২৮/০৪/২০২৩-Dollar Decline vs. Dollar Collapse

আগের পর্বে বলেছিলাম যে, Why a dollar decline is inevitable, and a collapse is unimaginable.

যখন অন্য দেশের লোকাল কারেন্সীর তুলনায় ডলারের মান বা ভ্যালু কমে যাবে তখন ডলার ডিক্লায়েন করছে বলা হবে। এর মানে হলো, অন্য কারেন্সী দিয়ে আগের তুলনায় বেশী ডলার কেনা যাবে অথবা আগের যেই ডলার দিয়ে কোনো একটি পন্য যে দামে কেনা যেত, এখন সেই পন্য তার থেকে কম দামে কিনতে পারবে মানুষ অথবা একই পন্যের দামের বেলায় ডলার বেশী পে করতে হবে আমেরিকান সরকারকে। এটা সব দেশের কারেন্সীর বেলাতেই প্রজোজ্য। আমরা এখানে শুধু ডলার নিয়ে আলাপ করছি বলে ডলারের ভ্যালুর কথা বললাম।

ডলারের মান কমে যাওয়া মানেই ইউএস ট্রেজারীর ভ্যালুও কমে যাওয়া। আগে যদি ইউএস ট্রেজারীতে ২ মিলিয়ন ডলার থাকতো, ডলার এর মান কমে যাওয়াতে সেই ২ মিলিয়ন ডলারের ভ্যালু হয়তো দারাবে পুর্বের দেড় মিলিয়নের মতো। আর এতে সুদের হার বাড়বে, মর্টগেজের পরিমান বাড়বে ইত্যাদি। অন্যভাবে বললে-যে পরিমান ডলার ইউএস ট্রেজারীতে আছে, তার ভ্যালু আর আগের মতো থাকবে না।

দূর্বল ডলারের মাধ্যমে কম বিদেশী গুডস পাওয়া যাবে। এতে আমদানীর দাম বেড়ে যাবে, আর আমদানীর দাম বেড়ে গেলেই মুদ্রাস্ফিতি হবে। বিপদ হলো-ডলারের মান কমতে থাকলেই ইনভেষ্টররা তাদের হাতে থাকা দীর্ঘ মেয়াদী ট্রেজারী বন্ডগুলি হাত থেকে ছেড়ে দিতে থাকে। স্টক মার্কেটের মতো। কোনো শেয়ারের দাম কমতে থাকলে যেমন প্লেয়াররা শেয়ার ছেড়ে দিতে থাকে যদি অনেক অলস মানি হাতে না থাকে। এটা প্রায় এ রকমের।

এ যাবতকাল তেল এবং অন্যান্য কমোডিটিজ শুধুমাত্র ডলারের মাধ্যমে হবে এটাই ছিলো কন্ট্রাক্ট। ফলে ডলার ভ্যালুর সাথে কমোডিটির প্রাইস ইনভার্স রিলেশনে আবর্তিত হয়। ডলারের দাম বাড়লে কমোডিটির দাম কমে, আর ডলারের দাম কমলে কমোডিটির দাম বেড়ে যায়।

আমদানী-রপ্তানীতে ডলারের এই ফ্লাকচুয়েশনে যারা রপ্তানী মুখী ব্যবসায়ী তাদের লাভ হয়। আর যারা আমদানী নির্ভর ব্যবসায়ী তাদের অনেক ক্ষতি হয়।

এবার আসি, কি কি কারনে ডলার ডিক্লায়েন করতে পারে বা করে

কোনো দেশের কারেন্সী পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে দুটি কারনে ডিক্লায়েন করেঃ

(১)        ধনী ব্যবসায়ীরা সরকারকে ট্যাক্স ফাকি দিয়ে

(২)       অনেক ব্যাংক ডলারে ট্রেডিং করেও ডলার নমিনেটেড এসেটসকে লুকিয়ে ট্যাক্স মওকুফ করে ক্লায়েন্টকে সুবিধা দেয় এবং নিজেরা লাভ করে। শুধু লস করে সরকার। তাতে ব্যাংক বা ক্লায়েন্ট কারো ক্ষতি হয় না।

আর এ কারনে ইউএস সরকার ২০১০ সালে ফরেন একাউন্ট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স আইন জারী করে যাতে এই দুষ্টু কাজগুলি কোনো ব্যবসায়ী বা ব্যাংক না করতে পারে। আর এর কারনে আমেরিকান অনেক ব্যবসায়ীদেরকে ফরেন ব্যাংকগুলি ধীরে ধীরে ছেড়ে দিতে চায়। যদি এই রকমভাবে ফরেন ব্যাংকগুলি ইউএস কাষ্টোমারকে ছেড়ে দেয় তাহলে ডলার ডিক্লায়েন করবেই। কারন তখন ডলার রোলিং করবে না।

(৩)      ৩য় পয়েন্ট হচ্ছে-যখন ডলারের বিপরীতে অন্য আরেকটি কারেন্সী সমান্তরালভাবে ট্রেডিং কারেন্সী হিসাবে বাজারে চলমান হয়ে যায়, তখন একচ্ছত্র ডলারের আধিপত্য থাকবে না। এরমানে যখন ডলার ১০০% কারেন্সী ট্রেডিং হতো সেটা এখন ১০০% না হয়ে কম পার্সেন্টজী নেমে আসবে। মানে ডলার ডিক্লায়েন করছে। এই বিকল্প কারেন্সী যতো দ্রুত বিকাস ঘটবে ডলার ততো দ্রুত মার্কেট থেকে তার আধিপত্য হারাবে। এরমানে কিন্তু ডি-ডলারাইজেশন না, বা ডলার কলাপ্সড না। শুধু গ্লোবাল মার্কেটে এর আধিপত্য থাকবে না। এতাই এখন হতে যাচ্ছে।

এবার আসি বর্তমানে এই ডলারের অবস্থা কি

প্রায় ৭৯ বছর যাবত চলা গ্লোবাল কারেন্সী ডলার। অন্য কোনো বিকল্প কেউ তৈরী করতে পারে নাই, চেষ্টা করলেও সম্ভব হয় নাই। কিন্তু গত ২০ বছর যাবত আমেরিকা এই ডলারকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে প্রায় ২০টি দেশের রিজার্ভ ব্লক করে দিয়েছে। তাতে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশসমুহ এবং যারা নিষেধাজ্ঞায় পড়ে নাই, তারাও তাদের রিজার্ভ মুদ্রা নিয়ে সংকিত। রিজার্ভ নিয়ে বিভিন্ন দেশসমুহ আমেরিকার একচ্ছত্র ডলারের রিজার্ভ নিয়ে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে।

চীন বহু আগে থেকেই ডলার রিজার্ভের বিকল্প নিয়ে ভাবছিলো। যেমন চীন ২০১৩ সালে ব্রিটিশ ইনভেষ্টদেরকে ১৪ বিলিয়ব ডলার সমপরিমান তাদের মার্কেটে চীনা কারেন্সীতে ইনভেষ্ট করিয়েছে। চীন ক্রমাগত তার এই প্রকারের ইনভেষ্টমেন্ট বাড়িয়েই চলছে। এর পরিমান এখন প্রায় ট্রিলিয়ন ডলারের সমান। মজার ব্যাপার হলো-এই ইনভেষ্টমেন্ট সে আরো বাড়াতে পারবে যখন সে ক্রমাগত ইউএস ডলার এর রিজার্ভ বাড়াতে থাকবে। কারন তার বিপরীতে তাদের লোকাল মুদ্রাকে অন্য দেশের ইনভেষ্টদেরকে আকৃষ্ট এবং নিশ্চয়তা বিধান করে করে চীনা মুদ্রায় আটকে ফেলবে। এটা এক দিনে বা ২ বছরে হয়তো হবে না কিন্তু একসময় চীনা মুদ্রা বিকল্প হিসাবে আংশিক হলেও দাঁড়িয়ে যাবে। আরেকটা মজার ব্যাপার হল, চীনাদের কাছেই আমেরিকার ফরেন লোন আছে প্রায় ৩১ ট্রিলিয়ন। আর ফরেন লোন কখনোই কোনো দেশ এমনকি আমেরিকাও গায়ের জোরে ডিফল্ট করতে পারবে না।  এটা পেমেন্ট করতেই হবে।

অনেক দেশই আমেরিকার এই রিজার্ভ আটকে দেয়াকে পছন্দ করছিলো না। এবার ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে রাশিয়া, ইন্ডিয়া, আফ্রিকা, চীন, মিডল ইষ্ট, ইরান, ভেনিজুয়েলা, ব্রাজিল, সাউথ আফ্রিকা ইত্যাদি দেশসমুহ একটা জোট করেছে যে, তারা ডলারের বিপরীতে হয় তাদের লোকাল কারেন্সী অথবা কোন একটা পার্টিকুলার মুদ্রায় ট্রেডিং করতে পারে কিনা। আর সেটা এখন খুব জোড়েসোরে চলছে, যার নাম “ব্রিক্স কারেন্সী” আর সেটা চীনা মুদ্রায়।

একটা সময় আসবে যখন ডলার ছাড়া ৯৭% কোনো ট্রেডিং সম্ভব হতো না, সেখানে ডলারে ট্রেডিং হয়তো নেমে ৫০% এ। এভাবে এই ট্রেডিং এর পার্সেন্টেজ কমতে থাকলে একদিকে ডলার গ্লোবাল কারেন্সী হিসাবে যেমন ডিক্লায়েন করতে থাকবে অন্যদিকে ডলার যে একটা অস্ত্র এটা আর আমেরিকা ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু তাতে যেটা হবে, ডলার হেজিমোনি হারানোর কারনে আমেরিকার অর্থনিতির উপর একটা বড় প্রভাব পড়বে। ইচ্ছে করলেই আমেরিকা আর ফিয়াট কারেন্সীর দোহাই দিয়ে যতো খুশী ডলার প্রিন্ট করতে পারবে না। আর করলেই ডলার আরো ইনফ্লেশনে পড়তে বাধ্য। প্রকৃত সত্য হচ্ছে- বিভিন্ন দেশের রিজার্ভ কারেন্সীকে আমেরিকার অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা ঠিক হয়নি।  

তাহলে এর প্রভাব ছোট দেশ গুলির উপর কি প্রভাব পড়বে?

ছোট ছোট দেশগুলি যেমন বাংলাদেশ, এদের বিপদ অনেক। তারা তাদের রিজার্ভ যেহেতু খুব স্টং না, ফলে যতোদিন একটা ভায়াবল বিকল্প কারেন্সীর তৈরী না হবে, তারা এই ডলারেই ট্রেডিং করতে হবে। কিন্তু যদি আমাদের মতো দেশগুলি আমেরিকার দ্বারা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কোনো দেশের সাথে ট্রেডিং করতে হয় যেখানে ওইসব দেশ ডলার থেকে বিকল্প কারেন্সীতে ঢোকে যাচ্ছে, তাদের সাথে ট্রেডিং একটা মহাঝামেলার সৃষ্টি হবে। ভায়া হয়ে হয় লোকাল কারেন্সীর মাধ্যমে করতে হবে না হয় সংরক্ষিত ডলারকে হাত ছাড়া করতে হবে। এর জন্য ছোট দেশ গুলির যা করা প্রয়োজনঃ

-উভয় কারেন্সীতেই (ডলার এবং ব্রিক্স) রিজার্ভ রাখা। পারলে ইউরো বা ইয়েন।

-বেশী গোল্ড কিনে রিজার্ভ করা।

-ডলার কারেন্সী ধীরে ধীরে কমিয়ে ফেলা

-দেশীয় পন্য বেশী ব্যবহার করে আমদানী কমিয়ে রপ্তানী বাড়ানো, আর রপ্তানী হতে হবে সেসব দেশে যেখানে বিকল্প কারেন্সী চলে।

-বড় বড় মেগা প্রোজেক্ট হাতে না নেয়া।

-দ্রুততার সাথে ফরেন লোন থেকে আউট হয়ে যাওয়া।

- আইএমএফ থেকে এ অবস্থায় কোনো লোন না নেয়া। কারন আই এম এফ ইউ ডলারড। যদি লোন নিয়েই হয়, সেক্ষেত্রে ইয়েন, রুবল, বা চীনা মুদ্রা যা বিকল্প ব্রিক্স কারেন্সীতে কনভার্টেবল।

এটা সব দেশের জন্য খুব সহজ কাজ নয়। বিশেষ করে আমাদের বাংলাদেশের জন্য। কারন আমাদের বেশীরভাগ মার্কেট হয় ইউরোপ, না হয় পশ্চিমা দেশের সাথে। তাই আমাদের দেশকে এখন এদের বাইরেও দ্রুত নতুন মার্কেট খুজতে হবে। নতুন মার্কেট বলতে ব্রাজিল, সাউথ আফ্রিকা, চীন, রাশিয়া, বা এইসব দেশ যেখানে বিকল্প কারেন্সীর প্রচলন হতে যাচ্ছে।

ব্যক্তি পর্যায়ে ডলার ডিক্লায়েনের প্রভাব কিভাবে সামাল দেয়া যায়?

-নিজেদের হার্ড এসেটের পরিমান কমিয়ে লিকুইড এসেটে নিয়ে আসা যাতে দ্রুত এডজাষ্ট করা সম্ভব। কারন হার্ড এসেটকে লিকুইড এসেটে রুপান্তরীত করা অনেক সময়ের ব্যাপার।

-গোল্ড বা অন্য সিকিউরিটিজ যা গ্যারান্টেড সেগুলি কিনে রাখা।

নোটঃ

কেউ যদি এতা বিশ্বাস করে যে, ডলার ডিক্লায়েনের মাধ্যমে আমেরিকার অর্থনীতি কলাপ্সড করবে সে ভুল ভাবছে। -কারন the dollar would only collapse under extreme economic circumstances. The U.S. economy would essentially have to collapse for the dollar to collapse. While the U.S. economy experiences crashes and recessions, it hasn't had a brush with a complete collapse in modern times. If the U.S. economy were to completely collapse, and the global economy were to restructure itself around a new reserve currency, then the dollar would collapse.

আর বিকল্প কারেন্সী তৈরী হলেও আমেরিকা সেই বিকল্প কারেন্সীতে কখনোই ট্রেডিং করবে না কারন-The United States is the world's best customer. It's the largest export market for many countries. Most of those countries have adopted the dollar as their own currency. Others peg their own currency to the dollar. As a result, they have zero incentive to switch to another currency.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *