১৯/০৩/২০২১-প্রত্যেকের মাথায় অসংখ্য

Categories

প্রত্যেকের মাথায় অসংখ্য চিন্তাভাবনা ঘুরে। কেউ খুশী থাকে, কেউ অখুসী, কেউ হুসে থাকে, আবার কেউ বেহুসে, কেউ সন্তুষ্ট আবার কেউ অসন্তুষ্ট। কারো মুখ দেখে কার মাথায় কি চলছে তা কি কখনো জানা সম্ভব? কার মনে কি চলছে, কিংবা তার পরের মূহুর্তে সে কি করতে চলছে, এটা কি কেউ এতো সহজে বুঝতে পারে? কে কি ভাবছে, কি বুঝছে, তার প্রতিক্রিয়াই বা কি হবে, এটা কি আগে থেকে জানা সম্ভব? আমাদের সামনে নিসচুপ ভাবে ঘুরে ফেরা বা বসে থাকা সেই অতি সাধারন মানুষটার মাথায় কি চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে, সে কি চাচ্ছে, তার মধ্যে কতটা ঘৃণা, কতোটা রাগ, কতটা আবেগ ইত্যাদি তার অনুমান কি কেউ করতে পারে? আসলেই পারে না। আজ পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাষের মতো মানুষের মনের পূর্বাভাষ কখনোই কেউ দিতে পারে না। সিসিটিভি অথবা সার্টিফাইড সিকিউরিটি এজেন্সীগুলি শুধু মানুষের কাজকর্মের উপর নজর রাখতে পারে কিন্তু মানুষের মনের উপর বা পটেশিয়াল অপরাধীর মনের পরিকল্পনার উপর কোনো কিছু রেকর্ড করতে পারে না। ফলে, অনেক অপরাধ খুব সাধারন ভাবে ঘটে যায়, আর খুব সাধারনভাবেই সবার অলক্ষ্যে অপরাধী বেরিয়েও যায়। কখনো কখনো সেই অপরাধী আবার অনুশোচনাকারীদের মধ্যেও এমনভাবে ঢোকে যায় যে, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সত্যিকারের দুক্ষে ভারাক্রান্ত মানুষটার ও জানতে পারে না, খুনী বা অপরাধী ঠিক তার থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে দাঁড়িয়ে। তবে যেটাই হোক না কেনো, অপরাধ কোনো সমস্যার সমাধান নয়। একটা রোগ, প্রত্যেক স্টেজে এটা একটা সিম টপ দেখায়, তেমনি একটা অপরাধ সং ঘটিত হবার আগেও সতর্কবার্তা শোনা যায়। এজন্য, প্রতিটি মুহুর্তে আমাদের চারপাশে কি ঘটছে, কিভাবে ঘটছে, কেনো ঘটছে এসব প্রশ্নের উত্তর সব সময় পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বুঝতে না পারলেও মনের ভিতরে উকি মারা কোনো অযাচিত প্রশ্নকেও এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। তল্লাসীতে হয়তো নিজেরা অনেক কিছু খুজে পায় না কারন তল্লাসির সফর লম্বাই হয়। সেই লম্বা সফরের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হয়তো আমাদের নাই কিন্তু মানুষের মন যখন কিছু আচ করে, সেটাই হচ্ছে তল্লাশীর প্রথম ধাপ। কোনো আওয়াজকেই হেলাফেলা করবেন না। ব্ল্যাক মেইল, সাধুবাদ, অতিরিক্ত লয়ালটি, কিংবা হোচট খাওয়ার মতো কোনো ইংগিত, কোনো কিছুই ঝেড়ে ফেলে দেয়া উচিত নয়। সবচেয়ে জরুরী বিষয় মনে রাখা উচিত যে, ব্ল্যাক মেইলের মতো কোনো ইংগিত বা এর আওয়াজ পাওয়ার সাথে সাথেই যারা বড়, সিনিয়র, তাদের সাথে এসব ব্যাপারগুলি পরামর্শ করা উচিত। হোক সেটা কোনো কারনে অথবা নিজের দোষেই। তারপরেও বড় ধরনের বিপদ থেকে হয়তো নিজে এবং আশেপাশের সবাই বেচে যেতে পারেন।

এক তরফা ভালোবাসার মতো এক তরফা শত্রুতাও হয়। আর এই শত্রুতা থাকে খুব গোপনে। এখানে চুপিসারে শত্রুকে মেরে ফেলা হয়। প্রতিশোধের আগুন কয়েক প্রজন্ম জলতে থাকে। এই জলন্ত অগ্নিশিখা মানুষের বংশ পরম্পরায় কখনো ফুলের উপর দিয়ে আবার কখনো ছুড়ির উপর দিয়ে যায়। তাই, সাবধানতা, নিজের নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা সর্বত্র এমন একটা হাতিয়ার হিসাবে কাজ করে যেখানে অনেক বড় অঘটন থেকে মানুষ বেচে যায়। তারপরেও নিজের অজান্তে অপরাধ তো হয়েই থাকে। 

এসব অপরাধের পিছনে থাকে অতীতের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা যা মানুষ প্রায়ই সিরিয়াসলী ভাবে না কিন্তু সেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা অনেক সময় খুব শক্ত ইংগিত দেয় যা হয়তো আমাদের সাধারন মস্তিষ্ক আমলেই নেয় না। আমাদের মস্তিষ্ক আর তাদের তৈরী হওয়া চিন্তাভাবনা একদিক দিয়ে আমাদের এভাবেই ভাগ্য লিখে দেয় যেখানে কেউ হুসে থাকে, আবার কেউ বেহুসে থেকে সারাজীবন কাতরাতে থাকে।

অপরাধী ভাবে যে, সময়ের সাথে সাথে অপরাধের ভার লঘু হয়ে আসে এবং হয়তো এক সময় সেটা একেবারেই হালকা থেকে হালকা হতে হতে আর এটা কোনো অপরাধের মধ্যেই থাকে না। কিন্তু মানুষ ভুলে যায় যে,  পারফেক্ট ক্রাইম বলতে কিছু নাই। পারফেক্ট ক্রাইম তখনি হয় যখন ক্রাইমের ব্যাপারে সঠিক তদন্ত না।