১০/০৮/২০১৭-সন্তান চেনা

Categories

কোথায় যেনো একবার পড়েছিলাম, ছেলেকে চেনা যায় যখন সে বিয়ে করে, মেয়েকে চেনা যায় যখন সে যুবতী হয়, বউকে চেনা যায় যখন স্বামী দরিদ্র অবস্থায় পতিত হন, আর স্বামীকে চেনা যায় বউ যখন গুরুতর অসুস্থ হন। আর সন্তানকে চেনা যায় যখন আপনি বৃদ্ধ হবেন। কিন্তু এই চেনা জানা করতে করতে আমাদের জীবনে আর সময় বেশি বাকি থাকে না। সৌভাগ্যের কাঠি নিয়ে যারা এই পৃথিবীতে জন্ম গ্রহন করে, তাদের বেশীর ভাগ মাতাপিতাই ধনী গোত্রের, কিন্তু সুখি জীবনের অধিকারী মানুষ গুলি সচরাচর মধ্যবিত্ত ঘরের মানুষ গুলিই ভোগ করে। এর কারন, তারা একে অপরের জন্য দুঃখ, ভালবাসা, হাসি, কান্না, অপেক্ষা, যন্ত্রনা, আনন্দ সব কিছু ভাগ করে নেয়।

অনেক মানুষকে বলতে শুনেছি, জীবনতো একটাই। একটা মানুষের একের অধিক গাড়ি থাকতে পারে, একের অধিক বাড়ি থাকতে পারে, একের অধিক ব্যাংকে টাকা পয়সা থাকতে পারে, এমন কি একের অধিক জীবন সাথীও থাকতে পারে, কিন্তু মানুষের জীবন তো একটাই। আনন্দ করুন, মন যা চায় তাই করুন, তারপর মরুন। আমার তখন জানতে ইচ্ছে করে, আনন্দ কোনটা? রাত জেগে জেগে টিভির পর্দায় একা একা নাটক, সিনেমা দেখাই কি আনন্দ? কিংবা ডিজিটালের যুগে সারাদিন ফেসবুক, চ্যাট, ইমু, গেমস, ভাইবার ইত্যাদি নিয়ে বসে থাকাই কি আনন্দ? কিংবা এসি রুমে মন খারাপ করে একা একা বসে থাকাই কি আনন্দ? কিংবা এসি গাড়িতে বসে দুরের কোনো পার্কে অপরিচিত কোন এক যুবক কিংবা যুবতীর জন্য ডেটিং করাই কি আনন্দ? অথবা আনন্দ কি এমন যে, সারাদিন হাসতে হাসতে সময় কাটানো? আর সেটাই যদি হয়, কতক্ষন? আনন্দ কি এটা যে, অন্যায় করে ভুল পথে অনেক টাকা রোজগার করা? কিংবা ব্যাংকে অনেক টাকা আছে, তো যখন তখন বিদেশে গিয়ে কোথাও লাঞ্চ, কিংবা কোথাও ডিনার, অথবা অন্য কোনো দেশে রাত যাপন করা? অথবা আনন্দ কি এইটা যে, গরীব মানুষদের সাথে, কিংবা নিজেদের থেকে একটু নীচের ক্লাসের পাশের বাড়ির প্রতিবেশীদের সাথে না মিশে শুধুমাত্র দেখে দেখে বড় লোকদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করা? আনন্দ কি এটা যে, ঈশ্বরকে মানলাম না, বিজাতীয় কালচারে যা খুশি করা? আনন্দ কি এইটা যে, পরিবারের কোনো সদস্যদের সাথে কম্প্রোমাইজ আর এডজাস্টমেন্ট না করে শুধু নিজের যা খুসি ইচ্ছে মতো করা? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে। আসলে আনন্দটা কি? কোনো কিছু আমার মনের মত হল না, আমি মানতে পারলাম না, আর আমি মানতেও চাই না, আমার যা মনে ধরবে সেটা করতে পারাই কি আনন্দ তাহলে? এ অদ্ভুত এক হিসাব।

আমার কাছে আনন্দে থাকাটা ঐ রকমের কিছু মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয়, যখন কোন এক দুঃস্থ পরিবার লজ্জায় কারো কাছেই হাত পাততে পারে না অথচ তার সমস্যার অন্ত নাই, তখন আমার কোনো একটা হাসি, কোনো একটা হাত বারানর সাহাজ্য, কিংবা তার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে তার দুঃসময়ের একটু সাথি হতে পারার মধ্যে যে আনন্দ, সেটাই আনন্দ। কিংবা অসচ্ছল কিংবা টেনেটুনে কোনো রকমে নিজের সৎ রোজগারের মধ্যে সীমিত আয়ের মধ্যে সবাইকে নিয়ে ভাগাভাগি করে একটা পর্ব পালন করার যে আনন্দ, সেটাই আনন্দ। অথবা হেটে হেটে রোদে ঘেমে, কিংবা ভিজে ভিজে দুই হাতে বাজার নিয়ে আপন জনের জন্য কিছু বহন করে বাসায় গিয়ে সবাই মিলে এক সাথে আনন্দ করে খাওয়ার যে ত্রিপ্তি সেটাই আনন্দ।

মানুষ কেনো কষ্ট পায়? টাকার অভাবে মানুষ কষ্ট পায়? কিংবা অনেক সম্পদ নাই, এইজন্য কি মানুষ কষ্ট পায়? অথবা কষ্টটা কি এই জন্য যে, সে যার যা খুশি সে মোতাবেক মনের আনন্দে কিছুই করতে পারে না? অথবা এমনকি যে, ঈদে, জন্ম বার্ষিকীতে, বিবাহ অনুষ্ঠানে, অথবা বড় বর শপিং সেন্টারে গিয়ে অনেক অংকের বাজার সদাই না করতে পারায় মনে কষ্ট? আমার কাছে এই রকম মনে হয় না। যদি তাই হতো, তাহলে যারা বিশ্ববিখ্যাত ধনি, যাদের অনেক টাকা আছে, সম্পত্তি আছে, যাদের এইগুলি বাস্তবায়ন করতে কোন বেগ পেতে হয় না, তারা সবাই সব সময় খুশি এবং সুখিই হতো। কিন্তু তারাও তো অনেক কষ্টে থাকে। কখনো পারিবারিক কষ্টে, কখনো শারীরিক কষ্টে, কখনো মনে আনন্দ নাই এই কষ্টে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *