২৯/২/২০২৪-রাশিয়া ইউরোপের

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যে আমেরিকা এবং ইউকে কখনোই ইউরোপ অঞ্চলের মধ্যে জিওগ্রাফিক্যালী পড়ে না, তারপরেও তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশ হিসাবে পরিগনিত। অন্যদিকে রাশিয়া খোদ ইউরোপ অঞ্চলের মধ্যে থেকেও সে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অংশ নয়। একইভাবে যদি দেখি, ন্যাটো যাকে নর্থ আন্টালন্টিক ট্রিটি হিসাবে আখ্যায়িত করা হয় সেখানেও আমেরিকা, ইউকে এরা প্রধান দল। ন্যাটোর বিপরীতে রাশিয়া ওয়ার্শ গড়ে তুলেছিলো বটে কিন্তু যখন রাশিয়া ভেংগে গেলো, তখন তার সাথে ওয়ার্শও ভেংগে দিলো তদানিন্তন সোভিয়েট রাশিয়া। পক্ষান্তরে ন্যাটো কিন্ত রয়ে গেলো আর সেটা বর্তমান রাশিয়ার বিপরীতে। অনেকবার রাশিয়া এই খোদ ন্যাটোতে জয়েন করার কথা জানালেও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বা ন্যাটো তথা পশ্চিমারা তাতে সাড়া দেয়নি।

এবার যে কয়টা প্রশ্ন মনে জাগে সেটা হল-

(১)       ন্যাটো যদি ওয়ার্শ এর বিপরীতেই তৈরী হয়ে থাকে, সেই ওয়ার্শই যখন নাই, তাহলে এখনো ন্যাটো আছে কেনো?

(১) রাশিয়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য না হয়েও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তাদের ব্যবসা বানিজ্য, এনার্জি সেক্টর থেকে শুরু করে লোহা, ইউরেনিয়াম, খাদ্য, গ্যাস, তেল, মাছ, এমন কি সামরিক সরঞ্জামাদিসহ সবকিছু রাশিয়ার উপর নির্ভরশিল। রাশিয়া তার দেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে সমস্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন দেশসমুহকে সস্তায় তেল, গ্যাস রপ্তানী করে। আর এই সস্তায় তেল গ্যাস, ইউরেনিয়াম, লোহা, খাদ্যশস্যের উপর ভিত্তি করে জার্মান ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনইতিক দেশ হিসাবে কমপেটিটিভ মার্কেটে দাঁড়িয়ে আছে।

আমেরিকাতে পৃথিবীর ৫০% রিজার্ভ তেল মজুতে আছে কিন্তু সে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কোনো দেশের জন্যই আজ পর্যন্ত একটা পাইপ লাইন তৈরী করে নাই। কেনো করে নাই?

সারা দুনিয়ায় যে সব সফেস্টিকেটেড যুদ্ধ সরঞ্জামাদি আছে তার মধ্যে আমেরিকার তৈরী যুদ্ধ সরঞ্জাম অত্যাধুনিক। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, গত কয়েক বছর আগ পর্যন্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ভান্ডারে যা যুদ্ধ সরঞ্জামাদি রয়েছে সব রাশিয়ান প্যাটার্নের। এখন এই পুরু যুদ্ধ সরঞ্জামের রাশিয়ার বিকল্প হিসাবে যদি পশ্চিমা যুদ্ধ সরঞ্জামাদিতে রুপান্তরীত করতে হয় তাহলে কত বিশাল একটা মার্কেট আমেরিকার জন্য? আমেরিকা তাদের সবকিছুতে আর্থিক লাভ খোজে। আর এটাও একটা লাভ যে, এবার রাশিয়ার সব যুদ্ধ সরঞ্জামাদি বাদ দিয়ে পশ্চিমা যুদ্ধ সরঞ্জামাদিতে সরে আসা।

প্রায় ১৫ হাজার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে রাশিয়ার উপর। রাশিয়া সবচেয়ে বড় পজিটিভ দিক হচ্ছে যে, সে শুধু ইউরোপের সাথেই কানেক্টেড না, সে এশিয়ার সাথেও কানেক্টেড। আর আমেরিকা বা পশ্চিমারা আফ্রিকায় এতোটাই কলোনিয়ালিজম করেছিলো যে, বর্তমানে আফ্রিকা কিছুতেই আর পশ্চিমা প্রোপাগান্ডায় নির্ভর করতে চায় না। বরং তারা সাইড নিয়েছে রাশিয়ার দিকে।

বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মিডিয়া যেভাবে প্রোপাগান্ডা সারা দুনিয়ায় ছড়াচ্ছে, তাতে সারা বিশ্ব এখন এটাই ভাবছে যে, যেখানেই পশ্চিমারা পদার্পন করেছে সেখানে ওদের ওরাল ন্যারেটিভের বিপরীতেই ফলাফল হয়েছে। এতে ইরাক, আফগানিস্থান, লিবিয়া, ইয়েমেন, ইত্যাদি দেশগুলি আরো বিপর্জ্যের মধ্যে পড়তে হয়েছে।

বর্তমান ইউক্রেনও তার পরিনতি ভোগছে।

একটা সময় আসবেই যখন এই ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আবার রাশিয়ার সাথে ঝুকে পড়বে, এই ইউক্রেন যুদ্ধ আলোচনার মধ্যেই শেষ হবে, নতুন যারা ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে, তারা একসময় আফসোস করবে, এবং ডলার হেজিমনি শেষ হয়ে গেলে পশ্চিমারা পুনরায় সেই ইউকে এর মতোই আচরন করবে যে ইউকে কোনো এক সময় সারাটা দুনিয়া দাপটের সাথে শাসন করেছে বটে কিন্তু সে এখন একটা দ্বীপ ছাড়া আর কিছুই না।

এখানে একটা কথা বলে রাখি যে, অন্যান্য দেশের কারেন্সি প্রিন্ট করার আগে যেমন সেটা গোল্ডব্যাকড হতে হয়, কিন্তু আমেরিকার ডলার প্রিন্ট করার জন্য কোনো গোল্ডব্যাক লাগে না। তাই তারা যতো খুশি, যখন খুশি ডলার ছাপাতে পারে যা আসলে একটা কাগজের নোট ছাড়া তাদের কাছে আর কিছুই না কিন্তু অন্য দেশের জন্য এটা অনেক বড় ব্যাপার। যখন একদিন এই ডলার তার নিজভুমে ফেরত আসবে বিকল্প কারেন্সির চাপের কারনে, তখন সেখানে এতো বেশি মুল্যস্ফিতি হবে যা কল্পনার অতীত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *