১৫/১১/২০০৪-গোল্ডেন ইন-কাজ শুরু

গত পহেলা সেপ্টেম্বরে আমি আমার মিরপুরের বাড়ির কাজ শুরু করেছি। আমার কেনো যেনো বারবার মনে হয়েছিলো যে, আমার আর বেশীদিন এই আর্মিতে থাকা হবে না। তাই আমার ওই দুইটা ভাবনার সমস্ত কাজ খুব জোরেসোরে শুরু করেছিলাম। আমার হাতে মিশন থেকে প্রাপ্ত টাকা আছে ১১ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা। আর মিটুল মালয়েশিয়ায় ট্রেনিং করার কারনে কিছু টাকা সেভ করতে পেরেছে, তাঁর পরিমান নেহায়েত কম না, প্রায় চার লাখ টাকা। মোট পনেরো লক্ষ টাকা দিয়ে ভাবলাম যে, অন্তত একতলা একটা বাড়ি করলেও আমার থাকার ব্যবস্থাটা হয়ে যায়। মনে অনেক সাহস ছিলো, জোরও ছিলো। আর যেহেতু সিদ্ধান্ত প্রায় চুড়ান্ত করে ফেলেছিলাম যে, আমি আর থাকবো না আর্মিতে, ফলে আমার পিঠ প্রায় দেয়ালেই ঠেকে গিয়েছিলো। অফিসে যেতে ভালো লাগে না, কোথাও কোনো দাওয়াত খেতে যেতে ভালো লাগে না, অফিসাররা বাসায় এলে তাদের সাথেও আগের মতো আর গল্প করতে ভালো লাগে না। এটা একটা অত্যান্ত খারাপ সময় পার করছি।

একদিন শুনলাম যে, পেনশনের টাকা থেকে আগাম নাকি কমুটেশন করে কিছু লোন নেয়া যায়। যোগাযোগ করলাম এফসি আর্মিতে। ব্যাপারটা সত্য। আমি কালবিলম্ব না করে, তাড়াতাড়ি ১০ লক্ষ টাকার একটা লোনের দরখাস্ত করে দিলাম। টাকাটা পেলে আমার বাড়ি করতে খুব কাজে লাগবে। এখানে একটা কথা বলে রাখা খুব দরকার যে, যে জায়গায় আমি বাড়ি বানাচ্ছি, সেই জমিটা আমি কিনেছিলাম আমাদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন সাহেবের কাছ থেকে। উনি যখন আমেরিকায় ছিলেন, তখন বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত জনাব আজাদের মাধ্যমে আমমোক্তার বলে আমি তদানিন্তত প্রফেসর ইয়াজউদ্দিনের কাছ থেকে পৌনে তিন কাঠা জমি সর্বোমোট ১০ লাখ টাকায় কিনে নিয়েছিলাম। এই সংযোগটা হয়েছিলো আমাদের মীরপুর এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হোসেন খানের মাধ্যমে। এখন আমি সেই পৌনে তিন কাঠা জমির উপর আপাতত চার তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে আপাতত একতলা বাড়ি বানানোর নিয়ত করেছি। কারন বাকী তালা করার জন্য আমার কাছে বাজেট নাই।

আমি প্রতিদিন বাড়ির কাজ তদারকী করতে অফিসের পরে আর্মির জীপ নিয়ে, আর্মির ড্রেস পড়েই চলে আসি। বাড়ির কাজ দেখতে ভালো লাগে। অনেক রাত হয়ে যায় ফিরতে ফিরতে। আমি ক্যান্টনমেন্টের বাসায় থাকি। কিন্তু মন পড়ে থাকে এই নতুন বাড়ির কন্সট্রাকসনে। বদর ভাই একদিন বাসায় আসলেন, বদর ভাই হচ্ছে মিটুলের কলিগ, সিংগাইর বাড়ি। নিতান্ত ভদ্রলোক। কথাত কথায় জানালেন যে, উনার এক আত্তীয় আছেন হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনে। ওখান থেকেও বাড়ি বানানোর জন্য সহজ কিস্তিতে লোন নেয়া যায়। তাঁর নাম সিদ্দিক সাহেব। বদর ভাইকে নিয়েই গিয়েছলাম ওই অফিসে, ভাগ্য খুব ভালো। একতা এপ্লিকেশন করতে বললেন। দুই মাসের মধ্যে নাকি ১৫ লক্ষ টাকার একটা লোন দেয়া সম্ভব। এবার আমার বাজেট দারালো (হাতে ছিলো ১৫ লাখের মতো, পেনসন কমুটেশন থেকে পাবো ১০ লাখ টাকা আর হাউজ বিল্ডিং কর্পোরেশন থেকে পাবো আরো ১৫ লাখ টাকা) মোট ৪০ লাখ টাকা। এই টাকায় আমি একেবারে এক নাগাড়ে  চার তলা পর্যন্ত করে ফেলতে পারবো ইনশাল্লাহ। ঠিক ৪০ লাখ টাকায় হবে না জানি, কিন্তু দোকানে আরো লাখ দশেক তাকার মেটেরিয়াল বাকীতে নিলে হয়েই যাবে। আর সেই বাকীর তাকাগুলি আমার পেনসনের পর যে টাকা পাবো তা দিয়ে শোধ করা সম্ভব। অন্তত একটা কাজ হয়ে যাচ্ছে। একটা ফ্লোর নিয়ে যদি আমি আমার পরিবার নিয়ে থাকি, তাহলে বাকী ফ্ল্যাট গুলি থেকে একটা ভালো ইনকাম আসবে যা আর্মির বেতন থেকেও ডাবল। তাঁর উপরে মিটুল চাকুরী করে। আমার চলায় কোনো অসুবিধা নাই।

এখন পরবর্তী যে জিনিষটা দরকার, তা হচ্ছে একটা ব্যবসার প্ল্যান করা। আমি এই ব্যাপারে চারিদিকে খোজ খবর নিচ্ছি। দেখা যাক, কি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *