০৮/০৪/২০০৫-বাড়ির কাজ চলছে পুরুদমে।

বাড়ির কাজ চলছে পুরুদমে। প্রতিদিন মীরপুর গোলারটেক আমি যাই। বড্ড ভালো লাগে যখন দেখি একতা একটা করে ইটের গাথনীতে আমার একটা একটা করে তালা সম্পন্ন হচ্ছে। ঠিক যেভাবে চেয়েছিলাম, সেভাবেই যাচ্ছে। হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন থেকে ১৫ লাখ টাকার লোন ইতিমধ্যে পেয়ে গেছি। প্রতিমাসে কিস্তি প্রায় ১৮০০০ টাকা করে দিতে হবে। ১৫ বছর। অন্যদিকে আমার পেনসন কমুটেশন থেকেও লোন পেয়েছি ১০ লাখ টাকার। হাতে যে টাকা ছিলো, তাঁর সাথে এই লোনগুলি পাওয়াতে আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে, চারতালা পর্যন্ত আমি একনাগাড়ে করে ফেলতে পারবো। আমার বাড়ির ডিজাইন করে দিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ইঞ্জিনিয়ার রফিক ভাই। অত্যান্ত অমায়িক লোক। উনি সাধারনত কারো ব্যক্তিগত বাড়ির ডিজাইন করে দেন না কিন্তু বন্ধুত্তের খাতিরেই তিনি আমার জন্য কাজটা করে দিলেন।

এপেন্ডিক্স জে সাবমিট করে দিয়েছি। যেকোনো মুহুর্তে আমার ডাক পড়তে পারে হাইয়ার হেড কোয়ার্টারে। অপেক্ষা করছি তাঁর জন্য। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কাছেও একটা ডিও পাঠিয়েছি। একই প্রকারের ডিও পাঠিয়েছি চীফের কাছেও। লেঃ জেনারেল হাসান মাশউদ। কেনো জানি লোকটাকে আমার পছন্দ নয়। আমি এই ভদ্রলোককে কমান্ডেন্ট হিসাবে পেয়েছিলাম এসআই এন্ড টি তে (স্কুল অফ ইনফ্যান্ট্রি এন্ড ট্যাক্টিক্স) সিলেটে। উনি বিএনপি ঘরোয়ার লোক।

আমার মা বেচে নেই কিন্তু শাশুড়ি মা বেচে আছেন। আমার খুব শখ ছিলো মা যদি দেখে যেতে পারতেন আমার একটা স্থায়ি ঠিকানা হচ্ছে ঢাকায়, খুব ভালো লাগতো। আমার শাশুড়ি আমার সাথেই থাকেন মীরপুরে। তাঁর ও খুব শখ আমার নতুন বাড়িতে তিনি থাকবেন। আমার খুব একজন মানুষ তিনি। দোয়া করি যেনো এই সব মা গুলিকে অনেক হায়াত দেন।

ইদানিং যেনো সব কিছু খুব ফাস্ট মুভ করছে। রিভার সাইড সুয়েটার্স এর ব্যাপারেও অনেক এগিয়ে গিয়েছি। কথাবার্তা চলছে বটে কিন্তু নাজিম সাহেবের মতিগতি খুব একটা স্টেবল মনে হচ্ছে না। আসলে তাঁর কাছে কয়েক কোটি টাকা লস কোনো ব্যাপারই না। মাঝে মাঝেই আমি নাজিম উদ্দিন সাহেবের আস্তনায় যাই। কিন্তু তাঁর সব সাংগ পাংগরা এতোটাই দুর্ব্রিত্ত যে, ওদের সাথে আমার যায় না। তারপরেও আমি বিশেষ কারনেই তাঁর সাথে একটা ভালো সম্পর্ক রাখছি।

তৌহিদের সাথে আমার প্রতিনিয়ত যোগাযোগ অব্যাহত আছে। সে চায় আমি ফ্যাক্টরীটা নেই। তৌহিদ আমাকে জানালো যে, এই ফ্যাক্টরীতে জনাব মোহসীন নামে একজন ডিএমডি হিসাবে কাজ করতেন। গার্মেন্টস লাইনে তিনি এতোটাই পাকা যে, যদি তাকে খুজে পাওয়া যায়, তাহলে আমার জন্য খুবই ভালো হয়। কারন তিনি মার্কেটিং জানেন, কষ্টিং জানেন, প্রোডাকসন জানেন এবং অত্যান্ত ভালো একজন মানুষ। আমি মীরপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকেই সবকিছু তৌহিদের মাধ্যমে ফ্যাক্টরীর সব বিষয়ে আপডেট নেই। লুতফর রহমান সাহেব কি করছেন, তাঁর মোটিভ কি, ইত্যাদি।

এর মধ্যে আমি ফা এপারেলস এ ভিজিটে গিয়েছিলাম, সাভারে, দেখেছি যে, প্রায় সব ওয়ার্কাররা বসে আছে। এখন নাকি কাজ নাই। জাবের জানালো যে, এটা একটা অফ সিজন, আর অফ সিজনে ওয়ার্কারদের কাজ না থাকলেও ছাটাই করা বুদ্ধিমানের কাজ না। কারন পিক টাইমে আবার ওয়ার্কার পাওয়া যায় না। সাথে লিখনকে নিয়ে গিয়েছিলাম। লিখনও আমাকে খুব একটা ভালো ফিডব্যাক দিতে পারলো আসলে একটা ভাল ফ্যাক্টরীর কি ক্রাইটেরিয়া থাকে। শুধু একটা কথা বল্লো যে, কমপ্লায়েন্স এর ব্যাপারে আরো কিছু কাজ করতে হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কমপ্লায়েন্স আসলে কি? এই কমপ্লায়েন্স মানেও আমাকে লিখন ভালো করে বুঝাতে পারলো না। হয়তো আমি বুঝবো না বলেই খোলাসা করে বলে নাই।

যাই হোক, আমি বারবার কেনো জানি রিভার সাইড সুয়েটার্স এর দিকে ঝুকে যাচ্ছি। তউহিদকে বললাম, মোহসীন সাহেবকে খুজে বের করো, আমি তাঁর সাথে কথা বল্বো। দেখি কোনো আইডিয়া দিতে পারেন কিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *