২৯/০৪/২০২০-মাননীয় ইচপিকার

ফেসবুকে কিছু কিছু লোকের কিছু কিছু সাবজেক্টে কমেন্টস আর যুক্তি শুনলে মনে হয়, দুনিয়ার কোনো সাব্জেক্টেই তেনাদের জ্ঞানের কোনো কমতি নাই। রোগতত্তের উপরই হোক, অর্থনীতির উপরই হোক, গ্লোবাল রাজনীতির উপরই হোক, মনে হয়, ওরে বাবা, না জানি কত বড় জ্ঞানি। কিন্তু যদি জিজ্ঞাস করেন, বলেন তো বাংলাদেশের রাজধানীর নাম কি? অথবা বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস কোনটা অথবা বিজয় দিবস কোনোটা, দেখবেন, বলতে না পাইরা বলদের মতো দাত কেলাইয়া হাসবে। আবার হাসিটাও এমুন, যেনো নুরানী মার্কা।

আবার কিছু লোক আছে যারা জীবনে কিছুই হইতে পারে নাই, কিন্তু অন্যে কেনো সফল হইলো, তারজন্য মনে তার এক প্রকার ভীষন জ্বালা। অধিক মরিচ খাইয়া হাগু করতে গেলে যেমন জ্বলে, ঠিক এই রকম তাগো কইলজার ভিতরে সারাক্ষন জ্বলতেই থাকে। ঠান্ডা পেপ্সি কিংবা লাবাং খাইলেও কোনো কাজ হয় না। জ্বলা আর কমে না। তাই যতো পারো সুযোগ পাইলেই এই সফল লোকগুলির বিরুদ্ধে যতোপদের চিলিকবাজী মন্তব্য আছে, করতে কোন দিধা নাই। পরের পাছা, মরিচ দিতে অসুবিধা নাই। বড়ই মজা। এদের কিন্তু জীবনে বড় হইবার খায়েস কখনো যায় না। খালি সপ্ন দেখে, আর ভাবে, হালার শর্ট খাট রাস্তাটা কি? খালি সটখাট মারবার চায়, খুইজ্জা পায় না। এরা আবার মাঝে মাঝে ফেয়ার এন্ড লাভলীও মাখে। এরা কথায় বড় ধান্দাবাজ। এরা যখন কথা কয় তখন আমজনতা (আমজনতা কারা, ব্যাখ্যাটা করতাছি একটু পরে) তন্ময় হইয়া শুনতেই থাকে। আর ভাবে, আরে, ভাই, এতো দেখি মহাজ্ঞানী, এরেই তো খুজতাছি। এতোদিন কোথায় ছিলেন, বনলতা সেন টাইপের আকুতি। আমজনতা তার কথা শোনার পর আবার মোবাইল নম্বরটাও চাইয়া লয়, যদি কখনো আবার কাজে লাগে। কিন্তু মজার ব্যাপার হইলো গিয়া, এরা কারো কাজেই লাগে না, নিজেরও না। এরাই অন্যের বড় বড় বানী টাইম মতো মুখস্থ ছাইরা দেয়, অন্যের ছোট খাটো লিমিটেশন্স মস্ত বড় কইরা ঢেকুর তোলে, এরা সারাক্ষন মাইনষের পোন্দের মধ্যে মরিচের গুড়া মাখতেই থাকে।

আবার কিছু পাবলিক আছে, খায় মালিকেরটা, কাম করে পরের অধীনে, কিন্তু সুযোগ পাইলে ওই মালিকের পাছায় বাশ দিতে একটুও কার্পন্য করে না। ভাবখানা এই রকম যে, হালায় মালিক হইলো কেন? আমি তো হের থেকে আরো সুন্দর ইংরাজী কই, আমি তো ব্যাকব্রাশ চুল আচড়াই, আমার চেহারা তো হের থেকে আরো সুন্দর, হালায় আমি ক্যান মালিক না। মারো পোদে বাশ। যেই না আবার সমস্যায় পরে, পুনরায় তেল দিতে দিতে আর জুতার তলা ক্ষয় করতে করতে আবার এইসব মালিকের পা ই ওরা চাটতে পছন্দ করে, যদি একটা ইঙ্ক্রিমেন্ট পাওয়া যায় তার আশায়।

আবার কিছু পাবলিক আছে, তার তথাকথিত বুদ্ধিমান বন্ধু কোনো একটা পোষ্টে একটা মন্তব্য করছে, তার কাছে মনে হইলো, ওর বন্ধু তো মনে হয় বুইজ্জাই মন্তব্য করছে। আর কোনো চান্স নেয় না, এক্কেবারে তার সাথে ঢোল পিটাইয়া লাইক দেয় আর কয়, আমিও সহমত। আরে হালার ভাই, সহমত দিবি না সহমরনে যাবি, যা, কিন্তু বুইজ্জা তো ক? এখানেই শেষ না, পারলে আরো কিছু যোগ এমনভাবে করে যেনো আদার বেপারী জাহাজের খবর তো নেয়ইে, পাশাপাশি টাইটানিকের নেয়। কারন ওই তথাকথিত বুদ্ধিজীবি অকর্মন্যা বন্ধুর লগে সহমত না হইলে তো আমার প্যাদা খাওয়ার সম্ভাবনা আছে। প্যাদা যদি নাও খায়, বোদাই হিসাবে গন্য হইবার সমুহ সম্ভাবনা তো থাকেই। তাই সহমত হইলে আর কোনো রিস্ক থাকে না। এর মধ্যে আবার এমন কিছু আবাল টাইপের বন্ধুও আছে, যারা আবার ইচ্ছা কইরাই সহমত হয় না। ওরা আরো এক ধাঁচ উপরে। তিনি আবার সহমত না প্রকাশ কইরা, এমন এক মন্তব্য ইংরেজী বাংলায় লিখেন যেনো পইড়া মনে হয়, হায় রে ইংরাজী। যদি ব্রিটিশরা এই ইংরাজি পড়তো, তাহলে, ভারতবর্ষে ওই যে, ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলন হইছিলো, সেটার আর কোনোই প্রয়োজন হইতো না। ব্রিটিশ সরকার এম্নিতেই মাফ চাইয়া কইতো, ভাই আমাদের ইংরেজী ভাষাকে আর পোদ মাইরেন না, আমরা ভারতবর্ষ ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইবো।

আবার এমন কিছু লোক আছে, প্রিন্ট বা ছাপানো কিছু দেখলেই মনে করে, আবে হালার, এইতো পাইছি অরিজিনাল খবর। তাহলে তো ব্যাপারটা সত্যি। যায় কই। লাগলো এর পিছনে যুক্তি মারা। এটা গুজব না, সজব, না মিথ্যা নাকি একটা চক্রের কাম, সেটা কোনো ব্যাপার না। ছাপার অক্ষরে লেখা আছে না? সত্য না হইয়া যায় কই? এইসব পাবলিক আর্বি ভাষায় কোনো পর্ন পত্রিকা দেখলেও সেটা পবিত্র মনে করিয়া বুকে জরাইয়া চুমা খাইবে। কারন এই পাবলিকগুলি কোনটা যে কি কিছুই বুঝে না। হে ঈসশর, তুমি এদের হেদায়েত করো।

আবার কিছু লোক আছে, অতি সাধারন। যাহা দেখে তাহাই বিশ্বাস করে। এদের বলা হয় আমজনতা। ওই যে আগে বললাম। বেশীর ভাগ আমজনতা না বুইজ্জাই ফেসবুকের খবর, ভিডিও, পোষ্ট পড়ে আর রিয়েকশন দেয়। রাত জাইজ্ঞা জাইজ্ঞা ফেসবুক করে। এরা কখনো আবেগে কান্দে আর টিস্যু দিয়া চোখ মুছে । কখনো কখনো খিলখিল কইরা হাসে। আবার কখনো কখনো এমনি এমনি চুপ কইরা বইয়া থাকে আর কি জানি ভাবে। মাঝে মাঝে আবার দুই হাত তুলে ঈশ্বরের কাছে মুনাজাতও করে। এরা নীতিবান। কিন্তু এরা কোনো ফ্যাক্টর না। কিন্তু এরাই সবচেয়ে বেশী গুজবটা ছরায়।

কারন উপরের যা যা দেখলেন, এই আমজনতা সবগুলিই শেয়ার করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *