০৮/০৩/২০২১-টাকা

Categories

টাকা যদি কাছে থাকে, তখন জীবনটা খুব সহজ হয়। মানুস নিজের সব সপ্ন পুরন করতে পারে। সেটা যেমন করেই হোক, সব সুখ আদায় করে নেয়। টাকা যদি কাছে থাকে তাহলে দুক্ষ অনেক পিছনে পড়ে থাকে। আর আমরা অনেক এগিয়ে যেতে পারি। তাই শুধু টাকা থাকা দরকার।  টাকা সবার চাই। যতো বেশী টাকা, তাকে পাওয়ার চাহিদাও ততো বেশী। ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি যে, টাকা গাছে হয় না। কিন্তু অনেকেই এই সপ্ন দেখেন যে, যদি টাকা গাছে হতো!! আর সেই গাছটা নিজের হতো। টাকা আসে অনেক পথে, চুরি, লোপাট, ডাকাতি, ক্ষেত বা চাষবাস অথবা ভাগ্যবসে কোনো লটারী বা বিজনেস।

যে বিজনেজ আপনি বুঝবেন না, তাতে ইনভেষ্ট করবেন না। কিন্তু অপ্রিয় সত্য হলো যে, মানুষ প্রতিদিনই শিকার হয় একটি সপ্নের যে, টাকা গাছে ফলতে পারে। একজন বুদ্ধিমান ভালো মানুষও এই সপ্নের ছায়ায় অন্ধ, কালা, বোবা হয়ে যান। কোনো প্রশ্নই করতে পারেন না। আর ফ্রড নিজের চোখের সামনে হচ্ছে দেখেও তার ইংগিত শুনতে পান না। ফ্রড তার চালাকী খুব চালাকীর সাথেই করে। সে তার জাল অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে দেয়। তারপর তার পরিকল্পনা মানুষের কাছে এতো মিষ্টি করে বিক্রি করে যে, তারা জানতেই পারে না যে তাদের ফাসানো হচ্ছে। পায়ে পায়ে বেনিফিট। যখন কোনো মানুষ এটা বলে যে, সে এই স্কীমে এতো টাকা পেয়েছে, এতো বেনিফিট পেয়েছে, তখন অন্যরা ভাবে যে, এই স্কীমে নিশ্চয়ই কোনো সোনার খনি আছে। যদি সে পেয়ে থাকে তাহলে আমরাও পাবো। প্রতারকরা সেইসব মানুষের সুযোগ নিয়ে থাকে যারা তাদের মিথ্যা স্কীমকে সত্য বলে ধরে নেয়। প্রায়শই শিক্ষাদীক্ষা করা মানুষেরা এই ধরনের প্রতারনার শিকার হয়ে যান। কারন টাকার গাছ হবে, এই সপ্নটা সবাই দেখে। এই যে ‘যুবক’, ‘ইউনিপেটু’, কিংবা ডেস্টিনি ইত্যাদি এই ফ্রড কোম্পানীগুলির মূলনীতি সাধারনত একই রকম ছিলো। মুলনীতিটা যেনো এরুপ ছিলো- ইনভেষ্টরদের আসল টাকার প্রথম সুদের কিস্তি দিয়ে দাও, নতুন সদস্য আনার জন্য বোনাস দাও, আর তারপর ইনভেষ্টদের বিনিয়োগের বাকী টাকা লুট করে নাও। যেটা হয় যে, ২য় রাউন্ডের ইনভেষ্টদের ১ম জন অনেক টাকা কামিয়েছে, আর সেই লোভে পড়ে সেও অনেক টাকা ইনভেষ্ট করে। পুরু দেশ থেকে যখন কোটি কোটি টাকা কোম্পানীগুলির কাছে চলে আসে, তখন এই ফ্রড কোম্পানীগুলি এক রাতের মধ্যে সমস্ত টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ভুয়া কোম্পানী, জাল ঠিকানা, ফ্রড ফ্রন্ট অফিস, আর দেশের বাইরে থেকে অপারেশন হলো এইসব কোম্পানির আসল মুলমন্ত্র। ফিনান্সিয়াল করাপ্সন জব্দ করা খুবই কঠিন কাজ, আর সবচেয়ে বেশী কঠিন হয় ইনভেষ্টদের টাকা রিকভার করা।

সাধারন মানুষের কাছে টাকা আয় করা রাস্তা একটাই আছে, আর সেটা হলো সততার সাথে পরিশ্রমের রাস্তা।