১৮/০৯/১৯৮৬-৭ই মে এর সেই মেয়েটা

মিটুল চৌধুরী, এটাই সেই ৭ মে তে দেখা মেয়েটি।

হটাত করে মনে পড়ে গেল একদিন একটা মেয়ের সাথে আমার দেখা হয়েছিল ৭ মে তে। কেনো দেখা হলো, কি কারনে দেখা হলো এই প্রশ্ন অবান্তর। পাশাপাশি বাসা, কেনো আগে দেখা হয়নি সেতাও যেনো একটা প্রশ্ন। বাইরে ছিলাম। যশোর সেনানীবাস থেকে ১০ দিনের ছুটিতে আছি, বেসিক কোর্ষের কারনে। এখান থেকেই আমি হালিশহর যাবো প্রায় এক বছরের একটা কোর্ষ করতে। কোনো কাজ নাই, সারাক্ষনই বাইরে বাইরে থাকি। লেঃ ভাওয়ালী আমার খুব ভালো বন্ধু, ফলে বেশীর ভাগ সময় আমি ওর সাথেই ঢাকার বিভিন্ন বন্ধুদের বাসায় আড্ডা দেই। কখনো দুপুরে ফিরি, কখনো ফিরতে ফিরতে রাত ও হয়ে যায়। বদি ভাই কিছু বলেন না, আর বলার কোনো কারন ও নাই। আমি কোনো অন্যায় করে বেরাচ্ছি না। আজ কোথাও যাওয়া হয় নাই। হয়তো দুপুর গড়িয়ে গেলে বিকালের দিকে বের হবার সম্ভাবনা আছে। বাসাতেই ছিলাম কিন্তু বদি ভাইয়ের সাথে বাজারে গিয়ে সকাল ১০ টার দিকেই বাসায় হাজির আমি। তখনি ওর সাথে দেখা হয়েছিলো। ভাবীর সাথে কি যেনো গল্পে গল্পে কিছু রান্নাবান্নার কাজে শরিক হয়েছিলো। সেদিন ওর মধ্যে একটা জিনিষ আমি লক্ষ্য করেছিলাম, ও ভাল মা হবে। ভাল বউ হবে কিনা জানিনা, আমিতো আর বিয়ে করিনি যে বুঝবো কি দেখলে বোঝা যাবে ভাল বউ হবে কিনা। তবে সব মানুষের উঠতি বয়সের কিছু লক্ষন ভবিষ্যতের কিছু লক্ষন তো থাকেই। আমি যেদিন ওকে দেখেছিলাম, বুঝেছিলাম যে, অন্য ১০ টি মেয়ের মতো ওর উচ্চাকাংখ্যা এই রকম নয় যে, যে করেই হোক, আমাকে বড় হতে হবে, আমাকে ধনী হতে হবে অথবা পারিপার্শ্বিক অবস্থা বুঝি বা না বুঝি আমার এই চাই আমার ঐ চাই, ইত্যাদির মতো মনে হয় নাই। 

কিছু কিছু মানুষ বড় হয় মনে মনে। "মনে মনে বড় হওয়া" আবার কি জিনিষ? এটা হচ্ছে সেটা যা আমার মনে আছে আমি করবো, আমি হবো, বা আমি ওটা করে ঐটা করতে চাই। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আবার অসত উপায়েও সেটা অর্জন করতে নারাজ। ফলে, প্রতিদিনের কর্মে, প্রতিদিনের চেষ্টায় একটা প্রত্যয় সব সময়েই থাকে মনের গোপন স্বপ্নগুলিকে নিজের ক্ষমতায় রূপ দেয়া। এর জন্য যা যা প্রয়োজন, যতোটুকু চেষ্টার প্রয়োজন, সেটা নিয়ে লেগে থাকা। যদি এই চেষ্টায় সফল হয় তো ইচ্ছে পুরুন হয়ে গেলো। আর যদি চেষ্টা সফল না হয়, তাতেও কোনো দুঃখ নাই, কারন ক্ষমতা তো ছিলোই না সব সপ্নগুলি পুরনের। কারো উপরই দোষ চাপিয়ে দেয়া যায় না সপ্ন না পুরন হবার জন্য। আমি ওর মধ্যে এই রকম একটা উজ্জ্বল মনোভাব দেখেছি। আমার এই কথার মানে কিন্তু এটা নয় যে, সে অতি মানবী। হতে পারে কোনো একদিন হয়তো ও ওর স্বপ্নগুলিকে বাস্তবায়ন করতে পারবে। আমি ওর অন্যান্য সব বোনগুলিকে দেখি নাই কিন্তু যে দুজন বোন মীরপুরে আমাদের বাসার পাশে থাকে তাদের দেখেছি। বিস্তর একটা ফারাক চোখে পড়ে। ওরা ৮ বোন আর ৩ ভাই। আমি কাউকেই (শুধুমাত্র মীরপুরের ২ বোন ছাড়া) দেখি নাই। শুধু সেই রাতে ওর সাথে কথা বলে যা বুঝেছি, তা হলো, মনে মনে বড় হবার একটা তীব্র আখাংকা আছে। 

একটু একটু করে ভাবছি ওকে, আবার একটু একটু করে মনেও করছি। একটু একটু ভালোও লাগছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *