১৩/০২/২০১৮-কনিকার জন্মের আগে লিখা

আমার ছোট মেয়ের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে এ মাসের প্রথম সপ্তাহে। একটা জিনিষ আমি লক্ষ করছি যে, কনিকা কোনো কিছুতেই টেনশানে থাকে না। সবাই যেখানে পরীক্ষার টেনশানে বিভোর, কনিকা এখনো পড়তে বসলে তার টেবিলের চারিদিকে পুতুল, ছোট ছোট খেলনা, কিংবা তার আইপড অথবা নেইল কাটারের সেট অথবা ছোট কোন এক সুন্দর বোতলের ক্যাপ ইত্যাদি সাজিয়েই বসে। মনোযোগ দিয়ে পড়ে কিনা তাও আমি জানি না। 

পরীক্ষার একদিন আগে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কাল থেকে তো তোর মেট্রিক পরীক্ষা। সে মুচকী হেসে দিয়ে বল্লো, হুম, কিন্তু ২২ তারিখে তো শেষ। কি অবাক। সে শেষ কবে সেটা নিয়ে খুশী। এটাই হচ্ছে কনিকা। অথচ আমার বড় মেয়ে উম্মিকা, তার পরীক্ষার আগে বা সপ্তাহে ঘুম হারাম, খাওয়া দাওয়াও কমে যায়। সে এখন ডাক্তারী পড়ছে। এখনো সে পরীক্ষার ব্যাপারে খুব সিরিয়াস। মাশআল্লাহ সে ভালো করছে এটাই আমার প্রাপ্য। 

একচুয়ালী আমার মেয়েদের থেকে সবচেয়ে বেশি টেনসনে থাকে ওদের মা। সারাক্ষন নামাজে থাকে, দোয়াদরুদ পড়ে। এবার দেখলাম, এক হুজুরকে ডেকে সে আমার ছোট মেয়ের কলমে দোয়া পরিয়ে দিচ্ছে। সারাদিন টেনসনে থাকে, মনে হয় পরীক্ষাটা ওই দিচ্ছে। 

কনিকার জন্মের সময় আমি ওর ব্যাপারে একটা লেখা লিখেছিলাম আমার ডায়েরীতে। সেই মেয়েটা আজ পরীক্ষা দিচ্ছে এসএসসি। তাহলে, আজ আমি ওই ডায়েরীর পাতাটা এখানে যোগ করি কি লিখেছিলাম। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *