১৯/০২/২০১৭-রিলেশনশীপ রুলস

Categories

 

পৃথিবীটা অদ্ভুত একটা অদৃশ্যমান সম্পর্কজনিত তত্ত্বে একে অপরের সাথে এমনভাবে জরিয়ে পেচিয়ে আছে, যা কোনো থিউরী বা সংজ্ঞা মেনে চলে না। প্রতিটি সম্পর্ক একেকটা একেক ধরনের। বৈশিষ্ট আলাদা, এর সাধ আলাদা, মাহাত্য আলাদা, সংজ্ঞা আলাদা, এবং তাদের যন্ত্রনাও আলাদা। মায়ের সাথে বাবার, বাবার সাথে ছেলেমেয়েদের, ছেলেমেয়েদের সাথে পরিবারের, স্বামীর সাথে স্ত্রীর, এক বাড়ির সাথে আরেক বাড়ির, এক পাড়ার সাথে আরেক পাড়ার, এক সমাজের সাথে আরেক সমাজের, দেশ থেকে দেশান্তরের, এমন কি মানুষের সাথে অন্য প্রানীকুলের, জীবিতদের সাথে মৃতদের, শত্রুর সাথে মিত্রের, কিংবা মিত্রের সাথে মিত্রেরও, আরো কতোই না সম্পর্ক। বিধাতার সাথে তার সৃষ্টির সম্পর্কও আরেক পদের। সব সম্পর্কের জন্য একই রুল হতে পারে না, এবং হবেও না। সময়ের পথ ধরে মানুষ এইসব সম্পর্কগুলো নিয়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন চরিত্রের মানুষের জন্য একেকবার একেক রকমের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে কেউ বানী দিয়েছেন, কেউ তত্ত্ব দিয়েছেন, কেউ বা আবার তথ্যের উপর ভিত্তি করে অনেক থিউরীও দিয়ে গেছেন। সবার জ্ঞ্যান, বয়ান, অথবা থিউরী যে সবসময় কোনো একটা নির্দিষ্ট “সম্পর্কের” ক্ষেত্রে সঠিক, সেটাও যেমন শতভাগ নিশ্চিত করে বলা যাবে না আবার একেবারে সঠিক নয়, এটাও বলা যায় না। যে পরিস্থিতিতে যে সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে কোনো এক ভোক্তভুগী আজ যে ব্যর্থতার মন্তব্য করে গেলেন, ঠিক সেই পরিস্থিতিতে সেই একই প্রকার সম্পর্কের উপর আরেক ভোক্তভুগী হয়ত সাফল্যের কথা বলে যাবেন। অথবা এমনো হতে পারে, আজ যে পরিস্থিতিতে কোনো এক সম্পর্কের মধ্যে ফাটল হয়েছে বলে বলা হলো, হয়তবা সেই ফাটল থেকে ভাঙ্গন-রক্ষার বিকল্প তরিকা আরোপ করে আরেকজন অনায়াশেই উতরে যেতে সক্ষম হন। তাহলে প্রশ্ন আসে, “রিলেসনশীপ রুলস” বলে কি কিছু আছে? কিসের উপর দাঁড়িয়ে একই প্রকার একটা সম্পর্ক সম্বন্ধে সাফল্যের কথা বলে আর কিসের উপর ভিত্তি করে আরেক জন ব্যর্থতার কথা বলে?

প্রত্যেকটি সম্পর্ক একটি স্বাধীন সত্ত্বার মধ্যে, নিজের কাল্পনিক গন্ডির মধ্যে বসবাস করে। মা হবার আগে, মেয়েদের মা হওয়ার কল্পনা আলাদা, বিয়ের আগে যুবতীদের তাদের স্বামীর সাথে কি রকম সম্পর্ক হবে তার ভাবনা আলাদা। কিংবা শাশুড়ি হবার আগে প্রতিটি মেয়েদের একটা নিজস্ব এই কাল্পনিক গন্ডির উপাদানগুলি প্রকৃতপক্ষে সবই অদৃশ্যমান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কল্পনার জগতের সাথে এই বাস্তবের সম্পর্কগুলির মিলমিশের মধ্যে অনেক ফারাক। আর এই ফারাক থেকেই শুরু হয় যতো অঘটন। যদি অন্যভাবে বিশ্লেষণ করা যায়, দেখা যাবে, এর মধ্যে আছে প্রতিটি সত্ত্বার নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ, আছে শালিন-অশালীনতার সীমাবদ্ধতা, আছে ইচ্ছা-অনিচ্ছার গ্রহনযোগ্যতার মাপকাঠি, আছে মেজাজ-মর্জির একটা রুপরেখা ইত্যাদি। যেমন, কেউ লাল রঙ পছন্দ করে, আবার তার সাথে এমন একজনের সম্পর্ক হয়েছে যিনি লাল পছন্দ করেন না, তিনি পছন্দ করেন নীল কিংবা সবুজ। কেউ ঝাল খেতে পছন্দ করেন কিন্তু তার সাথে এমন একজনের সম্পর্ক হয়েছে যিনি ঝাল তো পছন্দ করেনই না, হয়ত পছন্দ করেন কড়া মিষ্টি। সারাক্ষন ঘুরতে পছন্দ করা কোনো এক সুন্দরী রমনীর হয়তো স্বামী জুটেছে অলস এক কালো মানুষের যিনি সময় পেলেই হয়ত ঘুমাতে পছন্দ করেন। স্ত্রী ভেবেছিলেন তার স্বামী হবে এইরকম, কিন্তু হয়ে গেছে অন্যরকম, স্বামী ভেবেছিলেন, তার স্ত্রী হবে এই রকম, কিন্তু হয়ে গেছে দাপটে। দুই বন্ধু এক সঙ্গে কতই না দিন রাত এক সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন ছোটবেলায়, এখন এক বন্ধু আরেক বন্ধুর থেকে অনেক উচু স্তরের বাসিন্দা। এখন দেখা করতেও প্রোটোকল লাগে। মা ভেবেছিলেন, সন্তান বড় হয়ে তার সব দুঃখ ঘুচে দেবেন, কিন্তু ছেলে বড় হয়ে এখন আর মায়ের সেই গ্রামিন হাতে ভাত খেতেও পছন্দ করেন না, সঙ্গে জুটেছে আবার আধুনিকা বউ। বউ মনে করে, ঐ গ্রাম্য অশিক্ষিত মায়ের আবার এতো যত্নপাতি করার কি আছে? এই যে অসম চাওয়া এবং পাওয়া, এরই মধ্যে প্রকৃতপক্ষে লুকিয়ে আছে সম্পর্কের যত অঘটন। তাহলে এই অসমগুনের অধিকারী মানুষগুলির মধ্যে কি সব সম্পর্ক সব সময়ই ভেঙ্গে যাবে? তাইতো যাওয়ার কথা। ঘুমে নাক ডাকেন এমন স্ত্রীর স্বামী তো তাহলে কখনোই একসাথে নির্ভেজাল ঘুমে আচ্ছন্ন হতে পারবেন না। শিক্ষিত আধুনিকা বউ যেমন অশিক্ষিত গ্রাম্য শাশুড়িকে শামাল দিতে পারছেন না, তাহলে তো সব কিছুই ভেঙ্গে যাওয়ার কথা! ফলে কিছু কিছু সম্পর্ক ভেঙ্গেই যায় আবার কিছু কিছু সম্পর্ক টিকে থাকার জন্য লড়াই করে যায়। আবার এরই মধ্যে কিছু কিছু সম্পর্ক কোনো অঘটন ছাড়াই জীবনের শেষ অবধি টিকে যায়। তাদের এই এহেনো পরিস্থিতিতে তাদের কিছু অভিজ্ঞতার আলোকে এই সব সম্পর্কের জন্য “রিলেসনশীপ রুলস” নামে কিছু তত্ত্ব, তথ্য, থিউরী দিতেই পারেন। হোক সেটা সাফল্যের বা ব্যর্থতার। তাদের এইসব অভিজ্ঞতার থিউরী তাহলে কি আমরা সর্বত্র এই জাতীয় সম্পর্কের বেলায় শতভাগ কার্যকরী এবং নিয়ম বলেই মেনে নেবো?

যদি তাইই হতো, তাহলে নব্বই বছরের বৃদ্ধ মানুসটি কোন কারনে আশি বছরের থুড়থুড়ে মহিলার প্রেমে তখনো হাবুডুবু খাচ্ছেন? ঐ আশি বছরের মহিলার তো আর রূপ, যৌবন, প্রজনন ক্ষমতার কিছুই বাকী নাই। তার উপর তারও তো এমন অনেক কিছুই ছিলো যা তারসাথে এতো বছর ধরে ঘর করা মানুষটির অনেক কিছুই মিল ছিলো না। তাহলে কেনো টিকে গেলো ঐ সম্পর্ক? কিংবা এমন এক যুগল দম্পতির বন্ধন যেখানে স্ত্রী কিংবা স্বামী দিনের পর দিন পঙ্গু হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন, অথচ ভালোবাসার মহব্বত দিয়ে স্বামী কিংবা তার স্ত্রী তাদের সংসার, পরিবার একত্রে ঐ অবস্থায়ই আগলে রেখেছেন। সেটা কিসের আশায়? নিশ্চয় এমন কিছু কারন থাকে যেখানে কম্প্রোমাইজ নামক বস্তুটি কিংবা এডাপ্টেসন নামক তত্ত্বটি খুব জরুরী। তা না হলে কানা এক কালো মহিলার সাথে বোবা এক স্বামীর ঘরতো কখনোই টিকে থাকার কথা নয়! অথবা যদি অন্যভাবে বলি, কি কারনে পঞ্চাশ বছর বৃদ্ধার সাথে ভাষাহীন এক বছরের কচি ছোট শিশুর কি কথা হয় যেখানে দুজনেই আনন্দে ফেটে পরেন? অথবা কোন রিলেসনশীপ রুলের আওতায় একটি বন্য প্রানির সাথে একজন মানুষের সখ্যতা হয়? প্রেম ভালোবাসা সবসময় একই ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে একজনের সাথে আরেকজনের সম্পর্ক গড়ে উঠে না। একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের মিলের থেকে অমিলটাই বেশি, তারপরেও বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ ধরে একে অপরের জন্য কোনো না কোনো একটা মাত্র ফ্যাক্টরের উপরও সম্পর্কটা টিকে রাখা যায়। যারা পারে না, তাদের ইতিহাস কেউ মনে রাখে না। আর যারা পারে, তারাই হন এই সমাজের একেকজন প্রতিনিধি যারা “রেলেসনশিপ রুল” শাসন করেন। যে ঘর একবার ভাঙ্গে, তা বারবার ভাঙ্গার প্রবনতার মধ্যে থাকে। যে সম্পর্কের ভীত একবার নড়ে যায়, তার ভীত বারবার নড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাহলে এখন বিশাল এক প্রশ্ন মানবকুলের সামনে এসে দাঁড়ায়। আর তা হলো, তাহলে কি “রিলেশনশিপ রুলস” বলতে কিছুই নেই? অথবা রিলেশনশীপ রুলসটা কি? আমার মতে, এটা হচ্ছে নিজের সাথে নিজের সমঝোতা। এই সমঝোতার কথা বললে আরেক ধাঁধা সামনে আসে, কি সেই সমঝোতা?

কোনো এক লেখায় আমি একবার বলেছিলাম, “সময় পাল্টায়”, এখন বলছি, সময় পালটায় না, সময় চলে যায়। আর এই চলে যাওয়া সময়ের প্রেক্ষাপটে অনেক কিছু পাল্টায়। পাল্টায় মানসিকতা, পাল্টায় বোধ, পাল্টায় দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি। আর এই পাল্টানোর মধ্যেই আমরা বলি, সময় পালটেছে বলে এটা হয়েছে। সময়ের প্রতিটি ক্ষনের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিচক্ষনতার পরিবর্তন হয়, ধৈর্যের পরিবর্তন হয়, সাথে সাথে নিজের আত্মম্ভরিতাও বদলে যায়। এই পরিবর্তনের জন্য সময়ের দরকার। কারন সময় মানুষকে নিয়ন্ত্রন করে ইমোশনালী, সময় মানুষকে বুঝতে শিখায় কোনটা বন্য, আর কোনটা অদম্য। সময়ের সাথে সাথে মেধার বিকাশ ঘটে। আর এই মেধাই হচ্ছে সমঝোতার প্রথম নিয়ন্ত্রিত রেখা যার মাধ্যমে অন্যান্য অনিয়ন্ত্রনযোগ্য উপাদানগুলিকে নিয়ন্ত্রন রেখে আপাতদৃষ্টির অনিয়ন্ত্রিত আরেকজনের অদম্য বন্য উচ্ছ্বাসকে মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে প্রতিকুল পরিবেশের বিরুদ্ধে পজিটিভ চিন্তাশীল মন তৈরী করে। আর এই চিন্তাশীল মন নিয়ে কারো জন্যই কখনো দ্বার রুদ্ধ না করে প্রতিনিয়ত প্রচেষ্টার নামই হচ্ছে সমঝোতা। এখানে সবার দেওয়া উপদেশ বা বয়ান করা “রিলেশনশীপ রুলের” কথা শুনার দরকার আছে, বুঝতে হবে কিন্তু সব সময় তা মেনে নিয়ে ঐ মোতাবেক কাজ করতে হবে এমন যেন না হয়। একটা কথা সব সময় মনে রাখা দরকার, অন্যের দেওয়া থিউরী যে আপনার জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে, অন্যের দেওয়া উপদেশটাই যে সঠিক উপদেশ সেটা আজ পর্যন্ত কেউ গ্যারান্টি দিতে পারে নাই আর পারবেও না। জীবন একটাই। আর এই জিবনে সব বন্ধুরুপী মানুসগুলিই আপনার সব সময়ের বন্ধু, তা ঠিক নয়। মনে রাখা দরকার যে, সপ্তাহের সবদিবসই আপনার জন্য হাসি নিয়ে আসার কথা নয়, সব ঋতুই আপনার জন্য নীল আকাশ নিয়ে আসার কথা নয়। এখানে যেমন কান্না থাকে, তেমনি থাকে হাসিও। কেউ কান্না নেবেন না, শুধু হাসিটুকুন নেবেন, তার জন্য ঐ হাসি সঠিক আনন্দের নাও হতে পারে।

পরাজিত কমান্ডারের অপারেসনাল প্ল্যান যতোই ভালো থাকুক, আর জয়ী কমান্ডারের পরিকল্পনা যতোই খারাপ হোক, পৃথিবী সবসময় জয়ী কমান্ডারের পক্ষেই ইতিহাস লিখে। আর সেটাই হয় বেস্ট প্ল্যান। পরাজিত মানুষের কথা কেউ শুনে না, সেটা আপনি যেভাবেই যাকেই বলুন না কেনো।

ফলে কখনো কোনো দ্বার রুদ্ধ করবেন না। খোলা রাখুন সব দ্বার। হতে পারে, এই খোলা দ্বারের মাধ্যমেই একদিন সেই আলো এবং বাতাস প্রবেশ করবে যা আপনি অনেকদিন আগে চেয়েছিলেন। আজকে যাকে আপনি আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী বলে তার হাত ধরে বসে চোখের জল ফেলছেন, হয়ত সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে দেখবেন, সেই আসলে আপনার আজকের দিনের সব সম্পর্কের ছেদনের মুল হোতা। মানুষকে ঈশ্বর এমন করে বানিয়েছেন, মানুষ এবং অমানুষের সব কিছু দেখতে এক রকমের, শুধু বুঝার জন্য মেধার প্রয়োজন। আর এই মেধা আসে সময়ের পরিবর্তনের সাথে। অপেক্ষা করুন, সময় পাল্টাবে। কারন সময় পিছিনে ফিরে না, কিন্তু সম্পর্ক যেখান থেকে তাল কাটে, তার থেকে আবার পিছনে ফিরে আসতেই পারে। ধৈর্য ধরুন, পুরু ব্যাপারটা নিয়ে নিজে ভাবুন, অনেক জটলা খুলে যাবে। দর কষাকষির মতো নিজের সাথে সম্পর্ক টিকে রাখার জন্য যুক্তি চালাচালি করুন। নিজেকে উভয় পক্ষের লোক হিসাবে ভাবুন। দেখুন, যে ব্যাপারটা আপনি ছাড় দিচ্ছেন না, সেটা অন্য পক্ষে আপনি থাকলে ছাড় দিতেন কিনা। যাদের আপনি কখনো দেখেন নাই, এমন কিছু ভাল বয়স্ক মানুষের সাথে ব্যাপারগুলো নিয়ে কথা বলুন। দেখবেন, কোথায় ছাড় দেওয়া যায়, আর কোথায় কম্প্রোমাইজ করা যায়। উদ্দেশ্য একটাই, লক্ষ ঠিক রাখুন যাতে একবার সম্পর্ক করে ফেলার পর ভাঙতে না হয়। প্রয়োজনে সম্পর্ক করার আগে সম্পর্ক ভাঙ্গার কারন গুলি সাব্যস্থ করুন যেনো সম্পর্কই তৈরী না হয়। আর একবার তৈরী হয়ে গেলে তাকে বাচানোর চেষ্টা করুন। কারন, আপনি সম্পর্ক ত্যাগ করলেও কেউ না কেউ তার সাথে আবার নতুন সম্পর্ক গড়ে উঠবেই, আর যদি ঐ সম্পর্ক টিকে যায়, তবে বলতে হবে, আপনার মধ্যেই ভুল ছিলো।

তবে এখানে আরো একটা বিশেষ কথা না বললেই নয়। যখন এতো কিছুর পরও মনে হবে, না, এই সম্পর্কটা রাখা যাবে না। যেটুকু সময় অপচয় করলে সম্পর্কটা টেস্ট করা যেতো বলে সাব্যস্থ্য হচ্ছে, সেইটুকু সময় আপনার হাতে নাই। আর সেই সময়ের মধ্যে এটারও কোনো গ্যারন্টি নাই যে ব্যাপারটা সাফল্যের মধ্যেই সমাপ্ত হবে। অথবা এমন একটা আভাস থেকেই যায় যে, সম্পর্কটা বিফলেই যাবে, সেক্ষেত্রে যতো দ্রুত সম্ভব এই ব্যর্থ সম্পর্ক থেকে মুক্তির যতোগুলি পথ খোলা আছে, অত্যান্ত আন্তরিকতার সাথে সেগুলিকে বাস্তবায়ন করে এই ব্যর্থ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যাওয়া। তাতে মুক্ত পরিবেশে, মুক্তমনে নতুন করে চিন্তা করার অবকাশ থাকে। শুধু একটা নতুন পরিবেশে, ভেঙ্গে যাওয়া মানসিক পরিস্থিতিতে কাউকেই দোসারুপ না করে পুনরায় এই ভুল সম্পর্ক যেনো না হয় তার জন্য অনেক বেশি সতর্ক থাকা এবং চারিপাশ বিবেচনা করে পুনরায় নতুন কোনো আবেগী সম্পর্কে জড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ। হুট করে কোনো আবেগী সম্পর্ক করা থেকে বিরত থাকা খুব জরুরী। এছাড়া আরো একটি বিষয়ে খুব সতর্ক থাকা জরুরী যে, ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্ক নিয়ে আর নতুন করে কোনো প্রকারের ভাবা উচিত না। “যদি” দিয়ে আর কোনো উপসংহার টানা উচিত হবে না। কে ঠকেছে আর কে জিতেছে এর কোনো তুলনা করা যাবে না। কোনো সম্পর্ক নষ্ট হলে দুই পক্ষই হারে বা ঠকে এটাই ফলাফল।

রিলেসনশীপ রুলস বলতে আসলে কিছু নাই। যেটা আছে, সেটা হচ্ছে আপনি কি চান। আর কিভাবে চান। যদি আপনার স্বাধীন চিন্তা করার শক্তি না থাকে, যদি এমন কোনো ব্যক্তির প্ররোচনায় আপনি আপনার সম্পর্ক কে মুল্যায়ন করেন, কিংবা যদি এমন হয়, আপনি কি করবেন, কিভাবে করবেন, কার সাথে কত টুকু করবেন, এই আশায় আপনার নিজের সম্পর্কের উপর অন্যের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন, তাহলে আপনি নিসচিত থাকুন, আপনার কোনো সম্পর্কই কখনো ভালো যাবে না। সেটা আপনার বন্ধুর বেলায়ই হোক, নিজের স্ত্রীর বেলায়ই হোক, অথবা মা বাবা ভাইবোনের বেলায়ই হোক। সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনাকে।

খোলা হাতে বেচে থাকার চেয়ে কারো হাত ধরে বেচে থাকার নাম হচ্ছে জীবন। ঝগড়া করার জন্য হলেও একজন মানুষ লাগে। একবার যদি সব শেষ করে দেওয়া হয়, হয়ত অনেকদিন পর নিজে কে নিজে প্রশ্ন করবেন, আহা “যদি” এমনটি না করে এমন টি করতাম, “যদি” আরেকটু নমনীয় হয়ে প্রকৃত জিনিষটা বুঝার জন্য সময় নিতাম, “যদি” এইটা না ভেবে ঐটা ভাবতাম, “যদি” ঐ লোকগুলি আমার জীবনে না এসে অন্য কেউ আমার জিবনে আসতো। অথবা “যদি” আমি ঐ সব লোক গুলিকে না শুনতাম ইত্যাদি।

কিন্তু তখন এই “যদি”র উত্তর আর কেউ দেবার জন্য বসে নাই। কিন্তু সেই ঝগড়া করার মানুসটি যদি আপনাকে প্রতি নিয়ত শুধু ঝগড়াই দিয়ে জীবন আরম্ভ করে আর ঝগড়া দিয়েই জীবন শেষ করে, তাহলে বুঝবেন, সম্পর্কটা ভুল। তখন শুধু একটা কথাই মনে হবে, আহা, যদি এই সম্পর্কটা নাহতো, যদি ওই মানুসটির সাথে কখনোই দেখা না হতো, আহা যদি আরো আগে সব বুঝতে পারতাম, তাহলে হয়তো সম্পর্কটাই করা হতো না। কিন্তু আম্রা দেবতা নই, আমরা ভুল করি, ভুল হাত ধরার চেয়ে ভুল হাত ছেড়ে দেওয়া অনেক উত্তম। আর ভুল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নামই হচ্ছে প্রানি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *