২৭/১১/২০১৯-সব মানুষের সাথে লুকুচুরী নয়

জীবনে সেই সব মানুষের সাথে কখনো লুকুচুরী, মিথ্যা কথা, ছলচাতুড়ি, কিংবা কল্পকাহিনী বলিয়া সাময়িকভাবে ভুল বুঝানো উচিত না যাহারা তোমার সুখের জীবনের জন্য নিসসার্থভাবে তাহাদের অনেক মুল্যবান সময়, পরিশ্রম আর অর্থ দিয়া সাহাজ্যের হাত বাড়ায়। যদি পথ চলিতে গিয়ে কিংবা তাহাদের নির্দেশনা মানিতে গিয়া নিজের অজান্তে ভুল করো, হয়তো সেইটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব কিন্তু যদি সেই ভুল হয় ইচ্ছাকৃত, তাহা হইলে সেইটা হইবে পাপ, অপরাধ এবং ক্ষমার অযোগ্য। তাহারা তোমাকে ভালোবাসিয়া, স্নেহ করিয়া অথবা তোমার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করিয়া তোমার পাশে এমনভাবে দাঁড়াইয়াছেন যাহা হয়তো তাহার দাড়ানোর কোনোই প্রয়োজন ছিলো না, তবুও দাড়াইয়াছেন। তাহাদের সাথে এইরূপ কোন ইচ্ছাকৃত অপরাধ তোমার সারা জীবনের জন্য এমন মারাত্তক হুমকী হইয়া দাঁড়াইবে যাহা কোনো কিছুর বিনিময়েও আর আগের অবস্থায় ফিরিয়া পাওয়া যাইবে না। এই মারাত্তক ইচ্ছাকৃত ভুলের জন্য যদি কেউ ক্ষমাও করিয়া দেয়, তাহার পরেও যে ক্ষত সৃষ্টি হইয়া যায় তাহা দগদগে ঘায়ের থেকেও বেশী। তখন প্রতিনিয়ত মনে হইবে, এই মানুষ উপকারের কথা বুঝে না অথবা সে নির্বোধ অথবা সে উপকারীর জন্য অনেক হুমকীস্বরূপ। এই বিবেচনায় কোনো হিতৈষী যদি তোমার পাশ হইতে নিঃশব্দে সরিয়া যায়, তাহাকে আর কোনো কিছুর শপথের মাধ্যমেও ফিরিয়া আনা যায় না। তখন যাহা দাঁড়ায় তাহা হইতেছে, নিজের উপর নিজের রাগ, অভিমান আর কৃতকর্মের জন্য অপরাধবোধ। কিন্তু তাহা দিয়াও আর জলের স্রোতকে পিছনে ফিরাইয়া আনা যায় না। এই সময় যাহা হয়, তাহা হইতেছে, হতাশা ক্রমশ বাড়িতেই থাকে, আর এই হতাশা যখন বাড়ে, তাহার সাথে বাড়ে দুশ্চিন্তা। দুসচিন্তা থেকে জন্ম নেয় নিজের উপর নিজেকে ঘৃণা। আর একবার যখন নিজেকে নিজে ঘৃণা করিতে শুরু করে কেহ, তখন তাহার বাচিয়া থাকিবার আর কোনো লোভ থাকে না। চারিপাশের মানুষকে আর ভালো লাগে না, নীল আকাশ ভালো লাগে না, রংগীন আলো ঝলমলের শহরকে তখন বড় অচেনা মনে হয়। মানুষ তখন আত্মহননের দিকে ঝুকিয়া যায়। অথবা সে এমন পথ বাছিয়া নেয় যাহা সমাজের চোখে বড়ই অসুন্দর আর কুৎসিত। সব কুতসিত জীবনের কাহিনী প্রায় একই। কোনো না কোন সময়ে তাহাদের সুযোগ আসিয়াছিলো যাহা তাহারা না বুঝিবার কারনে হাতছাড়া হইয়াছে। কেউ কখনো এইরুপে বড় হইতে পারে নাই, আর হয়ও না। তাহাদের জন্য সমাজ দুঃখবোধও করে না। তাহারা সারাজীবন সমাজের একটা কালো মানুষ হিসাবেই বাচিয়া থাকে। কেউ সমাজে দাগী হিসাবে বাচে আবার কেউ সনাক্ত না হইয়াই আড়ালে আবডালে বাচে। তাহারা সংখ্যায় নেহায়েত কম না অবশ্য সমাজে।

আমার মাঝে মাঝে এইসব মানুষগুলির জন্য খুব দুঃখ হয়, কেনো এই সুন্দর প্রিথিবীতে তাহারা জন্ম নেয়? কি প্রয়োজন ছিলো এইভাবে এই নির্মল পৃথিবীর বুকে জন্ম নেওয়ার যখন সে নিজেই এই পৃথিবীর কোনো ভালো উপাদান সে হজম করিতে পারেনা? ইহাদের আয়ুষ্কাল অবশ্য বেশীদিন থাকেও না। তাহারা সমাজে আগাছার মতো বাড়িয়া উঠে, আবার কোনো এক ক্ষুরধার মালীর আঘাতে তাহারা বিকশিত হইবার আগেই শিকরচ্যুত হয়। তবে অতীত বর্তমান অভিজ্ঞতায় একটা বিশেষ লক্ষনে ইহাদেরকে শনাক্ত করা সহজ যাহা শুধুমাত্র অভিজ্ঞতাশীল ব্যক্তিবর্গরাই অতীব দ্রুত তাহাদের সনাক্ত করিতে পারেন। কোনো বই পুস্তকে ইহাদের ব্যাপারে সঠিক লক্ষন কোথাও লিপিবদ্ধ না থাকিলেও কিছু কিছু উপসর্গ প্রায় একই। যেমন, এই সব মানুষেরা সহজেই অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষনে পারদর্শী হয়, তাহাদের কথা বার্তা অনেক গুছাল হয়, তাহারা বিপরীত মানুষটির মনোভাব অতিব সহজেই নিজের ভিতরে আয়ত্তে নিয়া আসিয়া ঠিক তিনি যাহা চাহেন, সেইভাবেই উপস্থাপন করিতে সক্ষম হন। এই মানুষগুলির আরেকটি উপসর্গ হইলো যে, তাহারা অল্প তথ্যেই আগে পিছে আরো সামান্য কিছু কাল্পনিক তথ্য যোগ করিয়া একতা সম্পুর্নবিশ্বাস যোগ্য কাহিনী বানাইয়া ফেলিতে পারেন। তাহারা যাহা বলিতেছে বা উপস্থাপন করিতেছে, তাহা তাহারা নিজেরাও বিশ্বাস করে না যদিও এই সব কল্প কাহিনীর মধ্যেও অনেক জ্ঞান লুকায়িত থাকে। উক্ত জ্ঞান তাহাদের কর্ন কুহরে প্রবেশ করে না। ইহাদের সহিত মুনাফেকের একতা বিশেষ মিল দেখা যায়। ইহাদের লোভ আছে কিন্তু প্রকাশ করিতে চাহে না অথচ সেই লোভের লাভ পাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত পরিকল্পনা করিতেই থাকে। তাহারা কারো বন্ধু নহেন কিন্তু বন্ধু হইয়াছেন, এইরুপ ভাব সর্বদা করেন। তাহাদের মধ্যে ধর্মের কিছু বাহ্যিক উপকরন সর্বদা ব্যবহার করেন যাহাতে তাহাদেরকে অতি সহজেই মুনাফেক ভাবা না হয়। অথচ তাহারা ধর্ম কখনোই পালন করেন না। তাহাদের কাছে কনো মতামত চাহিলে যেই মতামতে আপনি খুশী হইবেন, তাহারা সেই মতামতটাই দিতে থাকিবেন যাহাতে আপনি আরো কিছু তথ্য তাহার কাছে আপনার অজান্তে বাহির করিয়া দেন।   

কথাগুলির অর্থ যদি তুমি না বুঝিয়া থাকো, বারবার পড়ো, বারবার। একসময় যখন চোখের জলে বুক ভাসিয়া যাইবে, তখন বুঝিবে তুমি হয়তো বুঝো নাই তবে তোমার অন্তর বুঝিয়াছে কিন্তু তোমার অন্তর তাহা প্রকাশ করিতে পারিতেছে না। যদি সেইটাই হয়, তখন তুমি একটা জিনিষ বুঝিবে যে, তুমি বাইরে এক, আর ভিতরে আরেক মানুষ। সেক্ষেত্রে আমার উপদেশ, অন্তরের মতো হও। বাইরে তোমাকে যা দেখা যায় সেটা তুমি নও, সেটা তোমার প্রেতাত্মা। আর প্রেতাত্মারা কখনোই মানুষের সমাজে স্বীকৃত নহে।

আমি তোমাকে সেই রকমের আদর আর ভালোবাসা দিয়ে পরিবর্তন করিতে চাহিয়াছিলাম। আমি দেখাইতে চাহিয়াছিলাম যে, যাহারা তোমাকে অবহেলা করিয়া সমাজের এক পাশে ছুড়িয়া ফেলিয়া দিয়াছিলো, আসলে তুমি তাহা নও। আমার থেকে বেশী আর কেউ তোমাকে ভালোবাসিয়াছে কিনা আমার তাহা জানা নাই, আমার থেকে বেশী উদবিগ্ন ছিলো কেউ, সেটা আমার জানা নাই। কিন্তু আজ আমি একটা জিনিষ বুঝিয়াছি, তুমি আমার বিশ্বাস, আমার সততা আর আমার সরলতা নিয়ে এমন কিছু মানুষের জন্য নিজের সত্তাকে বিসর্জন দিয়াছো যাহা তোমার জন্য হুমকিস্বরূপ। এতোবড় অনিরাপদ পরিস্থিতি সামনে রাখিয়া, এতো বড় আশংকার পৃথিবী জানিয়াও যখন কেহ নিজের আশংকার কথা ভাবে না, তাহাদের জন্য অন্ধকার প্রিথিবীটাই প্রযোজ্য।

জীবনকে ভালোবাসিবার আরেক নাম চেলেঞ্জ। জীবনকে ভালোবাসিবার আরেক নাম সততা। জীবনকে ভালোবাসিবার আরেক নাম বিশ্বাস। সব হাসিই হাসি নয়, আবার সব কান্নাই কান্না নয়। মানুষ অধিক আনন্দেও কাদে। আবার মানুষ অধীক দুঃখেও কাদে না। তবে মানুষ সব ভয়েই কাতর হয়। আর সব ভয়ের চেহারা এক। যার নাম- আতঙ্ক। এই আতংকে মানুষ অসুস্থ হয়, মানুষের রুচী কমিয়া যায়, এক সময় দেহ ভাঙ্গিয়া আসে। দেহ ভাঙ্গার সাথে সাথে মানুষ মানসিকভাবে দূর্বল হয়, এক সময় পানির অভাবে যেমন কচি গাছের মরন হয়, তেমনি এই আতংকগ্রস্থ মানুষগুলিও মৃত্যু বরন করে। তাহাদের জন্য কেউ আর পিছনে তাকায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *