিছু না জানা থেকে। আর এই অন্ধ বিশ্বাস এমন এক চোরাবালী, যার না আছে একুল, না আছে ওকুল। সেখানে না কোনো জ্ঞানের আলো পৌছতে পারে, না সেখানে তর্কের কোনো জায়গা আছে। এখানে অনেক মিথ্যা বারবার উচ্চারন হয়। ভরষার স্থান তৈরী করা হয়। মজার বিষয় হলো- একটা মিথ্যাকে যখন কেউ বারবার মিথ্যে বলা হয়, তাহলে সত্যিটা কিছুটা হলেও ফেকাশে হয়ে যায়। বাস্তব জীবনে আমরা যেমন সিরিয়াল কিলারের সন্ধান পাই, তেমনি এই অনলাইন দুনিয়ায় সিরিয়াল ঠকবাজও হয়। এরা নিজেদের নেশায় এতোটাই মশগুল হয়ে থাকে যে, ও শিকারের আওয়াজটা শুনতেই পায় না। সে কতটা ক্ষতি বা আঘাত করছে সামনের মানুষটাকে, সে সেটা দেখতেই পায় না। কিন্তু যে আঘাত পায় সে প্রত্যেকটা জিনিষ দেখতে পায় আর শুনতেও পায়। আর মনেও রাখে। ফলে এই অনলাইন দুনিয়ার সব কাহিনীর সামনে যা দেখা যায়, তার থেকে অনেক বেশি ঘটনা লুকিয়ে থাকে না দেখার পিছনে।

কারো অতিতকে ঘেটে বর্তমানকে বিচার করাই হয়তো ঠিক কাজ নয়, কিন্তু ভরষা হলো এমন একটা কথা যা বর্তমান আর অতীতের মধ্যে মেল বন্ধন করে, ভবিষ্যতের দিকে অনুমান করে। কোন ব্যক্তি কি করেছিলো, কি করতে চলেছে, এটা নির্ভর করে সে ভবিষ্যতে কি করতে পারে। এটা খুবই স্বাভাবিক যে , যখন কারো সাথে কোনো সম্পর্ক হয়, হোক ব্যবসায়িক বা নিজস্ব, ঐ ব্যক্তির সম্পুর্ন জীবন একটা দলিল হিসাবে সামনে আসে। তখন বিচার বিশ্লেষন করে আমরা বিচার করতে পারি যে, সম্পর্ক রাখা উচিত নাকি রাখা উচিত নয়। এটা কোনো চরিত্র বিশ্লেষনের ব্যাপার না, শুধু একটা সম্পর্ক জোড়ার লাভ এবং ক্ষতির প্রশ্ন। ঠিক সেভাবে যেভাবে মানুষের অতীতের প্রশ্ন উঠে, তবে তাকে এই ব্যাপারটা বুঝতেই হবে আজকে সম্পন্ন হওয়া ভুল কাজ, আগামি দিন উম্মোচিত হবে সেটাই নিশ্চিত। অপরাধ কোনো ফল দেয় না, আর যদিও দেয়, সেই ফল একটা বিষাক্ত ফল।

তাই জীবিনকে তর্ক, জ্ঞান আর বিবেকের মাধ্যমেই চালানো উচিত, অন্ধ বিশ্বাসে না।