৩০/১১/১৯৯৯- বদল চাই প্রশাসনের

 মঙ্গলবার, ৩ঃ৫৬ঃ৪৪ বিকাল, বগুড়া সেনানিবাস-

আমি নিজেকে প্রশংসা করছি না, এখন যেটা বলছি সেটা লিখে। এটা জাস্ট আমার মনে হয়েছে। মানুষগন যদি তাদের আবেগ এবং বহিরপ্রকাশ ভনিতা করে না দেখায় তাহলে আমার কথাই হয়তো সত্যি। দেশের বেশির ভাগ রাস্ট্র নায়কদের পতন হয় তার আশে পাশের উপদেস্টাদের ভুল জিনিস ভনিতা করে ঠিক জিনিস দেখানোর মধ্যে। রাস্ট্রনায়কগন যা দেখছেন তা সত্য দেখছেন না, যা ভাবছেন তা ভুল জিনিসের উপর বিশ্বাস রেখে ভাবছেন, এবং যা মুল্যায়ন করছেন তা নিতান্তই একটা ভুল জিনিসের উপর দাঁড়িয়ে মুল্যায়ন করছেন। এর কারন তিনি সবকিছুই দেখছেন ওইসব উপদেস্টাদের দেখানো তথ্যের উপর ভিত্তি করে। উপদেস্টাগন কতটুকু কি দেখাচ্ছেন, তা বুঝা যায় রাষ্ট্রনায়কের পতনের পর। কিন্তু তখন যা হবার তা হয়ে গেছে। 

আমি রাষ্ট্রপ্রধান নই। আমার কোন উপদেস্টা নাই। আর যারা উপদেস্টা হিসাবে কাজ করে, তাদের কোনো উপদেশ আমি খুব একটা গ্রহন করছি সেটা এমন নয়।  

গতকাল লিখেছিলাম যে, আমি আমার সাধ্যের বাইরে গিয়ে হলেও সবাইকে সব ধরনের সাহাজ্য সহযগীতা করবোই। ব্যাপারটা কাজে লাগছে/আমি বুঝতে পারছি, ডিভিসনের লোকজন আমার সঙ্গ পছন্দ করা শুরু করেছে। হতে পারে এটা যে, আমি ডিভিসনের অত্যান্ত ক্ষমতাধর একজন মেজর, হয়ত সবাই এইজন্য আমার সঙ্গটা পছন্দ করছে। কেনো করছে সঠিক কারন টা খুব শিঘ্রই বের করে ফেল্বো। তবে অনেক কারন আছে আমাকে এড়িয়ে যাওয়ার। ওগুলো আমার ক্ষমতার বাইরে। যেমন, আমার চেহাড়া এমন নয় যে, রাজপুত্রের চেহাড়া, কিংবা এমন জিনিয়াস নই যে, সবাই আমাকে নিয়ে নাচবে। খাওয়া দাওয়াও তো এমন না যে, এই জন্য আমার সাথে সবাই থাকে বলে ওই ঊছিলায় তারাও খেতে পারে। 

আমি যদি কারো কাছ থেকে কিছু চাই, থাকলে না দিতে উছিলা দিতে মনে বাধবে। 

আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করছি যে, জেনারেল আনোয়ার কিছু কিছু অফিসারদের বেলায় পক্ষপাতিত্ব করছেন যা আমার কাছে ন্যায়সঙ্গত মনে হচ্ছে না। অনুপ কুমার চাকমা একজন খুব প্রোফেসনাল অফিসার কিন্তু ঊনি চাকমা। তাতে কি? তিনি ৩৯ সাপোর্ট ব্যাটালিয়ানের সিও হিসাবে আছেন। আগামি প্রোমসন বোর্ডে ঊনার নাম আছে কিন্তু আমার ধারনা জেনারেল আনোয়ার তাকে পছন্দ করছেন না এবং যে কোনভাবেই হোক তার মাধ্যমেই তাকে ভুল ধরিয়ে ধরিয়ে এমন কিছু করে ফেলা যেনো ঊনার প্রোমসন এসিয়ারে জেনারেল আনোয়ার প্রোমসনের জন্য রিকমেন্ড না করলেও জেনারেল আনোয়ারের কোনো দোস থাকে না। ব্যাপারটা অন্যায়। 

আমি স্যারকে খুব কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করছি। তাকে কেউ কেউ কান কথা দিচ্ছে। জেনারেল আনোয়ার খুব খারাপ মানুষ না। কিন্তু তাকে বা তার উপদেষ্টাগন তাকে ঠিক জিনিসটা দেখতে দিচ্ছে না। আমি নিজেও কিছু করতে পারছি না। তাই ভাবছি, আমি এইসব অফিসারদের জন্য এমন কিছু করে দেওয়া যাতে জেনারেল আনোয়ার তাদের ভুল কিছু ধরতে না পারেন। 

হতাত হতাত করে জেনারেল আনোয়ার এইসব ইউনিটে ভিজিটে চলে আসেন। সবসময় সিওদের পক্ষে ১০০% ঠিক রাখা সম্ভব নয়। সৈনিকের ছুটি নিয়ে সমস্যা থাকতে পারে, ফলে ট্রেনিং এ লোক কম থাকতেই পারে। একটা  দুর্বল ড্রাইভার কোথাও গিয়ে একটা এক্সিডেন্ট করতেই পারে, তাতে সিও সাহেবের কিছু করার থাকে না। জেনারেল আনোয়ার কোন জিনিসটা  ধরবেন বলে মনোস্থির করে রেখেছেন, যা আমি আগে ভাগেই জানি, আমি চাইছি সেই গোপন তথ্যগুলি ওই সব অসহায় অফিসারদেরকে দিয়ে দেওয়া যাতে অন্তত জেনারেল আনোয়ার ভাবেন যে, এই সব অফিসারগন তাদের সাধ্য মতো চেষ্টা করে যাচ্ছেনএবং ভুল  করছেন না। 

হতাত দেখা গেলো জেনারেল আনোয়ার বললেন, জি-২, কাল অমুক ইউনিটে সকালে পিটি করার সময় আমি যাব, দেখবো, কারা কারা ইউনিটে সকালে বিশেষ করে সিও কিংবা টু আইসিরা পিটিতে যায় না। কি যন্ত্রনা। কি দরকার জেনারেলদের এই সব নিয়ে এতো চিন্তা করার? কন্সেপ্টটাই আমার ভালো লাগতো না। এটা একটা ধরাধরির বাতিক। এভাবে আসলে চলে না। 

আমি হয়ত রাতের বেলায় ওই ইউনিটের সিওকে বলে দিলাম, স্যার , আগামি কাল জিওসি আপ্নাদের ইউনিটে  সাডেন ভিজিটে যাবেন। কে বা কারা কারা পিটিতে অনুপস্থিত থাকে তা দেখার জন্য। একটু সাবধানে থাকতে হবে। দেখা গেলো, ১০০% অফিসার, সৈনিক হাজির। এটাও আই ক্যাচিং। জিওসি বুঝে যাচ্ছে, ইনফরমেশন লিক হয়ে যাচ্ছে। 

দেখা গেলো বাৎসরিক ফিটনেস ভিজিটে আমি অনেক পয়েন্ট গননার মধ্যেই আনি নাই। জিওসি তো আর সবসময় সবকিছু মনে রাখেন না। আবার এমন হয়েছে যে, কোনো কোনো ইউনিটের সিওগন তাদের বাৎসরিক ফিটনেস প্রোগ্রামটা বেশ কিছুদিন পিছিয়ে আরো একটু সময় নিয়ে করতে চান। যদি অফিশিয়ালি চিঠি পাঠাতে বলি, জেনারেল আনোয়ার, কিংবা জিএসও-১, বা কর্নেল স্টাফ হয়তো মানবেন না। আমি কোনো কিছুই না জানিয়ে সবার সিডিউলে একেবারে বদল করে দিয়ে ফাইনাল করে ফেলতাম যাতে সিওরা একটু সস্থিতে কাজ করতে পারে।

এই রকম অনেক কিছু আমি আমার তরফ থেকে সবার জন্য কাজ সহজকরার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারপরেও অনেক ছোট খাটো উপদেস্টা আছে যাদের কারনে জিওসি অনেক কিছু জেনে যান আর সবার অসুবিধা হয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ উপদেস্টা হচ্ছে এফআইইউ র অধিনায়ক। বর্তমানে এফআইইউ র অধিনায়ক হিসাবে আছে মেজর ফারুক। ছেলেটা খারাপ না কিন্তু আরো অনেক কিছু করতে পারতো সবার জন্য। 

ভাবছি, এবার জেনারেল আনোয়ারকে সরাসরি ম্যানেজ করা যায় কিনা। মানুষ তাকে বুঝালে হয়তো বুঝবে। এই সামনের তিন দিনের গ্রুপ ট্রেনিং এক্সারসাইজ আছে। সেটা হবে আমার টার্গেট। 

বদল করে দিতে চাই পুরু কন্সেপ্ট। সবাইকে নিয়ে থাকতে চাই এক সাথে। আমার সবাইকে প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *