২০/১২/২০০৪- রিভার সাইড সুয়েটার্স ভিজিট

রিভার সাইড সুয়েটার্স লিমিটেড ভিজিট করলাম। অনেক সুন্দর একটা ফ্যাক্টরি। আমি গার্মেন্টসের কিছুই বুঝি না। কিন্তু ওভারঅল পরিবেশ, স্পেস, মেশিনারিজ, সেটআপ দেখে মনে হলো, জিনিষটা সুন্দর। ফ্যাক্টরীর বিভিন্ন সেকসন ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তৌহিদ আমাকে দেখালো। সাথে আনসার নামে একজন লোক ছিলো যে, সিকিউরিটি ম্যানেজার হিসাবে কাজ করে, লোকাল। তৌহিদ যেখানেই যায়, এই আনসারকে নিয়েই যায়। শুনলাম, আনসার নাকি তৌহিদের একজন আত্তীয়ও বটে। ফ্যাক্টরীতে ঘুরে দেখার সময় বুঝলাম, কারেন্ট লাইন কাটা। প্রায় ৭/৮ মাসের কারেন্ট বিল না দেয়ায় বিদ্যুৎ অফিস লাইন কেটে দিয়েছে। ফলে কয়েকটা মেশিন চলে জেনারেটর দিয়ে। এদিকে গ্যাস লাইনও বিচ্ছিন্ন কারন গ্যাস বিল দেয়া হয় না প্রায় ৫/৬ মাস যাবত। আজিম গ্রুপের কিছু কাজ চলছে সাবকন্ট্রাক্ট হিসাবে। দেখলাম মোট ১২ থেকে ১৫ জন ওয়ার্কার নীচ তলায় কাজ করছে অথচ এখানে একসময় দুই হাজার শ্রমিক কাজ করতো।  লুতফর রহমান সাহেব ফ্যাক্টরীতে ছিলেন না। উনি হয়তো জানেন না যে, আমি এটার উপর গবেষনা করছি।

ফ্যাক্টরী ভিজিট করার সময় আমি অনেক নতুন নতুন মেশিনারিজ দেখলাম, এটাই আমার ব্যবসায়ীক কোনো প্রতিষ্ঠানে এই প্রথম ভিজিট। ফলে আমি মনে মনে চিন্তা করলাম, যে, এই ফ্যাক্টরী যদি আমি চালানোর জন্য নেই, তাহলে কত টাকা নিয়ে নামতে হবে, আর কিভাবে কিভাবে অর্ডার পাবো, কিভাবে কোথায় বায়ার পাবো ইত্যাদি। মনে মনে এটাও ঠিক করলাম যে, আমার মতো অনেক আর্মি অফিসাররাই বিকল্প কিছু ব্যবসার কথা ভাবছেন এই মুহুর্তে। অনেকের প্রোমোশন হয় নাই, অনেকেই চাকুরী থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য পায়তারা করছে। যদি বাজেটের সমস্যা হয়, তাহলে তো আমি ওইসব অফিসারদের সাথে সমন্নয় করে একটা পার্টনারশীপ করেও ব্যবসাটা চালাইতে পারি। ফলে এ মুহুর্তে যাদের নাম আমার মাথায় এসছিলো তারা হচ্ছেন- ফেরদৌস স্যার, ১০ লং কোর্সের ফারুক স্যার, ১০ লং কোর্সের কে এম সাফিউদ্দিন স্যার। কারন উনারা এক সময় আমাকে ব্যবসার কথা বলেছিলেন। দ্বিতীয় যে পয়েন্টটা আমার মাথায় আসলো, তা হলো, আমার এক আর্মির বন্ধু আছে মেজর মাসুদ ইকবাল। ১৩ লং কোর্সের, তানির হাসবেন্ড। আমার খুব ভালো বন্ধু। ও এখন কোনো গার্মেন্টেসে চাকুরী করে, নাম অর্নব সুয়েটারস। ওরেও তো আমি একটা প্রোপোজাল দিতে পারি যদি আমার সাথে পার্টনারশীপ করে মন্দ কি। তাছাড়া আমাদের এক আত্তীয় লিখন তো বহুদিন যাবত গার্মেন্টস লাইনে আছে, ওর কাছ থেকেও একটা বুদ্ধি পরামর্শ নিতে পারি। লিখন বেক্সিমকোতে আছে। পয়েন্টগুলি আমি লিখে নিলাম।

আজ আরেকটা কাজ করে এসছিলাম যে, আমি পরপর দুটু ডিও লেটার ড্রাফট করে এসছি। একতা সেনাপ্রধানের জন্য, আরেকটা প্রধানমন্ত্রীর জন্য। বাসায় গিয়ে এগুলি আবার আরেকবার চেক করে আমি সরাসরি এই দুইজনকে অফিশিয়ালী পাঠাইতে চাই।

রিভার সাইড সুয়েটারস ফ্যাক্টরীটা আমার গ্রামের পাশে। কিন্তু কোনোদিন আমার চোখে পড়ে নাই যে, এখানে এমন একটা রপ্তানীমুখী কারখানা আছে। অথচ এই পথ দিয়েই আমি আমার গ্রামে যাই। আজ মনে হলো, এতা আমার এতো কাছের একটা ফ্যাক্টরি, হলে তো খুব ভালো হয়। মনে মনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনাই করে ফেললাম যে, আল্লাহ যেনো আমাকে রক্ষা করেন। আর্মির চাকুরীটা আর ভালো লাগছে না। আমি এর থেকে পরিত্রান চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *