১৯/০৫/২০০৪- মোহসীনের সাথে বৈঠক

শেষ পর্যন্ত রিভার সাইডে ডিএমডি হিসাবে কাজ করেছেন যে মোহসীন সাহেব, তাকে পাওয়া গেলো। বয়স প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ এর মতো হবে। বেশ ফর্সা করে লোকটি। পাঞ্জাবী পরিহিত, মাথায় একটা গোল টুপী এবং হাতে সব সময় তসবীহ থাকে। আমার বাসায় তৌহিদ, মোহসীন সাহেব আর আনসার এলো রাত ৮ টার দিকে। মোহসীন সাহেবের বাড়ি বরিশাল। বেশ ভালো ইংরেজী বলতে পারেন। অনেকক্ষন আলাপ করলাম। আসলে এবারই প্রথম আমি মোহসীন সাহেবের সাথে রিভার সাইড সুয়েটারস নিয়ে বিস্তারীত আলাপের একটা সুযোগ পেলাম। আমার যে জিনিষগুলি তাঁর কাছ থেকে জানার ছিলো সেটা এ রকমেরঃ

(১)       ফ্যাক্টরী চালাতে মোট কত টাকা প্রাথমিকভাবে ইনভেস্টমেন্ট করা লাগতে পারে।

(২)       এটার ফিউচার প্রোস্পেক্ট কি?

(৩)      গার্মেন্টস উনি আমাকে নিয়ে চালাইতে পারবেন কিনা।

(৪)       লাভ হবার সম্ভাবনা কেমন।

এই সব প্রশ্নের উত্তর মোহসীন সাহেব দিতে গিয়া একটা নোট খাতায় তৌহিদ আর তিনি একটা ক্যালকুলেশন করলেন। এবং পরিশেষে আমাকে জানালেন যে, মোহসীন সাহেব আমার সাথে জয়েন করলেও তিনি কোনো অর্থ ইনভেস্টমেন্ট করতে পারবেন না। আর তাঁর যে অভিজ্ঞতা আছে, তাতে ছয় মাসের মধ্যে এই ফ্যাক্টরি থেকে কয়েক লাখ টাকা প্রোফিট করা সম্ভব। কিন্তু এর জন্য যা করতে হবে সেটা হচ্ছে, প্রথমে সাবকন্ট্রাক্ট করা, এবং পরবর্তীতে সরাসরি এলসি এর মাধ্যমে বায়ারদের কাজ করা। আর এসব তিনি অনায়াসেই করতে পারবেন। এই ফ্যাক্টরী নাকি প্রাথমিক সময়ে প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা করে লাভের মুখ দেখেছিলো। কিন্তু এতো বেশী শেয়ার হোল্ডার ছিলো, তাদের ব্যক্তিগত কোন্দলের কারনে পরে মোহসীন সাহেবকে তারা স্কেপগোট বানিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলো। আর মোহসীন সাহেব চলে যাবার পর থেকেই এই ফ্যাক্টরীর দূর্দশা শুরু হয়। এটা তৌহিদও আমাকে জানালো, আনসারও সায় দিলো এবং মোহসীন সাহেব নিজ থেকে কিছু না বল্লেও ব্যাপারটা যে এ রকমেরই, সেটা বুঝালেন। আমি এম্নিতেই রিভার সাইড ফ্যাক্টরীটা নেয়ার পক্ষে ছিলাম, এখন তো ব্যাপারটা যেনো আরো পাকা পোক্ত হয়ে গেলো।

অনেক রাত পর্যন্ত মোহসীন সাহেবের সাথে আমার মিটিং হলো। মনটা চাংগা হয়ে গিয়েছিলো। এবার আমার কাজ হবে নাজিম সাহেবকে কিভাবে কনভিন্স করা যায়। কিন্তু নাজিম সাহেবকে পাওয়াই যায় না। আমি কিভাবে আগাবো এবার তৌহিদের সাথে মোহসীন সাহেবও একজন গাইড হিসাবে যোগ হলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *