১৩/০৪/২০১৩- প্রধান মন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

মীরপুর, গোলার টেক, পাল পাড়া রোড, ঢাকা-১২১৬ 

 প্রধান মন্ত্রী,

তুমি নিশ্চয়ই ভগবানের থেকে বড় না। আমি ভগবানকে তুমি করে বলি। আমি তোমাকেও তুমি করে বলতে পারি। তুমি খুব ভাগ্যবতি, কারন তুমি দেশের প্রধানমন্ত্রী । ভগবান তোমাকে সুস্হ করে বানিয়েছেন, তোমার কোন অঙ্গহানি নাই, তুমি সবল। তুমি কথা বলতে পার, তুমি প্রিথিবির রূপ দেখতে পার, তুমি সূর্য দেখতে পার, তুমি চাঁদ দেখতে পার, তুমি একা একা চলতে পার, তুমি হাযার হাযার মানুষের থেকেও ভাল আছ।  তুমি মেয়ে মানুষ অথচ তুমি অনেক ছেলেদের থেকেও পাওয়ারফুল। তুমি এতিম কিন্তু তুমি এতিমের মত না, তোমাকে মানুষ সম্মান করে, তুমি এদেশের সবচে সিনিওর। ভাবত একবার প্রধানমন্ত্রী! অথচ তুমি অনেক মানুষের সপ্ন বাস্তব দিতে পারছ না।  কেন? তুমি কি চোর? তুমি আমাকে বল তুমি যদি চোর না হও তবে কেন তুমি চোর পাল? কি তোমার ভয়? তুমি হ্মমতা হারাবে? নাহ। তুমি হ্মমতা হারাবে না। এদেশের মানুষ অনেক চালাক, তারা  বুঝতে পারে কি হচ্ছে  কোথায়। তোমাকে আমি মাঝে মাঝে বুদ্ধিমতি বলে মনে করি কিন্তু অনেক সময় তুমি বুদ্ধিমানের মত কাজ কর না। কি তোমার সমস্যা? বলনা  দেশবাসিকে? ওরা তোমাকে ভালবাশে, তুমি কি এটা জান? তুমি কেন হিটলার হতে পার না? তুমি কেন স্তালিন হতে পার না? তুমি কেন আরেকটা মুজিব হতে পারনা? মুজিব তো বলেছিল, আমার কম্বল কই? তুমি কি সে কোথা ভুলে গেছ? মুজিব তো বুলেটের সামনে এসে বলেছিল, কিরে তোরা কি চাস? আহ কি দারুন কথা। তুমি কি তার মেয়ে নও? তুমি বল না আমাদেরকে যে, তোমার পরনে কাপড় নাই, আমরা আমাদের কাপড় তোমাকে দিয়ে দেব, তুমি বলনা, তোমার ঘরে খাবার নাই, আমি  তোমাকে বলছি, আমি খাব না, আমার খাবার আমি তোমাকে দিয়ে দেব। সুধু দেশটাকে বাচাও প্রধানমন্ত্রী । তুমি সমুদ্র জয় করেছ, এর জন্য তোমাকে আমরা পুজা করব, এর জন্য তোমাকে অনুস্টান করে মালা নেবার দরকার নাই। তুমি এত বোকা কেন? তুমি প্যাপার পরনা? তুমি দেখ না যুবক সমাজ কি বলছে? সময় পাল্টে যাচ্ছে, চোখকান খোলা রাখ প্লিয। আমার জীবনে আমি কখন ভোট দেই নাই, এবার প্রথম আমি সুধু তোমার জন্য ভোট দিয়েছি। আমি কি ভুল করেছি ? আমি জানি, আমাদের ভালবাসা তোমার আয়ুস্কাল নির্ভর করে না, কিন্তু  তোমার ভালবাসায় আমদের আয়ুস্কাল নির্ভর করে । তুমি কি ভাল আছ?  তুমি ভাল নাই। কেন তুমি এমন কিছু লোক নাওনা যারা দেশের ভাল করবে, হোক না তারা তোমার শত্রু, কিন্তু তারা যদি দেশটাকে ভালবাসে, নাও  না ওদের। তুমি কেন নেলসন মেনডেলার মত একটা ইতিহাশ তৈরি করনা? তুমি ইতিহাশ হয়ে যাও। তোমার পথ ধরে তোমার সন্তানরা আসবে, তোমার পথ ধরে আমরা আসব, কেন, কেন তুমি পারনা? 

তুমি অগ্নিকন্যা কিন্তু তোমার অগ্নি মানুষকে পোড়ায় না। তাহলে তুমি কেমন আগ্নিকন্যা? আমি রাজনীতি করি না কিন্তু আমি রাজনীতির সব খবর রাখি, আমার ব্যথা লাগে, আমার কষ্ট হয়, তুমি দেখনা প্রধানমন্ত্রী, তুমি পারবে না? তুমি পারবে। তুমি আমাকে খুজনা, আমি রাজনিতিকে ভয় পাই, আমি সুধু চাই আমি অনেক লোকের ভার নিতে চাই না। ওরা তোমাকে চায়, অথচ আমরা তোমার হয়ে কাজ করছি। আমরা তোমাকেও কষ্ট দিতে চাই না। তুমি অনেক ব্যস্ত। সধু তুমি সৎ থাক। এ দেশের মানুষগুলো ভাল, ওরা বাচতে চায়, ওরা তোমার কাছ থেকে টাকা চায় না, ওরা তোমার কাছ থেকে করুনা চায় না, ওরা চায়, ওদের কাজে বাধা দিও না, হরতাল, অবরোধ, ওরা ভয় পায়, তুমি জান এটা? আমি বিরোধী দলকেও ভয় পাই। ওরা আরও অনেক কঠিন কাজ করতে পারে। কিন্তু ওরা কি আমাদের ভালবাসে না? ওরা কার জন্য রাজনীতি করে? যদি রাজনিতি হয়ে থাকে আমাদের জন্য তবে আমদের কথা শোন। আমি অনেক দেশ ঘুরেছি, দেখেছি, নেতা অনেক বড় জিনিস। আমি তোমাদেরকে নেতা মানতে চাই। কে জয়, কে তারেক, এতে আমার কোন  দুঃখ নাই, আমি সুধু চাই, শান্তি আর উন্নতি। তোমারা দুইজন এক সংগে বসনা প্লিয। দেখেবে দেশটা ভাল হয়ে যাবে। এ কাজটা তোমার। ওরা বসবে না, তুমি ওদের বস্তে বাধ্য করবে। না বসলে ওদের লাভ, বসলে তোমার লাভ। 

   

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তুমি কি বোঝতে পারছ দেশের মানুষের কথা? এ দেশের ৫৫% শতাংস লোক তোমাকে ভোট দেয় নাই, কিন্তু তুমি এখন তাদের ও প্রধানমন্ত্রী। তুমি এখন আর তোমার পার্টির কেও নও। তুমি এখন জনগনের সম্পদ। তোমার শরীর খারাপ হলে দেশের প্রত্যেকে জানবে, বিশ্ব জানবে। তুমি কি এটা বুঝ? তাহলে দেশের লোকের শরীর খারাপ হলে, তাদের মন খারাপ হলে, তুমি জানবে না কেন? মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে। ঘরে নিরাপত্তা নাই, রাস্তায় নিরাপত্তা নাই, অফিসে নিরাপত্তা নাই। যে কোন লোক যখন তখন কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। ওরা কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী? তুমি কি কিছু জান? আর না জানলে কেন জানার চেষ্টা করছ না? আর জানলে কেন একসান নিচ্ছ না? কি হল তোমার? সাগর-রুমি মরে গেল, ইলিয়স মিয়া লাপাত্তা, বাসে বাসে রাজনিতির লাশ, বিশ্বজিত সবার সামনে কিভাবে খুন হয়ে গেল, হাজার হাজার কোটি টাঁকা মানুষ লোটপাঁট করে ফেলছে, সবাই তোমার ছাত্রলীগের নামে কলংক দিচ্ছে। তুমি কি পেপার পর না? তুমি কি কিছুই বুঝতেছ না? তুমি আমলাদের, মন্ত্রীদের কথা বলার লাগাম টেনে ধর, ওরা যা তা বলে। মানুষ বিরক্ত হয়। মাঝে মাঝে তুমি ও কথার বেলেন্স হারিয়ে ফেল। আরও সাবধান হওয়া দরকার। সামনে তো তোমার বিরাট পরিক্ষা!! এ দেশের মানুষ বড় বিচিত্র। এরা সময় মত ছুরি মারে। আর একবার ঠিক মত ছুরি মারতে পারলে উঠতে সময় লাগে। তুমি কি ভুলে গেছ যে, ২১ বছর লেগেছিল তোমার উঠতে, এবার কিন্তু আরও বেশি সময় লাগতে পারে। কারন যুবক সমাজ যুদ্ধ দেখেনি, মুজিবকে দেখেনি, এদের মায়া মহব্বত কম। বাপমাকেই এরা জবাব দেয় আর তুমি তো প্রধানমন্ত্রী।   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *