১২/০৪/২০১৬–সাফল্য এবং তার পথ নির্দেশনা

Categories

সাফল্যের পথ কখনোই ইস্পাতের মতো এতো নিখুত নয়। এই সাফল্যের দরজায় যেতে হলে অনেক কঠিন দূর্গম পথ বেয়ে বেয়েই উপরে উঠতে হয়। আর এটা একদিনেই হয়ে যাবে এটা আশা করা শুধু বোকামিই নয়, এটা একটা মূর্খতাও। সাফল্যের শেষ প্রান্তে যেতে যেতে পথে কত যে কুকুর, কত যে হিংস্র পশু, কত যে দাবানলের মতো অগ্নিজলা বন, আর প্রাকৃতিক ঝড় পেরুতে হয়, তার কোনো ইয়াত্তা নাই। যারা আজ বড় হয়েছে, তাদের প্রতিটি জীবনের কাহিনী কোথাও না কোথাও এক। সাফল্যের এই গন্তব্যপথে যেতে যেতে একটা কথা মনে রাখা অতীব বাঞ্চনীয় যে, কেউ বন্ধু হয়ে শত্রুর আচরন করতে পারে আবার কেউ শত্রু হয়েও শত্রুর মতো আচরন নাও করতে পারে। অনেক কুকুররুপী মানব, কিংবা অনেক মানরুপী কুকুরও সারাক্ষন ঘেউ ঘেউ করতেই পারে, কিন্তু এসব কুকুরদেরকে, হায়েনাদেরকে প্রতিটি ক্ষেত্রে পাথর মেরে মেরে যদি সামনে এগুতে হয়, তাহলে সাফল্যের গন্তব্যপথের নিশানা ভুলে যাবার সম্ভাবনা থাকে। থাকে দিক নির্দেশনা হারিয়েও যাওয়ারও। তাই, কুকুর থাকবে, কুকুরের ঘেউ ঘেউ থাকবে, তার মানে এ নয় যে, প্রতিটি কুকুর, আর প্রতিটি বাধাকে মনোযোগ দিতে হবে। জানতে হবে ঠিক সথিকভাবে, কোন বাধাকে সরাতে হয়, আর কোন বাধাকে কোনো মনোযোগ দেবার কোনই প্রয়োজন নাই। 

সাফল্যের এই চাবিকাঠির আরেকটা প্রধান দিকনির্দেশনা হচ্ছে, নিজের মুখকে নিয়ন্ত্রন করা। মুখ এবং এর দ্বারা ছুড়ে দেয়া ভাষা এমন এক অস্ত্র যা একবার ছোড়া হয়ে গেলে তা আর ফিরিয়ে নেয়া যায় না। আর এর ফলে টার্গেটে কতটা ক্ষতি হলো তার থেকে বেশি ক্ষতি হয়ে আসে নিজের ফলাফল। যে কোন পরিস্থিতিতেই কেউ যখন এমন এক অবাধ্য যন্ত্রের মতো মুখের বুলি বুলেটের মতো কেউ ছুরে দিয়ে ভাবে, সে অনেক ভাল কাজ করে ফেলেছে, এটা হয়তো মনের শান্তনার জন্য যথেষ্ট কিন্তু সাফল্যের বড় অন্তরায়। ফিরিয়ে নেয়ার কোনো পথা খোলা থাকে না বলে হয় তার জন্য ক্ষমা চাওয়া নতুবা ব্যর্থতার গ্লানি মাথায় নেয়ার সামিল হয়ে উঠে। শুধু তাইই নয়, এটা চিন্তা করাও বোকামি যে, সবাই ছুড়ে দেয়া পরিত্যক্ত বানীর বিপরীতে ক্ষমা মেনে নেবে বা ক্ষমা করে দেবে। এ চিন্তাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাই এই সুলভে পাওয়া যন্ত্র দ্বারা অসুভ কোন নির্মম কথাও আমাদের চিরদিনের স্বপ্নের উদ্দেশ্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে অনেক ভেবে চিনতে এর প্রয়োগ করা উচিত।

সাফল্যের পথে যতো বেশী পরিমান বিশ্বস্ততা অর্জন করা যায়, ততো সহজ হয়ে উঠে দূর্গম গিরিপথের সেই সাফল্য ভ্রমন। আর এই বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য সবচেয়ে বেশী যা কার্যকরী ভুমিকা রাখে তা হল, প্রতিনিয়ত সত্যকে আকড়ে ধরে থাকা। একটা মিথ্যা বা একটা অর্ধ মিথ্যাই যথেষ্ট সব বিশ্বস্ততা হারিয়ে ফেলার জন্য। আর একবার যদি এই মিথ্যার জালে কেউ বাধা পড়ে, তখন আর যাইই হোক সাফল্যের দেখা পাওয়া অনেক আওহজ হয়ে উঠে না।  

আরো একটা অদৃশ্য শক্তি সবার অগোচরে প্রতিনিয়ত কাজ করে। আর সেই মহাশক্তিধর গোপন শক্তিটি হচ্ছে, নিগূড় ভালবাসার বহিরপ্রকাশ। ভালোবাসা হচ্ছে একটা আংটির মতো। এর যে কোথায় শুরু আর কোথায় শেষ কেউ বলতে পারে না কিন্তু এর উপস্থিতি সার্বোক্ষনিক উপলব্দি করা যায়। ভালোবাসার বহিরপ্রকাশ যতো বেশী প্রখর, বিশ্বস্ততা অর্জন ততো সহজ, বিশ্বস্ততা যতো বেশী সহজ অনিয়ন্ত্রিত ভাষা ততো নিয়ন্ত্রিত। আর এই ভাষা যতো নিয়ন্ত্রিত, ভালো বন্ধুর সংখ্যা ততো বেশী। ভালো বন্ধুর সংখ্যা যতো বেশী, দূর্গম গিরিপথে সহচর ততো বেশি। দূর্গম পথে যতো বেশি ভাল সহচর, পথ ততো সহজ। আর এখানেই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।  তবে একটা ভয়ের মতো উপসর্গ থেকেই যায় এখানে। কেউ কেউ ভাল বন্ধু হতে পারে বটে কিন্তু সবাই ভাল ভ্রমনসংগী হয় না। এই সংগী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ক্রাইটেরিয়া জানা থাকা বড্ড বেশী জরুরী। যেমন, সৌন্দর্য এবং সুন্দর চেহারার সব মানুষই ভাল হবে এই কথাটা ঠিক নয় কিন্তু সব ভাল মানুষই সুন্দর মনের।

সাফল্য যখন ধীরে ধীরে কাছে আসতে থাকে, এর একটা রুপ ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে। আর সেটা হচ্ছে ক্ষমতা। সাফল্যের ওজন যতো বেশী, ক্ষমতার ভার ততো বেশী। তাই, যখন ক্ষমতার ধার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, নিজের উপর নিয়ন্ত্রন যদি ততোতা না রাখা যায়, এক সময় অনিয়ন্ত্রীত ভারে তা চুরান্ত রুপ পাবার আগেই ভুমিতে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য সবসময় মনের মধ্যে এই ভাবনা থাকা খুব জরুরী যে, ক্ষমতা শুধু মানুষকে ক্ষমতাই দেয় না, এটা দিয়ে মানুষকে ক্ষতিও করা যায়। তাই ক্ষমতার সাথে ভালবাসার শক্তিকে বেধে ফেলা অনেক দরকার। কারন ভালবাসা দিয়ে কোনো মানুষের কখনো ক্ষতি হয়েছে এমন নিদর্শন ইতিহাসে নাই। তাই শুধু ক্ষমতা নয়, ভালবাসার ক্ষমতা প্রয়োগ হচ্ছে সাফল্যের সেই গোপনশক্তি যার দ্বারা জগত সুন্দর হয়। এর দ্বারা সুখী আর আরামদায়ক ফলাফল হাতের মূঠোয় আসে। তাতে আনন্দের সাথে আসে সুখ। সুখী হতে গেলে তাই জীবনে এমন অনেক অপ্রয়োজনিয় জিনিষ ভুলে যেতে হয়।

আমি সব সময় সক্রেটিসের সেই কথাটার সাথে একমত হতে পারি নাঃ যার কাছে টাকা আছে তার কাছে আইন খোলা আকাশের মত আর যার কাছে টাকা নাই তার কাছে আইন মাকড়শার জালের মত। এটা হয়তো কিছু সাময়িক সময়ের জন্য ঠিক কিন্তু লম্বা ইতিহাসে এর সত্যতা অনেকাংশেই বিলুপ্ত হয়েছে। এমন কি সক্রেটিসের বেলায়ও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *