২৯/০৬/২০২২-ফিনল্যান্ড, সুইডেন এবং তুরুষ্কের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিঃ

অবশেষে ফিন ল্যান্ড এবং সুইডেনকে ন্যাটোতে যোগদানে ত্রি-পক্ষীয় চুক্তির শর্তে আগামী জুন শেষে তুরুষ্ক ভেটো প্রদান থেকে বিরত থাকবে বলে চুক্তি স্বাক্ষরিত।

(ক) সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডের YPG/PYD কে টেরোরিষ্ট অর্গ্যানাইজেশন হিসাবে আখ্যায়িত করা হলো। ফলে এদের দ্বারা কিংবা এদের সিস্টার অর্গ্যানাইজেশন বা এদের দ্বারা প্রতিপালিত যে কোন সংস্থা, ব্যক্তি কিংবা এই জাতীয় যে কোনো ভার্চুয়াল কিংবা রিয়েল কার্যকলাপ অথবা এই সন্কেসথাকে যারা বা যে কোনো অর্গ্যানাইজেশন সাপোর্ট করবে কিংবা সহযোগীতা করবে তাদের সমস্ত কার্যিকলাপকে টেরোরিষ্ট এক্টিভিটি হিসাবে গন্য করে উভয় দেশ তা প্রতিহত, এবং নিসচিত করবে। এর জন্য উভয় দেশের ক্রিমিনাল কোডে যে সব এমেন্ডমেন্ট উভয় দেশ অতীতে এনেছিলো সেগুলি সংশোধন পূর্বক নতুন ক্রিমিনাল কোড অন্তর্ভুক্ত করে সাংবিধানিকভাবে ১ম জানুয়ারী ২০২২ থেকে কার্যকরী করে তা বাস্তবায়ন করবে।

(খ) এই গ্রুপের যে সব নেতা এবং ব্যক্তিবর্গকে তুরুষ্ক টেরোরিষ্ট হিসাবে পূর্বেই চিহ্নিত করেছিলো, তাদেরকে তুরুষ্কের হাতে তুলে দিতে হবে, সে ব্যাপারে ফিনল্যান্ড এবং সুইডেন রাজী হয়েছে।

(গ) তুরুষ্কের উপর সমস্ত আর্মস নিষেধাজ্ঞা অবমুক্ত। উপরন্ত তুরুষ্ক সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড থেকে সাভাবিক পদ্ধতিতে যে কোন ধরনের মিলিটারী অস্ত্র আমদানী করতে পারবে বলে নিসচিত প্রদান করা হইলো।

(ঘ) তুরুষ্কের বিরুদ্ধে কোনো প্রকারের হুমকী, মিলিটারী এক্টিভিটিজ কিংবা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন যে কোনো কার্যকলাপ থেকে উভয় দেশ সর্বদা বিরত থাকবে বলে অংগীকার।

যারা পুরু ট্রাইলেটারাল চুক্তিটা পড়তে চান, দেয়া হলো।

Please wait while flipbook is loading. For more related info, FAQs and issues please refer to DearFlip WordPress Flipbook Plugin Help documentation.

 

২৯/০৬/২০২২-হিটলারের শেষ আদেশের কপি

১৯৯৭-৯৮ সালে আমি যখন ষ্টাফ কলেজ করছিলাম, তখন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের উপর আমার ইন্টারেষ্ট  আসে। ফলে আমি পুরু ২য় মহাযুদ্ধের সময় জার্মানদের পরিকল্পনা বা কিভাবে যুদ্ধটা পরিচালিত হয়েছে সেটা জানার জন্য প্রচুর বইপত্র এবং তার সাথে অনেক দালিলিক দস্তাবেজ জোগাড় করে পড়তে থাকি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী জরুরী বইটি ছিলো H R Trover Roper সংকলিত Hitler’s war Directives -1939-1945

হিটলার মোট ৫২টি ডাইরেক্টিভস ইস্যু করেছিলেন, আর কিছু ছিলো Führer Orders। হিটলারের সমস্ত ইন্সট্রাক শন এবং আদেশ অন্য সব কিছুর উর্ধে ছিলো, এর মানে  These instructions superseded laws of the German government as Hitler was considered to be above the law. ২য় মহাযুদ্ধের ১ম ডাইরেক্টভ ইস্যু হয়েছিলো ৩১ আগষ্ট ১৯৩৯ সালে। হিটলারের সর্বশেষ Führer Orders ছিলো Fuhrer Order-74, ১৫ এপ্রিল ১৯৪৫ সালে যার হেডলাইন ছিলো ‘Order of the Day ‘। এখানে বলে রাখা ভালো যে, Führer Orders were issued later in the war. They tended to be less strategic and more specific in nature. হিটলার তার সেই ৭৪ নাম্বার ফুয়েরার আদেশে কি লিখেছিলেন সেটা এখানে পোষ্ট করলাম।

Fuhrer Order-74

Order of the Day 15 April 1945

Soldiers of the German Eastern front!

For the last time our deadly enemies the Jewish Bolsheviks have launched their massive forces to the attack. Their aim is to reduce Germany to ruins and to exterminate our people. Many of you soldiers in the East already know the fate which threatens, above all, German women, girls, and children. While the old men and children will be murdered, the women and girls will be reduced to barrack-room whores. The remainder will be marched off to Siberia.

We have foreseen this thrust, and since last January have done everything possible to construct a strong front. The enemy will be greeted by massive artillery fire. Gaps in our infantry have been made good by countless new units. Our front is being strengthened by emergency units, newly raised units, and by the Volkssturm. This time the Bolshevik will meet the ancient fate of Asia-he must and shall bleed to death before the capital of the German Reich. Whoever fails in his duty at this moment behaves as a traitor to our people. The regiment or division which abandons its position acts so disgracefully that it must be ashamed before the women and children who are withstanding the terror of bombing in our cities. Above all, be on your guard against the few treacherous officers and soldiers who, in order to preserve their pitiful lives, fight against us in Russian pay, perhaps even wearing German uniform. Anyone ordering you to retreat will, unless you know him well personally, be immediately arrested and, if necessary, killed on the spot, no matter what rank he may hold. If every soldier on the Eastern front does his duty in the days and weeks which lie ahead, the last assault of Asia will crumple, just as the invasion by our enemies in the West will finally fail, in spite of everything.

Berlin remains German, Vienna will be German again, and Europe will never be Russian.

Form yourselves into a sworn brotherhood, to defend, not the empty conception of a Fatherland, but your homes, your wives, your children, and, with them, our future. In these hours, the whole German people looks to you, my fighters in the East, and only hopes that, thanks to your resolution and fanaticism, thanks to your weapons, and under your leadership, the Bolshevik assault will be choked in a bath of blood. At this moment, when Fate has removed from the earth the greatest war criminal of all time [Editor's note: Hitler was referring to the recently deceased Franklin Roosevelt], the turning-point of this war will be decided.

[signed]
Adolf Hitler

বাংলায়

হে আমার জার্মানীর পশ্চিম ফ্রন্টের সৈনিকগন।

আমাদের মরনব্যাধি জুয়িস বলশেভিক শত্রুবাহিনী তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমাদেরকে আক্রমন করেছে। জার্মানীকে চিরতরে শেষ এবং জার্মানীর সমুদয় জনগোষ্ঠিকে সমুলে নিশ্চিহ্ন করে দেয়াই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। আমাদের পূর্ব জার্মান উপকূলে নিয়োজিত সামরিক বাহিনীর সৈনিকগন ইতিমধ্যে মন্দ ভাগ্যের ব্যাপারে অবগত হয়েই গেছেন। সবচেয়ে দুর্দশায় আছে এখন আমাদের মেয়েরা, নারীরা এবং বাচ্চারা। সত্যি বলতে কি, আমাদের বৃদ্ধ পুরুষ মানুষদেরকে এবং বাচ্চাদেরকে তারা নির্বিঘ্নে হত্যা করছে, মেরে ফেলা হচ্ছে বা হবে, আর যুবতী মহিলারা তাদের ব্যারাক হাউজে পতিতা হিসাবে নিগৃহীত হচ্ছে। আর বাকী যারা থাকবে, তারা সরাসরি সাইবেরিয়ায় বন্দি হিসাবে চালান দেয়া হবে।

আমরা এটা আগেই বুঝতে পেরেছিলাম এবং সে মোতাবেক  গত জানুয়ারী থেকে যত প্রকারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেয়ার দরকার তার কোনোটাই বাদ রাখিনি। কিন্তু শত্রুবাহিনী তাদের আর্টিলারী দিয়ে আমাদের সব শক্ত অবস্থান গুলিকে গুড়িয়ে দিয়ে হয়তো উল্লাস করছে বা করবে। আমরা সর্বাত্তক চেষ্টা করেছি আমাদের পদাতিক বাহিনীর মাঝে যে সব গ্যাপগুলি আছে, সেগুলিকে অগনিত নতুন ইউনিট দিয়ে সুরক্ষা করার চেষ্টা করার। আমাদের সম্মুখভাগের যুদ্ধ লাইনকে ইমারজেন্সী ইউনিট দিয়েও সুরক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার ধারনা যদি সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক চলে, তাহলে এবারো আমাদের শত্রু বলসেভিক বাহিনী আমাদের রাজধানী জার্মান রিখে আসার আগে এশিয়ার ভাগ্যের মতো রক্তাক্ত ভাগ্যবরন করতে হবে। তবে, এই অবস্থায় যারাই তাদের দায়িত্ত পালনে অপারগ হবে বা পালনে অস্বীকার করবে তারা রাষ্ট্রোদ্রোহী হিসাবেই পরিচিত হবে। যেসব রেজিমেন্ট বা ডিভিশন লজ্জাজনকভাবে শত্রুকে প্রতিহত না করে তাদের স্থান ত্যাগ করবে, তারা যেনো একবার আমাদের জার্মান নারী, যুবতী এবং শিশুদের কথা মাথায় রাখে যারা ক্রমাগত বোম্ব এবং শত্রুর দ্বারা দূর্বিসহ আক্রমণে মারা যাচ্ছে। তারা যেনো এতা সব সময় মাথায় রাখে যে, তাদের এই লজ্জাজনক স্থান ত্যাগে তাদেরকে সেই সব নারী, যুবতী, আর বাচ্চাদের সামনে লজ্জিত করবে। আরেকটি কথা যে, আমাদের মধ্যেই অনেক বিশ্বাসঘাতক অফিসার এবং সৈনিক আছে যারা জার্মান ইউনিফর্ম পড়া অথচ আমাদের টাকায় শত্রুর সাথে হাত মিলিয়ে আমাদেরকেই আঘাত করছে তাদের থেকে নিজেদেরকে সুরক্ষায় থাকতে হবে। যদি কোনো অফিসার বা যে কেউ তোমাদের যুদ্ধের স্থান ত্যাগ করতে বলে, তাহলে সে যেই পদবিরই হোক তাকে ইমিডিয়েটলী এরেষ্ট করতে হবে এবং প্রয়োজনে মেরে ফেলতে হবে। সে যে পদবীরই হোক না কেনো। যদি প্রতিটি সৈনিক পুর্বফ্রন্টে আমার এই আদেশ মোতাবেক দায়িত্ত পালন করে, তাহলে শত্রুর সর্বাত্তক অভিযান পরাজয় বরন করতে বাধ্য যেভাবে আমাদের পশ্চিমাফ্রন্টে তারা পরাজয় বরন করেছে।

বার্লিন জার্মানীর আছে আর সেটা জার্মানীরই থাকবে। ভিয়েনা আবারো জার্মানীর হবে এবং ইউরোপ কখনোই রাশিয়ার হবে না, না ইউরোপ রাশিয়ার কখনো বন্ধু হবে।

তোমাদের নিজ পিতৃভূমিকে রক্ষাই শুধু নয়, তোমাদের নিজ গৃহকে, নিজের পরিবারকে, নিজেদের সন্তানদেরকে এবং তাদের সাথে আমাদের ভবিষ্যতকে সুরক্ষা করার জন্য তোমরা নিজেরা নিজেরা ভাতৃত্ববোধ তৈরী করো। এই কঠিন সময়ে সমস্ত জার্মানবাসী তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

হে আমার যোদ্ধারা, তোমরা আমার আশা, ভরষা, তোমাদের অস্ত্রকে, তোমাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্তকে আমি শ্রদ্ধা জানাই যে, তোমাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে মরনব্যাধি জুয়িস বলসেভিক শত্রুরা তাদের নিজের রক্তে ভেসে যাবে। ঠিক এ সময়ে যখন পৃথিবী থেকে ভাগ্য নামক চিন্তাধারা উঠে গেছে, তখন পৃথিবীর সেরা ওয়ার ক্রিমিনালদেরকে পরাজিত করেই আমরা ডিসাইসিভ ফলাফল নিয়ে আসবো।

হিটলার

নোটঃ এ সময়ে রুজভেল্ট এর মৃত্যুতে হিটলার কিছুটা উল্লসিত হলেও এই ১৫ এপ্রিলে আসলে হিটলার তার পরাজয় এক রকম বরন করেই নিয়েছিলো। হিটলারের এই শেষ ন্যারেটিভস আসলে তার এরোগ্যান্সির একটা বহির্প্রকাশ ছিলো। কারন ২ এপ্ল্রিলে হিটলার নিজেই স্বীকার করেছিলো যে, ন্যাশনাল সোস্যালিজমের পতন হয়েছে, এখন শুধু তার ফলোয়ারদের দায়িত্ত কিভাবে তারা এগুবে। সেদিন অর্থাৎ ২ এপ্রলি হিটলার নিজেই এক সমাবেশে বলেছিলো ‘ to go on fighting, even without hope, to the very end’ although ‘I personally would not endure to live in the Germany of transition which would succeed our conquered Third Reich’ অর্থাৎ শেষ অবধি যুদ্ধ চালিয়ে যাও যদি জিতার কোনো সম্ভাবনা নাও থাকে। আমি হয়তো জার্মানীর ৩য় রিখের এই জয়ের ঘটনার সময়ে জীবিত থাকবো না ।

বস্তুত হিটলারের এই আদেশের পর পরই রাশিয়া জার্মানীর চারিদিক ঘিরে ফেলে এবং হিটলার ২২ এপ্রিল তার অবস্থান থেকে রিজাইন দেন। ৩০ এপ্রিল ১৯৪৫ সালে হিটলার আত্মহত্যা করেন। অতঃপর, ২ মে ১০৪৫ তারিখে ইতালীর জার্মান আর্মি ইতালীর জেনারেল আলেক্সান্ডারের কাছে, উত্তর-পশ্চিমের ৪র্থ আর্মি জেনারেল মন্ট গোমারীর কাছে, এবং ৭ মে ১৯৪৫ সালে জেনারেল আইসেন হাওয়ারের অধীনে জার্মানির আত্তসমর্পনের দলিল স্বাক্ষরিত হয়।

২৭/০৬/২০২২-আমার একটা জিনিষ কিছুতেই বুঝে আসে না

আমার একটা জিনিষ কিছুতেই বুঝে আসে না যে, নিষেধাজ্ঞা কি আসলেই  কোনো কাজ করে? হ্যা, করতো যদি সারা দুনিয়ার দেশগুলি একসাথে সেই সিদ্ধান্তে এক থাকে। সেটা যে কোনো ক্ষমতাশীল দেশের জন্যে অবশ্যই বিপদজনক। কিন্তু সারা দুনিয়া কি এক সাথে এই নিষেধাজ্ঞায় কাজ করছে? করছে না। তাহলে দেখি-কতগুলি দেশ এবং কত জনসংখ্যার মানুষ এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে?

সারা দুনিয়ায় দেশ আছে ১৯৫টি। ইউরোপেই আছে ৪৪ দেশ। ইউরোপের ৪৪টি দেশের মধ্যে ইইউ এর অধীনে আছে ২৭টি দেশ। বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মাধ্যমেই শুধু রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হচ্ছে, পুরু ইউরোপের মাধ্যমে কিন্তু নয়। এরমানে ইইউ, আমেরিকা, ইউকে আর কানাডা মিলে মাত্র ২৯টি দেশ নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে। ২৭টি ইইউ দেশের জনসংখ্যা ৪৫০ মিলিয়ন। আর পুরু ইউরোপ জুড়ে জনসংখা ৭৫০ মিলিয়ন। অর্থাৎ ইউরোপেই প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মানুষ রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা দেয় নাই। ইউরোপের বাকী ১৭টি দেশ এবং ৩০০ মিলিয়ন লোক রাশিয়ার বিরুদ্ধে নয় ধরে নেয়া যায়। অন্যদিকে অর্থাৎ সারা দুনিয়ার আরো ১৯৫ টি দেশের মধ্যে ১৬৫টি দেশ নিষেধাজ্ঞা দেয় নাই।

সারা দুনিয়ায় মানুষের সংখ্যা ৮ বিলিয়ন বা ৮০০০ মিলিয়ন। এই ৮ হাজার মিলিয়ন থেকে মাত্র ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন প্লাস আমেরিকা কানাডা আর ইউকে মিলে ৪৫০ মিলিয়ন মানুষের দেশসমুহ রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় বাকি ৭৫৫০ মিলিয়ন মানুষের দ্বারা রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা পায় নাই। অর্থাৎ মাত্র ৫%+ এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বাকী ৯৫% রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞায় রাখে নাই। এতো বিশাল জনগোষ্ঠীর মার্কেটিং, অপুরচুনিটি তো অবাধ!! তারমধ্যে রাশিয়া নিজেই কিছু কিছু জায়গায় খুব শক্ত অবস্থানে যেমন খাদ্য সামগ্রী, ইউরেনিয়াম, গোল্ড, ডায়মন্ড, তেল, গ্যাস, আয়রন, কয়লা, প্লাটিনাম, নাট্রোজেন ফার্টিলাইজার, কপার, কাঠ, ক্যামিকেল ফার্টিলাইজার (ফসফরাস, পটাশিয়াম) এ তারা সয়ং সম্পুর্ন এবং এক্সপর্ট করে।  রাশিয়ার এইসব পন্যের উপর সারা দুনিয়ার বেশিরভাগ দেশ সমুহ কোনো না কোনোভাবে নির্ভরশীল। সেই সব দেশ সমুহের মানুষেরা অযথা ইউক্রেনের উপর এতো আবেগিত হয়ে তাদের নিজের ক্ষতি করার মতো পাগল এখনো হয় নাই।  তারমানে, রাশিয়ার বাজার ৯৫% লোকের জন্য উম্মুক্ত।

এবার আসি, এই ইউরোপিয়ান দেশগুলির মধ্যে শক্তিধর দেশ হিসাবে কারা কারা। বলা হয় ফ্রান্স, জার্মানী এবং ইতালী হচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মেরুদন্ড। এবার দেখি এদের মেরুদন্ডের শক্তিটা কত। ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২ এর হ্যান্স এন্ড ম্যাট কোর্ডার হিসাব মতে মোট ৯টি দেশে নিউক্লিয়ার অস্ত্র আছে-পাকিস্তান (১৬৫), ভারত (১৬০), ইসরায়েল (৯০), ফ্রান্স (২৯০), আমেরিকা (৫৪২৮), ব্রিটেন (২২৫), রাশিয়া (৫৯৭৭), চায়না (৩৫০) এবং নর্থ কোরিয়া (২০)। ইরানের ব্যাপারটা এখনো পরিষ্কার নয়। রাশিয়া এবং আমেরিকা একত্রে মোট ৯০% নিউক্লিয়ার অস্ত্র আছে আর বাকী ১০% আছে বাকি ৭টি দেশে। এরমানে ফ্রান্সের আছে ২৯০টি নিউক, জার্মানীর নাই, ইতালীর নাই। এটা হচ্ছে প্রধান ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মেরুদন্ড।

একটা কথা সবার জানা থাকা দরকার যে, আমেরিকা, ব্রিটেন, এবং কানাডা কিন্তু ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অংশ নয় এবং তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যও না। কানাডা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে স্ট্রাটেজিক পার্টনার, ইউকে ইতিমধ্যে বেরিয়ে গেছে, আমেরিকা ইউরোপের অংশই না। হ্যা, তারা ন্যাটোর সদস্য। ন্যাটো আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এক কথা নয়। ফলে ইউরোপিয়ানের শক্তি শুধু জার্মান, ফ্রান্স আর ইতালী যাদের শুধুমাত্র ফ্রান্সের ২৯০ টি নিউক আছে। সম্বল এটাই।

অন্যদিকে যেহেতু ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের না হয়েও ন্যাটোর সদস্য আমেরিকা আর ইউকে, তাই ন্যাটোর সদস্য হিসাবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের থেকে ন্যাটোর নিউক বেশী। তারমানে এটা ইউরোপের সম্পদ না। একটা ডায়ালগ প্রায়ই শুনে থাকবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বা ইউকে প্রেসিডেন্টের মুখে যে, আমরা ন্যাটোভুক্ত দেশের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষা করবো, এটা বলে না যে, আমরা ইউরোপের প্রতিটা দেশের  প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষা করবো।

আমেরিকার নিউক্লিয়ার অস্ত্র বেলজিয়াম, জার্মানী, ইতালি, তুরুষ্কের সাথে ন্যাটোর অংশ হিসাবে শেয়ার্ড করা। এরমানে হচ্ছে আমেরিকার বেশ কিছু নিউক্লিয়ার অস্ত্র এসব দেশে মোতায়েন করা আছে যেগুলির কন্ট্রোল আমেরিকার কাছে তবে ন্যাটো দেশ যাদের নিউক নাই তারা এগুলিতে ট্রেনিং নেয়। ব্যাপারটা বিকন্দ্রিকরনের মতো। রাশিয়া, চায়না, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান আর নর্থ কোরিয়া মিলে মোট নিউক আছে  ৬৬৭২। তারা সেগুলি পূর্ন কন্ট্রোলে রেখেছে, বিকন্দ্রীকরন করে নাই। আমেরিকা, ফ্রান্স, ইউকে, ইসরায়েল মিলে নিউক আছে ৬০৩৩ টি। ইসরায়েল এই যুদ্ধে নিউক ইউজ করবে না কারন তার ভয় ইরান। ফলে ইসরায়েল বাদ গেলে ন্যাটোর কাছে মোট নিউক আছে ৫৯৪৩। যদি অনুপাত করি তাহলে দাঁড়ায়, (1) : (0.88)

শুধুমাত্র এই শীতকাল যদি রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠতে পারে, তাহলে মনোপলিজম এর মতো ইউনিপোলারিটির একচ্ছত্র রাজত্তের অবসান হবে, পেট্রো ডলারের রাজত্ব হারিয়ে যাবে, সারা দুনিয়ার হিসাব কিতাব অনেক বদলে যাবে।

এবার যেহেতু গোল্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা এসছে, এর প্রভাব সবচেয়ে ভাল পাবে অন্যান্য দেশ, আর নেগেটিভিটিতে থাকবে হেজিমুনিয়াল কারেন্সী ডলার এবং ইউরো। এটা নিয়ে আরেকদিন লিখবো।

১৭/০৬/২০২২-সেন্ট পিটসবার্গে পুটিনের ভাষন

সেন্ট পিটসবার্গে পুটিন তাঁর বিখ্যাত ভাষনটি দিয়েছেন। মোট ৭টি এরিয়া সে কাভার করেছে। আমি সেটাইই অনুবাদ করার চেষ্টা করেছি। আসলে হুবহু অনুবাদ করা অনেক কঠিন। বিশেষ করে থিম ঠিক রাখা। আমার বন্ধু আসাদ এ ব্যাপারে অনেক পারদর্শী। যাই হোক, ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা করবেন।  

The old world order is gone with the wind

নতুন ‘সেন্টার অফ পাওয়ার’ ইতিমধ্যে দুনিয়ায় প্রসব করেছে। ইউনিপোলার ওয়ার্ল্ড আর কখনোই ব্যাক করবে না। না ‘কলোনিয়াল’ ধারনার আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে। যেদিন নিজে নিজে “কোল্ড ওয়ার” এ আমেরিকা জিতে গেছে বলে নিজেকে ডিক্লেয়ার করলো, সেদিন থেকেই তারা তাদেরকে মনে করেছে, “ম্যাসেঞ্জার অফ গড”। তাদের সব চিন্তা চেতনা, তাদের সুবিধাভোগী ভাবনাই শুধু সঠিক এবং পবিত্র। তাঁকে চ্যালেঞ্জ করার কোনো সুযোগ নাই অন্য কারো। পাশ্চাত্যের এই ধ্যান ধারনা সবাই না মানতে পারলেও ঠিক সেদিন থেকেই অন্যান্যের মধ্যে নিজেদের রাষ্ট্রীয় সিস্টেম, আর্থিক মডেল এবং সার্বোভোমত্তকে প্রোটেক্ট করার জন্য সুপ্ত নতুন সেন্টার অফ পাওয়ারের জন্ম হোক সেটা ভাবছিলেন। সেই ভাবনায় লুকিয়ে ছিলো সত্যিকারের একটা রেভুলেশন, জিওপলিটিক্সে টেক্টোনিক পরিবর্তন এবং বর্তমান টেকনোলজিক্যাল বিষয়ে সার্বিক গ্লোবাল অর্থনীতির পরিবর্তন ও তাঁর বিকাশ। অন্যান্য সবাই জানে যে, এটা একটা মৌলিক পরিবর্তন যাকে এতোদিন পশ্চিমারা অস্বীকার করেছে। আজকের যে নতুন সেন্টার অফ পাওয়ার তৈরী হতে যাচ্ছে, এটা আজ না হয় হয়, কাল হতোই। কেউ এতো লম্বা সময় ধরে এই টার্বুলেন্ট পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করতে চায় নাই। সবকিছু আবার নরম্যাল হোক এটাই সবাই চেয়েছে। আর সেটাই এখন হতে যাচ্ছে।

Anti-Russian sanctions backfired on the West

যখন আমেরিকা এবং তাঁর মিত্ররা ইউক্রেনের অপারেশনকে সামনে রেখে একসাথে রাশিয়াকে বাতিল বলে ঘোষনা দিলো, তাতে তারা মনে করেছিলো রাশিয়া দ্রুতগতিতে এর ঐতিহ্য হারাবে এবং নতজানু অর্থনীতিতে ভেংগে পড়বে। কিন্তু সেটা না হয়ে যেটা হয়েছে- বুমেরাং, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং মিত্রদের মধ্যে পারষ্পরিক হতাশা আর বিভেদ। বিশেষ করে ইউরোপিয়ান মিত্রদের মধ্যে যারা একটা অদৃশ্য জালের মধ্যে আটকে গেছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং পশ্চিমারা তাদের পলিটিক্যাল সভরেন্টি সম্পুর্নভাবে আস্থা হারিয়েছে। ইউরোপিয়ান বুরুক্রেটিক্সগন অন্যের বাজনার সুরে, সেটা যে সুরই হোক, নৃত্য করতে গিয়ে তারা তাদের নিজেদের মানুষগুলির উপর এবং চালিকাশক্তি অর্থনীতির  চরম ক্ষতি এবং ভারসাম্য নষ্ট করেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এহেনো অবাস্তব অবিবেচক সিদ্ধান্তে প্রতিবছর তাদের কম করে হলেও ৪০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি সম্মুখিন হতে হবে। এটা একটা ক্লিন হিসাব।

‘Elite change’ awaits the West

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং আমেরিকা নেতাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মধ্যে যথেষ্ট পরিমান ফারাক রয়েছে। কারো কারো আর্থিক বা সামরিক দুর্বলতার কারনে কিংবা সামাজিক মানদন্ডের পার্থক্য থাকায় কেউ কেউ সিদ্ধান্ত পার্টিসিপেশনে কোন প্রকারের প্রাধান্যই পায় না। প্রাধান্য না পাওয়ার সেইসব দেশের নাগরিকেরাও নিজেদেরকে অন্য মিত্রদের কাছে হেয় অনুভুতিতে ভোগছেন। তারা তাদের ভ্যালু, অরিয়েন্টেশন, ঐতিহ্য যেনো এই ইউরোপিয়ান কোয়ালিশনে এসে হারাতে বসেছেন। এই যে অলিখিত কিন্তু প্রকাশ্য বাস্তবিক দুরুত্ত যা প্রতিটা মিত্রের মধ্যে বিদ্যমান, সেটা তলে তলে আগ্নেয়গিরির মতো ফুলে ফেপে উঠছিলো। এটা আরো প্রকট হয়েছে এই ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে আরো বেশী। তারা নিজেরাই এখন বুঝতে পারছিলো কে কার কোথায় অবস্থান কিংবা কে কাকে কতটুকু সুরক্ষিত দেখতে চায় এবং সেটা কিভাবে। এই প্রেক্ষাপট তারা নিজেরা নিজেদের অনুভুতি দিয়ে এবার বুঝার চেষ্টা করছে বলে সেখানে একটা রেডিক্যাল মুভমেন্ট, সোস্যাল এবং অর্থনীতির পরিবর্তন, এবং মোদ্দাকথা একটা ‘এলিট পরিবর্তনের আন্দোলনের আভাষ সামনে হাজির হচ্ছে। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।  

Economic development is an expression of sovereignty

২১ শতকে দাঁড়িয়ে সার্বোভোমত্তকে একটা আংশিকখাত হিসাবে দেখার কোনো সুযোগ নাই। সার্ভোবোমত্তের যতগুলি উপাদান আছে, তার প্রতিটি উপাদানকে সমানভাবে জরুরী এবং প্রয়োজনীয় মনে করতে হবে। কারন প্রতিটি উপাদান একে অন্যের সাথে জড়িত। রাশিয়া আর্থিক উন্নতির উপাদানে পাচটি মৌলিক নীতি অনুসরন করবে-(ক) ওপেননেস (খ) ফ্রিডম (গ) সোস্যাল জাষ্টিস (ঘ) ইনফ্রাষ্ট্রাকচার (চ) টেকনোলোজিক্যাল সভরেন্টি। রাশিয়া কখনোই সেলফ আইসোলেশন এবং অটার্কীতে বিশ্বাস করে না এবং করবেও না। তাই রাশিয়া যে কোনো কারো সাথে যখন খুশী, বন্ধুত্বপুর্ন মর্যাদা রেখে একে অপরের সাথে বোঝাপড়ায় আন্তরিকতার সাথে সম্পর্ক বাড়াতে চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের যা যা আছে তা আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, প্রাইভেট ব্যবসা বানিজ্যে রাশিয়া আপ্নাদেরকে সাহাজ্য করবে, সামাজিক বৈষম্য দূরিকরনে রাশিয়া যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে টেকনোলোজি পর্যন্ত আমরা একে অপরের সাথে শেয়ার করবো। একটা কথা আমি নিশ্চিত দিয়ে বলতে চাই যে, স্বাধীন দেশসমুহ ইকুয়াল পার্টনারশীপে কাজ করার কথা। সেখানে কে কোন দিকে দূর্বল আর কে কোন দিকে সবল সেটা কোনো বিবেচ্য বিষয় হওয়া কখনোই উচিত না। পুতিনের কথাটা ঠিক এ রকমের-

“Truly sovereign states are always committed to equal partnerships,” while “those who are weak and dependent, as a rule, are busy looking for enemies, planting xenophobia, or finally losing their originality, independence, blindly following the overlord,” he said.

 Reasons for the Ukraine conflict

গত ফেব্রুয়ারীতে ইউক্রেনে বিশেষ অপারেশনের একটাই কারন যে, পশ্চিমারা তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিই মানতে অস্বীকার করছিলো বারবার এবং তাদের সাথে আর কোনোভাবেই কোনো প্রকারের সমঝোতা করার কোনো স্কোপই ছিলো না, আবার নতুন করে কোনো সন্ধি করার ব্যবস্থাও ছিলো না। কারন তারা এ ব্যাপারে আমাদের কোনো কথাই শুনতে নারাজ ছিলো।

ইউক্রেনে বিশেষ অপারেশন চালানোর ব্যাপারে আমার উপরে বলতে পারেন বাধ্য করেছিলো এবং এটার খুবই দরকার ছিলো। কারন, রাশিয়ার নিরাপত্তা এমনভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিলো যে, আমরা শংকিত হয়ে পড়েছিলাম। আর এটার বাহ্যিক উদাহরন ছিলো দনবাসে রাশিয়ানপন্থি মানুষগুলিকে কিংবা রাশিয়ান ভাষাভাষি নাগরিকদেরকে গনহত্যা করা হচ্ছিলো। আর এর পিছনে মদদ ছিলো পশ্চিমাদের। যারা নব্যনাৎসি বাহিনী তৈরী করে সেই ২য় বিশ্ব যুদ্ধের তরিকায় নির্বিঘ্নে এবং খুবই অমানবিক কৌশলে গনহত্যা চালিয়ে যাচ্ছিলো। পশ্চিমারা বছরের পর বছর অস্ত্র দিয়ে, ট্রেনিং দিয়ে, এবং সামরিক যতো প্রকারের উপদেষ্টাগত পরামর্শ দিয়ে এই ইউক্রেনকে বেছে নিয়েছিলো এই নিধনে। এই অবস্থায় ইউক্রেনের মানুষগুলির কি হবে, ইউক্রেনের অর্থনীতির কি ক্ষতি হবে, বা ইউক্রেনের সার্বিক কি হতে পারে সেটায় পশ্চিমারা একটুও মাথা ঘামায় নাই। তাদের শুধু লক্ষ্য ছিলো রাশিয়াকে কিভাবে বাতিল করা যায়। ফলে ইউক্রেনকে এক তরফা ভরষা দিয়ে রাশিয়ার দারপ্রান্তে পশ্চিমাদের  সামরীক শক্তি ন্যাটোকে রাশিয়ার নাকে ডগায় নিয়ে আসতে চেয়েছিলো। আর এই কাজটা একদিনে ওরা করে নাই। ইউক্রেনিয়ানদের মনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটা ঘ্রিনা এবং রাগের মতো মনোভাব তৈরীতে সক্ষম হয়েছিলো, বিশেষ করে শাসক গোষ্টির মধ্যে।  স্কুল কলেজ, গির্জা, কালচার, ধর্ম কিংবা আচার আচরনে সর্বক্ষেত্রে ইউক্রেনের নাগরিকদের মনে, মাথায় ধ্যানে কার্যকলাপে এতাই শিক্ষা দেয়া হচ্ছিলো যে, রাশিয়ানরা খারাপ যাকে রাশিফোবি বলা চলে। আমাদের কোনো উপায় ছিলো না। এবার রাশিয়া তাঁর এজেন্ডা মোতাবেক সবগুলি নির্মুল না করা পর্যন্ত আমাদের আনকন্ডিশনাল এই অভিযান চলতেই থাকবে, এটা নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।

Energy prices and inflation are self-inflicted

এনার্জি প্রাইস এবং ইনফ্লেশন যদি বলেন, পশ্চিমারা এর জন্য দায়ী করছে রাশিয়াকে।  তারা যেটা বলেছে- “Putin’s price hike is a “stupidity” and “designed for people who can’t read or write,”  পশ্চিমাদের এই অপবাদ কোনোভাবেই সত্য নয় এবং গ্রহনযোগ্য নয়। দাম বাড়া এবং ইনফ্লেশনের জন্য আমাদেরকে দায়ী করতে পারেন না, দায়ী আপ্নারা। দায়ী আপনাদের অবিচকের মতো অবাস্তব সিদ্ধান্তসমুহ।  কভিডের কারনে ইউরোপিয়ান এবং আমেরিকা অগনিত ইউরো আর ডলার ছাপানোর কারনে যেমন এখন ইনফ্লেশন তৈরী হয়েছে, তেমনি অন্ধভাবে রাশিয়ার গ্যাস এবং তেলের বিকল্প তৈরীতে আরো এতো লম্বা সময় লাগবে যে, ইউরোপ এবং পশ্চিমাদের অর্থিনীতিতে এর প্রভাব পড়তে বাধ্য। সেই ইনফ্লেশন তারা কিভাবে মোকাবেলা করবেন সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।

If there’s a famine, it won’t be Russia’s fault

পশ্চিমা দেশ এবং ইউরোপের নিষ্রধাজ্ঞার কারনে খাদ্যশস্য এবং সার এর সল্পতার কারনে যদি দূর্ভিক্ষ হয়, তাঁর জন্য তো দায়ী তারা। দুনিয়ার অনেক দরিদ্র দেশসমুহ কোনো অপরাধ না করেও তারা দূর্ভোগ বহন করবে। তারা এই জরুরী খাদ্যপন্য এবং পরবর্তী বছরের জন্য সার পন্য না পেলে তাদেরও অনেকদেশ ক্ষতির মুখে পড়বে। আর এর জন্য দায়ী শুধুমাত্র ইউরোপিয়ান বুরুক্রেটস এবং পশ্চিমা নেতাদের অবাস্তব সিদ্ধান্ত এবং নিষেধাজ্ঞা।

আফ্রিকা, মধ্য প্রাচ্য, এশিয়ার সর্বত্র রাশিয়া এই জরুরী পন্যসমুহ সরবরাহ করতে প্রস্তুত আছে। কিন্তু পশ্চিমাদের দেয়া ট্রান্সপর্ট ব্যবস্থায় নিষেধাজ্ঞার কারনে এই সরবরাহ অনেক অংশে বিঘ্নিত হচ্ছে। সেটা তো রাশিয়ার দোষ নয়। আমরা সবাইকে সব কিছু দিতে প্রস্তুত আছি।

পশ্চিমা এবং ইউরোপিয়ান নেতাদের অদুরদর্শীতার কারনে তারা নিজের সমস্যা যেমন সমাধান করতে অপারগ, তেমনি তাদেরকে যারা অন্ধ্যের মতো অনুসরন করে, তারাও এখন সমস্যায় নিমজ্জিত। আর এই পুরু অকৃতকার্যতার দোষ শুধুমাত্র রাশিয়ার উপরে বর্তায়ে তারা পার পেতে চাচ্ছেন। কিন্তু সময় বলে দিচ্ছে- বাস্তবটা কি। শুধু তাইই নয়, অপরিকল্পিত predatory colonial policy,”  র মাধ্যমে অগনিত

15/06/2022-দিলে দেন, না দিলে আগেই কইয়া দেন

ইউক্রেন ন্যাটোভুক্ত হওয়ার জন্য প্রানপন দিয়ে গত ১০ বছর যাবত চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাঁর এই চেষ্টার সাথে একাত্ম ঘোষনা করে প্রতিবার আমেরিকা, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য সর্বদা একটা মুলা ঝুলিয়েই রাখছে। সবশেষে যখন রাশিয়া ইউক্রেনকে আক্রমন করেই বসলো-তখন যেনো সবাই উঠে পড়ে লেগে গেলো কত তাড়াতাড়ি ইউরোপ এবং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলি ইউক্রেনকে তাদের সদস্য করা যায়। এই যুদ্ধেও সেরকমের আশা দিয়েই চলেছে আমেরিকা, ইউরোপ এবং অন্যান্য বাল্টিক কিছু দেশ। শক্তিশালী মোড়ল দেশদেরকে বিশ্বাস না করেও উপায় থাকে না। কিন্তু তাদের রাজনীতির ধারা এতো জটিল যে, কোন ‘হ্যা” আসলে “না’, আর কোন “না” আসলে যে “হ্যা” সেটা বুঝাই দায়।

এবার ইউরোপিয়ান কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা গত শনিবার (১১ জুন ২২) সারপ্রাইজ ভিজিটে কিয়েভে গিয়ে দারুন আশার বানী শুনালেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কীকে। তিনি খুবই হাস্যজ্জোল মুখে এবং খুব অবাক হবার মতো একটা দারুন আনন্দের খবর নিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কীকে জানালেন-

-ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদানের ব্যাপারে সদস্যরা দিন-রাত অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামী ২৩/২৪ জুনে এ ব্যাপারে চুড়ান্ত একটা ফলাফল জানিয়ে দেয়া হবে। ইউক্রেনের ব্যাপারে ২৭ টি সদস্য দেশের কারো কোনো দ্বিমত না থাকলে ক্যান্ডিডেচার স্ট্যাটাস অনুমোদিত হবার কথা।  তবে রাশিয়ার যুদ্ধের সাথে কিংবা কেউ ইউক্রেনকে ভালোবাসে এই কারনে ইউক্রেনকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার মতো কোনো কারন নাই। এখানে সদস্যদেশ হবার জন্য যা যা ক্রাইটেরিয়া লাগবে তার সবগুলিই পালন করতে হবে যা ইউক্রেনের বেশীর ভাগ যেমন “solid” political system, “robust and well-anchored institutions,” and “functioning administration on all level  ইত্যাদি আছে। তবে কিছু কিছু জায়গায় ইউক্রেনের অসুবিধা আছে যা ইউক্রেনকে পুর্ন করতে হবে, যেমন- address the crackdown on opposition parties and media launched by Zelensky even before Moscow began the military operation, but which was intensified afterwards, addressing the minority group in a democratic way, reforming stronger military etc.

আমার প্রশ্নটা হচ্ছে- উরসুলা বলছে ইউক্রেনের “solid” political system  আছে আবার এটাও বলছেন যে, ফান্ডামেন্টাল ইস্যু যেমন বিরোধী রাজনীতি দলকে রাজনীতি করার স্বাধীনতা নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। মিডিয়ার ব্যাপারে তিনি বলছেন এটাও প্রায় সং গতিতেই আছে কিন্তু media launched by Zelensky even before Moscow began the military operation, but which was intensified afterwards ! উরসুলা বলছেন, ইউক্রেনে “robust and well-anchored institutions,” and “functioning administration on all level আছে তবে  মাইনোরিটি গ্রুপকে স্বাধীন এবং গনতন্ত্র মাফিক জীবন যাপনে সমর্থন দিয়ে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে ইউক্রেনের সামরিক শক্তি প্রায় সর্বশান্ত। এটাকে রিফর্মেশন না করে ন্যাটোতে যোগ দেয়া কষ্ট হবে।

উরসুলা জানেন যে, ইউক্রেন আসলে ন্যাটোতে যোগ দিতে পারবে না। তাহলে একটি দেশকে কেনো বারবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা তাঁকে ন্যাটোতে সদস্য করবেন বলে আশা দিচ্ছেন, যখন তারা জানে যে, এই সপ্ন বাস্তবায়িত হতে গেলে আরো এক যুগ পার হয়ে যাবে? ফ্রান্স বলেছে প্রায় এক যুগের বেশী লাগবে, অষ্ট্রিয়া বলেছে কম পক্ষে ৫ থেকে ৭ বছরের আগে এটা ভাবাই যায় না, এবং অন্যান্য দেশ সমুহ এখনো নিশ্চুপ আছে যারা তাদের মতামত এখনো ব্যক্তই করে নাই। এটা আসলে অন্যায়।

আরে ভাই, দিলে দেন, না দিলে আগেই কইয়া দেন। খামাখা মাইর খাওয়াইতাছেন কেন?

14/06/2020-এ যাবতকাল যতো যুদ্ধ হয়েছে,

এ যাবতকাল যতো যুদ্ধ হয়েছে, সম্ভবত অতি অল্প সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশী এইড পেয়েছে ইউক্রেন। বিভিন্ন সময়ে বরাদ্ধ কৃত এইড মিলিয়ে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার ইতিমধ্যে ইউক্রেনকে দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্যাকেজ ছিলো আমেরিকার দেয়া এক কালীন ৪০ বিলিয়ন।

কিন্তু অবাক করার ব্যাপার হচ্ছে- এই এইড কিভাবে ইউক্রেন কোথায় খরচ করছে তাঁর হিসাব নিতে পারছে না আমেরিকা। না তাদের কোনো একাউন্টিবিলিটি আছে। আমেরিকায় ক্রমবর্ধমান ইনফ্লেশন, বেবী ফর্মুলা, তেলের দাম, খাবারে দাম, অন্যান্য সব আইটেমের দাম এতোটাই স্কাই রকেটিং এ যাচ্ছে যে, এর মধ্যে আমেরিকান নাগরিকেরাই তাদের প্রশাসনকে কোথায় এতো টাকা দেয়া হয়েছে তাঁর হিসাব দিতে বলেছেন। নাগরিকেরা এখন অধইর্য হয়ে গেছেন এই ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য। দেশের ভিতরে বাইডেন প্রশাসন চাপের মুখে থাকায় বাইডেন প্রশাসন এবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কীকে আপাতত এই ৪০ বিলিয়ন ডলারের খরচের খাতের হিসাব দিতে বলেছেন। কিন্তু জেলেনেস্কী এই তথ্য আমেরিকার কাছে দিতে অস্বীকার করেছেন।

এখন এই পর্যায়ে তিনটা প্রশ্নের অবতারনা হয়ঃ

(ক)  হটাত করে কেনো বাইডেন প্রশাসন এখন এই টাকার খরচের খাত চেয়েছেন।

(খ)  জেলেনেস্কীই বা কেনো এই খরচের খাতের হিসাব দিতে চাচ্ছেন না।

(গ)  আসলেই এই টাকাগুলি গেলো কই?

নিউইয়র্ক টাইমসের সাবেক এক কর্মকর্তা এ ব্যাপারে মন্তব্য করেছে যে, জেলেনেস্কী কেনো ইউক্রেন মিলিটারী অপারেশনাল পরিকল্পনা আমেরিকার সাথে শেয়ার করছে না? যদি ইউক্রেন তাদের এই মিলিটারী পরিকল্পনা আমেরিকার সাথে শেয়ার নাইবা করে, তাহলে কিভাবে কোথায় আমেরিকা ইউক্রেনকে কি দিয়ে টার্গেট বাতলে দিবে সেটাই তো সম্ভব না। 

এ ব্যাপারে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, প্রাথমিকভাবে মিডিয়ার কারনেই হোক অথবা প্রশাসনের অত্যাধিক ততপরতার কারনেই হোক, ইউক্রেন যুদ্ধে প্রায় বেশীর ভাগ নাগরিকেরা এটাই চেয়েছিলো যে, আমেরিকা সবকিছু দিয়েও যেনো ইউক্রেনকে সাহাজ্য করে। রিপাবলিকানরাও সেটাই চেয়েছিলো।  কিন্তু বর্তমানে এই ভাবনায় তাদের ছেদ পড়েছে। ৪০ বিলিয়ন ডলার দেয়ার সময় মাত্র একজন এমপি ভেটো দিয়েছিলো কিন্তু বর্তমানে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন অস্ত্র এবং আরো এইড পাঠানোর ব্যাপারে এবার প্রায় ৫৭ জন এমপি ভেটো দিয়েছে। তারা বিব্রিতি দিয়েছেন যে, আগে যে এইড পাঠানো হয়েছে তাঁর একটা খাতওয়ারী হিসাব ইউক্রেনকে দিতে হবে।

ইক্রেনের প্রেসিডেন্ট সেই এইডের খাতওয়ারী হিসাব দিতে অস্বীকার করেছেন। আসলে যুদ্ধের প্রথমদিন থেকে বাইডেন প্রশাসন যে ভাবটা দেখিয়েছিলো সেটা হচ্ছে-ইউক্রেন যুদ্ধটা যেনো আমেরিকার নিজের যুদ্ধ। ফলে জেলেনেস্কী মনে করছে, সে বাইডেন প্রশাসনের হয়েই ইউক্রেন যুদ্ধটা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই তাঁর আবার হিসাব দেয়ার কি আছে? সে তো আমেরিকার হয়েই কাজ করছে!! জেলেনেস্কীর মধ্যে আরো একটা চিন্তা কাজ করছে বলে ধারনা করা হচ্ছে যে, বাইডেন প্রশাসন খুব একটা শক্ত না। তারা তো ইউক্রেনকে শক্ত করে হিসাব দেয়ার কথাও বলছে না। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধে হেরে গেলেও যেনো এটা আমেরিকারই হার। আর আমেরিকাক্র হার না মানতে চাইলে তাদের জেলেনেস্কীকে দরকার।  তাই তাঁকে সাহাজ্য করতেই হবে।

তারপরেও অন্ধকারে ঢিল মেরেছেন রিপাব লিকান এমপি মারজুরী টেলর গ্রীনি যে, সম্ভবত এই এইড প্যাকেজ মানি লন্ডারিং এর একটা অংশ। তাঁর ভাষায় যদি বলি সেটা এ রকম- The Georgia Republican said that federal lawmakers “fund non­profits, they fund NGOs, they fund grants, grants that go to people, and if you really look into it, a lot of times it’s their friends and families that operate these non­profits and NGOs, and it’s basically like money laundering schemes.” Greene, along with 56 House Republicans, has incessantly strived to block Biden’s efforts to lavish hard-earned American money on Ukraine. We do know that Ukraine has become a black hole of sorts. Ukraine is home to neo-Nazi groups, informal militias and non-State actors.

কয়দিন আগে several US intelligence experts বিবৃতি দিয়েছেন যে, “American military aid falling into the hands of non-state actors. Various US officials, policy, and defence analysts have raised concerns about the fact that some of these weapons may end up in the hands of militias that the US does not want to arm in the long run. So, American Dollars being exported to Ukraine could end up in hands of militias or get laundered for vested interests.

ইউক্রেন যুদ্ধটা যতো দীর্ঘায়িত হবে, তাতে অনেক কিছুই বেরিয়ে আসবে যা এতোদিন হয়তো বড় বড় হোমড়া চোমড়ারা অতি গোপনে সুরক্ষিত রেখেছিলেন।

-https://tfiglobalnews.com/2022/06/11/ukraine-denies-to-furnish-any-information-about-the-usage-of-the-40-billion-sent-by-the-us/

13/06/2022-বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর গদি নড়বড়ে

বুলগেরিয়া ক্রমাগত আর্থিক ইনফ্লেশনের কারনে এবং এ অবস্থাতেও দেশের সার্থ সর্বোচ্চ পর্যায়ে চিন্তা না করে ইউক্রেন যুদ্ধকে সাপোর্ট করতে গিয়ে বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সবচেয়ে গরীব দেশ বুলগেরিয়া এখন বিপদে। বুলগেরিয়ার প্রচুর বৈদেশিক ঋণ রয়েছে এবং অর্থনীতি এখন প্রায় বিপর্দস্থ অবস্থায় আছে। এরপরেও বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পেটকভ ইউক্রেন যুদ্ধে মিলিটারী এইড দিতে রাজী হওয়ায় আর তারই সরকারের কোয়ালিশন পার্টের (Inspectia tehnica periodica (ITP) নেতা টিফানভ তাতে রাজী না হওয়ায় শেষমেস ITP র ডিপ্লোমেটিক চীফ টিউদোরা সহ মোট ১৩ জন এমপি সরকারী দল থেকে রিজাইন দিয়েছেন। এতে কার্যত পেটকভ তাঁর মেজরিটি হারিয়ে ফেলেছেন।

বুলগেরিয়ার আরেকটি কোয়ালিশন দল সুফিয়া অঞ্চলের ‘বুলগেরিয়ান সোস্যালিষ্ট পার্টি (BSP)ও একই হুমকী দিয়েছে যে, তারাও কোয়ালিশন সরকার থেকে তাদের সাপোর্ট উঠিয়ে নেবে।

This has increased the chances of Bulgaria being pushed into a state of ‘political instability’ again. এখানে উল্লেখ থাকে যে, গত ২০২১ সালে পরপর তিনবার নির্বাচন হয়েও কোনো দল নিরঙ্কুশ মেজরিটি পায় নাই বিধায় ৪টি দলই একত্রে মিলে বুলগেরিয়ার সরকার গঠিত হয়। তাঁর মধ্যে ITP এবং BSP দুইটি দল। অনেকদিন যাবত বুলগেরিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই দৈন্যদশা চলছিলো এবং সেন্ট্রাল ব্যাংক ব্যর্থ হচ্ছিলো ফরেন ঋণ পরিশোধের। আর অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারনেই বুলগেরিয়া রাশিয়া থেকে গ্যাস/তেল রুবলে কিনতে পারছিলো না। ফলে ইউক্রেনকে সাপোর্টকারী দেশ হিসাবে বুলগেরিয়াকে রাশিয়া ‘আনফ্রেন্ডলী দেশ” হিসাবে রাশিয়া বুলগেরিয়ায় তেল সাপ্লাই বন্ধ করে দিয়েছিল। তাতে বুলগেরিয়ার নাগরিকদের অবস্থা আরো শোচনীয় পর্যায়ে পড়ে।

বেচারা ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হইয়েছিলেন। মাত্র ৬ মাস।

দেশের মানুষের সার্থ রক্ষা না করে অদৃশ্য বিগ বসদের হুকুম তামিল করলে পরিনতি এমনই হবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আরো কতজনের কপালে যে কি আছে, সময় শুধু বলতে পারে।

(সুত্রঃ ইউরো নিউজ)

12/06/2022-ইউক্রেন যুদ্ধটা এখন “ফান পর্যায়ে” চলে

ইউক্রেন যুদ্ধটা এখন "ফান পর্যায়ে" চলে গেছে বলে মনে হয়। উরসুলা জানে না সে কি বলছে এবং যা বলছে ২/৩ মাস পরেই সেটা আবার পালটে যাচ্ছে। বাইডেন কথা বলতে বলতে অন্য মনষ্ক হয়ে এক কথার মধ্যে আরেক কথা বলে ফেলে, আসল বিষয়বস্তু মাঝে মাঝে ভুলেই যায়।

এবার বাইডেন বলছে, US could buy cheap Russian Oil and supply to EU. অথচ তারাই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যুদ্ধটা ইউক্রেনের, আমেরিকা বা ন্যটো কোনোভাবেই এই যুদ্ধে জড়াইতে চায় না, আবার অন্যদিকে এটাও বলছে যে, এই যুদ্ধে রাশিয়াকে হারানোর জন্য দুনিয়া এদিক সেদিক করতেও আমেরিকা প্রস্তুত।

লং রেঞ্জ HIMARS যার রেঞ্জ ৩০০ কিমি যা আঘাত হানতে পারে রাশিয়ার টেরিটোরিতে, আবার এটাও বলছে যে, রাশিয়ার টেরিটোরিতে যেনো কোনো আঘাত না আনা হয় এই ভরষায় HIMARS দিচ্ছে ইউক্রেনে।

অন্যদিকে এত অস্ত্র যাচ্ছে কই এই প্রশ্নও আমেরিকা করছে। কারন তারা কোনো প্রকারের হদিস পাচ্ছে না পাঠানো অস্ত্রের। অনলাইনে ব্ল্যাক মার্কেটে জেভেলিন, স্টিংকার কেনার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। ইউরোপে ইল্লিগেল আর্মস ভরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের লিগ্যাল আর্মস দিয়ে। ইউক্রেনের প্রায় ২০ থেকে ২৫% অঞ্চল রাশিয়ার দখলে চলে৷ গেছে, এখনো জেলেনেস্কি ভাবছে - জিত তাদেরই হবে। হ্যা হবে হয়ত, কিন্তু অনেক অনেক যুগ কেটে যাবে তাতে। ইউরোপে ইউক্রেন রিফুজি যতটা আনন্দের সাথে আশ্রয় পেয়েছিল, এখন প্রতিটি পরিবার এবং দেশ এই ওভার বার্ডেন্ড রিফুজিকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করছে, খারাপ ব্যবহার করছে।

দেশে দেশে তেল গ্যাস খাবারের সল্পতা দেখা দিচ্ছে, তারপরেও নিজেদের ক্ষতি করে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আরো ক্ষতির মুখে পড়ছে। অথচ শুধুমাত্র রাশিয়াকে ধরাস্ত করার মনোভাবে ইউক্রেনসহ নিজেদের মানুষগুলিকে বিপদে ফেলছে।

আমেরিকা ইউরোপের কোনো দেশই না, রাশিয়া হচ্ছে ইউরোপের একটা পার্ট, অথচ সেই ইউরোপ রাশিয়াকে বাদ দিয়া আমেরিকার সাথে টাই আপ করে প্রকারান্তে ইউরোপ নিজেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সব কিছু রাশিয়ার উপর নির্ভরশিল ( গম, সিরিয়াল, তেল গ্যাস, ইউরেনিয়াম, লোহা, ডায়মন্ড সব) হয়েও রাশিয়াকে চেপে ধরেছে। ইউক্রেনকে ন্যাটোতে মেম্বার তো করবেই না, ইউরোপিয়ান ব্লকেও আনতে চায় না ই ইউ। অথচ বিনা প্রয়োজনে ইউক্রেন সেই ন্যাটো বা ই ইউতে যাওয়ার জন্য এমন মনোভাবে থেকে রাশিয়াকে ক্ষেপিয়ে তুল্লো। এটার হয়তো প্রয়োজনো ছিল না।

জার্মানি আধুনিক আইরিশ-টি দিবে ইউক্রেনকে অথচ ওদের ইনভেন্টরিতে আইরিশ-ট ই নাই। পোল্যান্ড ইউক্রেনকে তার সব ট্যাংক দিয়ে দিলো জার্মানি পোল্যান্ডকে আধুনিক ট্যাংক দিবে এই আশায়। জার্মানি তার বদলে আরো পুরানো ট্যাংক দিতে চাইছে পোল্যান্ডকে।

এটা একটা ফান ছাড়া আর কিছুই না। ফানটা অনেক খারাপ একটা ফান।

12/06/2022-কাউন্টারিং নেগোশিয়েশন

যে কোনো যুদ্ধের সমাপ্তি হয় নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে। ১ম বা ২য় বিশ্ব যুদ্ধও কিন্তু শেষমেশ নেগোশিয়েশনের মাধ্যমেই শেষ হতে হয়েছিলো। কিন্তু সেই নেগোশিয়েশনে বসা পার্টিগুলি কে কিভাবে প্রভাবিত করবে তার নির্ধারন হয় পার্টিগুলির হাতে কি কি তুরুকের তাস আছে তার উপর। যার হাতে যতো বেশী বার্গেনিং কার্ড থাকবে, তাঁর ততো দাবী নেগোশিয়েশন টেবিলকে প্রভাবিত করবে, এটাই নিয়ম। যেমন-২য় মহাযুদ্ধে যখন হিটলার হেরে গেলেন, তখন তাঁর দেশ জার্মানীর হাতে আর কিছুই ছিলো না। কিন্তু মিত্রবাহিনীর কাছে ছিলো পুরু তুরুকের তাস। বিধায় মিত্রবাহিনী যা যা ডিমান্ড করেছে, তার শতভাগ ওই নেগোশিয়েসন টেবিলে জার্মানীকে মানতে এবং ছাড় দিতে হয়েছে। সেই চুক্তিকে বলা হয়, প্যারিস চুক্তি-১৯৪৭। একটু সারসংক্ষেপ যদি দেখি কি কি ছাড় দিতে হয়েছিলো জার্মানিকে?

-জার্মানীকে ১০% টেরিটোরিয়াল ল্যান্ড ছাড়তে হয়েছে।

-জার্মানীর বাইরে জার্মানীর যতো ওভারসিজ কলোনী ছিলো (যেমন Alsace and Lorraine to France, cede all of its overseas colonies in China, Pacific and Africa to the Allied nations) তার সবগুলি কলোনী ছেড়ে দিতে হয়েছে।

-১৬% কয়লার খনি, ৪৮% লোহার খনি এবং ১৩% জনবসতি ছাড়তে হয়েছে।

-বার্লিন যেটা সোভিয়েত টেরিটোরিতে ছিলো, সেটাকে ৪টি ভাগে ভাগ করতে হয়েছিলো। সোভিয়েট নিয়েছিলো পূর্ব পাশ, আর পশ্চিম পাশ ছাড়তে হয়েছে অন্যান্য মিত্র বাহিনীকে। একটা পার্ট আছে জার্মানীর কাছে এখন।

-ওডার এবং নিশি নদীর পূর্ব পাশের সমস্ত টেরিটোরি ছাড়তে হয়েছে পোল্যান্ডের কাছে।

-এই চুক্তি অনুসারে বেলজিয়ামকে, চেকোস্লাভাকিয়াকেও কিছু ল্যান্ড ছাড়তে হয়েছে।

-শর্ত অনুসারে জার্মানী আক্রমণাত্মক কোনো আর্মি গঠন করতে পারবে না, শুধুমাত্র ডিফেন্সিভ বাহিনী হিসাবে সীমিত আকারে নৌ, বিমান এবং সেনা বাহিনীর করতে পারবে। ফলে জার্মানী বিশ্বে বর্তমানে ৩০তম বৃহত্তর মিলিটারী ফোর্স হিসাবে পরিগনিত। তবে ন্যাটো ফোর্সে তাঁর অবস্থান ২য়।

-শর্ত অনুযায়ী জার্মানী কোনো প্রকার বায়োলজিক্যাল, ক্যামিক্যাল এবং নিউক্লিয়ার অস্ত্র তৈরী করতে পারবে না। ফলে জার্মানীর কাছে কোনো প্রকার নিউক্লিয়ার অস্ত্র নাই, তবে ন্যাটোর বাহিনীর সদস্য হিসাবে যুক্তরাজ্যের নিউক্লিয়ার অস্ত্রের উপর তাদের ট্রেনিং করানো হয়।

-৪ লক্ষ হলোকাষ্ট সার্ভাইবারদেরকে জার্মানী প্রতি বছর ক্ষতিপুরন দেয়। তাতে দেখা যায় যে, জার্মানী প্রতিবছর প্রায় ৫৬৪ মিলিয়ন ডলার পে করে।

-চুক্তি করার সময়ে মিত্রবাহিনীকে জার্মান এককালীন ২৩ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি পুরন দিতে হয়েছিলো।

এবার বুঝেন, ২য় মহাযুদ্ধে জার্মানির মেরুদন্ড শুধু ভাংগাই হয় নাই, সোজা করে দাড়ানোর মত শক্তিও রাখে নাই। হিটলারের যদি তখন নিউক্লিয়ার শক্তি থাকতো, তাহলে নেগোশিয়েশন টেবিলেই জার্মানী বসতো না। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় (অথবা সুখের বিষয়) যে, হিটলারের কাছে তখন নিউক্লিয়ার অস্ত্র ছিলো না।

এবার আসি, রাশিয়া আর ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের কিছু অপশন।

সবচেয়ে বড় দূর্বলতা ইউক্রেনের যে, তারা না পরাশক্তি, না নিউক্লিয়ার ক্ষমতাধর, না ন্যাটোর মেম্বার, না ইউরোপিয়ান ব্লকের কেউ। এদেরকে কেউ পিছন থেকে উষ্কানী দিচ্ছে, আর সেই উষ্কানী ইউক্রেন ১০০% বিশ্বাস করে ভাবছে, তাঁকে কেউ না কেউ উদ্ধার করবেই। কিন্তু আজকে প্রায় ১১০ দিন পার হয়ে গেছে যেখানে কোনো পরাশক্তি, কোনো সাহাজ্যকারী আর্মি, কিংবা কোনো নিউকধারী দেশ কার্যত ইউক্রেনকে সরাসরি সাহাজ্য করতে আসে নাই, আর আসবেও না। একটা 'নো ফ্লাই যোন" পর্যন্ত করলো না। এদিকে আগ্রাসী রাশিয়া সেই সুযোগে ইউক্রেনের বেশ কিছু কিছু শহর নিজের করে শুধু নিচ্ছে না, সেখানে রাশিয়ার সমস্ত চরিত্র ইঞ্জেক্ট করে দিচ্ছে। পাসপোর্ট, কারেন্সী, ন্যাশনাল আইডি, সবকিছু পালটে দিয়ে রাশিয়ান কালচার প্রতিষ্ঠা করে দিচ্ছে। দিন যতো যাচ্ছে, পিপড়ার গতিতেই হোক, বা কচ্ছপের গতি, রাশিয়া ধীরে ধীরে ইউক্রেনের বেশ কিছু টেরিটোরি গিলেই ফেলছে। কেউ সেটাকে প্রতিহত করছে না বা ডাইরেক্ট কিছুই করছে না। অন্যদিকে, ইউক্রেনের সামরিক শক্তি ধীরে ধীরে এতোটাই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে যে, একটা সময় সম্ভবত রাশিয়াকে আর কোনো বোম্ব বা মিজাইল মারতে হবে না, এম্নিতেই দখলে চলে যাবে। যে রাশিয়া নিজেই অন্য পরাশক্তিকে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত, সে রাশিয়াকে কোন পরাশক্তি আক্রমন করবে? এটা কিন্তু ভাবতে হবে। তারমধ্যে চীন, ইন্ডিয়া, মধ্য প্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা রাশিয়ার পাশে। এমন কি ইজরায়েল নিজেও। ইউক্রেনের সপ্ন ভঙ্গ হতে হয়তো একটু বেশী সময় লাগছে।

বিভিন্ন দেশ যারা ইউক্রেনকে সাহাজ্য করতে আপাতত আভাষ দিয়েছিলো, তারা তাদের দেশেই এখন খাদ্য সংকট, তেল সংকট, গ্যাস, এবং অন্যান্য কমোডিটির ঘাটতিতে নিজের দেশের নাগরিকদের কাছে অপ্রিয় হয়ে যাচ্ছে। ব্যাপারটা এখন এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যে, সেইসব রাষ্ট্রনায়কেরা তাদের গদি টিকিয়ে রাখার জন্যই আর ইউক্রেনকে নিয়ে ভাবার সময় হয়তো হবে না। উপরন্ত, যেসব রিফুজি অন্যান্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে, তাদেরকে নিয়েও সেইসব দেশগুলি এখন ক্রমাগত বিব্রতবোধ করছে তাদের দেশের নাগরিকদের কাছে। সেইসব রিফুজির জন্যেও তো দেশগুলির অর্থনীতির উপর চাপ বাড়ছে। কার বোঝা কে নেয়?

রাশিয়া বারবার ইউক্রেনকে নেগোশিয়েশন টেবিলে বসাতে চাইলেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কী সেটায় কর্নপাত করছে না। রাশিয়ার তিনটা শর্ত বারবার উচ্চারিত করছে যে, ক্রিমিয়া, দনবাস, এবং ডোনেটস্ক কে (যা আগেই রাশিয়ার কন্ট্রোলে বা তাঁর নিয়ন্ত্রীত বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রীত ছিলো) এর স্বীকৃতি, ইউক্রেন যেনো কোনো অবস্থাতেই ইউরোপিয়ান ব্লকের অধীনে মিলিটারী জোট ন্যাটোতে যোগ না দেয় আর তাঁর আর্মি এমন একটা সীমিত পর্যায়ে থাকবে যাতে অফেন্সিভ বাহিনীতে পরিনত না হয়। রাশিয়া কোনোভাবেই রিজিম চেঞ্জ চায় না, তাঁর দরকারও নাই। এটা জেলেনেস্কীর মাথায় যেনো ঢোকছেই না। গো ধরে বসে আছে কোনো এক আলাদিনের চেরাগের আশায়। গত ১৫ বছরেও ইউক্রেন ন্যাটোর মেম্বার হতে পারে নাই, না ইউরোপিয়ান ব্লকের কোনো সদস্য। এই ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তাদের কি এটা বুঝা উচিত না যে, ইউরোপ ইউক্রেনকে কিভাবে দেখে? ইউক্রেনকে ভালোবেসে অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশগুলি বা পশ্চিমারা তাঁকে সাহাজ্য করছে বলে জেলেনেস্কীর যে ধারনা, সেটা আসলে ভুল। আসলে তারা চেয়েছিলো রাশিয়াকে সাইজ করতে। ইউক্রেন তো শুধু একটা ক্যাটালিষ্ট। আজকে রাশিয়া আগ্রাসীর ভুমিকায় না হয়ে যদি এটা হতো জার্মানী কিংবা ইউকে বা আমেরিকা, তাহলে সারা দুনিয়ার মানুষ হয়তো জানতোই না যে, ইউক্রেনে জার্মানি, বা ইউকে বা আমেরিকা এটাক করেছে। এই যুদ্ধে রাশিয়া নিজেও তাঁর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য লড়ছে, আবার ইউক্রেনও। অন্য যারা উষ্কানী দিচ্ছে, তারা স্রেফ মেলায় অংশ নিয়েছের মতো।

যুদ্ধ যতো লম্বা হবে, ধীরে ধীরে ইউক্রেন আরো অনেক টেরিটোরি হারাবে বলে আমার ধারনা। যেমন সে এখনই মারিউপোল, খেরশন, খারখিভ, সেভেরিদোনেটক্স, আজভ সাগরের পোর্ট অর্থাৎ প্রায় ২৫% টেরিটোরি ইতিমধ্যে রাশিয়া দখল করেছে বলে জানা যায়। এমতাবস্থায়, ইউক্রেনের উচিত ছিলো নিজের ভালোটা বুঝা এবং ইউক্রেনের উচিত হাতে কিছু থাকতে থাকতে রাশিয়ার সাথে নেগোশিয়েশন টেবিলে বসা। পশ্চিমাদের উষ্কানী বা আশ্বাসে বিলম্ব না করে একটা সমঝোতা চুক্তিতে যাওয়া এবং নিজের দেশের মানুষগুলিকে তথা যারা বাস্তহারা হয়ে গেছে, তাদেরকে ফিরিয়ে এনে আবারো নতুন ইউক্রেন হিসাবে তৈরী করা। রাশিয়ার সাথে তাঁর একটা বন্ধুত্বপুর্ন সম্পর্ক তৈরী করলে এবং সে পশ্চিমা ধ্যান ধারনা থেকে সরে এসে রাশিয়ার সাথে আতাত করলে হয়তো রাশিয়াই তাঁকে আবার পুনর্গঠনে সাহাজ্য করতেও পারে।

এখানে একটা কথা ক্লিয়ার করা উচিত যে, জার্মানীর কাছে কোনো প্রকার নিউক্লিয়ার উইপন নাই। আর সে এটা করতেও পারবে না। করলে ২য় মহাযুদ্ধের সময় এলাইড ফোর্সের সাথে ওদের চুক্তি ভঙ্গের জন্য অপরাধ হবে। তবে Under NATO nuclear weapons sharing, the United States has provided nuclear weapons for Belgium, Germany, Italy, the Netherlands, and Turkey to deploy and store. তারা শক্তিশালী মিলিটারী ফোর্সও বানাতে পারবে না। জার্মানী সামরিক শক্তির দিক দিয়ে বিশ্বে ৩০তম দেশ। এখানে NATO nuclear weapons sharing বলতে আসলে কি বুঝায়? এটা হলো-ন্যাটো দেশভুক্ত রাষ্ট্রগুলির ভুখন্ডে আমেরিকা ইয়াদের কিছু কিছু নিউক্লিয়ার উইপন স্টোর বা মজুত করে ডিপ্লয় করে রাখে। সেগুলিতে একচ্ছত্র কমান্ড থাকে পেরেন্ট দেশের অধীনে। যেসব দেশে এগুলি ডিপ্লয় করা থাকে, তারা শুধু এগুলির উপর ট্রেনিং করে থাকে যাতে পেরেন্ট দেশ আদেশ করলেই তারা সেগুলি মারতে পারবে। ফলে আমেরিকার নিউক্লিয়ার উইপন আসলে ভাগ হয়ে আছে Belgium, Germany, Italy, the Netherlands and Turkey তে।

11/-6/2022-ইন্টারন্যাশনাল ইকুইলিব্রিয়াম অফ পাওয়ার

ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধটা নিয়ে কোনো আলাপ করতে চাইছিলাম না। কিন্তু যে কার্যকরনটা নিয়ে পুরু বিশ্ব এখন তালমাতাল, সেটা আর এই যুদ্ধের মধ্যে কোনো অবস্থাতেই সীমাবদ্ধ নাই। যেমন, ফুড সংকট, তেল সংকট এবং আরো অন্যান্য সংকট। এটা এমন নয় যে, শুধুমাত্র রাশিয়া আর ইউক্রেন একাই সারা দুনিয়ার খাবার সরবরাহ করে, অথবা শুধু রাশিয়াই সারা দুনিয়ায় তেল বা গ্যাস সরবরাহ করে। সবদেশই কিছু না কিছু ফুড গ্রেইন উৎপন্ন করে, এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র উৎপন্ন করে। তারা রপ্তানীও করে। উদাহরন দেইঃ

গম উৎপাদনে রাশিয়া ১৩%, আমেরিকা-১৩%, অস্ট্রেলিয়া ১৩%, কানাডা-১২%, ইউক্রেন-৮%, ফ্রান্স-৮%, আর্জেন্টিনা-৬%, জার্মানি, রুমানিয়া, ইন্ডিয়া, বুলগেরিয়া প্রত্যেকেই-৪% করে গম রপ্তানী করে। এ ছাড়া কাজাখিস্থান, পোল্যান্ড, লিথুনিয়া, হাংগেরীও গম উৎপাদন করে। এরা সবাই মিলে ৯৫% গম রপ্তানী করে থাকে সারা দুনিয়ায়। যদি রাশিয়া এবং ইউক্রেন একত্রে ধরি তাহলে তারা উভয়ে মিলে ২১% রপ্তানি করে। এর মানে ৭৪% গমের রপ্তানী কিন্তু করে অন্যান্য দেশ। অথচ ইতিমধ্যে গম, ভুট্টা, যব ইত্যাদির একটা বিশাল শুন্যতা দেখা গিয়েছে। আর এই মুল উপাদান শস্যের কারনে অন্যান্য সব খাবারের উপর প্রভাব পড়েছে। এর কারন কি? এর একটাই কারন-এই যুদ্ধ কোথায় গিয়ে থামবে, এটা কেউ বলতে পারছে না। ফলে সবাই একটা এমন আতংকের মধ্যে আছে যে, কেউ এখন তাদের গোডাউন খালী করতে চায় না। সবাই যার যার খাদ্য সামগ্রী অন্যত্র রপ্তানী থেকে বিরত রয়েছে। আর একারনেই সংকট। অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের বেলাতেও তাই হয়েছে। এটা যুদ্ধ আতংকের বাই প্রোডাক্ট। আমেরিকা সম্ভবত এই ক্যালকুলেশনেই রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা প্রনয়ন করেছিলো যে, মাত্র ১৩% শর্টফল কাভার করা সম্ভব, কিন্তু এর সাইড ইফেক্টটা কি হবে সেটা সম্ভবত হিসাবের মধ্যে ধরেনি।  

একইভাবে তেল উৎপাদনকারী দেশসমুহের মধ্যে যদি দেখি, তাহলে দেখবেন

আমেরিকা, রাশিয়া, সৌদি আরব, কানাডা, ইরাক, চায়না, আরব আমিরাত, ব্রাজিল, কুয়েত এবং ইরান মিলে মোট ৯৫% তেল উৎপাদন করে কিন্তু আমেরিকা ছাড়া অন্যান্য সবাই রপ্তানী করে। শুধু রাশিয়ার উৎপাদন বাদ দিলে মোট উতপাদনের পরিমান থেকে মাত্র ২৫% রপ্তানী হয়তো বাদ পড়বে এবং বাকী ৭০% অন্যান্য দেশ থেকে পুরন করা যেতো যদি তারা সবাই একটু একটু করে উৎপাদন বাড়িয়ে দিতো।, তাহলে রাশিয়ার তেল ছারাও চলতো। তারমানে রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরী হতো। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরী হচ্ছে না কেনো?  

এর কারন কিন্তু ফুড গ্রেইনের মতো আতংকের কারনে নয়। এটা হচ্ছে আমেরিকা বা ন্যাটো, বা ইউরোপের উপর অন্যান্য দেশের একটা প্রতিশোধমুলক ব্যবস্থার কারনে। আমেরিকা একচ্ছত্রভাবে যেটাই করুক, সেটাই ন্যায়, তাঁর কোনো অন্যায় নাই, এটা হয়তো আমেরিকা মনে করলেও, অন্যান্য দেশ সেটা মনে করে না। আবার সেটা অন্যান্য দেশ মেনে না নিলেও এতোদিন তাঁরা যে কোনো কারনেই হোক (হোক সেটা পলিটিক্যাল, হোক সেটা একাকীত্ব, হোক সেটা নিজেরা আইসোলেট হবার ভয়ে) সেটার ব্যাপারে সোচ্চার হওয়াও সম্ভব ছিলো না। ফলে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, চীন, সবাই ভিতরে ভিতরে একটা রাগ সুপ্ত অবস্থাতে লালন করছিলো। এই যুদ্ধে রাশিয়া বেকে বসায় এবার সেই অন্তর্দাহ কিংবা সুপ্তরাগ একসাথে সবাই আমেরিকার বিরুদ্ধে উচ্চারিত হতে দেখা গেছে। একটা কথা আছে- শত্রুর শত্রুরা একে অপরের কিন্তু বন্ধু। আর ঠিক এটাই হয়েছে এবার। রাশিয়ার সাথে চীন, ইন্ডিয়া, সাথে মধ্যপ্রাচ্য, লাগোয়া আফ্রিকা সবাই একযোগে বন্ধু হয়ে গেছে আর তাদের কমন শত্রু যেনো ইউরোপ, আমেরিকা, অথবা ন্যাটো।

এই তথ্যগুলির প্রচুর অভাব ছিলো সম্ভবত আমেরিকার গোয়েন্দা বাহিনীর তথ্য ভান্ডারে। পুতিনকে তারা পড়তে পারেনি, পড়তে পারেনি চীনের মনোভাবকেও, কিংবা ইন্ডিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদেরকেও। আবার অন্যদিকে তলে তলে যে এই সব বিচ্চু বাহিনীগুলি এতোটা জোটে আবদ্ধ হয়ে যেতে পারে, এই প্রেডিকশনটা আমেরিকা-লিড জোট ভাবেই নাই। আর যখন তাদের বোধোদয় হয়েছে, তখন গরম গরম সাক্ষাতেও তাদেরকে আর দলে টানা যাচ্ছিলো না, যায়ও নাই। ফলে প্রতিটি নিষেধাজ্ঞা বুমেরাং হয়ে নিজেদের উপরেই ফিরে আসা শুরু করেছে।

আমার ব্যক্তিগত ধারনা যে, ন্যাটোকে নিয়ে তো শুধুমাত্র রাশিয়ার ভয়। চীন, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা তাদের তো ন্যাটোকে নিয়ে কখনো কোনো মাথা ব্যথাও ছিলো না, এখনো নাই। ন্যাটোর যতো এক্সপানশন, যতো প্রস্তুতি সবইতো এই রাশিয়াকে ঘিরেই। ন্যাটোকে জীবিত রাখাই হয়েছে রাশিয়াকে সাইজ করার জন্য। আর ন্যাটো তো একটা সুযোগই খুজছিলো কবে কিভাবে এই ন্যাটোকে দিয়ে রাশিয়াকে সাইজ করবে। এবার তো সেই সুযোগটা এসেছিলো যেটার জন্য তারা এতো যুগ ধরে অপেক্ষা করেছে। তাহলে ন্যাটো কি আসলেই তৈরী ছিলো রাশিয়াকে সাইজ করার এই মুক্ষোম সুযোগটা পেয়ে? ন্যাটোর নিজেরও কোনো প্রস্তুতি ছিলো না। অতি সন্নাসীতে যে গাজন নষ্ট হয়, এই প্রবাদটা ইংরেজীতে মনে কেউ পড়ে নাই। জানা থাকলে আগে তারা ন্যাটো কতটা ঐক্যবদ্ধ্য সেটা যাচাই করা দরকার ছিলো। অনেক হোমওয়ার্ক করার দরকার ছিলো। আমরা দেখেছি-প্রতিটি মেজর মেজর সিদ্ধান্ত পশ্চিমারা নিতে সময় নেয় নাই। প্রত্যেকটা সিদ্ধান্ত হয়েছে এক রাতের মধ্যে কিংবা এক দুপুরের মধ্যে, কখনো কখনো একই দিনেও অনেক বড় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। কিন্তু একটিবারও ভাবেন নাই, এসব মারাত্তক মারাত্তক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরে কি কি ইফেক্ট হতে পারে। পুরু ব্যাপারটা ঘটেছে গুটিকতক মানুষের ব্রেইন চাইল্ড হিসাবে। ফলে একজন ‘ইয়েস’ বলেছে আর সবাই এর পুরুপুরি বিশ্লেষণ না করেই হুজুগের বশে ‘ইয়েস’ বলেছে আর যারা বলতে পারেনি, তারা হয়তো মৌন থেকেছে। বাধা দেয় নাই। এর ফলে নিষেধাজ্ঞার পর নিষেধাজ্ঞায় কোনো কাজ হচ্ছিলো না। দেখা গেছে ৭ম নিষেধাজ্ঞা দিয়েও কাজ হয় নাই।

সুইফট বন্ধ করলে কি হতে পারে, বিকল্প তৈরী হয়ে গেলে কি করা যাবে, পেট্রো ডলার আউট হয়ে গেলে কি হতে পারে, অন্য কারেন্সী ইন্টারন্যাশিনাল কারেন্সী হিসাবে গন্য হয়ে গেলে অতিরিক্ত ডলারগুলির কি হবে, বড় বড় কোম্পানীগুলি তাদের ব্যবসা বানিজ্য গুটিয়ে নিলে কি হতে পারে, যারা পুতিনকে কিংবা চীনকে বুঝিয়ে একটা দফারফা করতে পারে সেই লোকগুলিকে নিষেধাজ্ঞায় ফেলে দেয়ায় কি হতে পারে এগুলির কোনো হোমওয়ার্ক একেবারেই করা হয় নাই। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নিজেই নিজেরা কতটা কে কাকে ভরষা করে, এটাও যাচাই করার দরকার ছিলো এসব করার আগে। সেটাও করা হয় নাই। প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান তাদের নিজেদের নাগরিকের কাছে দায়বদ্ধ, আমেরিকা বা ইউরোপের কাছে নয়। তারা ইচ্ছে করলেই তাদের নাগরিকদেরকে পথে নামিয়ে দিয়ে পশ্চিমাদের খুশী করার জন্য কিংবা তাদের তাবেদারী করে ক্ষমতায় থাকতে পারেনা। এটা বুঝা দরকার ছিলো। একদিকে ডেমোক্রেসির কথা বল্বো আবার অন্যদিকে দেশের নাগরিকের কথা মাথায় রাখবো না, এটা হতে পারে না।

আমি শুধু পশ্চিমাদেরকেও দোষ দেবো না। কারন তারা গত কয়েক যুগ এভাবেই ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে সফলতা পেয়েছে। সফলতা পেয়েছে ইরানে, ইরাকে, আফগানিস্থানে, সিরিয়ায়, প্যালেষ্টাইনে, ইয়েমেনে, লিবিয়ায়, মেক্সিকো, সোমালিয়া, নিকারাগোয়া, কিউবা, ভিয়েতনাম, কংগো, কম্বোডিয়া, হাইতি, মিশর, এবং অন্যান্য আরো দেশ সহ আফ্রিকান দেশগুলিতে। ফলে যখন এভাবে তারা সফলতা পেয়েই গেছে, তাহলে একই ইন্সট্রুমেন্ট তারা ব্যবহার তো করবেই। কিন্তু এবারের দেশটা ছিলো রাশিয়া। ২য় বৃহত্তর মিলিটারী ফোর্স, নিউকের অধিকারী, ভেটো ক্ষমতার অধিকারী, নিজেরাই প্রায় সবদিক দিয়ে সাবলম্বী, আর তারমধ্যে এতো বেশী সময় ধরে অভিজ্ঞ একজন রাষ্ট্রপ্রধান পুতিন যার মেয়াদ আরো বাকী ১৪ বছর, যার ব্রেইনকে পড়ার জন্য ইন্টেলকে একটা আলাদা সেল খুলতে হয়েছে, তাঁকে অন্যান্য সবার কাতারে ফেলে এমন হুইমজিক্যাল গেম খেলা ঠিক হয় নাই।

এর মানে আমি এটা বলছি না যে, ইউক্রেনকে রাশিয়া আক্রমন করে ঠিক কাজটাই করেছে। সেও অন্যায় করেছে। কিন্তু পশ্চিমারা তো এই অন্যায়গুলিই করে এসছে এতোকাল। পুতিনের তো হোম ওয়ার্ক করা ছিলো। পুতিন তো এটাই বলেছে- হয় এখন, না হয় আর কখনোই না। ফলে এক কালা জাহাংগীর (কেউ খারাপ ভাবে নিয়েন না) আরেক কালা জাহাংগীরকে শায়েস্তা করার আগে কালা জাহাংগীরদের তো আরো অনেক বেশী হোমওয়ার্ক করার দরকার থাকে। যদু মধুওকে থাপ্পর দিয়ে পার পেলেও এক কালা জাহাংগীর আরেক কালা জাহাংগীরকে শায়েস্তা করার আগে কি শুধু থাপ্পর দিলেই কাজ হয়ে যাবে?

ফলে এই অকালিন এবং কিছু গুটিকতক মাথামোটা মানুষের বুদ্ধির কারনে যেটা আমি দেখতে পাচ্ছি, সেটা হচ্ছে-

(ক) ইউরোপের ইউরোর মতো এশিয়ায় আরেকটা কমন কারেন্সীর প্রবর্তন হবে।

(খ) পেট্রো ডলারের আধিপত্য শেষ হয়ে যাবে।

(গ) ট্রেড প্রবাহে ইউরোপ বা পশ্চিমারা পিছিয়ে যাবে।

(ঘ) ইউরোপ একটা নড়বড়ে জোটের সৃষ্টি হবে।

(চ) ন্যাটোর উপর সর্বজনীন আস্থা কমে যাবে।

(ছ) রাশিয়া, চীন, ইন্ডিয়া, তুরষ্ক, এবং অন্যান্য দেশ মিলে প্যাসিফিক নিয়ন্ত্রন করবে।

(জ) সুইফট সিস্টেমের আধিপত্য শেষ হবে।

(ঝ) রিজার্ভ শিফট হয়ে যাবে অন্যত্র এবং অন্য কারেন্সীতে।

(ট) ইউরোপ এবং পশ্চিমা দেশ গুলিতে ইনভেষ্টমেন্টে ভাতা পড়বে।

(ঠ) জাতিসংঘের পাশাপাশি আরেকটা লিগ অফ ন্যাশনের সৃষ্টি হবে।  

ইন্টারন্যাশনাল ইকুইলিব্রিয়াম অফ পাওয়ার বলতে যা বুঝায় তাঁর জন্ম হতে যাচ্ছে। ২০১১ জুন প্রকাশনায় ডিফেন্স জার্নালে ঠিক এ রকম একটা লেখা ছিলো আমার। Is Super Power Shifting? Why and Who is Next?

10/6/2022-শিয়ালটা কে?

ফ্রান্স, জার্মান এবং ব্রিটিশ এই তিন দেশের অফিসারদেরকে আপনি কখনো পাশাপাশি দাড়াতে দেখবেন না। যদি কখনো দাড়াতে দেখেনও তারপরেও দেখবেন এরা একে আরেকজনের সাথে ফ্রেন্ডলী কথা বলে না। জাতী সংঘ মিশনে দেখেছি- বাসার সল্পতা থাকা সত্তেও এরা আরেকজনের সাথে রুম শেয়ার করে না। হয়তো বিল্ডিং শেয়ার করে কিন্তু একই রুমে ওরা থাকে না। এর একটা কারন আছে। আর সেটা হল-এরা সবাই ২য় মহাযুদ্ধে একে অপরের শত্রু ছিলো। ফ্রান্সের সাথে ব্রিটিশদের চিরাচরিত শত্রুতা মনোভাব। অন্যদিকে জার্মান তো ব্রিটিশ এবং ফ্রান্সের বিরুদ্ধেই ছিলো ২য় মহাযুদ্ধে।

আমার এক খুব প্রিয় গুরুজন বলতেন-যখন শত্রুরা নিজেরা নিজেরা বন্ধু হয়ে যায়, এদের বন্ধুত্তের মধ্যে থাকে ধুর্ততা আর সার্থপরতা। সবার নিজ নিজ এজেন্ডা নিয়ে বন্ধুত্ত করে। তারা কখনো একজনকে আরেকজন বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করে না। যা দেখায় সেটা হচ্ছে আবরন।

"ন্যাটো"- এই দলের মধ্যে এরা সবাই আছে। আছে ব্রিটিশ, আছে জার্মান, আছে ফ্রান্স, আছে আমেরিকান। আবার আছে তুরুষ্ক। বিশ্বাসের ভিত্তিটা এখন কত শক্ত অনুমান করা কঠিন না। এখানে আরেকটা সমস্যা আছে। এই সম্মিলিত বাহিনীকে কে কাকে কমান্ড করবে? ব্রিটিশ জার্মানী দ্বারা কমান্ডেড হতে চায় না, জার্মান ব্রিটিশ দ্বারা, না ফ্রান্সের মিলিটারী অন্য বাহিনী দ্বারা অথচ এদের একটা কমান্ড স্ট্রাকচার আছে। সেই কমান্ড স্ট্রাকচার আজ পর্যন্ত টেষ্টেড হয় নাই কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। মিশন এরিয়ায় আমি দেখেছি-কোনো আমেরিকান ইউনিট অন্য কোনো দেশের কমান্ড স্ট্রাকচারের অধীনে কখনোই কাজ করে না। কোনো ব্রিটিশ ইউনিট একমাত্র আমেরিকান কমান্ডার ছাড়া অন্য কোনো দেশের কমান্ডারদের অধিনে কাজ করতে চায় না। হ্যা, ফোর্স কমান্ডার, বা সিএমও (চীফ মিলিটারী অবজারভার) এগুলি আলাদা বিষয়। সেখানেও তাদের একটা জয়েন্ট কমান্ড রাখে।

মজার ব্যাপার হলো, ন্যাটোর কোনো আলাদা মিলিটারী নাই। প্রতিটি দেশের মিলিটারীই ন্যাটোর মিলিটারী। এটা একটা বিএনসিসির মতো মিক্সড। কেউ খুবই প্রোফেশনাল, আবার কেউ অনেক কিছুই জানে না। বিশেষ করে মিলিটারি অস্ত্র হ্যান্ডলিং বা ট্যাক্টিক্সের দিক দিয়া।

তুরষ্ক ন্যাটোর মিলিটারীর মধ্যে একটা বিশাল অংশ। তুরষ্ক তাঁর নিজের মনোভাব ইতিমধ্যে প্রকাশ করে ফেলেছে সুইডেন আর ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোতে বাধা দিয়ে। তুরষ্ককে ইচ্ছে করলেই ন্যাটো থেকে বা ইউরোপিয়ান ব্লক থেকে আউট করা যাচ্ছে না। তুরষ্ককে আউট করলেই ন্যাট কিংবা আমেরিকা, বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন জিও পলিটিক্সে ধরা। আবার অন্য দিকে তুরষ্ককে আউট করলে সে যে রাশিয়া বা চায়নার সাথে এক হয়ে যাবে না কে জানে? মহা বিপদ। ফলে তুরষ্কের বাধার কারনে এতো ইচ্ছা থাকা সত্তেও ন্যাটো সুইডেন বা ফিন ল্যান্ডকে ঢোকাতে পারছে না।

হাংগেরী, ক্রোয়েশিয়া কে দেখুন। ছোট দেশ, খুব ক্ষমতাশীল না। তারপরেও ন্যাটর বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সব সিদ্ধান্ত মেনে নিতে চাইছে না। কারন তাদের নিজের দেশের ইন্টারেষ্ট আগে। আবার এদেরকে ছেড়ে দিলেও টুষ করে রাশিয়া খেয়ে ফেলবে, দলে নিয়ে যাবে। এখন যে যাকেই ছেড়ে দিবে, সেইই অন্য দলে ঢোকে যাবে। দেশীয় রাজনীতির মতো। একটা ছোট উদাহরণ দেই, সলোমন আইল্যান্ডকে আজ অবধি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বা আইএমএফ খুব বেশী একটা সাহাজ্য করে নাই। কিন্তু যেই না চায়না সলোমনের সাথে ঝুকে গেছে, কথা নাই বার্তা নাই, ১৩০ মিলিয়ন ডলার সাহাজ্য এম্নিতেই গ্রান্ট করে দিলো ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক গতকাল। সলোমান আইল্যান্ড কিন্তু রিফিউজ করে নাই। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকই তো। এটা তো আর ওপেনলী আমেরিকা বা ব্রিটিশ না। নিতেই পারে, আবার চায়নাও এখন হিউজ টাকা ঢালছে সলোমনে। এখন সবাই সবার দল ভারী করার চেষ্টা করছে, হোক সেটা ছোট বা বড়।

জার্মানকে দেখুন। তারা কোনো অস্ত্র কিন্তু সরাসরি ইউক্রেনকে দিচ্ছে না। কখনোই না। তারা হয় দিচ্ছে পোল্যান্ডকে, অথবা অন্য ন্যাটোভুক্ত দেশকে। যাতে জার্মান ইউক্রেনে সামরিক অস্ত্র দিচ্ছে এই ব্লেইম তাঁকে না নিতে হয়।

পোল্যান্ডকে দেখুন, ইউক্রেনের পশ্চিমা অংশ এক সময় পোল্যান্ডের ছিলো যা ২য় মহাযুদ্ধে তাঁকে ছাড়তে হয়। একটু হলেও তো মনের ভিতরে একটু খস খস আছেই। পোল্যান্ড সেই পশ্চিমা অঞ্চলে ইউক্রেনের সাথে বর্ডার একত্রিত করতে চায়। জেলেনেস্কি একটু রাজী রাজী ভাব। উদ্দেশ্যটা একটু খটকার মতো। রাশিয়া ক্রিমিয়া খেয়েছে, মারিউপোল খাইলো, ডনবাস শেষ, এখন ইষ্টার্ন ব্লকে এগুচ্ছে, পশ্চিমা অংশ পোল্যান্ডের নজর।

এটা তো রুটির মতো ভাগ হয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে।

বিড়াল তো দেখতে পাচ্ছি কিন্তু শিয়ালটা কে আসলে?

9/6/2022-ক্ষমতার ভারসাম্য

একটা সময় ছিলো যখন ‘সময়’ টাকে রাজত্ব করেছে বাইজেন্টাইন, রোম, প্যারিস, জার্মানী, তারপর ব্রিটিশ। এখন তারা আর সেই একচ্ছত্র ক্ষমতার শীর্ষেও নেই, রাজত্বও করার সুযোগ নাই। নব্বই দশক থেকে একচ্ছত্র ক্ষমতার শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিটি শীর্ষ ক্ষমতাধর সম্রাজ্য কোনো না কোনো যুদ্ধের মাধ্যমেই তাদের পতন হয়েছে।

যারা আগের দিনে রাজত্ব করেছে, তারা যদিও একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়নি কিন্তু তাদের মধ্যে সেই মোড়লগিড়ি করার প্রবনতাটা বিদ্যমান আছে আর সেই প্রবনতা থেকেই বর্তমান বড় মোড়লের তালে তাল মিলিয়ে ক্ষমতার একটা মজার ভাগ তারাও শেয়ার করে যাচ্ছে। 

এবার এই ইউক্রেন যুদ্ধকে আমার কাছে মনে হয়েছে সেই রকম একটা যুদ্ধ যেখানে একচ্ছত্র ক্ষমতার পালাবদল হয়।  টার্নিং পয়েন্ট। আমি প্রতিদিন দেখতে পাচ্ছি- দ্রুত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যে নিজেদের সার্থের দন্ধে বিভাজিত হয়ে যাচ্ছে, ভুল কিছু নিষেধাজ্ঞার কারনে সারা দুনিয়া থেকে পেট্রো ডলারের একচ্ছত্র প্রভাব শেষ হয়ে যাচ্ছে, সুইফট সিস্টেমের এর বিপক্ষে অনেকগুলি সমগোত্রীয় অন্য সিস্টেম কাজ করা শুরু হয়ে গেছে। ফলে একচ্ছত্র অর্থ নিয়ন্ত্রনের মুল কারবারীর বিশ্ব অর্থিনীতি থেকে ডলার বা ইউরো হারিয়ে যাবে ধীরে ধীরে। এর বিপক্ষে অন্য কারেন্সী প্রাধান্য পাবে।

যারা একটা সিস্টেমকে বিশ্বাস করে ব্যক্তি পর্যায়ে বা দেশীয় পর্যায়ে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের সমপরিমান অর্থ যুক্ত্রষ্ট্রের মতো দেশের রিজার্ভ ব্যাংকে এতো পরিমান নিজেদের অর্থ রাখে, সেই অর্থ একটা মুখের কথায় যখন বাজেয়াপ্ত হয়ে যাওয়ার কালচার আমেরিকা শুরু করেছে, ফলে কোনো দেশ বা কোনো ব্যক্তি অন্তত আর ওই পথে পা ফেলবে বলে মনে হয় না। তাতে আমেরিকার রিজার্ভ ব্যাংক ধীরে ধীরে খালী হয়ে যাবে। অন্যদিকে আমেরিকা যে পরিমান অর্থ চায়না বা অন্যান্য ধ্বনি দেশগুলি থেকে ঋণ নিয়েছে, তাঁর পরিমানও নেহায়েত কম নয়। অর্থাৎ ইকোনোমিক্যাল ব্যালেন্সও কিন্তু ইকুইলিব্রিয়ামের মধ্যে নাই।

এমন একটা অবস্থায় পুর্বের মোড়ল গুলি যেমন জার্মানী, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, তুরুষ্ক এবং তাদের সাথে ইউরোপিয়ান গোষ্ঠীরা খুব দ্রুত অন্যান্য দেশ যেমন  চায়না, রাশিয়া, মিডল ইষ্ট, এবং আমেরিকাকে পছন্দ করে না এমন দেশ সমুহ একজোট হয়ে যাচ্ছে। এতে যেটা হবে, খুব বেশীদিন হয়তো আমেরিকা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পারে কিনা আমার সন্দেহ হচ্ছে। আজকাল মিডিয়ার যুগ, মিস-ইনফর্মেশন-ওয়ার খুব একটা সুফল আনে না। তথ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও ইনফর্মেশন সুপার হাই ওয়েতে সব তথ্য এক সাথে চলে আসে। ফলে আমেরিকাকে তাঁর হেজিমুনি ধরে রাখতে  এখন সুপার ইন্টেলেকচুয়াল এবং অনেক বেশী বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন নেতার প্রয়োজন।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হলেই যে সে ভালো নেতা, সব বুদ্ধির অধিকারী, কিংবা চালাক কিংবা দুরদর্শী লিডার বা ইন্টেলেকচুয়াল এমনটা ভাবার দিন হয়তো শেষ।

9/6/2022-আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার দেশসমুহ

এ যাবত কাল আমেরিকা কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা জারি করা দেশসমুহঃ

কিউবা, নর্থ কোরিয়া, ইরান, ভেনিজুয়েলা, সিরিয়া, আফগানিস্থান, বেলারুশ, বলিভিয়া, কম্বোডিয়া, ক্রিমিয়া, ইরিত্রিয়া, লাওস, নিকারাগুয়া, প্যালেস্টাইন, ইয়ামেন, জিম্বাবুই, রাশিয়া

আর ব্যক্তি পর্যায়ে আমেরিকা যে দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে তাদের লিষ্টঃ

বাংলাদেশ, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, চায়না, কংগো, হংকং, ইরাক, লেবানন, লাইবেরিয়া, মালি, মায়ানমার, সোমালিয়া, সুদান, তুরুষ্ক

এভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে করতে একটা সময় আসবে, সবাই যার যার জায়গায় অন্যের সাথে ঠিকই ব্যবসা বানিজ্য, যাতায়ত, কালচারাল এক্সচেঞ্জ, স্পোর্টস এক্টিভিটিজ ইত্যাদি করা শুরু করেছে আর সেখানে নাই শুধু আমেরিকা। নিজের জালে আমেরিকা ফেসে যাচ্ছে। তার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না। আমেরিকাকে বুঝতে হবে, পুরু পৃথিবী তার নিয়ন্ত্রনে নয়। আর সেটা সে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেও না। তাই এই “নিষেধাজ্ঞা” নামক অস্ত্র আমেরিকাকে পরিত্যাগ করে ভিন্ন পথে আগাইতে হবে। না আগাইলে তার নিজেরই ক্ষতি হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী।

উদাহরনঃ আমেরিকার নতুন আফ্রিকান ট্রেড মিটিং সবাই বয়কট করলো আজ। এরমানে কেউ তাদের সাথে কোনো টাই-আপ করতে নারাজ।

নর্থ কোরিয়াকে আবারো নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব আমেরিকা পেশ করার পর জাতিসংঘের স্থায়ী কমিটিতে চায়না এবং রাশিয়া শতভাগ ভেটো প্রদান করেছে। ফলে একচ্ছত্র নিষেধাজ্ঞা দেয়া সম্ভব হয় নাই। তাই শুধুমাত্র আমেরিকার ট্রেজারী ব্রাঞ্চ উক্ত নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে। নর্থ কোরিয়া তো গত ১৫ বছর যাবত নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই আছে, তার আবার নতুন কি নিষেধাজ্ঞা?

এগুলি আমেরিকার লিডারদেরকে ভালো করে মাথায় নেয়া উচিত। এ গুলি ভালো লক্ষন নয় আমেরিকার জন্য।

7/6/2022-NATO chief conditions for Finland and Sweden

জেনস স্টল্টেনবার্গ বলেছেন যে, আগামী ২৮-৩০ জুন ২০২২ তারিখে ন্যাটোর সম্মিলিত মিটিং এ ফিনল্যান্ড এবং সুইডেন যতোক্ষন না তুরুষ্কের দাবী না পুরন করবে, ততোক্ষন তারা ন্যাটোর সদস্য পদের জন্য মনোনীত হবেন না। তিনি আরো বলেছেন “No country has suffered as much from terrorist attacks as Turkey," Stoltenberg said, adding that "Turkey is an important ally and when an ally has concerns it should be discussed and the problem resolved.” এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নর্থ মেসিডোনিয়ার উদাহরন টেনে বলেন, গ্রীসের বিরোধিতার কারনে মেসিডোনিয়াকে ১০ বছর লেগেছিলো ন্যাটোর মেম্বার হতে।  তবে মাদ্রিদে এই দুইটি দেশ অতিথি হিসাবে থাকতে পারেন কিন্তু কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। কারন তুরষ্ক ন্যাটোর একটি অতীব ইম্পর্ট্যান্ট মেম্বার যাকে ন্যাটোর খুবই দরকার।

যদি এটাই হয়, তাহলে এই দুটি দেশের অবস্থা এখন কি হবে? একদিকে রাশিয়াকে ক্ষেপাইয়া দিলো, আগের অবস্থানে তো আর যেতেই পারবে না যদিও বারবার রাশিয়া একটা কথাই বলেছিলো যে, তাদের কোনো ভয় নাই যেমন ছিলো না বিগত বছরগুলিতেও। আবার না ন্যাটোর কোনো সিমপ্যাথি পাইলো।

ন্যাটো ষ্টুপিড নাকি দেশ দুটির নেতারা?

7/6/2022-আবার আলোচনায় নর্দান আয়ারল্যান্ড প্রটোকল

পুরানো ঘা আবার নতুন ঘায়ে পরিনত হতে যাচ্ছে। আর সেই ঘায়ের রেসে এবার ইউরোপ না নিজেই আহত হয় কে জানে। প্রসংগ- নর্দান আয়ারল্যান্ড। 

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড প্রটোকলের অনেক প্রশ্নই অমীমাংসিত থেকে গেছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্রেক্সিট চুক্তি সাক্ষরীত হলেও আয়ার ল্যান্ড কে নিয়ে ইউরোপ আর ব্রিটেনের মধ্যে অনেক দর কষাকষি চলছিলো। শেষ পর্যন্ত ব্রেক্সিট চুক্তির ১৬ নম্বর ধারা সংযোজন করে অবশেষে ইউরোপ থেকে ব্রিটেনের চিরতরে বিচ্ছেদ হয়। এর মানে ব্রিটেন কোনোভাবেই আর ইউরোপিয় ইউনিয়নের সদস্য নয়।

আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে এতো কি সমস্যা ছিলো? নভেম্বর ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালে আমার একটা পূর্নাজ্ঞ লেখা ছিলো যা পর পর ২টা প্রকাশনায় কাভার পেজ হিসাবে ডিফেন্স জার্নাল প্রকাশ করেছিলো। সেখানে এই আয়ার ল্যান্ড এর স্ট্যাটাস নিয়ে বিস্তারীত বলা হয়েছিলো। তারপরেও সবার কিছু মেমোরী ফ্রেস করার জন্য বলছি যে,

আইরিশ প্রজাতন্ত্র দুটুভাগে বিভক্ত, একটা শুধু আয়ারল্যান্ড নামে পরিচিত, আরেকটা নর্দান আয়ারল্যান্ড নামে। এই আয়ারল্যান্ড দ্বীপের আয়ারল্যান্ড অংশটি ইইউর সদস্য আর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ। ব্রিটেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারনে নর্দান আয়ারল্যান্ডও যুক্তরাজ্যের সাথে ইউরোপিয়ান ব্লক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু আইরিশ প্রজাতন্ত্র বা আয়ারল্যান্ডের দুটু অংশই ইউরোপিয়ান ব্লকের সাথে থাকতে চেয়েছিলো এবং তারা সেভাবেই গনভোটে রায় হয়েছিলো। ইউরোপের যে কোনো দেশ কোনো প্রকার শুল্ক ছাড়া, কাস্টম চেক ছাড়া, কোনো ভিসা ছাড়া এক ইউরোপিয়ান দেশ আরেক ইউরোপিয়ান দেশে যাতায়ত, মালামাল পরিবহন, প্রোটেকশন, মালের স্ট্যান্ডার্ড সব কিছু অবাদে চলে। কিন্তু যখনই নর্দান আয়ার ল্যান্ডে কিছু আসবে সেখানে আর সেই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কোনো কিছু বহাল থাকার কথা নয়। এখানে সব কিছু ভিন্ন একটা দেশের মতো আচরন করার কথা কিন্তু এই আয়ারল্যান্ড তো মুল আয়ারল্যান্ডের সাথেই থাকতে চায়!! ফলে একটা দেশকে কেচি দিয়ে দুই ভাগ করে ফেলার মতো অবস্থা দারায়। ইউরোপিয়ান ব্লকে থাকলে এটা আর সমস্যা হতো না। কিন্তু ইউরোপ আর ব্রিটেনের ডিভাইডিং লাইনে চলে এসছিলো নর্দান আয়ারল্যান্ড জাষ্ট একটা ব্রেক্সিটের কারনে। অনেকদিন এর স্ট্যাটাস নিয়ে ঝুলে ছিলো। অনেক প্রপোজাল, অনেক অপশন অনেক সমাধানের পথ খুজেও যখন সমঝোতা হয় নাই।  ইইউ সদস্য রাষ্ট্র আইরিশ প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে ব্রিটেনের একমাত্র স্থলসীমান্তে পণ্যের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে ব্রেক্সিট চুক্তির মধ্যে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড প্রোটোকল নামের বিশেষ ধারা রাখা হয়েছিল৷ ১৯৯৮ সালের আইরিশ শান্তি চুক্তির স্বার্থে ব্রিটেনের এই প্রদেশকে ইউরোপীয় অভিন্ন বাজারের মধ্যে রাখার চাপ মেনে নিতে কার্যত বাধ্য হয় প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার। ব্রিটেনের সংসদও ব্রেক্সিট চুক্তির অন্তর্গত সেই প্রোটোকল অনুমোদন করে। যাকে ১৬ নাম্বার ধারা বলা হয়। এই ১৬ নম্বর ধারাটি এখানে বলছি না। প্রায় ৮টি বিশেষ প্রটোকল আছে এর মধ্যে। এই প্রটোকলে ইইউ থেকে ব্রিটেন চলে যাওয়ার পর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বাণিজ্যনীতি কী হবে, তা বলা আছে।

তাহলে এখন আবার কি সমস্যা জাগরন হলো একে নিয়ে?

বাস্তবে উত্তর আয়ারল্যান্ড ও ব্রিটেনের মূল ভূখণ্ডের মধ্যে পণ্য চলাচলের ক্ষেত্রে এক অদৃশ্য সীমানা স্পষ্ট হয়ে ওঠায় একতরফাভাবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড প্রোটোকল বাতিল করার হুমকি দিচ্ছে ব্রিটেন। অন্যদিকে ইইউ ব্রেক্সিট চুক্তির মধ্যে কোনোরকম মৌলিক রদবদল করতে প্রস্তুত নয়

সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্রিটেনের উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রদেশ৷ ইইউ সদস্য রাষ্ট্র আইরিশ প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে ব্রিটেনের একমাত্র স্থলসীমান্তে পণ্যের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে ব্রেক্সিট চুক্তির মধ্যে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড প্রোটোকল নামের বিশেষ ধারা রাখা হয়েছিল৷ ১৯৯৮ সালের আইরিশ শান্তি চুক্তির স্বার্থে ব্রিটেনের এই প্রদেশকে ইউরোপীয় অভিন্ন বাজারের মধ্যে রাখার চাপ মেনে নিতে কার্যত বাধ্য হয় প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার৷ ব্রিটেনের সংসদও ব্রেক্সিট চুক্তির অন্তর্গত সেই প্রোটোকল অনুমোদন করে৷ কিন্তু বাস্তবে উত্তর আয়ারল্যান্ড ও ব্রিটেনের মূল ভূখণ্ডের মধ্যে পণ্য চলাচলের ক্ষেত্রে এক অদৃশ্য সীমানা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠায় একতরফাভাবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড প্রোটোকল বাতিল করার হুমকি দিচ্ছে ব্রিটেন। অন্যদিকে ইইউ ব্রেক্সিট চুক্তির মধ্যে কোনোরকম মৌলিক রদবদল করতে প্রস্তুত নয়৷

DW এর প্রতিবেদনে বলা হয়ঃ ……….[ব্রিটেন ব্রেক্সিট চুক্তির ১৬ নম্বর ধারা কাজে লাগিয়ে এমন একতরফা পদক্ষেপ নিলে তার পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে ইইউ ব্রিটেন থেকে উত্তর আয়ারল্যান্ডে পণ্যের সরবরাহ আরও সহজ করতে ইইউ একগুচ্ছ প্রস্তাব রাখবে বলে জানিয়েছে ইইউ কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারস সেফকোভিচ জানিয়েছেন, তিনি আগামী সপ্তাহেই সেই প্রস্তাবের খসড়া পেশ করবেন কোনো কারণে শেষ পর্যন্ত ঐকমত্য সম্ভব না হলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইইউ ব্রিটেনের পণ্যের উপর বাড়তি শুল্ক চাপাতে পারেব্রিটেনের শিল্প-বাণিজ্য জগত এমন চরম পদক্ষেপ এড়াতে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটিয়ে নেবার আহ্বান জানিয়েছে শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যে বিঘ্ন নয়, ইইউৃর সঙ্গে সংঘাতের কারণে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে সে ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যে মোটেই ব্রিটেনের পাশে দাঁড়াবেন না, সে বিষয়ে কোনো সংশয় নেই ইউরোপের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্কের অবনতি ব্রিটেনের স্বার্থের কতটা ক্ষতি করবে, সে বিষয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে]

গত নির্বাচনে ৯০ টি আসনের মধ্যে শিন ফেইন পেয়েছে ২৫টি আর ডিইউপি পেয়েছে ২৫। ৩য় পার্টি পেয়েছে ৯টি।  কেহই সরকার গঠনে সমর্থ নয়। ডি ইউ পি চুক্তি বাতিলের পক্ষে। ৩য় পার্টি  চুক্তি বাতিলের পক্ষে অর্থাৎ ইউনাটেড আয়ারল্যান্ড। এর মানে নর্দান আয়ার ল্যান্ডের বিচ্ছেদ হতে পারে মুল ব্রিটেন থেকে। দেশটা আরো ছোত হয়ে যাবে এটা সিউর। আর তা না হলে যুদ্ধ। আর যুদ্ধ হলে ইউরোপ তো আর ব্রিটেনকে ছেড়ে দিবে না। আয়ার ল্যান্ড যে ইউরোপের একটা দেশ, তাই।

দেখা যাক, বরিস ভাই কি করেন। আর উরসুলা কি করেন।

01/06/2022-Kissinger-peace settlement in Ukraine

সাবেক ইউএস সেক্রেটারী অফ স্টেট হেনরী কিসিঞ্জারের দূরদর্শীতার প্রশংসা না করেই পারলাম না। ৯৮ বছরের এই ঝানু পলিটিশিয়ান বলেছেন-“আগামী দুই মাসের মধ্যে যদি শান্তি চুক্তির জন্য রাশিয়ার সাথে বসা না হয়, তাহলে রাশিয়া স্থায়ীভাবে ইউরোপ থেকে বেরিয়ে গিয়ে চায়নার সাথে স্থায়ীভাবে মিত্রতা করার সম্ভাবনা। রাশিয়া গত ৪০০ বছর যাবত যেখানে সে ইউরোপের সাথে আছে, তাকে কোনোভাবেই অবমুল্যায়ন করা যাবে না। নীতিগত এবং আদর্শগতভাবে ইউক্রেনের আগের অবস্থার সাথে যদি  ডিভাইডিং লাইনে না থাকা হয়, এরজন্য অনেক বড় মাশুল অপেক্ষা করছে। আমার মতে [কিসিঞ্জারের মতে], যদি ওই লাইনের বাইরে যুদ্ধকে নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে সেটা শুধু ইউক্রেনের সাধীনতাকেই খর্ব করবে না, সেটা ন্যাটোর সাথে রাশিয়ার সরাসরি যুদ্ধকেই প্রলুব্ধ করবে যা হবে আত্তঘাতী। মিন্সক চুক্তি অনুযায়ী যা করার দরকার ছিলো তাঁকে কোনোভাবেই ইউক্রেনের বা ন্যাটোর ভাংগার প্রয়োজন ছিলো না। যখন রাশিয়া ৮ বছর আগে ইউক্রেনে আর্মড কনফ্লিক্ট করে, তখনি আমি ]কিসিঞ্জার] বলেছিলাম, ইউক্রেন নিরপেক্ষ থাকুক, এবং ইউরোপ আর রাশিয়ার মাঝে একটা সেতুবন্ধন তৈরী করুক। কিন্তু তারা সেটা না করে ইউরোপের দিকে ঝুকে গিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে গেছে।“  

কিসিঞ্জার আরো বলেন, “ইউরোপিয়ানদের এটা মনে রাখা উচিত যে, গত ৪০০ বছর যাবত রাশিয়া ইউরোপের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং রাশিয়ার যতো না ইউরোপকে দরকার তার থেকে অনেক বেশী দরকার রাশিয়াকে ইউরোপের। ইউরোপের তাই এটা সর্বদা মাথায় রাখতে হবে যেনো রাশিয়া কোনোভাবেই ইউরোপ থেকে স্থায়ীভাবে বিদায় না নেয়। রাশিয়া যদি স্থায়ীভাবে চায়নার সাথে মিত্রতা করে ইউরোপকে বিদায় জানায়, সেক্ষেত্রে ইউরোপের অবস্থা গুরুতর ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। কারন চায়না এবং রাশিয়া মিলিত শক্তি আমেরিকা এবং ইউরোপের চেয়ে অনেক বেশী এবং এটা সারা বিসশে একটা দূর্জয় নেমে আসবে। “

তিনি আরো বলেন, “ইউক্রেনের রাজনীতিদের এটা বুঝতে হবে যে, অস্ত্র চাওয়ার থেকে তাদের শান্তির প্রয়োজন তাদেরই বেশী। তাই যুদ্ধ বিরতির জন্য বা শান্তি চুক্তির জন্য ইউক্রেনকেই এগিয়ে আসতে হবে।“  

 

30/5/2022-রাশিয়া ১৯৯০ সাল থেকেই একটা প্যাসিভ

রাশিয়া ১৯৯০ সাল থেকেই একটা প্যাসিভ মোডে ছিলো কারন তার সক্ষমতা ভেংগে গিয়েছিলো সোভিয়েট ইউনিয়নের পতনের পর। অন্যান্য সুপার পাওয়ারের মতো রাশিয়া তেমন কোনো ভুমিকা রাখতে না পারার কারনে তার ফরেন পলিশি ছিলো খুবই নমনীয়। আর এই সুযোগ গ্রহন করেছিলো আমেরিকা একচ্ছত্রভাবে। ইরাক, ইরান, নর্থ কোরিয়া, আফগানিস্থান, লিবিয়া, প্যালেষ্টাইন, ভেনিজুয়েলা, ফিলিপাইন, ইত্যাদি দেশসমুহে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্য দেখা যায়। এ সময়ে দেশে দেশে রিজিম চেঞ্জের একটা থিউরী তৈরী হয়। যখনই কোনো দেশ এই পশ্চিমাদের বাইরে দাড়াতে চেয়েছে তখনই তাদের উপর নেমে এসছে খড়গ-আর সেটা প্রথমে নিষেধাজ্ঞা। মজার ব্যাপার হলো, প্রতিবারই এই নিষেধাজ্ঞা একটা মারাত্তক অস্ত্রের মতো কাজ করেছিলো এবং সফল হয়েছে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ন্যাটো, জাতীসংঘ, সেন্ট্রাল রিজার্ভ ব্যাংক, আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংক, এমেনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল, আইসিজে, সমস্ত মিডিয়া ইত্যাদি যাইই কিছু বলি না কেনো, সব কিছুর নির্দেশদাতা যেনো একটি দেশ। আর তা হচ্ছে আমেরিকা। কোথাও কোন ট্রু জার্নালিজম নাই। ফলে যা কিছু ইচ্ছা করা যায় এমন একটা ধারনা আমেরিকার হয়েই গিয়েছিলো। সবাই তার কথা শুনতে বাধ্য, সবাই তার কথা মতো চলতে বাধ্য এবং যারাই তাদের কথামতো চলবে না, তাদেরকে একই অস্ত্রে বিদ্ধ করার ক্ষমতা তার আছে বলে আমেরিকার মনে ভয় একটু কমই ছিলো। কিন্তু রাশিয়ার বেলায়? সে তো আহত বাঘ। আহত বাঘ হয়তো প্রতিঘাত করার চেষ্টা করেনা ঠিকই কিন্তু ভিতরে তার প্রতিশোধের নেশায় থেকেই যায়। শুধু তার দরকার হয় কিছুটা সময়ের। রাশিয়া এখন ঠিক সেই জায়গাটায়।

সে হয়তো আরো পরে তার প্রতিক্রিয়া জানাতো, হয়তো সে আরো বড় প্রিপারেশনের পথে সে ছিলো। কিন্তু তাঁকে যখন কোনঠাসা করে তার ঘরের দরজায় ন্যাটো নোংগড় করতে চাইল, সে আর কাল বিলম্ব করে নাই। প্রিপারেশন তার চলমান ছিলোই। চীন, ভারত, পুর্ব এশিয়া, আফ্রিকান আর আরব দেশ মিলে তার একটা চলমান প্রিপারেশন প্রক্রিয়া ছিলোই। যা আমেরিকা বা ইউরোপিয়ানদের ছিলো না। ট্রাম যখন রাশিয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছিলো, সেটা এমনি এমনি করে নাই। ট্রাম্পের সাথে রাশিয়ার একটা গোপন বন্দধুত্ত ছিলো। সেই সুবাদে সে হয়তো কিছু গোপন ব্যাপার জেনেই গিয়েছিলো যা ট্রাম্প পরবর্তীতে আর গোপন রাখতে পারে নাই। আর সেটার খেসারত সে দিয়েছে নির্বাচনে পুনরায় না জিতে। সেখানেও রাশিয়ার হাত থাকতেই পারে যেমন হাত ছিলো প্রথবার ট্রাম্পের বিজয়ের উপর।

রাশিয়ার বিশেষ অভিযান (সে কিন্তু এটাকে যুদ্ধ বলে অভিহিত করে নাই, যেনো এটা একটা এক্সারসাইজ, একটা জাষ্ট অপারেশন) যখন ইউক্রেনে নেমে এলো, রাশিয়ার হোম ওয়ার্ক করা ছিলো, সব জায়গায় একতার পর একটা অপারেশনাল প্লেনের মতো সিরিয়াল করা অর্ডার এবং বিকল্প, বিকল্পের বিকল্প সাজানোই ছিলো। ২২ বছরের রাষ্ট্রপ্রধানের অভিজ্ঞতা সহ মোট ৪০ বছরের কেজিবি একজন মানুষ কে ছোট করে ভাবার কোনো কারন নাই। বর্তমান ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের লিডারস গন, ন্যাটোর কমান্দার গন কেজিবির এই প্রধানের কাছে অভিজ্ঞতায় অনেক পিছিয়ে তাতে কোনো সন্দেহ নাই। আরেকটা মজার ব্যাপার হলো, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ভুক্ত দেশ গুলির আইন প্রনেতাদের মধ্যে মত ৫৫% হচ্ছেন শুধুমাত্র মহিলা যাদের পলিটিক্যাল অভিজ্ঞতা খুবই কম। কারো কারো বয়স ৪০ এর ও নীচে।  ফলে আমেরিকার জন্য এসব ইউরোপিয়ান দেশ সমুহে প্রভাব খাটানো খুব সহজ ছিলো। রাশিয়াকে ইউক্রেনের উপর আক্রমনের কারনে সেই একই আস্ত্র (নিষেধাজ্ঞা) দিয়ে ঘায়েল করার চেষ্টা করা হলো যা ছিলো মারাত্তক আত্তঘাতী। রাশিয়া গত ৩০ বছরের পশ্চিমাদের এই স্টাইল নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষন করে দেখেছে, কোথায় কোথায় রাশিয়াকে হিট করা হবে। রাশিয়া সেই প্রোবাবল হিটিং এরিয়া ভেবে তার বিকল্প তৈরী সে করেছিলো একমাত্র রিজার্ভ ব্যাংকের কাউন্তার মেজার ছাড়া।

ইউক্রেন অপারেশনে রাশিয়া অনেক গুলি নতুন মিলিটারী ট্যাকটিক্সের জন্ম দিয়েছে। প্রথমে কিয়েভের মাত্র ১৫ কিমি দূরে থেকেও সে কিয়েভ ধংশ করে নাই এবং দুখল করে নাই। এটাকে বলা যায় ‘সুনামী ট্যাক্টিক্স”। মানে প্রথমে বীচ শুকিয়ে দেয়া, সবাই আনন্দে বীচে নামবে, পরে বড় ঢেউ দিয়ে সব তলিয়ে দেয়া হবে। রাশিয়া কিয়েভে গিয়ে সবাইকে এটাই বুঝিয়েছিলো, আর এদিকে রাশিয়া ইউক্রেনের এয়ার ফিল্ডস, আর্মামেন্টস স্টোর, পিস কিপিং অপারেশন আস্থানা, যেখানে যেখানে ইউক্রেনের সামরীক সনজাম ছিলো বা তৈরী হতো সব কিছু ধংশ করছিলো। একটা দেশকে পংগু করে দেয়ার মতো।

খেয়াল করলে দেখবেন প্রাথমিক দিন গুলিতে যে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নেতা ব্রিন্দ, পশ্চিমা নেতা রা কি করবেন, কি করা উচিত, কি করলে কি হবে সেগুলি নিয়ে রাত ভর ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিলো, আর ওদিকে রাশিয়ার পুতিন নির্বিকার কাজ করে যাচ্ছিলো। অদ্ভুদ পার্থক্য। এক স্টন্টেনবার্গ, আরেক উরসুলা, এবং জো বাইডেন সহ বরিস ছাড়া কোন নেতার উচ্চসর শুনা যাচ্ছে না। সবাই জি স্যার জি স্যার ভুমিকায়। ফলে বারবার ভুল সিদ্ধান্ত ভুল সিগন্যাল যাচ্ছিলো ইউক্রেনের কাছে। ইউক্রেন মরিয়া কিন্তু পাশে সবাই অথচ কেউ নাই যেনো মাঠের কিনারে সবাই চিৎকার চেচামেচি কিন্তু বল শট দেয়ার মতো ক্ষমতা নাই।

২৮/৫/২০২২- প্রায় ৩০ বছর পিছিয়ে গেছে আমেরিকা

প্রায় ৩০ বছর পিছিয়ে গেছে আমেরিকা এই অঞ্চলে এই ধরনের একটা ট্রেড ইনিশিয়াটিভ গ্রুপ তৈরিতে। যেখানে চায়না, ইন্ডিয়া, রাশিয়া আরো ৩০ বছর আগে শুরু করেছিলো। এই অঞ্চলে যে কয়টা সবচেয়ে পুরানো এবং বড় ট্রেড ইনিশিয়াটিভ আছে সেগুলি (১) RCEP (২) CPTPP (৩) Belt and Road । আর এর প্রতিটিতেই চায়না, রাশিয়া আর ইন্ডিয়া জড়িত। এদের প্রত্যেকের ইনিশিয়াটিভের উদ্দেশ্য একই।

অন্যদিকে এই ১৩ টা দেশের বর্তমান যারা নতুন করে জয়েন করছে, তারা হলোঃ আমেরিকা, অষ্ট্রলিয়া, ব্রুনেই, ইন্ডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, দক্ষিন কোরিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, সিংগাপুর, থাইল্যান্ড, এবং ভিয়েতনাম।

এখানে রাশিয়া আর চায়না নাই বটে কিন্তু তাদের গ্রেট এলায়েন্স ইন্ডিয়া আছে, ফিলিপাইন আছে, ইন্দোনেশিয়া আছে, আর আছে ভিয়েতনাম।

হিসাবটা খুব সহজ বলে মনে হবে না।

আমেরিকা বারবার এতো তাড়াহুড়া করছে এর অন্তর্নিহিত মানে বুঝার জন্য একটা কথাই যথেষ্ট। আর সেটা হলো রাশিয়ার উপর 'নিষেধাজ্ঞা' দিয়ে রাশিয়া এই অঞ্চলগুলিতে একচেটিয়া বাজার ধরে ফেলতেছে আর ডলার মুদ্রা পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে সুইফট ব্যবস্থা সহকারে। তাছাড়া, অল্প দামে রাশিয়া থেকে কমোডিটি পাওয়ায় অন্যান্য দেশের কমোডিটির দাম আমেরিকার কমোডিটির দামের চেয়ে কম থাকবে। ফলে আমেরিকার সব কমোডিটি খুব অচীরেই বাজারে দামের কারনে পিছিয়ে যাবে। বাজার হারানোর সম্ভাবনা খুব বেশী।

নিষেধাজ্ঞাটা খুবই খারাপ ফলাফল এনে দিয়েছে সমস্ত ইউরোপ এবং পশ্চিমা দেশে। একদিকে রিফুজি ক্রাইসিস নিয়ে ভোগা শুরু হবে ইউরোপের দেশ গুলি, অন্যদিকে এনার্জি সংকটে পড়ছে ইতিমধ্যে, ইউরোপিয়ান দেশগুলির মধ্যে ঐক্যের ফাটল শুরু হয়ে গেছে। সাধারন নাগরিকগন এখন আর এসব চাইছে না।

ফলে আমেরিকার সেফ এক্সিট পেতে হলে, ন্যাটো নিয়ে এতো কিছু থেকে সরে আসতে হবে, রাশিয়ার সাথে (ইন্ডিয়া, চায়নাসহ) এদের সাথে একটা সৌহার্দ্যপূর্ন কম্প্রোমাইজে আসতেই হবে।

এই যুদ্ধটার আনবিক বোমাটা হচ্ছে আসলে ইকোনোমি। রাশিয়া তাই যুদ্ধটা অনেক বিলম্ব করবেই। যত বিলম্ব হবে, ততো ইউরোপ আতঙ্কিত এবং সাফার করতে থাকবে। নিষেধাজ্ঞায় সবচেয়ে লাভবান হয়েছে রাশিয়া। যদি সারা বিশ্ব রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা দিতো, তাহলে রাশিয়ার শক্তি কমাতে পারতো। শুধুমাত্র পশ্চিমা দেশ আর ইউরোপ নিয়েই তো সারা বিশ্ব নয়। এখানেই ভুলটা হয়েছে বড় বড় নেতাদের।

25/5/2022-অপিনিয়ন ইস ডিনায়েড

রাশিয়া ইউক্রেনকে আক্রমন করার সাথে সাথে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাশীল লোকজন যখন ন্যাটোতে যোগদানের একটা সুর তুল্লো, তখন ইংল্যান্ডের ইয়াং জেনারেশনের ব্রেক্সিট ভোটের মতো ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনের ইয়াং জেনারেশনও একই রকমভাবে ন্যাটোতে যোগ দিলে তাদের প্রোটেকশন বাড়বে এই ধারনায় একটা জোয়ারের মতো তাল দেয়া শুরু করেছিলো। ফলে আগের বছরগুলিতে ন্যাটোতে যোগদানের মতামতের ৪২% এর বিপরীতে হটাত করে স্যামপ্লিং এ ৭০% পজিটিভ মতামত চলে আসে। প্রাথমিকভাবে ন্যাটো এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যেভাবে ইউক্রেনের পাশে দারানোত অংগীকার ব্যক্ত করেছিলো, তাতে যে কোনো আপাতত একটা দূর্বল জাতী সেটা গ্রহন করবেই। এই মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাশীল লোকজন রেফারেন্ডাম লাগবে না এই ভিত্তিতে পার্লামেন্টে প্রায় এক তরফা ভোট পাশ হয়ে যায় ন্যাটোতে যোগদানের জন্য।

পরবর্তীতে ইউক্রেনের জন্য ন্যাটোর হাবভাব, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কিংবা বিশ্ব মন্ডলে ইউক্রেন নাগরিকদের দেয়া সুযোগ সুবিধার উপর চুলচেড়া বিশ্লেষনের উপর দেশের স্ট্র্যাটেজিক বুদ্ধিদাতাদের লেখালেখি, মতামত এবং তারসাথে রাশিয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে সারা দুনিয়ায় যেভাবে নেতিবাচক প্রভাব ঘটছে, তার রেশ অনুভুতিতে এনে ধীরে ধীরে ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনের সাধারন নাগরিকদের ভাবনায় ন্যাটোতে যোগদানের ব্যাপারটায় টনক নড়া শুরু করে। এর বাইরে ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার এক তরফা আগ্রাসনের কারনে এবং ইউক্রেনের পাশে কাউকে না পাওয়ার কারনে এই দুই দেশের জনগনের মতামত হটাত করে ভাটা পড়তে শুরু করে। এখন সেই সার্ভে এসে দাড়িয়েছে প্রাতমিক ৪২% এরও নীচে। এর মধ্যে তুরুষ্ক এবং ক্রোয়েশিয়ার প্রবল আপত্তিতে ন্যাটোতে যোগদানের ব্যাপারে একটা অনিশ্চিত আশংকার স্রিষ্টি হয়। এছাড়া ন্যাটোতে যোগ দেয়ার সফল মেম্বার হওয়ার মাঝখানে প্রায় এক বছর সময়ে ‘না ন্যাটো’ না ‘নিরপেক্ষ’ এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার হুমকী একটা ভয়ংকর আতংকের মধ্যে পড়েছে দেশের নাগরিকগন। প্রায় ১৩০০ কিমি কমন বর্ডারের দেশ ফিনল্যান্ড সর্বদা রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশের কাছে একটা যুদ্ধাংদেহী অবস্থায় থাকতে হবে, এইসব কারনে সবাই এখন ন্যাটোতে যোগ দেওয়াকে রিস্কী মনে করছেন। এমন অবস্থায় ফিনল্যান্ডের নাগরিকদের মধ্যে এখন অধিকাংশ জনগন ন্যাটোতে যোগদানে আগ্রহী নয়। তবে তারা সারাদেশের জনগনের একটা চুড়ান্ত মতামতের জন্য রেফারেন্ডাম চাইছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাশীল লোকজন রেফারেন্ডাম দিতে নারাজ। এই টানাপোড়েনে দেশের ভিতরে একটা চলমান ক্ষোভের লক্ষন দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থায় ফিনল্যান্ডে বলা হচ্ছে- যারা ন্যাটোতে যোগদানের বিপক্ষে তারা রাশিয়ান পন্থী। আর এই অপবাদে প্রচুর সংখক নাগরিক পুলিশের হয়রানী, এমন কি জেল জুলুমের খপ্পরে পড়ছেন বলে ফিনিশ এক জার্নালিষ্ট সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, Opinion is denied

তবে একটা জিনিষ তো নিশ্চিত, শেষ পর্যন্ত সাধারন জনগনের চুড়ান্ত মতামতের জন্য রেফারেন্ডাম না নিলে শেষ অবধি প্রেসিডেন্ট সিউলি নিনিতসুকে এক সময় বিচারের কাঠগরায় দারাতে হতে পারে। এখানে উল্লেখ থাকে যে, যদিও ফ্রান্স ইউক্রেনের ন্যাটো মেম্বারশীপ বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে যোগদানের ব্যাপারে নেতিবাচক নয়, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন এবং ফ্রান্সের পররাষ্টমন্ত্রী ইউক্রেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যপদ পাইতেই বলেছে এক যুগ পার হবে। এর মানে, ইউক্রেনকে সহজেই ইউরোপিয়ান ব্লকে বা ন্যাটোতে নেয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তাহলে কেনো আর কিসের কারনে এই যুদ্ধ?

সেই একই কাতারে কি এতো চমৎকার দুটি দেশ সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড পড়তে যাচ্ছে?

19/5/2022-ফিলিপিনের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বং

ফিলিপিনের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বং মার্কোস এবং তার আগের প্রেসিডেন্ট দূতেরের মধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জাপান+ দক্ষিন কোরিয়ার ভিজিট উপলক্ষে ব্রিটিশ স্কলার এবং জিও পলিটিক্যাল এনালাইসিস্ট মার্টিন জ্যাক্স এর কিছু টুইটার মেসেজ শেয়ার করেছে। টুইটারে মার্টিন তার এনালাইসিসে বেশ কিছু এক্সক্লুসিভ তথ্য শেয়ার করেছে।

(ক) আমেরিকা এখনো অগোছালো। এশিয়ার ব্যাপারে বাইডেনের কোনো অর্থনইতিক পরিকল্পনা নাই।

আমেরিকা চায়না “বেল্ট এবং রোডের” চুক্তির ব্যাপারে কিছু উচ্চাকাখাংকা দেখালেও সেটা চায়নার কারনে আমেরিকা কোনোভাবেই সফল হবে না। কারন চায়না ইতিমধ্যে আমেরিকার চেয়ে শুধু অর্থনীতির ব্যাপারেই না, কোয়ালিশনের দিক দিয়ে এগিয়েই আছে।

(খ) পূর্ব এশিয়াতে আমেরিকা মিলিটারীর দিক দিয়ে খুবই একটা নাজুক অবস্থায় আছে। এখানে চায়না পুর্ব এশিয়াতে আমেরিকা থেকে অনেক গুন এগিয়ে আছে। প্রকৃতপক্ষে চায়না এসব স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনাগুলি গত ১৯৯০ সাল থেকেই হাতে নিয়েছিলো যা আমেরিকা বুঝতেই পারে নাই। ফলে আমেরিকা এই পূর্ব এশিয়াতে তার কোনো মার্কেট বেজড সম্পর্ক গড়েই উঠে নাই। বলতে গেলে প্রায় বিচ্ছিন্ন।

(গ)  পুর্ব এশিয়াতে খুবই শক্ত সামর্থ তিনটা ট্রেডিং এগ্রিমেন্ট আছে। এরা হচ্ছে- (১) RCEP (২)  CPTPP (৩) Belt and Road এই তিনটার মধ্যে একটাতেও আমেরিকা নাই। কিন্তু চায়না তিনটার মধ্যেই আছে। আর এগুলি গত ২০ বছর আগে থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এখন তো আমেরিকার পক্ষে আর এসবে ঢোকার কোনো সম্ভাবনাই নাই।

(ঘ) পুর্ব এশিয়ার সাথে চায়নার সম্পর্কটা দুতেরের গত ২০১৬ সালের নির্বাচনের সময়ই খুব জটিল ছিলো। দুতেরে নির্বাচিত হবার পর সে চায়নার সাথে আরো ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখবে বলে অংগীকার করেছিলো। নির্বাচিত হয়েওছিলো। এবারের নির্বাচনে মার্কোস পরিবারের সদস্য যাদেরকে প্রায় ২০ বছর আগে উতখাত করা হয়েছিলো, সেই মার্কোস পরিবারের সদস্যই বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবার আরেকটি কারন যে, সেও দুতেরের থেকেও বেশী কাছে থাকবে চায়নার এটাই ছিলো তার নির্বাচনী মেনিফেস্টুর একটা অংশ। ফলে ফিলিপাইনকে আমেরিকা কাছে পাবার সম্ভাবনা কম। তার মানে পুর্ব এশিয়াতে আমেরিকার পদধুলী প্রায় স্তিমিত।

এই সব কিছবু মিলিয়ে এশিয়া এবং পুর্ব এশিয়াতে আমেরিকার বর্তমান কৌশল খুব একটা কাজে আসবে না হোক সেটা জাপানের মাধ্যমে বা দক্ষিন কোরিয়া। ফলে জো বাইডেনের ভিজিট কতটা আশা পুরুন করবে সেটা এখন বলা মুষ্কিল।

অনেক দেরী হয়ে গেছে ব্যাপারটা।

১৭/০৫/২০২২- কিছু তথ্য বেশ মজার।

ঠিক এই সময়ে কংগ্রেসে মোট ৩৭ জন ইহুদী আছেন। তারমধ্যে ৩৫ জন হচ্ছে রুলিং ডেমোক্রেটিক পার্টির এবং ২ জন বিরোধী রিপাবলিকান দলের। কট্টর ইহুদীরা সবসময় ডেমোক্রাটদেরকেই ভোট দেন আর এই ভোট ব্যাংকের অনুপাত সারা আমেরিকার জনগনের মধ্যে প্রায় ৩৫%। অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ ভোট ডেমোক্রাটদের জন্য প্রায় নিশ্চিত। আর এ কারনে অনেকেই বলে থাকেন যে, যখনই ডেমোক্রাটরা ক্ষমতায় আসবে, ধরে নিতে হবে দেশ ইহুদীদের দ্বারা চালিত হচ্ছে। ডেমোক্রাট দলের জন্য বেজ কন্সটিটিউয়েন্সীর নির্নায়ক হচ্ছে ইহুদীরা। আমেরিকার নির্বাচনের সময় ইহুদীদের প্রধান বৈশিষ্ঠ হচ্ছে, একদল ইহুদী ডেমোক্রাটদের পক্ষে প্রচন্ড পরিমানে জনমত তৈরী করেন, আর আরেকদল ইহুদী একই সময়ে বিরোধী দল রিপাবলিকানদের বিপক্ষে জনমত তৈরী করতে থাকেন। ফলে রিপাবলিকানরা কোন ঠাসা হয় বারবার। কোনো কারনে যদি ডেমোক্রাটরা জিততেও না পারে, তারপরেও কোনো না কোনোভাবে ইহুদী আওন প্রনেতারা যেনো জয়ী হয় সে চেষ্টায় থাকে এই ইহুদীরা। সুপ্রিম কোর্টের অবস্থা সার্ভে করলে দেখা যাবে যে, প্রায় ৭৫% আইনজীবি ইহুদী বা ইহুদীপন্থী। যারা সর্বদা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে পরামর্শ দেয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইহুদীরা খুবই অপছন্দ করে। প্রায় ৭৩% নেগেটিভ প্রচারনা করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।

গত নির্বাচনে ভোটারদের ভোট গননায় দেখা গেছে যে, বাইডের প্রাপ্ত ভোটের প্রায় ৬০% এর উপরে ইহুদীদের ভোট পড়েছিলো প্রেসিডেন্ট বাইডেনের পক্ষে। এখানে একটি কথা না বললেই নয়, জো বাইডেনের পূর্ব পুরুষেরা ছিলেন আইরিশ নাগরিক এবং ফ্রান্স নাগরিক।

বর্তমান স্পীকার ন্যান্সী পেলোসির অরিজিনালিটি হচ্ছে ইতালিয়ান। তার বাবা থমাস ডি আলেসান্দ্রো প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেন্টের সময় এমপি ছিলেন এবং ইহুদী রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে থমাস ডি আলেসান্দ্রো প্রেসিডেন্ট রুজভেন্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তুমুল জনমত গড়ে তুলেছিলেন। তিনি ছিলেন কট্টর ইহুদীপন্থী এবং ইহুদী রাষ্ট্র সৃষ্টির একজন প্রধান কর্নধার। ( লিংক পড়তে পারেন-

(https://www.speaker.gov/newsroom/jerusalem-post-pelosis-father-bucked-fdr-truman-aid-jews-israel)

 এবার আসি এন্টনি ব্লিংকেন এর ব্যাপারে। এন্টনী ব্লিংকেন আপাদমস্তক ইহুদী পরিবারের সদস্য। Blinken was born on April 16, 1962, in Yonkers, New York, to Jewish parents, Judith (Frehm) and Donald M. Blinken, who later served as U.S. Ambassador to Hungary.  His maternal grandparents were Hungarian Jews. Blinken's uncle, Alan Blinken, served as the U.S. ambassador to Belgium. His paternal grandfather, Maurice Henry Blinken, was an early backer of Israel who studied its economic viability, and his great-grandfather was Meir Blinken, a Yiddish writer.

(লিংক পড়তে পারেন- https://en.wikipedia.org/wiki/Antony_Blinken)

অংকটা বেশ মজার। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যাপারে এর কি কোনো ইফেক্ট আছে বলে মনে হয়?

18/5/2022-সুইডেন-ফিনল্যান্ডের হেরীটেজ রোগঃ

গতকাল একটা খবরে খুবই আশ্চর্য হয়েছি যে, ফুন ল্যান্ড এবং সুইডেনদের একটা কমন রোগ আছে যা হেরিডিটি হিসাবে বংশগতভাবে ওরা পায়। আর সেটা হলো জেনেটিক ডিস অর্ডার। এর মাত্রা কমানোর উদ্দেশ্যে ওরা যেটা করে সেটা হলো- ওরা সুইডেন-সুইডেন, বা সুইডেন ফিনল্যান্ড, বা ফিনল্যান্ড-ফিনল্যান্ড কাপ্লিং থেকে বিরত থাকে। কারন উভয় বাবা মা যাদের জেনেটিক ডিস অর্ডার আছে, তাদের বাচ্চাদের ও সেই একই জেনেটিক ডিস অর্ডার  হ ওয়ার সম্ভাওবনা প্রায় শতভাগ। তাই ওরা সব সময়ই চায়, ফিন ল্যান্ড-রাশিয়ান, সুইডেন-রাশিয়ান কাপ্লিং করতে। এর ফলে যেটা হয়েছে, সেটা হলো, প্রায় প্রতিটি সুইডিস বা ফিনিশ পরিবারেই রাশিয়ান বংশভুত নাতি পুতি বিদ্যমান।

ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার এত বড় সিদ্ধান্তটা কোনো দেশই রেফারেন্ডামে আনতে ভয় পাচ্ছে, কারন মিডিয়া হয়তো অতি রঞ্জিত করে ন্যাটোতে যোগ দেবার জনগনের রায় দেখাচ্ছে ৮০% এর উপরে, অথচ বাস্তবে ৪০% এর ও নীচে সাধারন জনগনের সায় আছে বলে এক সুইডিস সাংবাদিক গতকাল TFI Global এর বরাত দিয়েছে।

ওরা ন্যাটোতে যোগ দিক বা না দিক সেটা তাদের ব্যাপার, কিন্তু যদি পরি সংখ্যান টা এমনই হয়, তাহলে তো দেখা যাচ্ছে নাতি পুতিদের মধ্যে এবার যুদ্ধ বা ঝগড়ার সূচনা শুরু হয়ে গেলো।

১৪/০৫/২০২২-প্যারাডিম শিফট এবং ডমিনো ইফেক্ট

আজকে যে বিষয়টি নিয়ে আমি লিখতে চাচ্ছি- সেটার নাম প্যারাডাইম শিফট। এই প্যারাডাইম শিফটের সাথে ইউক্রেন, ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনের ন্যাটোতে যোগদানের একটা সম্পর্ক আমি দেখতে পাই। তাহলে সংক্ষিপ্তভাবে জানা দরকার, এই প্যারাডাইম শিফটটা কি।

যখন সাভাবিক কোনো চিন্তাচেতনা কিংবা কার্যক্রম অন্য কোনো নতুন নিয়ম বা চিন্তা চেতনা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে দেখা যায়, তখন এই প্রতিস্থাপিত নতুন পরিবর্তিত চিন্তা চেতনাকেই প্যারাডাইম শিফট বলা হয়। অন্যঅর্থে যদি বলি-এটা হচ্ছে একটা মডেল, তত্ত্ব, বা দ্রিষ্টিভঙ্গি, ধারনা, কিংবা দৃষ্টান্ত যা প্রকৃত তত্ত্ব, দৃষ্টিভঙ্গি, কিংবা মডেল থেকে ১৮০ ডিগ্রী উলটা। প্যারাডাইমটা আসলেই আসল জিনিষ না, এটা একটা মানষিক ভাবনার সাথে প্রকৃত সত্যের একটা শুধু কাল্পনিক ছবি। কোনো একটা জিনিষের ব্যাপারে আমরা যা ভাবছি, বা দেখছি এর সাথে সেই জিনিষটার যে রকম প্রকৃত বৈশিষ্ট , এই দুয়ের মাঝেই থাকে প্যারাডাইম তত্তটি। এই প্যারাডাইম দিয়ে মানুষ কোনো একটা ধারনা, চিন্তা চেতনা, কিংবা কোনো একটি জিনিষের ব্যাপারে একটা ধারনা পায়। যার প্যারাডাইম শিফট যত কম, সে ততো অরিজিনাল জিনিষের কাল্পনিক রুপ দেখতে পায়।

একটা উদাহরণ দেই- ধরুন আপনি একটা লোকের চেহাড়া দেখে ভাবলেন যে, সে একটা নিশ্চয় ভয়ংকর সন্ত্রাসী। আপনার মন তাকে সেভাবেই ট্রিট করছে, সেভাবেই আপনি তাকে ওই খারাপ মানুষদের মধ্যে লিষ্ট করে ফেলেছেন। অনেকপরে যখন জানলেন যে, লোকটা ছিলো খুবই ভদ্র, ভালো ও খুবই অমায়িক এবং পরোপকারী। তখন আপনি অনেক মনোকষ্টে ভোগবেন। আফসোস হবে এই কারনে যে, আহ, সব কিছু না জেনে, না বুঝে কেনো আমি এমন একটা ভালো মানুষকে খুবই খারাপ ভেবেছি? এই যে নতুন ভাবনা আপনাকে আগের চিন্তাচেতনা থেকে হটাত করে ১৮০ ডিগ্রী উলটে গিয়ে আরেক নতুন ভাবনায় নিয়ে এলো, সেটাই প্যারাডাইম শিফট। থমাস কুন তার বিখ্যাত-“দি স্রাইাকচার অফ সায়েন্টিক রেভ্যুলেশন” বই এ প্রথম প্যারাডাইম শিফট শব্দটি চালু করেন। প্যারাডাইম যার যতো বেশি নিখুত, তার প্যারাডাইম শিফট ততো কম। আর যাদের এই প্যারাডাইম কোনো কিছুর ব্যাপারে প্রায় কাছাকাছি থাকে, তারা আসলেই জ্ঞানী এবং বাস্তববাদী। বর্তমান জগতে মানুষের প্যারাডাইম অনেক অনেক সত্যের থেকে বেশী দূরে বিধায়, আমাদের সমাজে ভুল সিদ্ধান্তে গন্ডোগোল বাড়ছে।

তাহলে এর সাথে ফিনল্যান্ড অথবা সুইডেনের বা ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগের সম্পর্ক কি?

কিছু খন্ড খন্ড ঘটনাকে খাতায় কষে বিশ্লেষন করলে দেখা যাবেঃ

(১)  ইউক্রেন CIS এর এসোসিয়েট মেম্বার। তারা প্রথম ইউরোপিয়ান দেশের সদস্য হবার জন্য অনুরোধ করে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বির মাসে। কিন্তু তাদের সেই অনুরোধ রক্ষা করা হয় নাই বিভিন্ন রাজনৈতিক বিবেচনায়, বিশেষ করে রাশিয়ার নাবোধক জবাবের কারনে।  শুধু তাইই নয়, এই আমেরিকাই ইউক্রেনে অবস্থিত নিউক্লিয়ার ওয়ারহেডসহ পুরু নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে সাহাজ্য করেছিলো। তখন কিন্তু আমেরিকা বা পশ্চিমারা ইউক্রেনের প্রতি ততোটা ভালোবাসা প্রকাশ করে নাই। কারন তখন ইউক্রেনকে তাদের প্রয়োজন ছিলো না, প্রয়োজন ছিলো ওয়ার্শ জোট ভাংগার নিমিত্তে রাশিয়াকে খুশী করা। তাতে ইউক্রেনের পারমানিক ক্ষমতা বিলুপ্ত হলেও পশ্চিমাদের লোকসান নাই।

(২)        ইউক্রেন একটি সমৃদ্ধ শালী দেশ বিশেষ করে ভোজ্য তেল, খাদ্য কমোডিটি, স্টীল, সিরিয়াল, গম ভুট্টা, নিকেল, আয়রন ইত্যাদি। দিনে দিনে রাশিয়া তার ৯০ শতকের ধ্বস থেকে কাটিয়ে উঠে আবার আগের শক্তিতে ফিরে আসছে যা পশ্চিমাদের জন্য সুখকর নয়। তাই তাঁকে চেপে ধরার একটা এজেন্দা দরকার। ইউক্রেন একটা ভালো অপ্সন। কারন এটা রাশিয়ার একেবারেই গোড় দোরায়।

(৩)       আমি, আপনি হয়তো এতো গভীর স্তরে ভাবি না কিন্তু যারা আন্তর্জাতিক খেলোয়ার তারা ঠিকই খবর রাখে কোথায় কি হচ্ছে আর কেনো হচ্ছে। খেয়াল করে দেখলে দেখা যায়, ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করলো,  প্রো-ওয়েশটার্ন প্রেসিডেন্ট প্রোসেংকুকে আউট করে দিলো, জর্জয়ায় রাশিয়ার আগ্রাসন কে ঠেকালো না, ওসেটিয়ায়র অবস্থাও একই। চেচনিয়াও তাই। আমেরিকা কিছুই বল্লো না, না ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। একটা অতি জনপ্রিয় কমেডিয়ান এর আবির্ভাব হলো। প্রেসিডেন্ট হয়ে গেলো যার কনো প্রকার পলিটিক্যাল অভিজ্ঞতাও নাই। কিন্তু সাহস ছিল। হটাত করেই জেলেনেস্কীর আগমন ঘটে নাই সিন গুলিতে। প্রোসেংকুকে আউট করার সময়ই এই আঘাতটা আসার কথা ছিলো কিন্তু তখন ব্যাপারটা ঘটে নাই কারন গ্লোবাল রিসেশনে পসচিমারাও কোন্ঠাসা। ইউরোপ তো আরো কোন্ঠাসা। They take time.

(৪) ইউক্রেনকে ভালোবেসে পশ্চিমারা গদগদ হয়ে এতো সাপোর্ট করছে এটা ভাওব্লে ভুল হবে। নিজদের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন লোন মাথায় রেখে কোনো দেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অন্য কোথাও ইনভেষ্ট করতে যায় না। এর পিছনে লাভ অবশ্যই থাকা দরকার। আর সেটার নাম জিরো-সাম গেম। Zero-sum games occur whenever the aggregate gain between winners and losers totals zero. আরেকটু পরিষ্কার করে বলি- জিরো-সাম গেমের সংগা হচ্ছে-নেট জিরো। আমি ধনী কারন আপনি গরীব, আমি গরীব কারন আপনি ধনী। আমি জিতেছি কারন আপনি হেরেছেন, আমি হেরেছি কারন আপনি জিতেছেন, ব্যাপারটা ঠিক এই রকমের। এরমানে এই যে, কোনো একটা ১০০% ভান্ডার থেকে আমি যখন ৫০% নিয়ে নেবো, আপনি আর কখনোই ওই ভান্ডার থেকে ইচ্ছে করলেও ১০০% নিতে পারবেন না। আমি যদি ওই ভান্ডার থেকে পুরু ১০০% নিয়ে নিতে পারি, আপনি পুরু ১০০% ই লস করবেন। আর এই কন্সেপ্টের কারনে পশ্চিমারা কখনো গনতন্ত্রের নামে, কখনো মানবাধীরকার নামে, কখনো বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসাবে, কখনো কাউকে আগ্রাসীর বদনামে নিজেরা পাশে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু মুল লক্ষ্য থাকে সেই সাহাজ্যার্থীর টোটাল ধন সম্পদের উপর অথবা তাঁকে সাহাজ্য করার নামে নিজেদের চিহ্নিত শত্রুকে নিঃশেষ করে দেয়া। ফলে যদি দেখেন ইরাক, আফগানিস্থান, বা লিবিয়া, প্যালেষ্টাইন, ইত্যাদির ঘটনাগুলি, সেখানে নিরাপত্তার নামে, সুষ্ঠ গন্তন্ত্রের নামে কিংবা সাধীন জীবনের প্রতিশ্রুতির নামে তাদের জীবনমান, সোস্যাল ফেব্রিক্স, লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে। তাদের ধন সম্পদ লুট করা হয়েছে, এসেট বলতে সব কিছুই লুট করা হয়েছে। লাভ হয়েছে একজনের, সম পরিমান লস হয়েছে ওই দেশ গুলির। ওদের মেরুদন্ড ভেংগে দেয়া হয়েছে, কমান্ড ভেংগে দেয়া হয়েছে। ওখানে এখন কোনো কিছুই আর আগের মতো নাই। এটাই লাভ। আর ততটাই লসে হয়েছে সে সব দেশের যারা জিরো সাম গেমটা বুঝে নাই।

(৫) একবার খেয়াল করে দেখলে দেখা যাবে যে, যে পরিমান হাই লেবেলের রাষ্ট্র প্রধান, সিনেটর, ফার্ষ্ট লেডি, স্পিকার, মিনিষ্টার, সেক্রেটারি এত ঘন ঘন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সাথে বিপদজনক এক্টিভ যুদ্ধক্ষেত্রে শশরীরে দেখা করেছেন, এর কারন কি? এর কারন একটাই, তাঁকে বারবার মনে করিয়ে দেয়া বা তাঁকে বলা যুদ্ধের জন্য শান্তিচুক্তি করা যাবে না। আমরা আছি তোমার পাশে। কোনো সমঝোতা করা যাবে না। তাই না কনো জাতিসংঘের কেউ, না কোনো ডিপ্লোমেট, না কোন পশ্চিমা নায়ক যুদ্ধ বন্ধের কোনো উদ্যোগ নিলেন। তারা যুদ্ধে কোনো সমঝোতা না করার পরামর্শ দিতেই এতো রিস্ক নিয়ে শশরীরে সেই যুদ্ধ ক্ষেত্রে এসেছেন।

(৬) বোকা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সেই ফাদেই পা দিয়ে নিজের দেশের বেশ ক্ষতি করা শুরু করলেন। যত নিষেধাজ্ঞাই দিক, যত মিষ্টি কথাই বলুক, যত মহড়াই আশেপাশের দেশে কসরত করুক, কেউ কিন্তু ইউক্রেনের মাঠে নামলেন না। ৩০ টা দেশ, ৩০ টা আর্মি, ৩০ টা দেশের প্রধান সব মিলিয়ে তো একটা শক্তি অবশ্যই। যেখানে ন্যাটো তার আন্তর্জাতিক নিয়ম ভেংগে তার সদস্য সংগ্রহ করতে পারে, যেখানে কোনো আইন মানার ব্যাপারে তাদের কোনো পরোয়া নাই, এতো এতো মিউনিস্ক চুক্তি, এতো এতো শান্তি চুক্তি থাকা সত্তেও ন্যাটো বা ইউরোপিয়ানরা তাদের নিজেদের কাজ করে যাচ্ছে,  অথচ ইউক্রেনের যুদ্ধকে কেউ সহজ করে দিলো না। কেউ মাঠে নামলো না। দুনিয়া এদিক সেদিক করে ফেলবে এমন কথাও বললেন তারা,  অস্ত্র দিলেন, টাকার পর টাকা দিলেন, আশ্বাস আর শান্তনার বানীর কোনো কমতি নাই। যে কোনো পরিস্থিতিতেই তারা ইউক্রেনের পাশে থাকবেই। কিন্তু একটা ‘নো ফ্লাই জোন করতে পারলেন না, না যুদ্ধ বিমান দিয়ে ইউক্রেনকে সাহাজ্য করা হলো। দিন তারিখ ফিক্সড করে দুনিয়ার সব রিকুয়েষ্ট অগ্রাহ্য করে আফগানিস্থান এটাক করা যায়, ইরাকে বোমার পর বোমা ফেলা যায় অথচ আধুনিক কিছু মিজাইল আর ভাড়াটিয়া এক্সপার্ট দিয়া ইউক্রেনকে সাপোর্ট দিয়ে রাশিয়ার ভিতরে কিংবা রাশিয়ার ইন্টারেষ্টেড স্থানে এটাক করা গেল না। যুদ্ধ যুদ্ধই। করতে পারতো। কিন্তু করা হয় নাই। জেলেনেস্কী বারবার আশাহত হয়েছে। তার ভাবনার সাথে সত্যিটা মিলছিলো না, এখনো মিলছে না। জেলেনেস্কীর জন্য- কি ভেবেছি আর কি হইলো?  এটাই প্যারাডাইম শিফট।

(৭)        আমি একটা লেখায় লিখেছিলাম যে, তেল গ্যাসের উপর ইউরোপিয়ানরা নিষেধাজ্ঞা দিলো বটে অথচ সেই নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইউক্রেন তো ইচ্ছে করলে ১ম দিন থেকে তাদের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গ্যাস বা তেলের পাইপ নিজেরাই বন্ধ করে দিতে পারতো। কিন্তু সেটা কিন্তু করে নাই। না ইউক্রেন করেছে, না ইউরোপিয়ানরা ইউক্রেনকে করতে বলেছে। ইউরোপিয়ানরা সেটা বন্ধ করতে বলে নাই কারন সেটা তাদের দরকার। নিষেধাজ্ঞা থাকবে কিন্তু তারা সেটা নিবেন। তাহলে নিষেধাজ্ঞা কিসের? প্রেসিডেন্ট কি এতো বোকা যে সে তার দেশের উপর দিয়ে যাওয়া পাইপ লাইন বন্ধ করতে পারতো না? তাঁকে আসলে সেটা করতে দেয়া হয় নাই। যুদ্ধের প্রায় ৫৬ দিন পর ইউক্রেন নিজের থেকে তাদের ডোনেস্ক এর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাইপ লাইন বন্ধ করেছে। তাও আবার কাউকে না বলেই। অনেকটা জিদ্দে। কেউ কি মনে করেন তাতে ইউরোপিয়ানরা জেলেনেস্কীর উপরে খুব খুশী হয়েছে? একেবারেই নয়।

(৮) তাহলে জেলেনেস্কী এটা করলো কেনো? সে না প্রকাশ্যে বলতে পারছে অনেক গোপন কথা, না সে স্বাধীনভাবে নিতে পারছে নিজের সিদ্ধান্ত। ফলে সে একটা জিনিষ খুব ভালো করে বুঝে গেছে যে, যুদ্ধ যতোদিন বেশী চলবে, এই যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিজের দেশের জন্য তার কি করার ছিলো এটা যুদ্ধ শেষে তর্জমা হবেই। আর তখন বেরিয়ে আসবে কেনো সে বা তার কেবিনেট একক সিদ্ধান্ত নিতে পারে নাই, অন্তত সেই সব সাধারন নাগরিকদের জীবনের কথা চিন্তা করে যে, অনেক আগেই একটা আপোষের মাধ্যমে দেশটাকে পুরুপুরী ধংশের হাত থেকে বাচানো যেতো। তাই মাঝে মাঝে দেখা যায়, জেলেনেস্কী ইচ্ছামত জাতী সংঘকে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে তাদের অপারগতার কথা বর্ননা করে গালাগালীও করছে। এটাই আসলে প্যারাডাইম শিফট। কিন্তু তার এই প্যারাডিম শিফট আসতে সময় লেগেছে প্রায় দুই মাসের বেশী যে, সে যা ভেবেছিলো, আসলে সেটা সত্যি ছিলো না।  

এখন যেটা সুইডেন আর ফিনল্যান্ড ভাবছে, যে, তারা ন্যাটোতে জয়েন করলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। তাদেরকে কেউ আঘাত করলে ন্যাটো ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের সব অস্ত্রপাতী নিয়া সুইডেন আর ফিন ল্যান্ডের জন্য ঝাপাইয়া পড়বে ইত্যাদি কিন্তু যেদিন ওরা দেখবে যে, আইনের মার প্যাচে, আর্টিকেল ৫, আর আর্টিক্যাল ১০ এর দোহাই দিয়ে ন্যাটো বলবে, এই আর্টিক্যাল গুলির বাধ্যবাধকতায় তো তারা বাধা, কিভাবে এটম বোম্ব দিয়ে রাশিয়াকে ঘায়েল করবে? তার থেকে নাও ১০০ বিলিয়ন ডলার লোন, কিংবা এই নাও সফিশটিকেটেড রাশিয়ার এন্টি ট্যাংক মিজাইল, মারো রাশিয়াকে, আমরা পাশের দেশে আমাদের আধুনিক যত্রপাতি লইয়া কসরত করিতেছি যেনো রাশিয়া ভয় পায়, কিন্তু রাশিয়া যেহেতু অস্তিত্ব সংকটে আছে, ফলে Do or Die ফর্মুলায় এই দুইদেশকে ক্রমাগত অনেকভাবে বিরক্ত করতেই থাকবে। তখন এই দুইটা দেশের মনে হবে, নাহ নিউট্রাল থাকাই সবচেয়ে ভালো ছিলো। ন্যাটোতে যোগ দেয়া ঠিক হয় নাই। মাঝখান দিয়ে একটা ডেস্পারেট রাশিয়ার রোষানলে নিজের সাজানো দেশটার শুধু ক্ষতিই করলাম।  সময় মতো ঐ সব প্রতিশ্রুতদেওয়া দলগুলি একই কাজ করবে যেটা তারা করেছে ইউক্রেনের জন্য। এটাই হবে সুইডেন আর ফিন ল্যান্দের জন্য প্যারাডাইম শিফট।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বা ন্যাটোর এই আন্তরীক আহবানে অভিভুত হয়ে তাদের নিজস্ব চিন্তাধারা থেকে এতোটাই দূরে সরে গিয়েছে যে, মনে হয়েছে ওরাই ঠিক। আর এই ডমিনো ইফেক্টই সুইডেন আর ফিনল্যান্ড এখন ন্যাটোতে যোগদানের করে একটা বিপদের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে।

রাশিয়া হয়তো এই মুহুর্তে সরাসরি তাদেরকে আক্রমন নাও করতে পারে কিন্তু পারষ্পরিক বাই লেটারাল সহযোগীতা, তেক গ্যাস, ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই, কমোডিটি, পোর্ট ফ্যাসিলিটি, ইত্যাদি তো নষ্ট হবেই, ২৬০০ কিলোমিটার কমন বর্ডার কখনোই শান্ত থাকবে না। 

১৪/০৫/২০২২-ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে জয়েনের আগ্রহ

গতকাল ১২ মে তে প্রেসিডেন্ট সুওলি নিনিতসু ন্যাটোতে যোগ দেয়ার কথা অফিশিয়ালী জানিয়েছেন। তাতে রাশিয়া ফিনল্যান্ডের উপর খুবই নাখোস।  এই দুটু বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমার নিজস্ব কিছু বিশ্লেষনঃ

যে কোনো সাধীন দেশ তার নিজের দেশের সার্থের কারনে যে কোনো আন্তর্জাতিক জোট করতেই পারেন। এটা সে দেশের ইখতিয়ার। সেই দিক দিয়ে আমি বল্বো, ফিনল্যান্ডের সিদ্ধান্ত শতভাগ সঠিক। সুইডেনের ব্যাপারেও তাই।

অন্যদিকে আসি, ন্যাটোতে কেনো যেতে হবে তাহলে? কারন ন্যাটো ইউরোপকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য প্রতিশ্রুতবদ্ধ। এটাই সবার জানা। কিন্তু ন্যাটো যখন গঠিত হয় সেটা আসলে শুধু ইউরোপকে সুরক্ষিত দেয়ার জন্য হয়েছে এটা বললে একটু ভুল হবে, এটা আসলে চিরাচরিত সর্বদা রাশিয়াকে যেভাবেই হোক সাইজ করার জন্য। আর এই সত্যটা রাশিয়া জানে। তারমানে এই দাঁড়ায় যে, ন্যাটো এবং রাশিয়া আজীবন একটা বৈরী সম্পর্কের নাম।

রাশিয়া ১৯৯০ সালের পর থেকে ধরা যায় একটা আত্তগোপনেই নিজের মধ্যে নিজেরা আছে। আশেপাশের কাউকে খুব একটা ডিস্টার্বড করছিলো না। তারপরেও বিভিন্ন পলিটিক্যাল কর্মকান্ডে যে নাই সেটা নয়, যেমন সিরিয়ার আসাদের সাথে তার একচ্ছত্র ফ্রেন্ডশীপে সিরিয়া বিধ্বস্ত, মায়ানমারের সইরাশাসকদের সাথে আতাত করে রোহিংগাদের বিতাড়ন এসব। ক্রিমিয়ার ব্যাপারটা আলাদা। এসব বিগপাওয়ারগুলি সবসময় একটা এজেন্ডা নিয়েই থাকে, আর তাতে বেশ অনেক জাতী, অনেক দেশ আজীবন ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই নিপিড়িত হতে থাকে। যেমন আমেরিকা করেছে ইরাক, প্যালেস্টাইন, ইরান, কিউবা, আফগানিস্তান, লিবিয়া এমন আরো অসংখ্য দেশে। এটাই ওদের কাজ। কেউ দুধে ধোয়া তুলসীপাতা নয়।

এখন ঝগড়াটা লেগেছে ইউক্রেনকে ঘিরে কিন্তু মারামারিটা করছে সেই রাশিয়া আর পশ্চিমা তথা ন্যাটোজোটই। মাঝখান দিয়ে অতি সাধারন মানুষগুলি বাস্তহারা হচ্ছে, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখছে, বয়ষ্ক মানুষগুলির আয়ু সংক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। একটা দেশ লন্ডভন্ড হয়ে চিরতরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। কারোরই লাভ হচ্ছে না, লস হচ্ছে শুধু সেখানটায় যেখানে বোমা আর মিজাইল পড়ে ক্ষত হচ্ছে পুরু দেশ তাদের।

ফিনল্যান্ড এবার যেনো টার্গেট হতে যাচ্ছে রাশিয়ার। কিন্তু রাশিয়ার জন্য ব্যাপারটা অতো সহজ হবে না যতোটা সে ইউক্রেনে করতে পারছে। ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আর্টিলারী ইকুইপমেন্ট (রাশিয়া ব্যতিত) আছে ফিনল্যান্ডের। খুবই শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম আছে ফিনল্যান্ডের, ট্যাংকের দিক দিয়েও ফিনল্যান্ড অত্যান্ত শক্তিশালী এবং তাদের আছে অত্যাধুনিক Leo 2´s plus এন্টি ট্যাংক মিজাইলস যাদের মধ্যে আছে Swedish-U.K. NLAW, the U.S. made TOW, Israeli made SPIKE-missile  ইত্যাদি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অতি পরিকল্পনা মাফিক এবং মনোযোগের সহিত ফিনল্যান্ড তাদের ডিফেন্স সিস্টমকে এমনভাবে গড়ে তুলেছেন যে, প্রায় ৮ লক্ষ নাগরীক রিজার্ভ ফোর্সে আছে, দেশের প্রায় ৮০% স্থলভাগ ফরেস্ট অধ্যুষিত এলাকা এবং রাস্তাগুলি এমনভাবে বানানো যা সব ডিফেন্স ফোর্সের পরিকল্পনা মাফিক। ইউক্রেন যুদ্ধে ফিনল্যান্ড সুইডেনের মতো এ রকম প্রকাশ্যে কোনো কিছুই করে নাই অথচ করেছে। তুরষ্কের পরে ফিনল্যান্ডের আছে দ্বিতীয় বৃহত্তম ল্যান্ডফোর্স। প্রকৃত কথা হচ্ছে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফিনল্যান্ড তাদের ডিফেন্স সিস্টমকে একেবারে পরিকল্পনা মাফিক সাজিয়ে গেছে। এ কথাটা প্রকৃত আভাষ পাওয়া যায়, তাদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট  সুওলি নিনিতসু গত ১২ মার্চ ২০২২ তারিখে রাশিয়ার আগ্রসন এবং ফিনল্যান্ডের অবস্থানের উপর রিপোর্টার আমানপোরের এক প্রশ্নের উত্তরে-আমানপোর প্রশ্ন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট সিওলি নিনিতসুকে, Are you scared? উত্তরে প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, We are not scare but we are awake.

এখানে একটা কথা বলা দরকার যে, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আর রাশিয়ার পুতিনের সম্পর্কটা কি রকম। দুটুই খুব ডিপ্লোমেটিক চরিত্রের। খুব কম কথা বলে। ওদের একটা বাক্যে অনেক কিছু প্রকাশ করার মতো ক্ষমতা থাকে।

Finland’s President Sauli Niinistö has known Putin for a decade and often acts as a de facto interpreter, explaining the Russian president's thinking to Western allies – and vice versa. Niinistö is among a handful of world leaders who continue to contact the Russian president, trying to put a stop to the war.

ফিনল্যান্ড এ যাবতকাল রাশিয়ার প্রতিবেশী হিসাবে ভালোই ছিলো এবং রাশিয়াও ফিনল্যান্ডকে নিয়ে কোনো দুসচিন্তায় ছিলো না। ইউক্রেন যুদ্ধ ফিনল্যান্ডকে ভাবিয়ে তুলেছে, অন্যদিকে ঘোলা পানিতে মাছ ধরার মতো একটা পরিস্থিকে কাজে লাগিয়ে ন্যাটো এবার ফি ল্যান্ডের কান ভারী করে তাদেরকেও ন্যাটোর সদস্য করতে উঠে পড়ে লেগেছে কারন ফিনল্যান্ড ও রাশিয়ার সাথে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার কমন বর্ডার নিয়ে আছে। আর ন্যাটোত চাচ্ছেই রাশিয়ার দোরগোড়ায় পৌঁছে যাক যাতে রাশিয়া নড়াচড়া করতে না পারে।

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সিওলি নিনিতসুর সাথে একবার পুতিনের আন্তরীকভাবে কথা হয়েছিলো (ওরা আসলে একসাথে অনেক বছর ধরে ঘোড়া দৌড় খেলতো, ওরা দুজনেই ভালো স্পোর্টসম্যান) এই ন্যাটো সংক্রান্ত ব্যাপারে। প্রেসিডেন্ট সিউলি নিনিতসু জিজ্ঞেস করেছিলো, যদি তারা ন্যাটোতে যোগ দেয়, তাহলে পুতিনের জবাব কি? পুতিন বলেছিলো যে, এখন আমরা ফিনল্যান্ডের প্রতিটি বর্ডার গার্ডকে বন্ধু মনে করি, কিন্তু তোমরা যদি ন্যাটোতে যোগ দাও, তাহলে তাদেরকে আর আমরা বন্ধুর চোখে দেখবো না।

এই বক্তব্যগুলি মারাত্তক। কারন, পুতিন খুব ডেস্পারেট চরিত্রের মানুষ। সে মনে করে ইউরোপ, পশ্চিমারা রাশিয়াকে অনেক অনেক ক্ষতি করেছে এবং এখনো তারা তার ক্ষতিই চায়। সে এটাও মনে করে যে, রাশিয়া যদি ক্ষতিগ্রস্থ হতে হতে নিঃশেষই হয়ে যায়, তাহলে অন্যদের আর বাচিয়ে রেখে লাভ কি? এটা একটা ভয়ংকর ধারনা। সুইসাইডাল মানুষের কাছে প্রিথিবীর কোনো কিছুই দামী নয়।

ফিনল্যান্ড হয়তো ভীতু নয়, কিন্তু রাশিয়া যেহেতু তার অস্তিত্ব সংকটে ভোগছে ফলে মরন কামড় দিতে তার কোনো ভয় নাই। আর এই কারনে ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনের আরো সময় নেয়া উচিত ন্যাটোর আতিশয়তায় কিংবা উচ্ছসিত অভিনন্দনে এই মুহুর্তে পা না দেয়া বা ন্যাটোতে যোগ না দেয়া। তাতে রাশিয়ার কি হবে সেটা তো সে আগেই ভেবে নিয়েছে, অস্তিত্ব সংকট, ফলে যা হবে সেটা হলো রাশিয়া ফিনল্যান্ডকে আঘাত করবেই। ফলাফল কি হবে সেটা যাই হোক। এতে ন্যাটোর হয়তো কিছুই হবে না, মাঝখান দিয়ে সাজানো একটা দেশ যুদ্ধের কবলে পড়ে শান্তি নষ্ট হবে আর সাধারন মানুষ বিপাকে পড়বে। ন্যাটোর সদস্যপদ পাইতেও ফিনল্যান্ডের হয়তো আরো বছরের উপর লেগে যাবে যদি সবদেশ তাদের পার্লামেন্টে এটা পাশ করে। তানা হলে হয়তো আরো অধিক সময় পার হবে। সেই অবধি ন্যাটোর পক্ষে ফিনল্যান্ড এর জন্য কিছুই করার ইখতিয়ার নাই। ফিনল্যান্ডকে একাই ফেস করতে হবে রাশিয়াকে। ইউক্রেনও ভীতু ছিলো না, তারাও Awaken ছিলো, কিন্তু পরিশেষে কি দেখা গেলো? সারাটা দেশ এখন ধুলিস্যাত।

FINLAND IS ONE OF THE BEST COUNTRIES IN THE WORLD, WANTING ONLY PEACE, AND HAS AND NEVER WILL START ANY WAR.

13/5/2022-সম্ভাবনা

প্রতিনিয়ত কারেন্সীর মান কমে গেলে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকিং সেক্টরে সুদের হার বাড়ানো ছাড়া অনেক দেশের আর কোনো ইমিডিয়েট বিকল্প থাকে না। সেই প্রেক্ষাপট থেকে বলছি- হয়তো আমাদের দেশের ব্যাংকিং সেক্টরেও এটা ঘটতে পারে।

অন্যদিকে গত কয়েকদিন আগে দেখলাম আমাদের দেশে গোল্ডের দাম কমেছে। গোল্ড যেহেতু কারেন্সীর ভ্যালু নির্নায়ক, ফলে ডলারের দাম বাড়ার সাথে গোল্ডের দাম কমার কোনো যুক্তি খুজে পাইনি। হতে পারে এটা ইনফ্লেশন থামানোর একটা সাময়িক কৌশল।

৩য় মহাযুদ্ধটা আসলে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। সেটা ইকোনোমিক্যাল ওয়ার। কোনো অস্ত্র ছাড়া দেশে দেশে এই গন্ডোগোল পাকাবে, আর এর সুযোগে একটা বিশাল পোলারাইজেশনের সৃষ্টি হবে।

ইউক্রেনের যুদ্ধটা এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। একটা সুপার পাওয়ার গত ২২ বছর হোম ওয়ার্ক করে প্রস্তুতি নিয়েছে, সংগী বাছাই করে বলয় তৈরী করেছে, আরেক পক্ষ হুট করে কোনো হোম ওয়ার্ক না করে যখন যা ইচ্ছে সেটাই প্রয়োগ করার চেষ্টা করছে। একটা অসম পরিকল্পনা মনে হচ্ছে।

একজন খুব ক্যালকুলেশন করে হম্বি তম্বি না করে কাজ করেই যাছে যেনো একটা সিনেমার দৃশ্য থেকে আরেকটা দৃশ্য সাজানো। অন্যজন এক গাদা সভা পরিষদ নিয়ে তাল মাতাল অবস্থা। বেশি ধরতে গিয়ে সব যেনো হাত থেকে সরে যাচ্ছে।

একটা প্রবাদ পড়েছিলাম A bird in hand is more worthy than that of two in the bush.

আল্লাহ আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দিন।

12/05/2022-আমার এখন কেবলই মনে হচ্ছে যে,

(১) খুব দ্রুত রাশিয়া ইউক্রেনে তাদের স্পেশাল অভিযান আপাতত স্থগিত করবে কারন রাশিয়ার উদ্দেশ্য যা ছিল তার প্রায় বেশিরভাগ সম্পন্ন। স্পেশাল অপারেশন বন্ধ করলে রাশিয়ার লাভ দুটু। এক. আমেরিকা বা অন্য দেশ ইউক্রেনে আর যুদ্ধাস্ত্র পাঠানোর ব্যবসাটা করতে পারবে না। দুই. ওদিকে সে ইউক্রেন ছেড়েও দেবে না। জাষ্ট পাহাড়াদারের মত অবস্থান। তার শক্তিও ক্ষয় হবে না।

(২) অন্যদিকে চীন তৈরী হচ্ছে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে তাইওয়ানের স্ট্যাটাস এবং ইন্দোপ্যাসিফিক কন্ট্রোল নিয়ে। কথাবার্তা ঠিক মনে হচ্ছেনা।

(৩) দুইটা সুপার পাওয়ারের সাথে একই সংগে ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয় আমেরিকার।

(৪) আরব বসন্তের মতো এবার আবার পশ্চিমা বা ইউরোপিয়ান বসন্তের বাতাস বইতে শুরু না করে। কারন জার্মানি, ইউকে, আমেরিকায় ইনফ্লেশনে সাধারন জনগন ধীরে ধীরে ক্ষিপ হচ্ছে।

(৪) কাতারের সাথে জার্মানের তেল বিষয়ক কথাবার্তা বিফল হচ্ছে। বিকল্প তেল না পেয়ে জার্মানি বোকার মত রাশিয়ার তেল গ্যাস পুরুপুরি বর্জনের কথা আগাম বলে দিয়েছে যা আপাতত মনে হচ্ছে ভুল হয়েছে।

(৫) ইউক্রেন নিজের থেকে ইউক্রেনের ট্রাঞ্জিট দিয়ে তেল গ্যাস বন্ধ করায় জার্মানি, ইউক্রেন, স্লোভাকিয়া, পোল্যান্ডে এখন ওয়ান থার্ড সরবরাহ বন্ধ। ফলে ইউরোপের ইউনিটিতে একটা ফাটল দেখা যাচ্ছে।

(৫) গতকাল দেখলাম চীন খুব স্পষ্ট ভাষায় আমেরিকাকে হুশিয়ারী দিয়েছে এভাবেঃ আমেরিকা উইল বি হার্ট ইফ দে ইন্টারফেয়ার এবাউট তাইওয়ান স্ট্যাটাস এন্ড ইন্দোপ্যাসিফিক ইস্যু। কথাটা ছিলোঃ হার্ট। বিপদজনক ঠান্ডা কিন্তু কঠিন শব্দ।

(৬) চীন তার ডলার রিজার্ভের ব্যাপারে নিরাপদ রাখার সিস্টেম উদ্ভাবন করছে in case sanctioned. কথা হচ্ছে- চীন নিষেধাজ্ঞার কথা মাথায় নিচ্ছে কেনো? সামথিং রঙ।

(7) চীনের সরকারী সব অফিস আদালতে চাইনিজ মেইড কম্পিউটার রিপ্লেস করছে। চীনের ব্যাংকিং সেক্টর সুইফটকে বাইপাশ করে কিভাবে ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশন চালু রাখা যায় সেটা ইতিমধ্যে চালু করেছে।

এই রকম অনেক হোমওয়ার্ক চীন করে যাচ্ছে, যার আলামত আসলেই বিপদজনক।

পচা শামুকে কার কার যে পা কাটে বা কাটবে, একমাত্র সময় বলতে পারে।

04/05/2022-মার্কিন ডিফেন্স মিনিষ্টার লয়েড অষ্টিন এর বক্তব্যের

মার্কিন ডিফেন্স মিনিষ্টার লয়েড অষ্টিন  এর বক্তব্যের বিপরীতে ছোট একটা বিস্লেষন

গত সপ্তাহে মার্কিন ডিফেন্স মিনিষ্টার লয়েড অষ্টিন কিয়েভে গিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কীর সাথে দেখা করতে। বিশালদেহী মানুষ। তিনি সেখানে একটা কথা মনের অজান্তেই প্রেস ব্রিফিং এ হুট করে বলে ফেলেন। আর সেটা হলো- “Our focus in the meeting was to talk about those things that would enable us to win the current fight and also build for tomorrow.” Furthermore, Austin admitted for the first time that the US is a fighter in the war by using the first-person plural to describe both the US and Ukraine engaged in a “battle” against Russia. “We want to see Russia degraded to the point where it can’t do the types of things it did in invading Ukraine,” Austin continued.

এই বক্তব্যের মাধ্যমে অষ্টিন সরাসরি স্বীকার করে নিলেন যে, আমেরিকা ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি অংশ। কিন্তু লয়েড অষ্টিনের কথার সাথে জো বাইডেন প্রশাসনের উম্মুক্ত ডিক্লেরেশনের মিল নাই। জো বাইডেন প্রশাসন সবসময় যেটা বলে আসছে যে, ন্যাটো দেশের সাথে যে কোনো কনফ্রন্টেশন মানে ৩য় বিশ্ব যুদ্ধ। সেটা কিছুতেই আমেরিকা চায় না। কিন্তু লয়েডের বক্তব্যে সেটা নাই, লয়েড যেটা বলেছে সেটা আসলেই পর্দার ভিতরের কথা, আর তার মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। এই মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া বক্তব্যে আমেরিকার কি কি ক্ষতি হতে সেটা ভাবার ব্যাপার।

(১)        জো বাইডেন প্রশাসনে অনেকেই আছেন যারা চায় যে, আমেরিকা যুদ্ধে নামুক। কিন্তু ফেডারিয়ালিষ্ট সিনিয়ার এডিটর জন ডেনিয়েল ডেভিশসন বলেন যে, যদিও রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে ব্যাটল ফিল্ড হিসাবে ব্যবহার করে আমেরিকা যুদ্ধে যেতেই পারে কিন্তু আমেরিকার সাধারন জনগনের এই যুদ্ধে কোনো ম্যান্ডেট নাই বিধায় আমেরিকার যুদ্ধে যাওয়া ঠিক হবে না এবং এই যুদ্ধে আমেরিকা প্রক্সি ওয়ার হিসাবে অংশ গ্রহন করছে এটাও প্রকাশ করা যাবে না।

(২) যদি রাশিয়াকে প্রকাশ্যে আমেরিকা এইমর্মে ইংগিত দেয় যে, আসলেই তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে আছে (যদিও রাশিয়া এটা জানে কিন্তু অফিশিয়লি নয়) তাহলে রাশিয়া আমেরিকার যে কোনো সৈনিক তথা জনগনকে রাশিয়ার শত্রু মনে করে টার্গেট করবেই।

(৩)       A second possibility is that if Putin sees his conventional military forces being suffocated, he will resort to further cyber attacks on Western infrastructure, chemical weapons, or his tactical, “battlefield” nuclear weapons arsenal. It’s a prospect that was unthinkable eight weeks ago but is now routinely discussed and this will put more Americans in danger.

লয়েড অষ্টিনের এই মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া বক্তব্য ইতিমধ্যে রাশিয়ার মাথায় ঢোকে যাওয়া আমেরিকার প্রক্সী ওয়ারকে আরো বেশী বেগবান করে তুলতে পারে। To date, there has been no American bloodshed in the thick of the war in Ukraine. However, Russia may not hesitate to do so now.

তাই এই লেবেলের মানুষদের কথা বলার সময় শব্দচয়ন, ডিপ্লোমেসি, এবং কি বলা দরকার সেটা সর্বদা মাথায় রেখে বলা উচিত। তা না হলে যে কোনো সময়ে বড় ধরনের কিছু আশংকাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

06/05/2022-ইউক্রেন যুদ্ধের পটভুমি

১৮ শতাব্দীর শেষের দিকে জন্ম আজকের ইউক্রেনের। ইতিহাসের শেষের অধ্যায়ে এসে ইউক্রেন পোল্যান্ড এর গন্ডি থেকে বেরিয়ে যায় এবং তখন ইউক্রেন অষ্ট্রিয়া-রাশিয়ার মাঝামাঝিতে বর্দার করে অবস্থান নেয়। রাশিয়ার কাছাকাছি অংশটি প্রধানত রাশিয়ান ভাষাতেই বেশী অভ্যস্থ যদিও তারা ইউক্রেনেরই নাগরীক।

(ছোট নোটঃ After the Union of Lublin in 1569 and the formation of the Polish–Lithuanian Commonwealth, Ukraine fell under the Polish administration, becoming part of the Crown of the Kingdom of Poland)

ইউক্রেনের প্রাগৈতিহাসিক কাহিনীতে না যেয়ে আমি ১৯৯১ সাল থেকে ইউক্রেনের বিষয়টি যদি বিশ্লেষন করি দেখা যাবে- বার্লিন পতনের ২ বছর পর ১৯৯১ সালে যখন ইউক্রেন স্বাধীনতা পেলো, ঠিক তখন থেকেই ইউক্রেনের ভিতরে রাজনৈতিক এবং কূটনইতিক ঝামেলার শুরু। প্রাথমিকভাবে এটা ছিলো ইউরোপ এবং রাশিয়ার জিওকালচার এর বিভক্তির কারনে। কিন্তু  ২০০৪ সালের অরেঞ্জ রেভুলিউশন দিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। অরেঞ্জ রেভুলিউশন হলো- a series of protests and political events that took place in Ukraine from late November 2004 to January 2005, in the immediate aftermath of the run-off vote of the 2004 Ukrainian presidential election, which was claimed to be marred by massive corruption, voter intimidation and electoral fraud.

প্রেসিডেন্ট প্রার্থী Viktor Yushchenko এবং Viktor Yanukovych এর মধ্যে ভোট কারচুপির ঘটনায় এই অরেঞ্জ রেভুলিউশন। যদিও Viktor Yushchenko  জয়ী হন কিন্তু এটা দেশের জনগন মেনে না নেওয়ায় দেশের ভিতরেই উত্তপ্ত অবস্থা চলতে থাকে। অবশেষে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় এবং নিরপেক্ষ ভোট গননায় শেষমেষ ৫২% ভোটে জয় দেখিয়ে Viktor Yushchenko কেই প্রেসিডেন্ট হিসাবে আদেশ দেয়া হয় এবং অরেঞ্জ রেভুলিউশনের নিষ্পত্তি হয়।

এর মধ্যে অন্য অঞ্চলে একটা অঘটন ঘটে যায়। জর্জিয়া আগে থেকেই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে যোগ দেয়ার জন্যে উম্মুখ হয়েছিলো। এই সময়ে জর্জিয়ার মতাদর্শে যুক্ত হয় ক্রোয়েশিয়া এবং ইউক্রেন।  রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জর্জিয়া এবং ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্যপদ দিতে না করেন ন্যাটোকে। ফলে ন্যাটো শুধুমাত্র ক্রোয়েশিয়াকে সদস্যপদ দিয়ে জর্জিয়া এবং ইউক্রেনকে বাদ দেয় ঠিকই কিন্তু ইউক্রেনের বেলায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন একটা “association agreement” করে যার লক্ষ্য বলা হয় Implementation of the association agreement could mean major changes in Ukraine that would bring it closer to EU standards. রাশিয়া ইউরোপিয়ানের এবং ন্যাটোর এই উদারতাও পছন্দ করে নাই। আবার অন্যদিকে রাশিয়ার কারনে জর্জিয়া ন্যাটোতে যুক্ত হতে না পারায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে জর্জিয়া আন্দোলন শুরু করলে ২০০৮ সালে রাশিয়া জর্জিয়া আক্রমন করে এবং Abkhazia and South Ossetia কে জর্জিয়া থেকে আলাদা সার্ভোমত্ত স্ট্যাটাস প্রদান করে।

 

যাই হোক যেটা বলছিলাম, প্রেসিডেন্ট Viktor Yushchenko  এর আমলটা তার ভালো কাটে নাই এবং তিনি জর্জিয়ার বিরুদ্ধে রাশিয়ার এই আক্রমনে জর্জিয়ার পক্ষ নেয় যার ফলে ইউক্রেনের সাথে রাশিয়ার একটা শত্রুতামুলক সম্পর্ক তৈরী হয়। অবশেষে ২০১০ সালে তিনি ভোটে হেরে যান

এবং Viktor Yanukovych (যিনি ২০০৪ সালে হেরে গিয়েছিলেন, তিনি) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কিন্তু তার ক্ষমতায়নের সময়ে তিনিও বিরোধি দলের দাপটে দেশ পরিচালনায় ভালো করতে পারেন নাই ফলে সারা দেশ জুড়ে ‘মাইডান স্বাধীনতা চত্তরে” বিশাল গনঅভ্যুথানে ২০১০ সালে (ক্ষমতার ৪ বছর পর) ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হন। একেই মাইডান বেভুলিউশন নামে পরিচিত। মাইডান রেভুলিউশনের মাধ্যমে ইউক্রেনিয়ানরা চেয়েছিলো যে, “association agreement”  যা কিনা এক অর্থে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে একাত্ততা বা সদস্যপদ লাভে একটা দরজা খোলা রাখা সেটা ঘোষনা করা আর সাক্ষরিত হওয়া। Viktor Yanukovych  ছিল প্রো-রাশিয়ান। তিনি সেটা করতে অস্বীকার করেন। এই সময়ের বিরোধী পার্টির নেত্রী মহিলা Tymoshenko ছিলেন রাশিয়া বিরোধি কিন্তু ইউরোপিয়ান পক্ষীয় মতাদর্শের।  ক্রমাগত তার দাবী এবং আন্ডলন চলতে থাকলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ইউনোকোভিচ ২০১১ সালে তাঁকে এরেষ্ট করেন এবং ৭ বছরের জেল দেন। এসব জটিল রাজনৈতিক টালমাতাল অবস্থায় শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট Viktor Yanukovych  রাশিয়ায় পালিয়ে যান এবং প্রোসেংকু নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ গ্রহন করেন।

প্রেসিডেন্ট প্রোসেংকো ছিলেন প্রো-ওয়েষ্টার্ন। তিনি প্রেসিডেন্ট হবার পরে সর্বাত্তক চেষ্টা করেন যাতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে যোগ দেয়া যায়। এখানে বলা বাহুল্য যে, প্রেসিডেন্ট প্রোসেংকোকে ব্যবহার করে আমেরিকা এবং ইউরোপ বেশ কিছু কাজ করে ফেলেন। তদানিতন ওবামা প্রশাসন ২০১৪ সালে ওয়েষ্টার্ন লিড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কার্যাদি দেখভালের জন্য তদানিন্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে প্রধান করে ওবামা প্রশাসন ইউক্রেনের দায়িত্ত দেন। এই কার্যাদির মধ্যে যেতা ছিলো তা হচ্ছে- ডনবাস, ডনেস্ককে এই দুই অঞ্চলকে রাশিয়ার মতাদর্শ থেকে উতখাত করা। কারন ইউক্রেন সর্বদা এদেরকে প্রো-রাশিয়ান ভাবতো, এখনো ভাবে। ফলে এদের উপর চলে সর্বাত্তক হামলা, আক্রমন, এবং সামরীক অভিযান। ওদেরকে এক প্রকার রাজাকারের মতো ট্রিট করা হতো এবং এই দুই অঞ্চলের মানুষ তথা রাশিয়ান স্পিকিং ইউক্রেনিয়ানদেরকে নির্দিধায় খুন, বাস্তুহারা এবং শারীরিক টর্চারে নিমজ্জিত করতে শুরু করে। শুরু হয় জটিল সমীকরন। উপায়ন্তর না দেখে রাশিয়া এই দুই অঞ্চলকে সাহাজ্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ২০১৪ সালে মালিয়েশিয়ান যাত্রীবাহী প্লেন ২৯৮ জন যাত্রীসহ ইউক্রেনে মিজাইল ফায়ারে নিপতিত হলে উক্ত দোষ রাশিয়ার উপর চাপিয়ে দেয় যদিও রাশিয়া সেটা প্রত্যাখ্যান করে। একদিকে রাশিয়ার সাপোর্টে ডনবাস, ডোনেস্ক অস্ত্র তুলে নেয় অন্যদিকে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট প্রোসেঙ্কোর নেত্রিত্তে ডনবাস এবং ডোনেস্ক এবং ক্রিমিয়ার মানুষগুলিকে সরকারী সামরীক বাহিনী, অস্ত্র এবং সৈনিক দিয়ে উতখাত করার সর্বাত্তক চেষ্টা করে। অবশেষে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে নেয়।

 

রাশিয়ার এহেনো তীব্র সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট প্রোসেঙ্কো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে মিনস্কে এক বৈঠকে মিলিত হন যেখানে ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট President Francois Hollande এবং German Chancellor Angela Merkel এর উপস্থিতি ছিলো। উক্ত বৈঠকে ১৩টি শর্ত সাপেক্ষে যুদ্ধ বিরতি কিংবা অবসানের ঘোষনা দেন উভয় পক্ষ। আর সেটাই হলো মিনস্ক চুক্তি। লক্ষ্য ছিলো- end the war, an immediate cease-fire and the withdrawal of all heavy weaponry in order to create a “security zone.”

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, উক্ত মিনস্ক চুক্তি ইউক্রেন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নিয়ে উলটা আমেরিকার দ্বারস্থ হয়। তখন তদানিতন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনে লিথ্যাল অস্ত্র সরবরাহ বিক্রির অনুমোদন দেয় যা ওবামা প্রশাসন করতে না করেছিলো। আর একাজে ট্রাম তার ডিফেন্স এডভাইজার কার্ট ভলগারকে দায়িত্ত দেন। ব্যাপারটা এখানেই শেষ ছিলো না। বরং আমেরিকা Ukraine Security Assistance Initiative এর নামে প্রচুর পরিমান সামরীক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষে আর্থিক সাহাজ্য দেয়ার জন্য কংগ্রেসে অনুমোদন পাশ করিয়ে দেয়। এর মাধ্যমে রাশিয়া আমেরিকাকে এই অঞ্চলে একটা প্রক্সি ওয়ারের সামিল হওয়া হিসাবে গন্য করছিলো। Russia accuses the United States of encouraging the break in order to weaken Moscow, and a Kremlin spokesperson reissues a promise to defend “the interests of Russians and Russian-speakers.”

২০১৯ সালে ভ্লডিমির জেলেনেস্কী প্রায় ৭০% শতাংশ ভোটে প্রেসিডেন্ট প্রোসেংকোকে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়। জেনেস্কীর পার্টি পার্লামেন্টেও মেজরিটি পায়। তার ইলেকশন মেনিফেষ্টু ছিলো-(ক) দূর্নীতি এবং দারিদ্রতা দূরীকরন (খ) পুর্ব ইউক্রেনের যুদ্ধকে দমন করা।

জেনেস্কী প্রেসিডেন্ট হয়েই তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেন এবং এক টেলিফোন বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেলেনেস্কীকে এক প্রকার উষ্কানীই দিয়েছেন বলে জানা যায় যাতে ইউক্রেন অতি সত্তর রাশিয়ার বিরুদ্ধে এবং আমেরিকার নেত্রিত্তে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে তথা ন্যাটোতে যোগদানের পথ তরান্নিত করে।

(https://edition.cnn.com/2019/09/25/politics/donald-trump-ukraine-transcript-call/index.html)

যাই হোক, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কিংবা অন্য কারো ফেক ভরসায় প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কী গত ২০২০ এর জুনে ইউক্রেন NATO Enhanced Opportunities Partner তে নাম লিখায়। যেখানে অষ্ট্রেলিয়া, জর্জিয়া, ফিনল্যান্ড, জর্দান, এবং সুইডেনও ন্যাটোর যুগ্ম মিশন এবং সামরীক মহড়ায় অংশ নিতে অংগীকার বদ্ধ হয়। একই বছর সেপ্টেম্বরে জেলেনেস্কী তার পার্লামেন্টে ন্যাটোতে যোগ দেয়ার দৃঢ় অংগীকার হয়ে National Security Strategy অনুমোদন করে যার অর্থ ছিলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ইউক্রেন ন্যাটোতে এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে যোগ। উক্ত আইন পাশ করার পরে জেলেনেস্কী ফেব্রুয়ারী ২০২১ সালে অনেকগুলি কাজ করে ফেলেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-(ক) ইউক্রেনের রাশিয়াপন্থী অলিগার্দের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন বিশেষ করে অইলিগার্গ ভিক্টোর মেদ্ভেদচুক যিনি ইউক্রেনের বৃহৎ প্রো-রাশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টির চেয়ারম্যান (খ)  ইউক্রেনের সরকার মেদ্ভেদচুকের সমস্ত আর্থিক এসেট কব্জা করেন (খ) রাশিয়ার সমস্ত টিভি চ্যানেল ইউক্রেনে সম্প্রচার বন্ধ করেন (গ) জাতীয় স্লোগান- ইউক্রেন শুধু ইউক্রেনিয়ানদের জন্য, আর বাকী সব অবৈধ।

রাশিয়া ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছিলো যে, এখানে শুধু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কীই জড়িত নয়, তারসাথে আমেরিকা এবং ইউরোপ সামিল। তাই ভ্লাদিমির পুতিন ডিসেম্বর ২০২১ থেকে জানুয়ারী ২০২২ পর্যন্ত তার দখলে থাকা ক্রেমিয়ায় অজস্র সামরীক যন্ত্রাদি এবং সৈন্য মোতায়েন শুরু করে। তবে একই সাথে পুতিন আমেরিকা এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে এইমর্মে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিতে বলেন। সেখানে পুতিন Set of Security Gurantees নামে একটা কন্সেপ্ট পেপারও দাখিল করেন-This includes a draft treaty calling for tight restrictions on U.S. and NATO political and military activities, notably a ban on NATO expansion. The Biden administration delivers written responses in January; few details are made public, but it rejects Russia’s insistence that Ukraine never be accepted into NATO and proposes new parameters for security in the region.

রাশিয়ার এজেন্ডাকে ন্যাটো বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কোনো প্রকার গুরুত্ত না দিয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ এ  Germany announces the suspension of the Nord Stream 2 pipeline, while the United States, EU, and UK pledge additional financial sanctions against Russian entities. রাশিয়া ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২ তারিখে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালায়।

05/05/2022-কে জিতছে এই যুদ্ধে?

একটা যুদ্ধ হচ্ছে রাশিয়া আর ইউক্রেনের মধ্যে যেনো এটা একটা ঘরোয়া ব্যাপারের মতো যদিও রাশিয়া তার পার্শবর্তী সাধীন দেশ ইউক্রেনকে আক্রমন কোনোভাবেই গ্রহনযোগ্য হতে পারেনা। তারপরেও এটা বাস্তবে ঘটেছে। এখন এই যুদ্ধের বা অপারেশনের বিশ্লেষনে যদি যাই আমরা কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর এখনো জানি না বলেই মনে হচ্ছে।

এই যুদ্ধে কার কি ইন্টারেষ্ট, যদি সেটা জানা যায়, তাহলে হয়তো ব্যাপারটা আচ করা সম্ভব। একটা জিনিষ খেয়াল করেছেন সবাই যে, আমরা যারা আমজনতা, যাদের পোট্রেইট মিডিয়া ছাড়া অন্য কোনো মিডিয়ায় এক্সেস নাই বা যেতে চাই না। আর সোস্যাল মিডিয়া হচ্ছে সবচেয়ে অনির্ভরশীল একটা প্রোপাগান্ডার মাধ্যম। পোট্রেইট মিডিয়াগুলিতে প্রতিনিয়ত এটা দেখছি যে, পশ্চিমা মিডিয়াগুলি

(ক) অনবরত ইউক্রেন জিতে যাচ্ছে, ইউক্রেন জিতবেই এ ধরনের খবর দিচ্ছে। এই খবরগুলির পিছনে কতটা গ্রাউন্ড তথ্য নিয়ে বিশ্লেষন করা তা কিছু কেউ জানাচ্ছে না।

(খ) কোনো পশ্চিমা দেশ বা ইইউ কিন্তু এই যুদ্ধটাকে থামানোর জন্য এগিয়ে আসছে না।

(গ) বরং যে যেখান থেকে পারে, সব ইইউ দেশগুলি একযোগে টাকা পয়সা, অস্ত্র, ট্রেনিং এমনকি বিশেষ টেকনোলজি এবং প্রোপাগান্ডা দিয়ে ইউক্রেনকে সাহাজ্য করছে এবং পিস টকে কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেই না।

(ঘ) সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো- পশ্চিমা পক্ষসহ ইইউ আগ্রাসী রাশিয়ার কোনো কথাই শুনতে নারাজ বিধায় তাদের মিডিয়া পুরু দুনিয়া থেকে ব্লক, তাদের সাথে কোনো সেমিনারে বসলে ওয়াকআউট ইত্যাদিও করছে। অর্থাৎ আমাদেরকে যা শুনতে হবে তা শুধু একপক্ষ থেকে। তাহলে দুই পক্ষ না শুনে আমরা যারা আমজনতা তারা কিভাবে বিচার করবো কে কতটুকু দোষী বা দায়ী?

কার কি ইন্টারেষ্ট

এবার একটু এদিকে নজর দেই। যুদ্ধটা হচ্ছে ইউক্রেনে যে কিনা ইইউর সদস্যও নয়, আবার ন্যাটোরও না। অথচ ইইউ এবং ন্যাটো পুরু ইউক্রেন যুদ্ধটাকে যেনো নিজের যুদ্ধ মনে করে এগিয়ে নিচ্ছে। অথচ ইউক্রেনকে গত ১৪ বছর যাবত ইইউ এর সদস্যপদ বা ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত করার আশা দিয়েও ইইউ বা ন্যাটো তাঁকে কোনো সদস্যপদ দিতে নারাজ ছিলো। তাহলে হটাত করে সবাই ইউক্রেনের জন্য এতো উঠে পড়ে লাগলো কেনো? কার কি ইন্টারেষ্ট এখানে? যে পরিমান ডলার, আর অস্ত্র ইউক্রেনে এ যাবত দেয়া হয়েছে, কার কাছে যাচ্ছে, কে ইউজ করছে, কিভাবে সেগুলির কন্ট্রাক্ট কিছুই কিন্তু ফলোআপ হচ্ছে না। অথচ এই পরিমান অর্থ যদি যুদ্ধের আগে এই ইউক্রেনকে দেয়া হতো, তাহলে ইউক্রেন ধনী দেশসমুহের মধ্যে একটা হয়ে যেতো।

ইউকে

ইউকে খুব অল্প কিছুদিন আগেই ইইউ এর সদস্যপদ থেকে নিজের ইচ্ছায় বেরিয়ে গেছে কারন তার পোষাচ্ছিলো না। যে বাজেট দিয়ে তাঁকে ইইউ তে থাকতে হয় আর কমন এজেন্ডায় থাকার কারনে অন্য ২৭টি দেশ থেকে যেভাবে ফ্রি মাইগ্রেশন হয় ইউকে তে, তাতে তাদের লাভের থেকে ক্ষতি অনেক বেশী হয়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, সবচেয়ে বেশী লাভ হয় আসলে অন্যান্য দরিদ্র ইইউ এর দেশগুলির যাদের মেম্বারশীপ ফিও কম, আবার সদস্য থাকায় তাদের জন্য বরাদ্ধ বোনাস অনেক বেশী। তাই ইউকে এর নাগরিকগন ব্রেক্সিট এর মাধ্যমে এই ইইউ থেকে চিরতরে বেরিয়ে গেছে। কিন্তু ন্যাটো যেহেতু একটা কোঅর্ডিনেটেড ডিফেন্স সিস্টেম, তাই ইউরোপ তার নিজস্ব ডিফেন্স সিস্টেম গড়ে না তোলা পর্যন্ত ইউকে কে থাকতে হবে এমন শর্তেই ইইউ ইউকেকে সদস্যপদ খারিজ করার অনুমতি দিয়েছিলো। ফলে, ইউকে এর আধিপত্যতা ইইউ দেশসমুহে প্রায় নাই বললেই চলে একমাত্র ন্যাটো কান্ট্রির ডিফেন্স নিরাপত্তার একজন সদস্য ছাড়া। কয়েকশত বছর সারা দুনিয়া চষে বেড়ানো ইউকে, তার মোড়লগিড়ি কখনোই ছাড়তে চায় না, কিন্তু বাস্তবতা হলো যে, তার হাত ক্রমশই ইন্টারন্যাশনাল এরিয়াতে দূর্বল হওয়াতে সে আগের হাবভাব ধরে রাখা সম্ভবও হচ্ছিলো না। আর এজন্যই অন্তত ন্যাটোর ডিফেন্স বলয়ে থেকে এবং একটা গ্রেট পাওয়ারের মাহাত্যে এই যুদ্ধে আসলে সরগরম থাকতে চাচ্ছে ইউকে। তাছাড়া আমেরিকার বলয় থেকে ইউকে যেতে পারবে না বা যেতেও চায় না। কারন ইউরোপিয়ান ফেডারেল সেন্ট্রাল ব্যাংক এই ইউকের জন্য একটা মারাত্তক আর্থিক অস্ত্র যেটা না থাকলে ইউকে এর অনেক ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। এটাকে ধরে রাখাও ননমেম্বার ইউকে এর বিশেষ চাল। ফলে, একটা এটা তার আর্থিক নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত করে তেমনি তার আধিপত্যতা বজায়ের একটা মই ছাড়া আর কিছুই না। অন্যদিকে ইউকে এই রাশিয়া বা ইউক্রেনের বেশীর ভাগ পন্যের উপর যেমন তেল, গ্যাস, অন্যান্য কমোডিটির উপর সে নির্ভরশীলও নয়। তাই, ইউক্রেন ধংশ হলেই কি আর বেচে গেলেই কি। অন্যদিকে পুরানো শত্রু রাশিয়া যদি এই যুদ্ধে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তাতে ইউকে এর লাভ ছাড়া তো ক্ষতি নাই।

ইউএসএ

আমেরিকা কিন্তু ইইউ দেশের সদস্য নয়। কিন্তু সে ন্যাটোর সদস্য। দুটু দুই জিনিষ। আপনি যদি লয়েড অষ্টিনের সর্বশেষ বক্তব্যটা শুনেন, দেখবেন তিনি সেখানে বলেছেন, আমরা রাশিয়াকে অতোটাই দূর্বল দেখতে চাই যতোটা হলে রাশিয়া আর মাথা তুলে দাড়াতে পারবে না। আর ঠিক এই বক্তব্যটাই হচ্ছে ইউএসএ এর ইন্টারেষ্ট ইউক্রেনে। ইউক্রেনকে ভালোবেসে আমেরিকা এতো টাকা পয়সা এতো অস্ত্র সাপ্লাই দিচ্ছে ভাবলে সেটা হবে ভুল। তারাও একটা প্রচন্ড ব্যবসায়ীক লাভের মুখ দেখছে অস্ত্র বিক্রি করে। আর যতোদিন এই যুদ্ধটা থাকবে, আর্মস বিক্রির ততোটাই বাজার থাকবে আমেরিকার। কারন রাশিয়ার সাথে বর্ডারিং দেশগুলি তাদের নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে খাবারের থেকে বেশী অস্ত্র কিনতে আগ্রহী হবে রাশিয়ার সাথে বর্ডারিং দেশগুলি, হোক সেটা ন্যাটোর অধীনে বা ইইউর অধীনে বা নন-ইইউভুক্ত দেশ। এখানে আরেকটা ব্যাপার খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করার বিষয় আছে-সেটা হলো, রাশিয়ার সাথে প্রক্সি যুদ্ধ চালিয়ে আমেরিকা তো রাশিয়ার সাথেই যুদ্ধ করছে, কিন্তু যুদ্ধটা নিজের দেশের মধ্যে নয় আবার রাশিয়াকে সরাসরি এটাক করতেও হলো না। পেন্টাগন স্বীকার করেছে যে, তারা জার্মানীতে ইউক্রেনের অনেক নাগরীককে মিলিটারী প্রশিক্ষন দিচ্ছে যাতে তারা ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ গ্রহন করতে পারে। তারমানে যুদ্ধটা আরো বিলম্বা হোক। আর আমেরিকা রাশিয়ার তেল, গ্যাস কিংবা অন্যান্য কমোডিটির উপরেও ততোটা নির্ভরশীলও নয়। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট একচ্ছত্র ২২ বছর ক্ষমতায় থাকাতে রিজিম পরিবর্তনেরও কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, যা পশ্চিমাদের জন্য একটা অবশ্যই মাথাব্যথার কারন। আর এই যুদ্ধের মাধ্যমে যদি সেটা অর্জিত হয়, খারাপ কি? তাহলে এমন একটা যুদ্ধ আমেরিকা থামাতে যাবে কেনো? ইউক্রেন ঠিক সেই ট্রাপটাতে পা দিয়েছে আমেরিকার হয়ে যেই ট্র্যাপটা রাশিয়া দিয়েছিলো আফগানিস্থান যুদ্ধে। কিন্তু রাশিয়াও সেই যুদ্ধে টিকে নাই।

ইউক্রেন

এখানে একটা কথা না বললেই নয়। আমরা কি কেউ জানি ২০১৪ সাল থেকে ২০২১ সাল অবধি ডনবাস, ম্যারিউপোল, ক্রিমিয়ায় কি হয়েছিলো? আমি ২য় মহাযুদ্ধের এ যাবতকাল যতো ওয়ারফুটেজ আছে, সম্ভবত তার ৬০% নিজে দেখার চেষ্টা করেছি এবং সেই ফুটেজগুলিতে আমি একটা জিনিষ ক্লিয়ারলি বুঝেছি যে, হিটলার কিভাবে ইহুদীজজ্ঞ শুরু করেছিলো এবং শেষ করতে চেয়েছিলো। সেই সব ইহুদীরা নিরাপদ ছিলো না আবার অন্যায়কারীও ছিলো না। হিটলারের মতাদর্শে তারা চলতে চায় নাই বিধায় তাদের ওই পরিনতি ভোগ করতে হয়েছিলো। সেই ফুটেজগুলি দেখার পরে যদি ২০১৪ সাল থেকে ২০২১ সাল অবধি ডনবাস, ম্যারিউপোল, কিংবা অন্যান্য সিটিতে স্পেশাল ফোর্স আজব ব্যাটালিয়ান কি করেছে পাশাপাশি দেখি, একই ছক, একই প্ল্যান, একই সিস্টেম। এমন কি এই আজব ব্যাটালিয়ান হিটলারের সময়ে ব্যবহৃত ইন্সিগ্নিয়াও ইউজ করতো। একদম ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে স্কুল কলেজগুলিতেই শিক্ষা দেয়া শুরু হয়েছিলো যাতে ছোট ছোট ইউক্রেনিয়ান বাচ্চারা মনেপ্রানে বিশ্বাস করে যে, রাশিয়া ইউক্রেনের শত্রু। Battle in Donbass, Donbass war at Airport, Fast Forwar to Fasicim, War in Europe-Drama in Ukrain, Trapped ইত্যাদি গ্রাউন্ড যিরো থেকে নেয়া ফুটেজগুলি দেখি, তাহলে হিটলারের ইহুদীনিধন আর ইউক্রেনের মধ্যে রাশিয়ান নাগরিকদের নিধনের মধ্যে কোনো তফাত পাবেন না। এই বিগত ৮ বছরের নিধনে কোনো ইউরোপিয়ান দেশ, বা পশ্চিমারা কোনো প্রকারের ভয়েস রেইজ করেন নাই। এমন কি আমরা যারা আমজনতা তারাও মিডিয়ায় এর একচুয়াল প্রতিফলন না হওয়াতে কিছুই জানি না। কিন্তু এরমধ্যে মিন্সক চুক্তি করে আপাতত একটা যুদ্ধবিরতি ঘোষনা করেছিলো ইউক্রেন। আমাদের অনেকের মনে এই প্রশ্নটা কেনো আসে না যে, মিন্সক চুক্তিটা কি এবং কেনো হয়েছিলো? ২০১০ সাল থেকে ২০২১ সাল অবধি ওই যুদ্ধে প্রতিটি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট (ভিক্টোর ইউনিকোভিচ, ওলেক্সান্দার টুরচিউনোভ, পেট্রো প্রোসেঙ্কো, এবং বর্তমান জেলেনেস্কী) সবার স্ট্রাটেজি ছিলো এক-"রাশিয়ান স্পিকিং নাগরীক বা রাশিয়ার প্রতি ইনক্লাইনেশন আছে এমন ইউক্রেনিয়ান নাগরিক কিংবা দাম্পত্য জীবনে মিক্সড রাশিয়ান নাগরিকদেরকে নিধন করে ফেলা"। ইউক্রেনের জাতীয় টেলিভিশনে দেয়া সেই সব প্রেসিডেন্ট গনের ভাষন শুনলে দেখবেন, কি ম্যাসেজ ছিলো। সেই ২০১০ থেকে ইউকে এবং ইউএসএ এবং তাদের মিত্ররা ক্রমাগত ইউক্রেনকে আর্থিক সাহাজ্য করে যাচ্ছিলো। আর এই কথাটা কিন্তু ডিফেন্স মিনিষ্টার লয়ে অষ্ওটিন স্বীকার করেছেন, তার সাথে স্বীকার করেছেন ডিফেন্স সেক্রেটারী লিজ ট্রুসও।

২০১০ সাল থেকে ২০২১ সাল অবধি ইউক্রেনে একটা সিভিলওয়ার এমনিতে চলছিলো। আর সেটা ইউক্রেনের মধ্যে রাশিয়া স্পিকিং এবং ইউক্রেনিয়ান নাগরিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো শুধুমাত্র ডনবাস, লুটেন্সক, ক্রিমিয়া, মারাইউপোল, এবং আরো কিছু শহর যাকে বলা যায় ইথনিক ক্লিঞ্জিং অপারেশন হিসাবে। আর এবার শুরু হয়েছে গোটা দেশ জুড়ে। খুবই দূর্নীতি পরায়ন দেশ হচ্ছে এই ইউক্রেন।

 

 

চীন

চীন, ইন্ডিয়া, এশিয়ান দেশ, আফ্রিকান এইসব দেশগুলি কিন্তু রাশিয়ার বিরুদ্ধে যায় নাই, আবার খুব ট্যাক্টফুলি ভোটদান থেকে বিরত থেকে এটাই প্রমান করেছে যে, অন্তত তারা পশ্চিমাদের সিদ্ধান্তের সাথে একমত নয়। এই চীন, ইন্ডিয়া, আফ্রিকা কিংবা অন্যান্য এশিয়ান দেশের কি ইন্টারেষ্ট সেটা বিস্তারীত না বল্লেও বুঝা যায় যে, রাশিয়াকে এদের প্রয়োজন বেশী ইউক্রেন থেকে।

ইইউ

যদি একটা জিনিষ লক্ষ্য করা যায় কারা কারা এই ইইউ তে আছেন। ইইউ এর সদস্যদেশুলি হচ্ছে- Austria, Belgium, Bulgaria, Croatia, Republic of Cyprus, Czech Republic, Denmark, Estonia, Finland, France, Germany, Greece, Hungary, Ireland, Italy, Latvia, Lithuania, Luxembourg, Malta, Netherlands, Poland, Portugal, Romania, Slovakia, Slovenia, Spain and Sweden. এই দেশগুলির বর্তমান আর্থিক বা সামরিক ক্ষমতা কি? যদি এই দেশগুলিকে তিনটা গ্রুপে ভাগ করি, তাহলে দেখা যাবে যে, খুবই দূর্বল আর্থিক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা দেশগুলি হচ্ছে-অষ্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, এস্টোনিয়া, হাংগেরী, আয়ারল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, লুক্সেমাবার্গ, মালটা, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া। মানে প্রায় ৩০ টি দেশের মধ্যে ১৪টি দেশ। ৫০%। একটু শক্ত কিন্তু দূর্বলের থেকে একটু উপরে আছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ইতালী, পোল্যান্ড। ২৫%। আর যারা প্রথম সারিতে আছেন, তারা হচ্ছেন-ফ্রান্স, জার্মানী, গ্রীস, স্পেন। অর্থাৎ ২৫%। তার মানে সিদ্ধান্ত মেকিং এ সবসময়ই দেখবেন, ফ্রান্স, জার্মানী, আর কেউ নয়। অর্থাৎ ১০%। এমন একটা কাঠামোর মধ্যে ইইউ জড়িয়ে আছে যে, বিগ বস যেভাবে চাবেন, সেভাবেই ছোটরা থাকলে ভালো হবে মনে করে যে কোনো সিদ্ধান্তেই তারা ‘ইয়েস’ বলে চালিয়ে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। ইউক্রেন না ইইউর সদস্য, না ন্যাটোর সদস্য, অথচ ইইউর সদস্যরা এই ইউক্রেনের পাশে বিগ বসের কারনে দাঁড়িয়ে থাকায় যেটা হয়েছে, ইইউর নিজের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করেছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা। ক্ষতি ইউকের হয় নাই, ইউএসএ এর হয় নাই, হয়েছে ইইউ এর। যারা রাশিয়ার উপর সর্বোতভাবে নির্ভরশীল।

জার্মান

একটা জিনিষ খেয়াল করলে দেখা যায় যে, গ্রাউন্ড যিরোতে জার্মান সাংবাদিক প্রায় নাই বললেই চলে। কারন বর্তমান ভাইস চেন্সেলর ওলফ সুলজ তাদের সাংবাদিকদেরকে এভাবেই ব্রিফ করেছেন যেনো ইউক্রেন যুদ্ধের গ্রাউন্ড জিরো প্রতিবেদন মিডিয়াতে সম্প্রচার না হয়। একমাত্র ডিডব্লিউ কিছু নিউজ করে যেগুলিও প্রায় ৫০-৫০ বায়াসড যা না করলেই হলুদ সাংবাদিকতায় পড়ার সম্ভাবনা। Frank-Walter Steinmeier জার্মান প্রেসিডেন্ট, তাঁকে গত সপ্তাহে ইউক্রেন ভিজিট করতে বললে তিনি সেই ইনভাইটেশনকে পরিত্যাগ করেছেন। তিনি কিয়েভে আসবেন না। কারন ইতিমধ্যে জার্মানীতেও তাদের দল, নাগরীক এবং অন্যান্য সুধীজনের মধ্যে প্রচন্ড একটা দ্বিভাজন শুরু হয়েছে পক্ষে বিপক্ষে। কারন, সাধারন নাগরিকগন ইতিমধ্যে রাশিয়ার গ্যাস, তেল, কমোডিটির অভাবে একটা অশনি পরিস্থিতির আন্দাজ করতে পারছেন। একটা পলিটিক্যাল চাপ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। সবাই তো যুদ্ধংদেহী নয়।

কিছু কথাঃ

অজস্র অস্ত্র প্রবাহ একটা সময়ে বুমেরাং হতে পারে। আফগানিস্থানে যেসব অস্ত্র আমেরিকা ফেলে এসেছিলো বা সরবরাহ করেছিলো, ওইসব অস্ত্র শেষ পর্যন্ত আফগানিস্থানের মিলিশিয়ারা আমেরিকার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করতে শুরু করেছিলো। যার কারনে কোনো বিকল্প ছাড়াই আমেরিকাকে তড়িঘড়ি করে আফগানিস্থান ছেড়ে আসতে হয়েছিলো।

নিষেধাজ্ঞা পুরু ওয়েষ্ট এবং ইইউসহ সারা দুনিয়ায় একটা অস্থিরতা আনবে। যেমন ইইউ শেষ পর্যন্ত একটা ব্যাপার স্বীকার করেছে যে, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা কোনো কাজে আসে নাই।

রাশিয়ার রুবলকে দূর্বল করার জন্য যখন সুইফট থেকে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কেটে দেয়া হলো, তখন রাশিয়ার নিজের কারেন্সী ছাড়া কোনো প্রকারের ব্যবসা করা সম্ভব ছিলো না। ফলে রুবল যখন একমাত্র অপসন, আর রাশিয়ার কমোডিটি যখন অন্যের খুবই দরকার, তখন বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত অন্যানরা সুইফটের বাইরে গিয়ে রাশিয়ার শর্ত মেনে নিয়েই এখন রুবলে তাদের লেনদেন করতে বাধ্য হচ্ছ্যে। যেই রুবল যুদ্ধের আগে ছিলো ১ ডলার= ৭২ এখন সেই রুবল চলে এসছে ১ ডলার= ৬৭। অথচ নিষেধাজ্ঞার ঠিক পরপরই ১ ডলারের সমান ছিলো ১৩৯ রুবল। একই রুবল যুদ্ধের আগের থেকেও শক্ত অবস্থানে চলে এসছে। পুরু ইউরোপ জুড়ে এখন ডলারের চেয়ে বেশী প্রবাহ হচ্ছে রুবলের। এতে যেটা হবে, সেটা হচ্ছে পেট্রো ডলারের নির্ভরতা অনেক অনেক কমে যাবে। ফলে ডলার তার শক্তিশালী অবস্থা হারাবে, ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক তাদের আধিপত্যতা হারাবে, চীন, দুবাই, আরব দেশগুলি তাদের তেল হয় রাশিয়ান রুবল, বা চীনের আরএমবি, অথবা নিজস্ব কারেন্সীতে লেনদেন করা শুরু করবে।

 

তাহলে কারা জিতছে এই যুদ্ধে?

৩০/৪/২০২২ -রাশিয়ার তেল/গ্যাস এবং ইউরোপের নিষেধাজ্ঞার খেলা

রাশিয়ার তেল/গ্যাস এবং ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা

আমি এর আগেও অনেকবার লিখেছিলাম যে, নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে দুইমুখু সাপের মতো, শাখের কারাতের মতো, যেতেও কাটে, আসতে কাটে। ফলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে যিনি নিষেধাজ্ঞা দিবেন, তাঁকে অনেক হিসাব কষে দেখতে হবে, তিনি আবার সেই নিষেধাজ্ঞার কারনেই প্রতিঘাতে না পড়েন। যেদিন ইউরোপ রাশিয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা দিতে থাকলো, তখনি বুঝেছিলাম, মারাত্তক ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। ইংরেজীর সেই প্রোভার্ভ কাজে লাগে নাই এই ইমোশনাল নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সময় যে- Never bite the hand who feeds you.

নিষেধাজ্ঞার প্রভাবঃ

রাশিয়ার উপর প্রায় ৭ হাজারেরও বেশী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপ এবং পশ্চিমারা। অথচ এই রাশিয়ার উৎপাদিত ন্যাচারাল গ্যাস, ফসিল ওয়েল, নিকেল, এলুমিনিয়াম, গম, লোহা, ইস্পাত, ইউরেনিয়ামের উপর ইউরোপের সবগুলি দেশ প্রায় ৪০ থেকে ৭০% পর্যন্ত নির্ভরশীল। এমন একটা অবস্থায় বহুদূরের যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রর নেত্রিত্তে বা পরামর্শে রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞায় তারা যতোটা না কাবু হবে তার থেকে  এই নিষেধাজ্ঞায়  ইউরোপ কাবু হবে ৪০-৭০% বেশী। কারন ইউরোপ ৪০-৭০% কমোডিটির উপর রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল। এটাই হবার কথা ছিলো আর সেটাই হয়েছে। নিষেধাজ্ঞায় পশ্চিমাদের বুদ্ধিতে ইউরোপের মারাত্তক ভুলটা হয়েছে যখন রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংককে সুইফট সিস্টেম থেকে বের করে দিয়ে পুরু বিশ্ব ব্যাংকিং থেকে আউট করায়। ফলে কি ঘটেছিলো? ঘটছিলো যে, আগে রাশিয়ার পন্য কিনে তারা পেমেন্ট করেছে ইউরো বা ডলারে। রাশিয়া সুফট সিস্টেমে থাকায় রাশিয়া সহজেই সেই ইউরো বা ডলার কনভার্ট করে তাদের নিজস্ব কারেন্সীতে পরিবর্তন করতে পারতো অথবা ইউরো বা ডলারকে রিজার্ভ হিসাবে রাখতে পারতো। কিন্তু এখন সুফট সিস্টেম থেকে আউট হওয়ায় রাশিয়া এখন আর ইউরো বা ডলারের পেমেন্ট ক্যাশ করতে পারেনা। এরমানে, রাশিয়া তার পন্য ঠিকই দেবে কিন্তু মুল্য ঘরে পাবেনা যেহেতু সেটা সুইফট সিস্টেমের আওতায় ইউরো বা ডলারের কারনে আটকে যাচ্ছে। পশ্চিমারা চেয়েছিলো যাতে অর্থনীতির দিক দিয়ে রাশিয়াকে পঙ্গু করে দেয়া যায়। কিন্তু রাশিয়া তো আর লিবিয়া, ইরাক বা আফগানিস্থান নয়। এবার রাশিয়া ডিক্রি জারী করেছে-রাশিয়া তার নিজস্ব কারেন্সী ছাড়া কোনো প্রকারের কারেন্সীতে রাশিয়া তার পন্য বিনিময় করবে না। আর সেটা শুরু হবে গ্যাস পন্য দিয়ে। মজার ব্যাপার হলো, ইউরোপের সবকটি দেশ রাশিয়ার এই গ্যাসের উপরে কম বেশী কেউ কেউ ৪০% থেকে শুরু করে ৭০% পর্যন্ত নির্ভরশীল।

রুবলে ব্যবসাঃ

শুধুমাত্র হাঙ্গেরী ছাড়া প্রাথমিকভাবে কেহই রাশিয়ার এই নতুন নির্দেশ মেনে নিতে রাজী হয়নি। তারা ইউরো বা ডলারেই পেমেন্ট করবে বলে রাশিয়াকে ফের জানিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে-দোকানীর জিনিষ যদি দোকানীর আইনে কেউ না নিতে পারে, তাতে খদ্দেরেরই ক্ষতি। হয় দোকানীর নিয়মে পন্য নাও, না হয় যাও। আর ঠিক এটাই হয়েছে। প্রথমে রাশিয়া পোল্যান্ড এবং বুলগেরিয়ার গ্যাসলাইন বন্ধ করে দিয়েছে। পোল্যান্ড খুব হিম্মতের সাথে জানিয়ে দিয়েছে-রাশিয়ার গ্যাস ছাড়াও তারা চলতে পারবে কারন তাদের রিজার্ভ আছে প্রায় ৭৫%। আমার মাথায় আসে না, এই রিজার্ভ কিন্তু ন্যাচারাল সোর্স থেকে রিজার্ভ নয়, এটা রাশিয়া থেকেই কেনা অতিরিক্ত গ্যাস। এটাতো একসময় শেষ হবেই? তখন পোল্যান্ড কি করবে? পোল্যান্ড বলছে-সে জার্মানীর থেকে গ্যাস নিবে। তাহলে জার্মানীর গ্যাস থাকতে হবে নিশ্চয়ই! অথচ জার্মানী নিজেই রাশিয়া এবং স্পেন থেকে গ্যাস কিনে। এদিকে জার্মানীও রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং ইউরো/ডলার ছাড়া তারাও রাশিয়াকে রুবলে পেমেন্ট করবে না বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে অনেকদিন ঘুমিয়ে থাকার পর স্পেন হটাত ঘুম থেকে জেগে বলে বসলো যে, জার্মানী যদি পোল্যান্ডকে গ্যাস সরবরাহ করে, তাহলে স্পেন জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। কেমন চক্কর!!

যাই হোক যেটা বলছিলাম-

রাশিয়ার কঠিন হুশিয়ারীতে পোল্যান্ড এবং বুলগেরিয়ার গ্যাসলাইন বন্ধ করার কারনে বাকী ইউরোপিয়ানদের একটু টনক নড়েছে যে, গ্যাস তো লাগবেই, গ্যাস ছাড়া তো আর রুম হিটিং হবে না, কলকারখানা চলবে না, সব অচল হয়ে যাবে, ইন্ডাস্ট্রিজ বন্ধ হয়ে যাবে ইত্যাদি। কিন্তু উলটা মন্তব্য করতেও দ্বিধা করেনি ইউরোপ। তারা বলেছে-রাশিয়া গ্যাসের মাধ্যমে ইউরোপকে ব্ল্যাকমেইল করছে। আজব ব্যাপার হচ্ছে-একদিকে ইউরোপ রাশিয়ার সবকিছুর উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যে, কেউ যেনো রাশিয়া থেকে কিছুই না নেয়। একেবারে এক ঘরে করতে চেয়েছে। এখন আবার যখন রাশিয়া নিজেই সেই  সাপ্লাই ইউরোপে বন্ধ করে দিলো এবং ইউরোপের কথাতেই রাশিয়া একঘরে হয়ে থাকতে চাইলো যে, যেহেতু কেউ আমার পন্য নিবে না, তাই আমিও বন্ধই করে দিলাম, তখন আবার ইউরোপ বলছে, এটা কেমন কথা? আমরা নিষেধাজ্ঞা দিবো ঠিকই, কিন্তু তুমি আমাদেরকে তেল গ্যাস সব দিবা কিন্তু ফ্রিতে। কারন আমরা ইউরো/ডলারে দাম দেবো আর সেটা পশ্চিমারা তাদের ব্যাংক সিস্টেমে আটকে দিবে। আমাদের টাকা আমাদের কাছেই রয়ে গেলো, আবার পন্যও ফ্রিতে পাইলাম!!

আহাম্মকের মতো মনে হয়েছে আমার কাছে এই সিন্ডিকেটিজমটা। সত্তোর্ধ বয়সী প্রায় ২৪ বছর যাবত একাধারে রাষ্ট্রনায়কের কাছে এসব একেবারে হাস্যকর মনে হবার কথা না? তাই পুতিন স্যাম্পল হিসাবে আপাতত পোল্যান্ড এবং বুলগেরিয়ার গ্যাসলাইন বন্ধ করে দিলেন। ঠেলার নাম বাবাজি এটা সবাই জানে, ফলে এবার দেশের অবস্থা বেগতিক দেখে প্রথমে ইউরোপের ৪টি দেশ ইতিমধ্যে রাশিয়ার সাথে রুবলে পেমেন্টের জন্য একাউন্ট খুলতে রাজি হয়ে গেলো এবং তারা পেমেন্টও করে দিলো।  তাহলে বাকী দেশগুলি এখন কি করবে?

ইউরোপের জন্য কি অপশন খোলাঃ

ইউরোপের জন্য এখন দুটু অপশন খোলা-(ক) হয় রাশিয়ার শর্ত মেনে নিয়ে রুবলের মাধ্যমে গ্যাস নেওয়া অথবা (খ) রাশিয়ার গ্যাসের উপর বিকল্প তৈরী করে রাশিয়ার গ্যাস না নেয়া এবং নিষেধাজ্ঞা জারী রাখা।

জার্মানীর চ্যান্সেলর উলফ সোলজ রাশিয়ার এই নতুন নির্দেশনায় খুবই ক্ষিপ্ততার সাথে রাশিয়ার শর্ত নাকচ করে দিয়ে ২৯ মার্চ বলেছিলো যে, কোনো অবস্থাতেই তারা গ্যাস কন্ট্রাক্টের বাইরে অর্থাৎ হয় ইউরো না হয় ডলারে পেমেন্ট, অন্য কোনো কারেন্সিতে জার্মানী যাবে না। আজ প্রায় ৩০ দিন পর জার্মানীর একমাত্র গ্যাস ক্রেতাকোম্পানি UNIPER পুতিনের শর্ত মেনে নিয়ে রুবলের মাধ্যমেই এখন গ্যাস ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অষ্টিন কোম্পানি O&V, ইতালীর ANI এবং অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশের গ্যাস সরবরাহ কোম্পানীগুলিও একইভাবে গ্যাজপ্রোম ব্যাংকে তাদের রুবলের একাউন্ট খুলছে।

নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা কিঃ

এখন প্রশ্ন হচ্ছে-রাশিয়ার উপর পশ্চিমা এবং ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকা সত্তেও, সুইফট থেকে রাশিয়াকে আউট করে দিয়েও আবার সেই রাশিয়া থেকেই রাশিয়ার শর্তে গ্যাস কেনায় পশ্চিমাদের কিংবা ইউরোপের কি সম্মান বজায় থাকলো? নিষেধাজ্ঞা কি তাহলে কার্যকরী হলো?। এর ব্যাখ্যা তাহলে কি?

রাশিয়া থেকে গ্যাস কেনা আর রাশিয়া থেকে পুতিনের শর্তে গ্যাস কেনা এক নয়। যদি এসব কোম্পানীগুলি পশ্চিমা এবং ইউরোপিয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাশিয়া থেকে গ্যাস ক্রয় করে, তাহলে এসব কোম্পানীকে শাস্তির মুখে পড়ার কথা না?  কিন্তু অবাক করার বিষয় হচ্ছে-ব্রাসেলস এখন পুরুই নিশ্চুপ। তাহলে ব্রাসেলসের এই চুপ থাকার কারন কি? এরও একটা ব্যাখ্যা আছে যা আমাদের মতো আমজনতা জানেই না। আর সেটা হচ্ছে-নিষেধাজ্ঞার শর্তের মধ্যে একটা ছোট ফাক রাখা হয়েছিলো। আর সেটা কি?

কিছুদিন আগে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সব সরবরাহকারীদের জন্য একটা গাইডবুক দিয়েছে। সেখানে তিনটা গাইডলাইন দেয়া হয়েছেঃ

(1)        Uphold EU sanction

(2)        Abide by Putin’s Decree

(3)        Secure Natural gas for Europe.

আসলে এই গাইডলাইনে উভয়পক্ষের জন্য Win-Win Situation রাখা হয়েছে। আর ঠিক এই গাইডলাইনের ২ নং শর্তের কারনেই ইউরোপের গ্যাস কোম্পানীগুলির বিরুদ্ধে ইউরোপ বা পশ্চিমারা কোনো শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিতে পারবে না বা পারতে চায় না। তারা সবাই সানন্দে এখন দুটু করে একাউন্ট খুলছে গাজপ্রোম ব্যাংকে। প্রথম একাউন্ট ইউরো বা ডলারে, অন্যটি রুবলে। একই ব্যাংকে, গাজপ্রোম ব্যাংক।

লেনদেনটা কিভাবে হবেঃ

তাহলে এই লেনদেনটা কিভাবে হবে? সেটাও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বলে দিয়েছে। প্রথমে ক্রেতা তার পেমেন্ট ইউরো বা ডলারে জমা করবে গাজপ্রোম ডলার/ইউরো ব্যাংক একাউন্টে। গাজপ্রোম ব্যাংক অতঃপর সেই ইউরো বা ডলার রুবলে কনভার্ট করে তাদের পেমেন্ট নিয়ে নিবে। কিন্তু এখানে আরেকটা জটিল সমস্যা আছে যে, যেহেতু ইউরোপ এবং পশ্চিমারা রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংককে সুইফট থেকে বের করে দিয়েছে, ফলে গাজপ্রোম ব্যংক কিছুতেই গ্যাসের পেমেন্ট ইউরো বা ডলার থেকে রুবলে কনভার্ট করতে পারবে না। তাহলে উপায়?

ঠিক এখানেও ইউরোপিয়ানরা তাদের সরবরাহকারীদেরকে গাইডলাইন দিয়ে দিয়েছে এভাবে-

(এখানে একটা কথা না বললেই নয়। আমরা যারা ব্যবসা করি তারা এটা খুব ভাল করে জানি কিন্তু অন্যান্য ব্যক্তিরা যারা ব্যংকিং সেক্টরে এলসির (LC: Letter of Credit)  সাথে জড়িত নন, তাদের বুঝার জন্য বলছি যে, সাধারনত ইম্পোর্ট এক্সপোর্টে যখনই কোনো পেমেন্ট বেনিফিশিয়ারী ব্যাংক রিসিভড হয়, তখনই পেমেন্টের কাজ শেষ হয়ে যায় বলে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যতোক্ষন না পর্যন্ত ইউরো বা ডলার রাশিয়ার রুবলে কনভার্ট না হচ্ছে ততক্ষন পর্যন্ত পেমেন্ট রিসিভড হয়ে বলে ধরে নেয়া যাবে না। আর এটার জন্য শুধুমাত্র ইন্টারকারেন্সী চেঞ্জ পালিত হবে। তার মানে কি? তারমানে গ্যাজপ্রোম ব্যংক তাদেরই গ্যাজ প্রোম ডলার/ইউরো একাউন্টে রুবল বিক্রি করবে এবং রুবলের দামের উপর ইউরো বা ডলার উঠানামা করবে। ইউরো বা ডলারের মানের উপর রুবলের মান উঠা নামা করবে না। খুবই বিপদজনক অবস্থায় আছে এখন ইউরো এবং ডলার। আগে ইউরো বা ডলারের মাপে রুবল উঠানামা করতো, এবার ডলার/ইউরো রুবলের মাপে উঠা নামা করবে।

তাহলে রুবল কি দূর্বল হতে যাচ্ছে নাকি সবলঃ

তাহলে আরেক প্রশ্ন জেগে উঠে- রুবলকে শক্তিশালী করা নাকি রুবলকে দূর্বল করলে ডলার বা ইউরোর লাভ? যদি পশ্চিমারা ১ ডলার সমান ২০০ রুবল করতে চায়, করুক, তাহলে যখন ইউরোপিয়ানরা রুবলে গ্যাসপেমেন্ট করবে তখন ডলার বা ইউরোর সমান পরিমান রুবল দিতে হলে ওদেরকে অনেক ডলার বা ইউরো খরচ করতে হবে। আর যদি ডলার/ইউরোর মান সমান সমানে থাকে তাহলে ইউরো/ডলার কম খরচ করতে হবে। আর ঠিক একারনেই এবার পশ্চিমা এবং ইউরোপিয়ানরা রুবলের মান শক্ত করার চেষ্টা করছে কিন্তু বিজ্ঞ পুটিন বলছে, তোমরা আমার রুবলের দাম আরো কমাইয়া দাও, আমার কোনো সমস্যা নাই।

ইউরোপ এর বন্ডেজের ভীত তাহলে কই যাবেঃ

ইউরোপের আসলে এখন কিছুই করার নাই। In fact, for Europe, its a choice between Air Conditiong and Peace. জার্মানী পরিষ্কারভাবে Air Conditioning বেছে নেয়ার চেষ্টা করেছিলো ইতালীর মতো। ইতালী তার জনগনকে এসি চালানোর ক্ষেত্রে একটা তাপমাত্রা নির্ধারন করে দিয়েছে। কিন্তু সেটা কয়দিন?

 মূল কথায় আসি। ইউরোপ এবং পশ্চিমাদের দ্বারা আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মুল লক্ষ্য ছিলো রাশিয়াকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পংগু করে ফেলা। কিন্তু সেটা কি হয়েছে? সেটা কিন্তু হয় নাই। ইউরোপ নিজেই রাশিয়াকে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ মিলিয়ন ইউরো পে করে থাকে এই গ্যাসের জন্য। এরমানে ইউরোপ নিজেই পুতিনের ওয়ারমেশিনকে ফান্ডিং করছে। জার্মান কিংবা ইউরোপিয়ান কোম্পানী রাশিয়াকে মিলিয়ন মিলিয়ন ইউরো/ডলার দিচ্ছে, রাশিয়া সেই ইউরো/ডলার দিয়ে তার যুদ্ধের খরচ মিটিয়ে ইউক্রেনকে ধংশ করছে। আর ইউক্রেন আবার জার্মানী কিংবা ইউরোপীয়া ইউনিয়নের দেশগুলি থেকেই অস্ত্র সরবরাহ পাচ্ছে। তার মানে কি দাড়ালো?

Moral of the Story is: All the lectures and principles are farse and what matters in the end is only own interest.

  

২৯/৪/২০২২-ইউক্রেন যুদ্ধ সমাচার 

অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানগন (বিশেষ করে ইইউ, ইউকে, ফ্রান্স, জার্মানী অথবা ইউএস ইত্যাদি) তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা হয়তো একটা টেনিউর অথবা সর্বোচ্চ দুইটা টেনিউর। অনেকের আবার ২য় টেনিউরে রাষ্ট্রপ্রধান হবেন কিনা সে চিন্তায় সারাক্ষন কি কি করা যায়, কিভাবে কি পলিশি করলে ভোট বেশী পাওয়া যাবে তার মহাচিন্তায় মহাপরিকল্পনা করতে থাকেন। গ্লোবাল রাজনীতির থেকে নিজের জন্য রাজনীতিই বেশী করেন। অথচ রাশিয়ার পুতিন গত ২২ বছর যাবত প্রেসিডেন্ট হিসাবে তো বহাল আছেনই, তার উপর আগামী আরো ১৪ বছর তার প্রেসিডেন্সীর নিশ্চয়তাও রয়েছে। তারমানে ৩৬ বছরের একনাগাড়ের প্রেসিডেন্ট মিঃ পুতিন সাহেব। এমন একটা ঝানু রাজনীতিবিদ কি একেবারে কোনো হোমওয়ার্ক ছাড়া একা সারা দুনিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নামবে, এটা কি বিশ্বাস করা যায়? যত যাইই হোক, পুতিন এই ইউক্রেন যুদ্ধে হারার জন্য নামে নি, আর যুসশটা কতদিন চালাবে এটার সম্পুর্ন কন্ট্রোল আসলে পুতিনের হাতেই। আরো কিছু মাহাত্য তো আছেই।

ইউক্রেন আক্রমনকে আমি ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করিনা। কিন্তু জুলুমের রাজত্তে যখন কেউ না কেউ অধিক শক্তিশালী রাজ্য দারা প্রতিনিয়ত শোষিত হয়, তখন শোষকদের উপর কেউ জুলুম করলে সেটা অনেকটা মনের অজান্তেই সমর্থন পাওয়া শুরু করে যদিও আক্ষরিক অর্থে তা সমর্থনযোগ্য নয়। রাশিয়াকে সাপোর্ট করার পিছনে বেশীরভাগ মানুষের মনের ভাবটা ঠিক এইরকম। যাই হোক, ইউক্রেন যুদ্ধের কিছু আভাষ আমি পূর্বেই লিখেছিলাম, এবার মনে হচ্ছে সেগুলির বেশ কিছু নিদর্শন বাস্তবে প্রকাশ হতে শুরু করেছে। সেই পরিবর্তনগুলি কিঃ

ক।       ইউনিপোলার ওয়ার্ড অর্ডার পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন হয়তো ট্রাঞ্জিশন পিরিয়ড চলছে বলে বলা যায়।  

খ।        ডলার কারেন্সীর একচ্ছত্র রাজত্ব খুব অচীরেই শেষ হতে যাচ্ছে। পেট্রোডলারের যে রাজনীতি সারা দুনিয়ায় একচ্ছত্র দাদাগিরি চালিয়ে একটা ভারসাম্যহীন      অর্থনীতির বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছিলো, সেটার প্রায় বিলুপ্তির সূচনা শুরু হয়ে গেছে।

গ।        মানি সিস্টেমের যে “সুইফট ব্যবস্থাপনা” সারাটা দুনিয়ায় প্রতিটি দেশকে জালের মতো একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে সবাইকে আটকে ফেলেছিলো, সেটা থেকেও দেশগুলি বিকল্প পথ পেয়ে যাচ্ছে।

ঘ।        পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার অর্থনৈতিক বলয়ে যতটা আঘাত হানার কথা ভাবা হয়েছিলো, ততোটা কিন্তু আঘাত হানতে পারেনি। রুবল সেই ধাক্কাটা প্রায় কাটিয়ে উঠে যাচ্ছে। ফলে রুবল একটা শক্তিশালী কারেন্সী হিসাবে আবির্ভুত হতে যাচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের ফলাফল কি ?

ক।       আমেরিকার প্রাথমিক ইনিশিয়াটিভে ন্যাটো যতোটা তাদের মধ্যে হুজুগে পড়ে বন্ডেড হয়েছিলো, এখন সেই ন্যাটো সদস্যদের মধ্যেই বিশ্বাসের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। কারন প্রতিটি দেশের চাহিদা আলাদা আলাদা। একটি দেশের মুলনীতি, মুল চাহিদা, মুল কাঠামোর সাথে অন্য যে কোনো দেশের মুলনীতি, মুল চাহিদা বা মুল কাঠামোর মধ্যে তফাত থাকেই। আর সেই তফাতের কারনেই একেক দেশের ভূমিকা একেক পরিস্থিতিতে একেক রকম হবে। প্রাথমিক হুজুগের বলয় থেকে বেরিয়ে যখন বাস্তবতায় দেশগুলি চোখ খুল্লো, তখন দেখা গেলো, নিজের দেশের জনগনের জন্য প্রয়োজনীয় তেল, গ্যাস, খাবার, কিংবা মৌলিক চাহিদার যোগানের জন্য যা দরকার আর যেখানে এটা আছে সেটার উপরেই তারা পুর্বান্নে নিষধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। আর সেই নিষ্রধাজ্ঞা যেনো এখন বুমেরাং হয়ে নিজেদেরকে আঘাত করছে। এর ফলে যা হচ্ছে- ন্যাটোর মধ্যেই একে অপরের উপর আস্থা কমে যাচ্ছে। এরা এখন আর আগের মতো দল বেধে মিটিং, সেমিনার, কিংবা দ্বি পাক্ষীয়, তৃপাক্ষীয় ক্লোজডোর বৈঠক করছে না। ভাটা পড়েছে সব কিছুতেই। এই অনাস্থার অনুপাতটা আরো বাড়বে দিনে দিনে।

খ।        জেলেনেস্কী বারবার সারা দুনিয়াকে রাশিয়ার তেল, গ্যাস ইত্যাদি না নিতে অনুরোধ করছে, নিষেধাজ্ঞায় রাখতে বলছেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, জেলেনেস্কির এতো আকুতি মিনতি করে এই নিষেধাজ্ঞা পালনে কাউকে এতো অনুরোধ করার দরকার ছিলো না যদি সে নিজেই ইউক্রেনের উপর দিয়ে রাশিয়ার পাইপলাইন গুলিকে অকেজো করে দিতো। পাইপলাইনই যদি সচল না থাকে, নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও কেউ রাশিয়া থেকে তেল/গ্যাস নিতে পারতো না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে-জেলেনেস্কী তাহলে ইউক্রেনের উপর দিয়ে প্রবাহিত তেল/গ্যাস লাইন/পাইপ লাইন ধংশ করে দিলো না কেনো? এর কারন একটাই-যদি জেলেনেস্কী এই কাজটা করতো, তাহলে ইইউ নিজেই ইউক্রেনকে ধংশ করে দিতো। আর ২য় কারনটা হচ্ছে, জেলেনেস্কী নিজেও ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক লোকসানে পড়ত। তাই জেলেনেস্কী কোনোটাই করে নাই, এবং ইইউ নিজেও ইউক্রেনের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত রাশিয়ান পাইপ লাইনকে সবসময় সুরক্ষা দিয়ে সাপ্লাই সচল রেখেছে।

গ।         রাশিয়া কিন্তু তার অস্ত্র ভান্ডারের কিছুই আপাতত ব্যবহার করে নাই। বিশেষ করে আধুনিক যন্ত্রপাতী। যা করেছে সেটা নেহায়েতই একটা অবসলিট এবং পুরানো দিনের জাঙ্ক মেশিনারিজ দিয়ে। রাশিয়া এই ইউক্রেন যুদ্ধটা এখনই শেষ করতে চাইবে না। কারনঃ

(১)        রাশিয়া পেট্রোডলার কারেন্সী শেষ করে নিজেদের কারেন্সী বা চায়নিজ-রুবল-রুপি ইত্যাদির সমন্নয়ে একটা কারেন্সী প্রতিস্থাপিত না করা অবধি পুতিন ইউক্রেনের যুদ্ধটা চালিয়ে যাবে। আর এর মধ্যে দেয়া তার সেই সব পয়েন্ট তো আছেই যা সে উল্লেখ করেছে- নিউ নাৎসি, মিলিটারাইজেশন ইত্যাদি।

(২)        আগামী শীত হবে ইইউর জন্য একটা বিপর্যয়। কারন উক্ত শীতে রাশিয়ার তেল এবং গ্যাস, গম, যব, সিরিয়াল ইত্যাদির অভাবে ইইউর উপর একটা বিপর্যয় নেমে আসবে। তখন হয় ইইউ রুবলেই ট্রেড করবে, অথবা জনগন সাফার করবে। তাতে প্রতিটি দেশে বিক্ষোভ হবার সম্ভাবনা এবং তখন নেতারা নিজেদের গদি নিয়ে হুমকীর মধ্যে থাকবেন।

(৩)       এমতাবস্থায় সবাই ইউক্রেনকেই তাদের জীবন বিপর্য্যের কারন হিসাবে দায়ী করবে। ভুলে যাবে মানবতা, রিফুজিরাও সেই দেশ থেকে বিতাড়িত হবার সম্ভাবনা থাকবে। জেলেনেস্কী আত্তগোপনে চলে যাবেন, রাশিয়া তার নিজের পছন্দমত সরকার প্রতিস্থাপন করবেন। সেই সরকার এসে হয়তো রাশিয়াকে আবার আগের মতো সব কিছু করতে বলবেন যাতে ইইউর সাথে আবার সাভাবিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।   

কে কি ভুল করছে বলে মনে হয়ঃ

ক।       ওয়ার্শো ভেংগে যাবার পরে আসলে রাশিয়া কখনোই ইইউ অথবা আমেরিকার শত্রু ছিলো না। রাশিয়া অনেকটা ইউরোপের ধাচেই এগিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু আমেরিকা সর্বদা রাশিয়াকে তার চিরশত্রুই মনে করে। আসলে আমেরিকার শত্রু চিনতেও ভুল হয়েছে। তার শত্রু চীন, রাশিয়া নয়। তাই রাশিয়াকে ওর দলে নিয়ে চীনকে মোকাবেলা করা উচিত ছিলো আমেরিকার। ইউক্রেনকে দিয়ে অযথা রাশিয়ার গলায় পারা দেয়া আমেরিকার ঠিক হয় নাই। এতে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে চীন। আর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আমেরিকা এবং ইইউ ।

খ।        রাশিয়া যখন ন্যাটোর সদস্যপদ চেয়েছিলো, ন্যাটোর উচিত ছিলো রাশিয়াকে সদস্যপদ দেয়া। যদি সেই সদস্যপদ দিতো, তাহলে আজকে ইউরোপ থাকতো সবচেয়ে নিরাপদে, চীন থাকতো সবচেয়ে চাপে। এশিয়াও থাকতো চাপের মধ্যে। রাশিয়াকে ইচ্ছে করেই আমেরিকা সদস্যপদ দিতে চায় নাই। এটা একটা মারাত্তক ভুল ছিলো।

গ।        ইউক্রেন যুদ্ধে জেলেনেস্কী আসলে ইউক্রেনের মংগল কামনা করে নাই। যখন যুদ্ধশেষে ইউক্রেনের চিন্তাবিদেরা এই যুদ্ধের আগাগোরা নিয়ে বিশ্লেষন করবেন, তখন দেখা আযবে যে, জেলেনেস্কী আসলে ছিলো রাজাকার প্রেসিডেন্ট। আজকে তাকে ;হিরো’ আখ্যায়িত করলেও সব বিবেচনা করে একটা সময় আসবে যখন ইউক্রেনের মানুষেরা ‘জেলেনেস্কী’ নামটা ‘মীর জাফর’ নামের মতো হয়তো ব্যবহার করবে।

18/03/2022-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব  

যুদ্ধ কোনো কালেই কারো জন্য ভালো সংবাদ বয়ে আনে নাই। দুটু মোরগের মধ্যে ফাইটিং এ ও দুটু মোরগই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আর যখন দেশ যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তখন দেশের মানুষের সাথে অন্যান্য প্রতিবেশী যারা যুদ্ধেই নেই, তারাও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এই তথ্যটা জানে না এমন নয়, তারপরেও যুদ্ধ হয়। এর একটাই কারন যে, সব প্রতিকুল আবহাওয়ায় ক্ষতির সাথে কিছু মানুষের ব্যবসা, আর সেই ব্যবসায় লাভ ও হয়। হতে পারে এই লাভটা অন্য এমন মানুষের যারা মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে যুদ্ধটা চালিয়ে যাক এটাই দোয়া করছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার সাথে একটা অসম যুদ্ধ। এটা হবারই কথা না। কিন্তু তারপরেও হয়েছে এবং হচ্ছে। তাহলে এখানে কে ফাদে পড়লো, কাকে কে ফাদে ফেল্লো, এটা জানা আরো বেশী দরকার যাতে যুগে যুগে এই ফাদ পাতা ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নিতে পারে। মজার ব্যাপার হচ্ছে-ইতিহাস থেকে কেউ কখনো শিক্ষা নেয় না।

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে অনেক গুলি বিশ্লেষন বেরিয়ে আসছে ক্রমাগত। আজ আমি একটা নিয়ে আলাপ করার চেষ্টা করছি। যার নাম ‘নিষেধাজ্ঞা’।

রাশিয়ার উপর পুরু বিশ্ব প্রায় হাজার খানেকের বেশী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা নিয়েই আজকের আলাপ।

২৪ শে ফেব্রুয়ারী তে যখন ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন আক্রমন করে, পুতিন কি এসবের ব্যাপারে হোম ওয়ার্ক করে নাই? রনক্ষেত্র এক জিনিষ আর সারা দেশের অর্থনইতিক বিষয়টা আরেক জিনিষ। যদি পুতিন সেই রনক্ষেত্রের বাইরে দেশের অর্থনইতিক ব্যাপারটা নিয়ে হোম ওয়ার্ক না করে থাকেন, তাহলে আমি বল্বো এটা হয় আমাদের ভুল ধারনা, না হয় পুতিন বিচক্ষন নয়। কিন্তু ২২ বছর যাবত একটা রাষ্ট্রপ্রধান তাও আবার সুপার পাওয়ারের মতো দেশ রাশিয়ার, কেজিবির প্রধান, বয়ষ্ক ব্যক্তির পক্ষে এগুলি নিশ্চয় সে ভেবেছে। তাহলে এবার আসি, পুতিন এই অর্থনইতিক নিষেধাজ্ঞা কিভাবে মোকাবেলা করছে।

দেশের অর্থনীতিকে স্টাবল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

(ক)       রাশিয়াকে পশ্চিমারা সুইফট নামক  গ্লোবাল ফাইনান্সিয়াল সিস্টেম থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক মার্কেটে লেন দেনে বিশাল অসুবিধার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ফলে রাশিয়া তাঁর নিজস্ব মীর নামক সিস্টেমের মাধ্যমে ইলেল্ট্রনিক ট্রান্সফার, বিদেশী ব্যংকের সাথে লেন দেন, মাষ্টার কার্দের বিকল্প মিরের মাধ্যমে লেন দেনের বিকল্প ব্যবস্থা করেছে। এটা হয়তো সারা বিশ্ব জুড়ে এখনই কাজ করতে সক্ষম হবে না কিন্তু প্রয়োজনীয় লেন দেনে কোনো অসুবিধা নাই। একটা সময় আসবে যখন এই পশ্চিমাদের একচ্ছত্র সুইফট এর বিকল্প হিসাবে একদিন মীর দাঁড়িয়ে গেলে, রাশিয়ার অর্থনইতিক নিষেধাজ্ঞা অচিরেই বেশ আবার পুনর্জীবন পেয়ে যাবে।

(খ)        পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা হচ্ছে রাশিয়ার রিজার্ভে যে ইউ এস ডলার এবং ইউরো ছিলো, সেতার উপর কঠিন নিষেধাজ্ঞা। তাঁর মানে ডলার এবং ইউরো রাশিয়ার জন্য একেবারেই এখন নিরাপদ না। এর জন্যে রাশিয়া যা করেছে সেতা হলো- রাশিয়া এখন চায়নার মতো নিজস্ব কারেন্সীর মাধ্যমে বিদেশীদের সাথে ট্রেড করা শুরু করেছে। রাশিয়ার সাথে চায়নার মধ্যে রুবল-ইয়েন প্রথা চালু হয়েছে ইতিমধ্যে। ন্তুরষ্ক রুবলের মাধ্যমে রাশিয়ার সাথে ট্রেড লেন দেনে সম্মত হয়েছে। ভারতের সাথেও রুবল-রুপীর একটা সমঝোতা  হয়েছে তেল বিষয়ক লেন দেনে। এসব করার কারনে পুরু দুনিয়ায় যেখানে ডলার- ইউরোওই ছিলো একমাত্র ব্যবসায়ীক লেন দেনের কারেন্সী, সেটা ধীরে ধীরে কমে আসবে।

(গ)       আমদানী কারকদেরকে ডলারের বিপরীতে রুবলে পেমেন্ট প্রদানের নীতিমালায় রাশিয়া একটা প্যাকেজ ঘোষনা করেছে যে, বিদেশী সবার সাথে রাশিয়া ৮০% ডলার রেটে রুবলের পরিবর্তনে তাঁদের আমদানী দ্রব্যের দাম পরিশোধ করা। এতে যা হবে সেটা হলো- রুবল ধীরে ধীরে আন্ত্রজাতিক মুদায় পরিনত হবে এবং আমদানীকারকেরাও অনেক কিছু ২০% ছাড়ে মালামাল আমদানী করতে গেলে লাভবান হবে। তাঁর মানে এই যে, ডলারের বাজার একটা বিশাল এরিয়ায় অকেজো হয়ে যাবে।

(ঘ)        রাশিয়া ২০২২ সাল অবধি ইউরেসিয়া ইকোনোমিক ইউনিয়ন ভুক্ত দেশে সমস্ত পন্য রপানীতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাকিস্থান, কিরগিস্তান ইত্যাদি। এর মাধ্যমে রাশিয়া তাঁর নিজের দেশের লোকদের নিত্যদিনের পন্যকে নিরাপদ করে ফেললেন। বাইরের লোকদের জন্য এসব নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য এখন অসুবিধায় পড়বে। তাঁদের জন্য পন্যের দাম হবে আকাশ্চুম্বি। তাতে রাশিয়ার কিছুই যায় আসে না। কারন রাশিয়া আগে নিজের দেশের মানুষকে ভোগান্তি থেকে বাচাবে।

(চ)        রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে ২০% করেছে। এর মাধ্যমে রাশিয়ার রুবলের দরপতন হ ওয়াতেও সাধারন জনগন রুবলের দরপতনে কিছুটা হলেও ইনফ্লেশন থেকে মুক্তি পাবে। প্রাইস স্ট্যাবিলিটি করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশ এই পদিক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। এখানে একটা ব্যাপার জানা দরকার যে, সুদের হার বাড়ালে কিভাবে প্রাইস স্ট্যাবিলিটি ঠিক থাকে। সেটা একটা বিশাল অংকের হিসাব, তাই বিস্তারীত আলাপ করা হলো না। তবে জেনে রাখা ভালো যে, সুদের হার বাড়িয়ে প্রাইস স্ট্যাবিলিটি একটা সাময়িক পদক্ষেপ মাত্র। রাশিয়া এখানেই থেমে থাকেনি। ক্রেডিট ইন্সটিটুশন গুলিকে রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংক নতুন লোনে কোনো ইন্টারেস্ট নেবে না কিংবা কেউ যদি ডিফল্টার হয় রুবলের দরপতনে, তাদেরকে ডিফল্টার হিসাবে ধরা হবে না যতোক্ষন রুবল স্ট্যাবল না হয়। এর ফলে দেখা যাচ্ছে ২৪ ফেব্রুয়ারিতে যখন ১ ডলারের দাম ছিলো ১২০ রুবল, এখন সেটা ১০০ রুবলের নীচে চলে এসছে।

(ছ)        আন্তর্জাতিক লোনের ব্যাপারে রাশিয়ার দুটু পেমেন্ট সিডিউল ছিলো গত ১৫ মার্চে। কিন্তু ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক রাশিয়ার ডলার রিজার্ভ ব্লক করাতে সে ১১৭ মিলিয়ন ডলার পেমেন্ট করতে পারছিলো না। যদি রাশিয়া এই পেমেন্ট দুটু রিপেমেন্ট করতে না পারতো, তাহলে রাশিয়া আন্তর্জাতিকভাবে ব্যনাগকিং সেক্টরে একটা ডিফল্ট করে ফেলতে পারতো। একবার কোনো কোম্পানী বা দেশ যখন কোনো একটা জায়গায় ফল্ট করে, তখন তাঁর সি আই বি ও লাল হয়ে যায়। আর সি আই বি লাল হলে অন্য কোনো ব্যাংক বা দেশ তাঁর সাথে আর লেন দেন করতে পারে না। কিন্তু রাশিয়া তাঁর রিজার্ভ ফান্ড যেটা ডলার বা ইউরোতে ছিলো, ইতিমধ্যে বাজার রেটে ১১৭ মিলিয়ন ডলারের সমান রুবলে পেমেন্ট রিলিজ করার জন্য অফিশিয়ালী আদেশ দিয়ে দিয়েছে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংককে। এখন যদি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক সেটা রুবল কারেন্সীতে পেমেন্ট না করে, তাহলে এটার দায় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের, রাশিয়ার না।

(জ)       রাশিয়া বিনা মুল্যে তাঁর নাগরিকদেরকে অনেক সুবিধা প্রদানের অঙ্গীকার করেছে এবং দেয়া শুরু করেছে। তাঁর মধ্যে জরুরী বিষয়গুলি হচ্ছে- ছাত্রদের টিউশন ফি, পারিবারিক ভরন পোষনের খরচ, সিনিয়ার সিটিজেন্দেরকে অতিরিক্ত রুবল প্রদান, চাকুরীজীবিদের বেতন বৃদ্ধি, পেন শনের টাকা বৃদ্ধি, পাবলিক সেক্টরে আরো অনেক কিছুর ছাড়।

(ট)        স্মল এবং মিডিয়াম এন্টারপ্রিনিউরদেরকে রাশিয়া সরকার প্রনোদোনা প্যাকেজ দেয়া হচ্ছে যাতে তারা এই রুবল দরপতনে তাঁদের ব্যবসা আগের মতো করতে পারে। সাবসিডিয়ারী, ক্রেডিট ফেসিলিটি সহ সব ধরনের ব্যবস্থা রাশিয়া ইতিমধ্যে ব্যবস্থা করেছে।

(ঠ)       নিষেধাজ্ঞার কারনে কোনো ব্যবসায়ী যেনো তাঁদের উতপাদিত দ্রব্য উতপন্নে কম না করে তাঁর জন্যে রাশিয়া সরকার যা যা লাগে তাঁর সব ব্যবস্থা করবে বলে আশহাশ দিয়েছে। আর সেসব পন্য আপাতত ডমেষ্টিক বাজারেই ব্যবহারের ঘোষনা দিয়ে কিন্তু বাইরে রপ্তানী করতে নিষেধ আরোপন করেছে। তাতে দেশের ভিতরে দ্রব্যমুল্য একটা নিয়ন্ত্রনে থাকবে এবং বহির্বিশহে অন্যরা সাফার করবে। এটাই রাশিয়ার পরিকল্পনা। এর মধ্যে রয়েছে চিনি, গ্যাসোলিন, মেটাল, গম, ডিজেল, এবং অন্যান্য রপ্তানীমুলক দ্রব্য।

(ডঃ)     বিদেশী কোম্পানীগুলি যারা রাশিয়াতে ব্যবসা বন্ধ করার জন্য বলেছে, রাশিয়া তাঁর ব্যবসায়ীদেরকে বলেছেন যে, তাঁর নিজের দেশের নাগরিকগন যেনো সেসব ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান নিজেরা চালায়। বিদেশীদের এই ব্যবসাগুলি চালাইতে যা অর্থের জোগান লাগবে, সেটা রাশিয়ান সরকার বহন করবে। এর সাথে রাশিয়ার সরকার এটাও বলেছে, যদি কোনো বিদেশী কোম্পানী রাশিয়ায় এখনো ব্যবসা করতে চায়, তাহলে তারাও একটা ছাড়ে করতে পারে কিন্তু যদি রাজী না হয়, তাহলে এসব কোম্পানীগুলি রাশিয়ার তরফ থেকে রাষ্ট্রীয়করন করে রাশিয়ানরাই চালাতে পারে। এদের মধ্যে রয়েছে- ম্যাডোন্যাল্ডস, ভক্স ওয়াগন, শেল, এপেল, মাইক্রোসফট, এইচ এন্ড এম, ইত্যাদি।

(ব)        চায়নার ইউনিপে রাশিয়ার সর্বত্র চালু করা যার মাধ্যমে মাষ্টার কার্ড, ভিসা কার্ডের ইফেক্ট কমে যায়। মীরের পাশাপাশি ইউনিপে দুটুই চালু থাকবে।

যে কোনো একটা নতুন সিস্টেম পুরুপুরী চালু হতে কিছুটা সময় লাগে। রাশিয়ার এসব বিকল্প যখন ধীরে ধীরে সফল হতে থাকবে, তখন বিশ্ব বাজারে যেটা হবে সেটা হলো- মাষ্টারকার্দের মতো কিংবা ভিসা কার্দের মতো সিস্টেম গুলি আর সার্বোজনীন থাকবে না। তারা বেশ বড় একটা বাজার হারাবে। এর সাথে রাশিয়ার মীর কিংবা চায়নার ইউনিপে নতুন করে একতা বিপ্লব দিবে।

বড় বড় কোম্পানীগুলি বিসশ বাজার থেকে অনেক গুটিয়ে আসবে, বাজার হারাবে। আমাদের দেশে এক সময় কে এফ সি, পিজা হাট একচ্ছত্র বাজার পেলেও এখন প্রচুর লোকাল পিজার বাজার ভর্তি যা অইসব বিদেশী দোকান গুলি থেকে অনেক সস্থা। হতে পারে মানের দিক দিয়ে হয়তো ততোটা নয়, কিন্তু তারপরেও অনেক সাধারন ক্লায়েন্ট লোকাল পিজা বাজারেরো ভীর কম না। এর মানে বেশ কিছু ক্লায়েন্ট হারানোর মতো।

রাশিয়ার র মেটারিয়াল অন্যান্য দেশে রপ্তানী না যাওয়াতে অইসব দেশের অনেক শিল্প মুখ থুবরে পড়ে যাবে। তেল, গ্যাসোলিন, গ্যাস, স্টীল, গম, বার্লি, চিনি, ইত্যাদির সল্পতার কারনে বিসশে একটা উর্ধগামী মুল্যের প্রভাব পড়বে। যা অন্যান্য দেশকেও বিপদেই ফেলবে। কিন্তু এর মধ্যে রাশিয়া ধীরে ধীরে সাবলম্বি হয়ে উঠবে।

এর অর্থ একটাই- অর্থনইতিক অবরোধে সবাই একইভাবে সাফার করবে, শুধু রাশিয়া একা নয়।

23/02/2022-আমি ২০০৩ সালে ইউক্রেনের কিয়েভে

আমি ২০০৩ সালে ইউক্রেনের কিয়েভে বেড়াতে গিয়েছিলাম একবার। তখন আমি জর্জিয়ায় জাতিসঙ্ঘ মিশনে কর্মরত ছিলাম। ইউক্রেনের এক মেজরের বাসায় উরুগুয়ের এক পাইলটকে সাথে নিয়ে তাঁর বাসায় বেড়াতে গিয়ে কিয়েভ সম্পর্কে আমার ধারনা একেবারে পালটে গিয়েছিলো। মানুষগুলি খুবই শান্তপ্রিয় আর শহরটাও মানুষগুলির মতো একেবারে শান্ত। কোনো কোলাহল নাই, সবাই ব্যস্ত আর খুবই মিশুক। মাত্র সপ্তাহখানেক ছিলাম।

উরুগুয়ের ওই পাইলটের সাথে এখনো আমার যোগাযোগ থাকলেও ইউক্রেনের সেই মেজরের সাথে আমার যোগাযোগ নাই। গতকাল সেই ইউক্রেনের উপর রাশিয়া আক্রমন করেছে শুনে খুব কষ্ট লাগলো মনে। ক্রেমলিন দেখার খুব শখ ছিলো। আমি ক্রেমলিনেও ভিজিট করতে গিয়েছিলাম। যেহেতু মিলিটারী অবজারভার হিসাবে কর্মরত ছিলাম, ফলে আমার সাথে কর্মরত একজন রাশিয়ান আর্মি অফিসারের সহায়তায় আমরা ক্রেমলিনের কিছুটা অংশ আমি সেখানে ভিজিট করতে পেরেছিলাম। মনে মনে ভেবেছিলাম, কতই না শক্তিশালী এসব ক্রেমলিন। আজ যেনো এটাই মনে আসলো দ্বিতীয়বার।

বিশ্ব রাজনীতির অভ্যন্তরে অনেক দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক এজেন্ডা লুকিয়ে থাকে বিধায় আমরা যা নগ্ন চোখে দেখি সেটা আসলে সেটা না যেটা দেখি। তাঁর ভিতরে হয়তো লুকিয়ে থাকে আরো ‘গভীর কিছু’। কিন্তু এই ‘গভীর কিছুর’ দ্বারা সংঘটিত কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা পুরু বিশ্বকে অগোছালো করে ফেলে যদিও এই ‘গভীর কিছু সংঘটিত’ বিষয়ে অনেকেই জড়িত থাকেন না। ছোট বা বড় কোনো দেশই এর থেকে পরিত্রান পায় না। ছোয়া লাগেই। ইউক্রেনকে আক্রমন করে রাশিয়া কতটুকু উপকৃত হবে বা ইউক্রেন কতটা ক্ষতিগ্রস্থ হবে সেটা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু আমাদের মতো দেশ যারা এর আশেপাশেও নাই তাঁদের কি কি হতে পারে?

আমাদের দেশ অনেকটাই আমদানী-রপ্তানী নির্ভর একটি দেশ। আর এই আমদানী-রপ্তানী বেশীরভাগ হয় ইউরোপের অনেকগুলি দেশের মধ্যে। ইউরোপে মোট ২৮ টি দেশ আলাদা আলাদা হলেও বাস্তবিক হচ্ছে এরা একটা গুচ্ছগ্রামের মতো। ফলে ইউরোপের একটি দেশের ভিসা পেলেই আমরা অনায়াসে অন্য দেশগুলি ভ্রমনের সুবিধা পাই। কারেন্সীও একটা ‘ইউরো’ যদিও সবার আলাদা আলাদা কারেন্সী আছে। ইউরোপের এই দেশ গুলি কোনো কোনো ন্যাচারাল সম্পদে বেশ উন্নত। ফলে একটা দেশে যদি এ রকম গোলমাল চলতে থাকে, সাভাবিকভাবেই অন্য এলাকায় এর প্রভাব পড়েই। প্রভাব পড়বে জ্বালানীর দামে, গ্যাসের দামে, বেড়ে যাবে আমদানী রপ্তানী খরচ যা প্রকারান্তে সাধারন মানুষের উপরেই বর্তাবে। প্রভাব পড়বে উগ্র পন্থীদের যারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে আশেপাশের দেশ সমুহে। প্রভাব পড়বে ‘মুক্ত ও গনতান্ত্রিক বিশ্ব কন্সেপ্টে’ যদিও ‘মুক্ত ও গনতান্ত্রিক বিশ্ব কন্সেপ্ট’ এখন আছে বলে মনে হয় না। প্রভাব পড়বে সাইবার সিস্টেমে, শেয়ার মার্কেটে, ভোগ্য পন্যে, ইত্যাদি। এ ছাড়া প্রভাব পড়বে বন্দরগুলিতে। 

বাংলাদেশ যদিও এর অনেক দূরের একটি দেশ কিন্তু ইউরোপে রপ্তানী করা পোষাক শিল্প একটা ঝুকির মধ্যে পড়ার সম্ভাবনা প্রচুর। আর যারা সরাসরি ইউক্রেনের সাথে আমদানী-রপ্তানীতে যুক্ত তাঁদের অবস্থা এখন খুবই আতংকের। আমাদের দেশ ইউক্রেন এবং রাশিয়া থেকে অনেক ভোগ্যপন্য আমদানী করে যেমন মটর, সোয়াবিন, গম,  ইত্যাদি, সেটা আরো উর্ধ গতি হতে পারে দামে। এ ছাড়াও আমাদের রপ্তানীকারক মালামাল যেমন প্লাষ্টিক, চামড়া, চামড়া জুতা, হিমায়িত খাবার, পাট বা পাটের দ্রব্য এসব রপ্তানীতে ঘটবে প্রচুর ব্যাঘাত। এমন একটা পরিস্থিতিতে আসলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হবো তাতে কোনো সন্দেহ নাই।

অন্যদিকে বড় বড় পরাশক্তি যতোই পিউনেটিভ একশন নিবে বলে যত প্রতিশ্রুতিই দেন না কেনো, যা ক্ষতি হবার তাঁর বেশীরভাগ ক্ষতি ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। জাতিসঙ্ঘ, ন্যাটো, কিংবা অন্যান্য অক্সিলারী ফোর্স গ্রাউন্ডে যেতে যেতে রাশিয়ার উদ্দেশ্য হাসিল হয়েই যাবে। তারমধ্যে ইউক্রেন ন্যাটোর কোনো সদসই না।

ভবিষ্যৎ কি হবে এই মুহুর্তে বলা খুব দূরুহ।

13/03/2022-যুদ্ধের ১৭ দিন পর ইউক্রেন

যুদ্ধের ১৭ দিন পর ইউক্রেন যুদ্ধে গোপনে গোপনে একটা কম্প্রোমাইজের কথা শুনা যাচ্ছে যে, জেলেনেস্কি রাশিয়ার তিনটা শর্তই মেনে যুদ্ধ বন্ধ হোক, সাভাবিক জীবন আবার ফিরে আসুক, তাতে সায় দিয়েছে। কিন্তু এই যুদ্ধ আমাদেরকে কি কি শিক্ষা রেখে গেলো?

যুদ্ধের প্রথম দিনে জেলেনেস্কি দৃঢ়কন্ঠে ঘোষনা দিয়েছিলো যে, ইউক্রেনের প্রতিটি ইঞ্চি তারা ডিফেন্ড করবে। কারন সে সেটাই বলেছিলো যেটা পশ্চিমারা ওকে বলতে বলেছিলো যে, We will defend every inch of land of our friendly allainaces. কিন্তু সেটা কেনো হলো না? যদি কিছুটা বিশ্লেষন করি দেখবো যে, জেলেনেস্কী চারটা ভুল করেছেঃ

(১) সে পশ্চিমা, ইউরোপ এবং ন্যাটোর সাপোর্টের উপর অতিরিক্ত ভরষা করেছিলো। জেলেনেস্কী জানতো যে, ইউক্রেন রাশিয়ার কাছে সবদিক দিয়েই দূর্বল। কিন্তু জেনেস্কী পশ্চিমাদের, ইইউ এবং এলায়েন্সেরের ভরষাকে একটা ট্রাম কার্ড হিসাবে ভেবেছিলো। আর এটা তাঁর কোনো দোষ না। কারন ১লা সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে জেলেনেস্কী এক ভাষনে বলেছিলো যে, স্বয়ং বাইডেন জেলেনেস্কিকে বলেছেন, ইউক্রেন ন্যাটোর মেম্বারশীপ পাবেই আর সেটা যেভাবেই হোক। শুধু তাই না, জেলেনেস্কি এটাও বলেছেন যে, এপ্রিল ২০২১ এ বাইডেন তাকে এই কথাও বলেছেন যে, ইউক্রেনকে কখনোই আমেরিকা একা ছেড়ে যাবে না যদি রাশিয়া বা অন্যকোন কেউ তাকে আঘাত করেও। জেলেনেস্কী ভেবেছিলো, রাশিয়ার এতো বড় আর্মি আনবিক বোমা ইত্যাদির বিরুদ্ধে প্রথমে ন্যাটো তথা অন্যান্য দেশের পারমানবিক হুমকীর মাধ্যমে আমেরিকা, ব্রিটেন, ইইউ, তাকে তৎক্ষণাৎ সাহাজ্য করবে, তারপরের ঘটনা তো আছেই, আর্থিক সাহাজ্য, ইত্যাদি।

কিন্তু ঘটনাটা ঘটেছে উলটা। আমেরিকা সামনে আসলো না, ন্যাটোকেও ব্যবহার করলো না, নো ফ্লাই জোনও তৈরী করলো না, আবার বিমানও দিলো না। তারা তাকে এটাও বলেছিলো যে, আমেরিকা, ন্যাটো, ইইউ সবাই রাশিয়াকে এমনভাবে বয়কট করবে যাতে তাঁর তেল, গ্যাস, ফুড কমোডিটি ইত্যাদি আর কেউ না নেয়। রাশিয়াকে পংগু করে দেয়া হবে। কিন্তু সেটাও হলো না। আর হলেও সেতার ইফেক্ট অনেক অনেক পরে হয়তো। কথায় কথায় আমেরিকা রাশিয়ার তেল/গ্যাস বয়কট করলো ঠিকই, কারন না রাশিয়ার রপ্তানী আমেরিকাকে ইফেক্ট করে , না আমেরিকার আমদানী আমেরিকাকে সাফার করায়। তারা দুটুই তেল, গ্যাসের দেশ। অন্যদিকে বিট্রেন কিন্তু বয়কট করার পরেও তেল গ্যাস রীতিমত নিতেই থাকলো কারন সেটা তাঁদের নিত্যদিনের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য। আবার অন্যদিকে ইইউ বাইডেনের এই অবরোধে রাজী হলো না। তারা আরো ৫ বছর সময় চাইলো। কারন প্রায় ৪০% তেল/গ্যাসের উপর পুরু ইউরোপ রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল। তাঁদের জনগনের অসুবিধা তারা করতে পারবে না।

(২) জেলেনেস্কীর ২য় ভুল ছিলো-পশ্চিমাদের কাছে ইউক্রেনের গুরুত্তকে অনেক বেশী, এটাই সে মুল্যায়ন করেছিলো । জেলেনেস্কি ভেবেছিলো যে, ইউক্রেন হচ্ছে ইউরোপের একটা শিল্ড। জেলেনেস্কী ২২/০১/২০২২ তারিখে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে তাঁর এক ভাষনে বলেছিলো-গত ৮ বছর যাবত ইউক্রেন ইউরোপের শিল্ড হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ইউক্রেন গত ৮ বছর যাবত রাশিয়ার মতো এমন একটা বৃহৎ আর্মিকে ঠেক দিতে পারছে। শুধু তাইনা, গত ২১/০২/২০২২ তারিখে অনুরুপ ভাষনে জেলেনেস্কী এটাও বলেছিলো যে, ইউক্রেন ছাড়া ইউরোপের ডিফেন্স বলয় কোনদিন সুরক্ষিত নয় এবং ইউরোপ ইউক্রেনকে ছাড়া স্বয়ংসম্পুর্নও নয়। ফলে ইউক্রেনের টেরিটোরিয়াল সভরেন্টি যদি ইউরোপ না রক্ষা করে, তাহলে ইউরোপ নিজেই রাশিয়ার কাছে হুমকী। কিন্তু জেলেনেস্কি বুঝতেই পারে নাই যে, ইউক্রেন হচ্ছে এই ইউরোপের কাছে একটা এক্সপেন্ডেবল আইটেমের মতো। তারা তাকে ন্যাটোর সদস্যপদ আগেই দেয় নাই, এখন তো আরো অনেক বাধা। দিচ্ছে, দিবে, এই এপ্লিকেশন গ্রহন করা হয়েছে ইত্যাদি বলে ইউক্রেনকে আবার ছেড়েও দিচ্ছিলো না। আসলে ব্যাপারটা হলো যে, তারা তাকে শুধু পুতিনের বিরুদ্ধে একটা টুলস হিসাবে ব্যবহার করছিলো যেটা জেলেনেস্কি বুঝতেই পারে নাই। মজার ব্যাপার হলো, এই ইউজফুল টুলস এর একটা এক্সপায়ারী ডেট ছিলো। আর সেটা এই ২৪ ফেব্রুয়ারী যখন রাশিয়া ইউক্রেনকে আক্রমন করে।

এই একই ঘটনা ঘটেছিলো ১৯৮০ এ আফগানিস্তানে যখন পশ্চিমারা মুজাহিদিনদেরকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ফাইট করার জন্য অর্থ সাপোর্ট দিয়েছিলো। অথচ আফগানিস্তান কিন্তু পশ্চিমাদের কাছে স্ট্র্যাটেজিক্যালী ইম্পোর্ট্যান্ট ছিলো না। আসলে সেটা ছিলো জাষ্ট সোভিয়েটকে পশ্চিমাদের একটা ব্লাডি নোজ দেয়ার পরিকল্পনা। সেখানেও আফগানিস্থান রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের একটা টুলস ছিলো।

সেই একই কাজ কিন্তু আমেরিকা করেছে জর্জিয়ার সাথেও। জর্জিয়াকে পশ্চিমারা ন্যাটো মেম্বারশিপ দেয়ার কথা বলেছিলো ২০০১ সালে। পশ্চিমারা জর্জিয়াকে প্রচুর আর্মস দিয়েছিলো, অতঃপর জর্জিয়া যুদ্ধ করে জর্জিয়া রাশিয়ার সাথে। যখন যুদ্ধ শুরু হলো, পশ্চিমারা পুলআউট করলো। আবখাজিয়া নামে আরেকটা দেশের সৃষ্টি হয়েছিল ২০০৩ সালে। আবখাজিয়া রাশিয়ার খুবই অনুগত একটা দেশ যা জর্জিয়ার জন্য হুমকী।

এই ভুলটাই জেলেনেস্কি করলো যে, তাকে ন্যাটোর মেম্বারশিপ দেয়া হবে, ইইউর সদস্য করা হবে, আর ইউক্রেন ইইউর সবচেয়ে বড় ঢাল হিসাবে রাশিয়ার ফোরফ্রন্টে স্ট্র্যাটেজিক ইম্পোর্ট্যান্ট হিসাবে দাঁড়িয়ে থাকবে, ভেবেছিলো। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে-ইউক্রেনের জন্য ন্যাটো একটা জাষ্ট কথার ঝুলি ছাড়া আর কিছুই ছিলো না।

(৩) জেলেনেস্কীর ৩য় ভুলটা ছিল-সে পুতিনের রিয়েল ইনটেনশনকে পড়তে পারে নাই। আর পড়লেও ভুল পড়েছে। এটা অবশ্য জেলেনেস্কীর দোষ না। যুদ্ধ লাগার আগেও কেউ বুঝতে পারে নাই যে, পুতিন আসলেই ইউক্রেন এটাক করবে। জেলেনেস্কী ভেবেছিলো, থ্রেট আগেও ৮ বছর যাবতই ছিলো, রাশিয়া বারংবার থ্রেট দিতেই থাকবে, কিন্তু গত ৮ বছরের মতো পশ্চিমাদের ভয়ে রাশিয়া সাভাবিকভাবেই অন্তত যুদ্ধনামক ভয়াবহতায় জড়াবে না। এমন কি ২৮ জানুয়ারী ২০২২ তারিখে জেলেনেস্কির এক ভাষনে বলেছিলো যে, মিডিয়ার ভাষ্যে যেনো মনে হয় আমরা অতি শীঘ্র রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছি। কিন্তু রাশিয়া কখনোই যুদ্ধে জড়াবে না এটা নিশ্চিত। যুদ্ধ হবে এটা জেলেনেস্কীর মাথাতেও ছিলো না।

(৪) জেলেনেস্কির ৪র্থ ভুল টা ছিলো-জেলেনেস্কী সবসময় বিশ্বাস করতো যে, তাকে ন্যাটো, ইইউ, ইউকে, আমেরিকা, ফ্রান্স, কিংবা জার্মান সবাই সবকিছু দিয়ে একত্রে সাহাজ্য করবেই। সে বিশ্বাস হারায় নাই। ফলে সে পুতিনের কোনো কথায় রাজী না হয়ে শেষমেষ যুদ্ধেই থেকে গেলো। সে বুঝতেই পারে নাই যে, সবাই ‘অনলাইন’ যুদ্ধ করবে। আর সে মাঠে একা হয়ে যাবে।

যুদ্ধে একাই থেকে যাওয়ার কারনে হয়তো জেলেনেস্কী আপাতত হিরো হয়ে গেলো কিন্তু যখন যুদ্ধ থেমে যাবে, সবশর্ত মেনে ইউক্রেন আবার ফিরে আসবে, তখন ব্যাখ্যায় দেখা যাবে অনেকেই, জেলেনেস্কী কতটা ভুল করেছিলো। আর এই ভুল একদিন জেলেনেস্কীকে নামিয়ে আনবে ওদের দেশের ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে নীচে। আজকের দিনের ইউটিউব, ফেসবুক কমেন্টস একদিন ফেড হয়ে গিয়ে সেটাই সামনে আসবে যে, পুতিন প্রথমে যেটার দাবী করেছিলো সেটাই তো হলো, সারাবিশ্ব শুধু তাকিয়েই ছিলো, তাহলে ইউক্রেনের লিডারের এটা বুঝতে এতো দেরী করেছিলো কেনো? ইতিহাস তাঁর উত্তর দিবে। জনগন এতো কিছু বুঝে না, তারা বুঝে প্রতিদিনের আনন্দ, তাঁদের পরিবার আর সম্পর্ক। রাজ্য, রাজা, দেশ নিয়ে এতো কিছু তারা ভাবে না।

ইতিহাস এটাও বিচার করবে কিভাবে সারাবিশ্ব এই মানুষগুলিকে ধোকা দিয়েছে, যুদ্ধনামক এমন একটা ভয়াবহতায় ছেড়ে দিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে কথার ঝুলি ছেরেছে। বড্ড মায়া লাগে যখন দেখি, ছোট একটা বাচ্চা আহত মায়ের কোলে ঘুমিয়ে আছে, সে হয়তো জানেই না চারিদিকে যুদ্ধ। কিন্তু একদিন সে এই ইতিহাস পড়বে আর নিজের বিবেচনায় বুঝতে শিখবে, কোথায় সিনিয়াররা ভুল করেছিলো, আর কি করা উচিত ছিলো। তখন তাঁর কাছে আজকের দিনের এইসব হিরোইক ইউটিউবের কোনো মুল্য থাকবে না।

যুদ্ধ কারো জন্যই ভাল নয়। রাশিয়ার পুতিন ও একদিন তাঁর দেশে একটা খারাপ মানুষের মধ্যে মুল্যায়িত হবে। কারন সারা বিশ্ব কর্তৃক অবরোধের কারনে ওরাও প্রতিদিন কষ্টে থাকবে।

কিয়েভ খুব কঠিন রাস্তায় এটা শিক্ষা পেলো যে, পশ্চিমাদের, ইউরোপের কিংবা অন্যান্য এলায়েন্সের মিথ্যা নির্ভরশীলতায় এবং মিথ্যা সাপোর্টের আশ্বস্ততায় অসম দেশের সাথে যুদ্ধ করতে যাওয়া একটা খারাপ আইডিয়া।

12/03/2022-এই কয়দিনের রাশিয়ান-ইউক্রেন যুদ্ধের

এই কয়দিনের রাশিয়ান-ইউক্রেন যুদ্ধের উপর মানুষের বিভিন্ন কমেন্টস পরে যেটা আমার ধারনা সেটা হলো-

আসলে কেহই কিন্তু ইউক্রেনের মতো একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের উপর রাশিয়ার এটাক সাপোর্ট করে না। তারপরেও কেউ রাশিয়াকে আবার কেউ ইউক্রেনের পক্ষে মনতব্য লিখছেন। তাহলে ব্যাপারটা কোথায় তাঁদের এই কন্ট্রাডিকশন?

ব্যাপারটা কি এই যে, আমেরিকা, ইইউ, কিংবা ন্যাটো, বা জায়ান্ট সংবাদ মিডিয়াগুলির বিভিন্ন সময়ে পক্ষপাতিত্বমূলক ব্যবহারের কারনে মানুষেরা এখন ওই সব এলায়েন্সের উপর বিরক্ত এবং রাগ। অনেক দেশে ওরা অন্যায় করে, কিন্তু সেটা ওরা অন্যায় বলে স্বীকার করে না, সেটাকে একটা ভিন্ন নামে টেরোরিষ্ট এক্টিভিটি নামে ধংশজজ্ঞ চালায়, নির্বিঘ্নে মানুষ মারে, বাচ্চাদের মারে, সাথে দেশটাও ধংশ করে প্রায় দখলই করে থাকে। ওদেরকে অন্যায়টা বুঝানো যায়না, কারন ওরা শক্তিশালী, মোড়ল। আমরা আমজনতা, গরীব, শক্তিহীন এবং ওদের বিপক্ষে কথা বলার কোনো সাহস কিংবা সুযোগ নাই। এই আমজনতা কষ্ট পায়, দুঃখ পায়, ভাষাহীনভাবে নিজের ঠোট নিজেরাই কামড় দিয়ে চুপ করে থাকে। অসহায় এই আমজনতা। কিন্তু স্বৈরশাসক মোড়লেরা এবং জায়ান্ট সংবাদ মিডিয়াগুলি এসব আমজনতার পালস বুঝলেও স্বীকার করে না যে যেটা ওরা করছে সেটা অন্যায়। আফগানিস্থানে প্রথবার আমেরিকার এটাক যেমন আম জনতা না মানলেও কিছু বলতে পারে নাই, আবার সেই আফ গানিস্তানেই যখন আবার তারা সেই আগের তালেবানদেরকে ক্ষগমতায় বসিয়ে আরেকবার আম জনতাকে উদ্দেগের মধ্যে ফেলে কোনো প্রতিকার করে না, তখনো আম জনতা দুটু ঘটনাকেই আগ্রাসন এবং অন্যায় বলে জেনেছে। আম জনতা দেখেছে যে, ওরা নিজের সার্থেই সব কিছু করে। ওদেরকে কেউ কিছু বলতে পারেনা। এরফলে অন্য আরেক জুলুমবাজ যখন সেই একই জুলুম করতে থাকে, আর সেই জুলুমের প্রতিকারের জন্য সইসব মোড়লেরা, সংবাদ মিডিয়া তাঁদের রক্ষার জন্য একাধারে সাপোর্ট করতে থাকে, তখন রাশিয়ার মতো জুলুমবাজ মোড়লেরা কোনো না কোনো আবেগ থেকে একটা প্রচ্ছন্ন সাপোর্ট পায় এই আম জনতার কাছ থেকে। আর এই সাপোর্ট টা আর কিছুই না, আম জনতার রাগ আর বিরক্তের কারনে। আম জনতা তখন ভাবে- মরুক এরা এবার যারা আগেও মানুষের উপর জুলুম করেছে কিন্তু কিছু করার ছিলো না। এবার ওরা সাফার করুক। আর এই সাফার করুক কন্সেপ্টের মধ্যে ইউক্রেনের মতো, সিরিয়ার মতো, আফগানের মতো, রোহিংগারদের মতো আম জনতারা মরে, আর করুনার পাত্র হয়।

তাহলে যুদ্ধটা আম জনতার মধ্যে আসলে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে নয়, বা রাশিয়ার পক্ষেও নয়, এটা একটা সেই সব মোড়ল আর সংবাদ মিড়িয়ার বিপক্ষে যারা সাদাকে সাদা বলে না, কালোকে কালো বলে না। তাঁদের এসব চিন্তাধারা যতোদিন পরিবর্তন না হবে, জুলুমবাজদের পক্ষে সবসময় কেউ না কেউ সাপোর্ট করতেই থাকবে। এর ফলে সাধারন আমজনতার কষ্ট হতেই থাকবে, হোক সেটা ইউক্রেন কিংবা অন্য কেউ।

আজকে যদি জুলুমবাজ পুতিন মরেও যায়, তারপরে কি পশ্চিমারা রাশিয়ার আমজনতার কথা ভেবে তাঁদের উপর দেয়া সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিবে বলে ভাবছেন? নিবে না। 

আমাদের দেশে একটা কথা আছে- পাটা পুতায় ঘষাঘশিতে মরিচের জান শেষ। আমরা, হোক সেটা ইউক্রেন, সিরিয়া, আফগানিস্থান, ইরাক, ইয়েমেন, কিংবা কাশ্মীর, সবাই হচ্ছি সে মরিচ। আর এক জুলুম্বাজ রাশিয়া আরেক জুলুমবাজ পশ্চিমা বা এলায়েন্স হচ্ছে পাটা পুতা।

6/3/2022- ইউক্রেন যুদ্ধ

যে যাইই বলুক, যুদ্ধ কারো জন্যই ভালো নয়। হোক সেটা ইউরোপে, আর হোক সেটা মধ্যপ্রাচ্যে। সবার, বিশেষ করে ওয়েষ্টার্ন এবং ইইউ, তাঁদেরও উচিত সাদাকে সাদা বলা, কালোকে কালো বলা যখন কোন আগ্রাসন হয় হিউম্যানের উপর। যদি সেটা না হয়, তাহলে এই দুনিয়ার মানুষের মধ্যে বিভেদ হতেই থাকবে। তারা সাদাকে সাদা না বলায়, কালোকে কালো না বলায়, এখন যেটা হচ্ছে, সেটা হলো, এই অসহায় ইউক্রেনবাসীদের উপরে অনেকেই মায়া দেখাচ্ছে না অথচ তারা কোনো দোষও করে নাই। তারাও আমাদের মতো অতি সাধারন মানুষ। একবার ভাবুন তো, যখন আমার আপনার পরিবার এ রকমভাবে সাফার করে, তখন কি পরিমান রক্তক্ষরন হয়? হোক সে যে কোনো ধর্মের বা দেশের। এই কঠিন উপলব্ধিটা যতোদিন ক্ষমতা লোভি নেতারা না বুঝবে, ততোদিন সর্বত্র সর্বসাধারন মানুষ, হোক সে প্যালেষ্টাইন, সিরিয়া, ইরাকী, বা ইউক্রেন, কিংবা হোক সে ইহুদি কিংবা মুসলিম, তাঁদের জীবন কোনোভাবেই সুরক্ষিত না।

আজকে যারা রাশিয়ার আক্রমনকে একটা প্রতিশোধমূলক হিসাবে দেখে আত্মতৃপ্তি পাচ্ছেন, তারাও কিন্তু যুদ্ধকে সায় দেননা কিন্তু তারপরেও তাঁদের মন্তব্য অনেক সময় এমন হয় যে, মরুক ওরা আর ওদের নেতারা যারা দূর্বলকে এতোদিন মেরেছে। এবার ওদের পালা যারা অসহায় মানুষকে এতোদিন নির্মমভাবে মেরেও কোনো আফসোস করতো না। এখন সেইসব নেতাসহ সাধারন জনগন যারা কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলে নাই,  তাঁদেরকে মরতে দেখে বা কষ্ট দেখে বাকীরা যেনো মনে একটা শান্তি অনুভব করেন। কিন্তু এটাই আসল সত্য নয়। কারন এই মানুষগুলিও জানে যে, সেই সব শিশুরা, অসহায় ব্যক্তিরা তো তাঁদের নেতাদেরকে সাদাকে সাদা আর কালকে কালো না বলার জন্য অনুপ্রানিত করে নাই। তাহলে এখন নেতাদের সাথে ওরা কেনো অন্যদের সিম্প্যাথি পাবে না? কিন্তু তারপরেও কিছু রাগ কিংবা গোস্যা থাকে যে, তারাও তো সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলে নেতাদের বিপক্ষে আন্দোলন করে নাই!! তারাও তখন চুপ ছিলো, নীরব ছিলো।

আমি ইউক্রেন, ইরাকী, সিরিয়া, প্যালেষ্টাইন, ইয়েমেন, সব সাধারন মানুষের জন্য কষ্ট অনুভব করি। হুশ হোক বিশ্ব নেতাদের, জ্ঞান ফিরে আসুক সব নেতাদের যারা অন্যায়কে অন্যায় আর আগ্রাসনকে আগ্রাসন, সাদাকে সাদা আর কালোকে লো বলে সবার জন্য একটা সমান প্লাটফর্ম তৈরী করবেন। তাহলেই এই যুদ্ধ, এই আগ্রাসন এবং এই ঘৃণা কিংবা বিদ্বেষ কমে শান্তির একটা বিশ্ব তৈরী হবে।

এই বিশ্বভ্রমান্ডে কাউকে ছাড়া কেউ বাচতে পারবে না। সমস্ত সম্পদ আল্লাহ সব জায়গায় এক তরফা দেন নাই। সবাই সবার উপর নির্ভরশিল। সবাইকেই সবার সরকার।

২৬/০৪/২০২১-কভিড-১৯, ২য় ডোজ

উচ্ছিষ্ঠ সময়ের রাজত্ব 

২০২১ 

২৬ এপ্রিল 

       

কভিড-১৯ মহামারী যদিও এই বিসশে প্রথম পদার্পন করে ডিসেম্বর ২০১৯ এ কিন্তু আমাদের দেশে এর প্রথম সনাক্ত হয় ৮ মার্চ ২০২০। পৃথিবীর তাবদ মানুষ যেখানে এই কভিড-১৯ কে নিয়ে জল্পনা, কল্পনা আর হিমশিম খেতে খেতে শ্মশানে চলে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশের পলিসি মেকাররা যেনো বড়ই উদাসীন। মুজিববর্ষ পালনে কোনো দিধা নেই, হাসপাতালের যতটুকু বেশী প্রয়োজনীয়তা তার থেকে সবার যেনো এর উছিলায় টাকা কামানোর ধান্দাই বেশী। এটা আগেও যেমন লক্ষ্য করা গেছে, এই মহামারিতে যেনো আরো কাড়াকাড়ি আর লুটের ব্যবসায় পরিনত হয়েছে। সারাটা দুনিয়া যেখানে মৃত্যুর সাথে কিভাবে জয় হওয়া যায় সেই ভাবনায় মগ্ন আর সেখানে আমার দেশ কিভাবে রাজনীতিতে আরো শক্ত গিট বাধা যায় সেটা নিয়ে ব্যস্ত।

রাস্তায় পুলিশের দৌরাত্ব, অফিসে কর্মচারীদের থাবা, বাজারে ব্যবসায়ীদের মরন কামড়, কোথাও এই কভিডের জন্য কারো কোনো দুশ্চিন্তা নেই। আমরাও সেই তালের সাথে ড্রাম পিটিয়ে একাত্ততা ঘোষনা করা ছাড়া কোনো উপায় নাই। আমি হয়তো জুলুম করছি না কিন্তু জুলুমের শিকার তো হচ্ছিই। এই এতো শত কষ্টের মাঝেও আজ আমি আর আমার স্ত্রী মিটুল চৌধুরী কভিডের জন্য ২য় ডোজের টিকাটা গ্রহন করতে সক্ষম হয়েছি। অফিসে চলে গিয়েছিলাম। মাত্র অফিসের কাজে মনোযোগ দিয়েছি, এমন সময় মিটুল আমাকে ফোন দিয়ে জানালো যে, তার মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা এসছে আজ সকালে যে, আজই আমাদেরকে টিকার ২য় ডোজ নিতে বলা হয়েছে। বাচতে কে না চায়?তাই অফিসের সব কাজ ফেলে আমি আবার রওয়ানা হয়ে গেলাম বাসার উদ্দেশ্যে। টীকা নিতে হবে। আমি সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার, তাই সিএমএইচ আমার জন্য ফ্রি এবং নির্ধারিত। সকাল ১২ টার দিকে আমাদের টীকা নেয়া শেষ হলো। আমার কোনো পার্শ প্রতিক্রিয়া আগেরবারও হয় নাই, এবারো হলো না। কিন্তু মিটুলের উভয়বারেই পার্শ প্রতিক্রিয়ায় ভুগছে।

কভিড মহামারী সব কিছুকে পালটে দিয়েছে। পালটে দিয়েছে পরিবারের ব্যবস্থা, ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা, আর পরিবর্তন করে দিয়েছে পুরু দুনিয়াকে যেখানে মানুষ শুধু একটা জিনিষ নিয়েই ভাবে- ধর্ম নিয়ে বারাবারি, কিংবা জাত অথবা ঈশ্বর, কোনোটাই স্থায়ী নয়। তাই যার যার চিন্তায় সে সে মশগুল।কভিড আমাদের দেশে এখনো অনেক হারে ছড়ায়নি বলে মানুষ ব্যাপারটা নিয়ে এখনো অনেক উদাসিন। কিন্তু কভিডের সংক্রমন গানিতিক হারে না হয়ে এটা জ্যামিতিক হারে বাড়বে কোনো একদিন। এক থেকে দুই, দুই থেকে চার, চার থেকে আট, আর আট থেকে ষোল এভাবেই বাড়তে বাড়তে কভিড সবার ঘরে ঘরে গিয়ে হাজির হবে একদিন। এর মধ্যে যখন সারা দুনিয়া উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে, আমরা তখন আষ্টেপিষ্টে ধরা খাবো। ব্যবসা বন্ধ হবে, আন্তর্জাতিক মহলে ব্ল্যাক লিষ্টেড হবে, পন্য কেউ কিনতে চাবে না। আমরা একঘরে হয়ে যাবো। আর এর জন্য দায়ী সব সময় সাধারন নাগরিককেই দেয়া যাবে না। একবার ভাবুন তো-যে দেশের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার চুরী হয়, যেখানে দূর্নীতি চরম আকারে ধারন করেছে, যেখানে উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যক্তি পর্যায়ের মানুষের পকেটে চলে যাচ্ছে সেখানে সরকার যদি আমাদের এই ষোল কোটি মানুষকে এক মাসের জন্য শুধু খাবার আর নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সমুহ নিশ্চিত করতে পারতো, ভিয়েত্নাম বা ভুটানের মতো দেহের অবস্থা আমরাও ভোগ করতে পারতাম অর্থাৎ কভিড ফ্রি দেশ। এই ষোল কোটি মানুষের এক মাসের জন্য শুধু ২০০ কোটি টাকার বাজেটই যথেষ্ট ছিলো। সরকার যে চেষ্টা করে নাই তা নয় কিন্তু তার অধিনে যতো কাউন্সেলর, কমিশনার কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গরা রয়েছেন, সাধারন জনগনের নামে দেয়া এসব প্রনোদনা গেছে সব তাদের পকেটে। ফলে মানুষ করোনায় বেচে থাকার চেয়ে অথবা করোনায় মরে যাওয়ার চেয়ে না খেয়ে মরতে চায় নি, তাই তাদের গন্তব্য সব সময় ছিলো ঘরের বাইরের মুখী। আর এই বাহির মুখী মানুষের ঢল যতোদিন ঠেকানো না যায়, এদেশের করোনা পরিস্থিতি কোনোদিনই উন্নতি হবে না। একটা সময় আসবে যখন প্রতিটি ঘরে ঘরে, গ্রামে গঞ্জে, শহরে, বাড়িতে বাড়িতে করোনার উপস্থিতি থাকবে। পরিচিত মানুষের মৃত্যুয় সংবাদে ফেসবুক ভরে উঠবে, কান্নার আহাজারি শোনা যাবে চারিদিক থেকে।

এর থেকে আপাতত বাচার প্রথম শর্ত হচ্ছে সাস্থ্য সচেতনতা আর টীকা। সেই টীকার কর্মসূচীর আওতায় আজ আমরা দুজনেই টীকার প্রোগ্রাম শেষ করলাম। এখন বাকী শুধু সচেতনতা। যেটা শুধুই আমাদের হাতে।

২৫/০৫/২০২০-করোনার শিক্ষা

Categories

প্রতিটি মহামারী, প্রতিটি দূর্যোগ প্রতিবার সমাজে একেকটা শিক্ষা নিয়ে আসে। কিছু দূর্যোগ শিক্ষা দেয় সমাজকে একত্রে বসবাস করার, কিছু শিখায় ধইর্য, আবার কিছু শিখায় ঈসশরকে যেনো ভুলে নাই তা। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাস আমাদেরকে যে শিক্ষা দিলো, তার থেকে আদৌ আমরা কিছু শিক্ষা নিলাম কিনা কে জানে। এই পৃথিবীর ভুখন্ড কে নিয়ন্ত্রন করলো, আর কে কাকে নিয়ন্ত্রন করতে পারলো, কোন ধর্মালয়কে কেনো কি কারনে খুলে দিলো, কতদিন পর খুলে দিলো, কার বিশ্বাস কোথায় গিয়ে শেষ পর্যন্ত ঠেকলো, এসব বিষয়ের বাইরেও আমি যেটা শিক্ষা পাইলাম তা হলো, আমরা সবাই একা এবং কেউ কারো জন্যই না।

একজন জীবিত মানুষের যে মুল্য, পরক্ষনেই সেই জীবিত মানুষটি যে এতো সস্তা এবং অবহেলিত, এটা আমার চোখে এবার খুব করে ধরা পড়লো। এই দুনিয়ার কোনো ধন সম্পদ, টাকা পয়সা কিংবা পজিশন কোনো কিছুই কারো কাছে মুল্য নাই। হোক সে দেশের প্রধান কর্মকর্তা, হোক সে সমাজের প্রধান কিংবা হোক সে বাড়ির কোনো হর্তাকর্তা। নিজের জীবনের যখন কারো হুমকী আসে, সে যতো ছোটই হোক বা বড়, তার নিজের হিসাব একেবারেই আলাদা। অন্য কোনো হোমরা চোমরা যেই হোক, যে যতো প্রতাপশালিই হোক, যে যতো সম্মানীয়ই হোক, যার যতো পয়সাই থাকুক, করোনা এই শিক্ষাটা চোখের মধ্যে আংগুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলো, আপনি আমার প্রিয় স্বামী ছিলেন তো কি হয়েছে? আপনার করোনা, তাই আমি আপনার সাথে এক বিছানায় ঘুমাইতে পারবো না। আপনি দেশের প্রধান কর্তা তো কি হয়েছে? আপনার করোনা হয়েছে, তাই আপনার ধারে কাছেও আমি যাবো না। যদিও যাই, তাহলে আমি এমনভাবে যাবো যেন আপনার কোনো কিছুই আমার ধারে কাছেও স্পর্শ না করে। দূর থেকে এবং ইশারায় কথা হবে আপনার সাথে আমার। কিন্তু আপনি তো কথাও বলতে পারবেন না, কারন আপনার কন্ঠনালি রুদ্ধ। আপনি ধর্মজাজক, তো কি হয়েছে? আপনার করোনা হয়েছে, আপনার কাছে বসে আমি ধর্মের কোনো বানিও শুনতে ইচ্ছুক নই। আপনি করোনায় মরবেন, তো আমি কি করবো? আমি আপনার জন্য দূর থেকে চোখের জল ফেলবো কিন্তু কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরবো না। এমন কি আপনার জানাজার জন্য কোনো লোকও পাবেন না। আপনি সমাজে এইডস রোগীর থেকেও খারাপ। আপনি দিনরাত পরিশ্রম করে এতো অঢেল পয়সা সঞ্চয় করে গেলেন আপনার এতো আদুরে বাচ্চাদের জন্য, তো কি হয়েছে? আপনার করোনা, তাই, আপনাকে আর আমাদের দরকার নাই। যদি বলেন যে, সমস্ত সম্পত্তি আমার জন্য আপনি বিলিয়ে দেবেন, তারপরেও আমি আপনার সাথে একা ঘরে আপনার জন্যে সময় দেবো না।

বিশ্বাস হয় না? খালী একবার মুখ ফুটে মিথ্যা মিথ্যাই বলুন এবং করোনা রোগীর মতো অভিনয় করুন যে, আপনার করোনা হয়েছে, তারপরের ইতিহাসটা নিজের চোখেই দেখুন।

করোনা এটাই বুঝিয়ে গেলো, আমি আপনি সবাই একাই। হিসাবটা পরিষ্কার।

 

তুমি মাঝে মাঝে আমাকে প্রশ্ন করো না যে, আমি এতো বুঝি কেনো? এতার অনেক কারন এবং ইতিহাস আছে।

২০/০৫/২০২০-যে নদীর স্রোতধারা থেমে যায়

Categories

মাঝে মাঝে আমার সাফল্যের দিকে তাকালে আমার নিজের ভাল লাগলেও কেনো জানি এটাও মনে হয়, আমার এই সাফল্যের দরকার ছিলো না। আমার আজকের দিনের সাফল্য না হলে সবাই একটা গন্ডির মধ্যে থাকতো। জীবন নিয়ে ভাবতো। চিন্তা করতো। অভাব মানুষকে একটা নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে একত্রে বসবাস করতে বাধ্য করে। ওর আচরন ইদানিং আমার কাছে অনেক উদ্দত্যপূর্ন মনে হয়। কোনো কিছুই বলা যায় না। আর্গুমেন্ট আর যুক্তির যেনো কোনো শেষ নাই। আমি আসলে ওর উপরে আমার কমান্ড এক প্রকার হারিয়েই ফেলেছি বলা চলে। আমার কোনো সুখের কথা, ভালো লাগার কথা, আমার কোনো সাফল্যের কথা, আমার কোনো কষ্টের কথা আজকাল ওর সাথে শেয়ার করা খুব মুষ্কিল। তার এসব শোনার কোনো যেমন সময় নাই, তেমনি ইচ্ছাও নাই বলে মনে হয়। কবে শেষ আমি আমার জীবনের একান্ত কিছু কথা ওর সাথে শেয়ার করতে পেরেছি , সেটা আর মনে পড়ে না। এর জন্য দায়ী আমি নিজেও। কিন্তু আমার কোনো অনুশোচনা নাই। ও নিজেও আসলে আমার অনেক কিছুই জানে না। এটা ওর ব্যর্থতা। ধীরে ধীরে মানুষ যখন কারো কম্পেনিয়ন থেকে সরে যেতে থাকে, তখন, অনেক কাছে থেকেও সে অনেক দূর। এই কাছে থাকার কোনো মানে হয় না যখন অন্তরে অন্তর লাগিয়ে কোনো কথা হয় না। তার থেকে বিস্তর দূরে থাকা এক প্রকার শান্তনাও ভাল।

তবে একটা অভিজ্ঞতা বলছি যে, মহিলাদের আর্থিক সাধীনতা যখন পরিপূর্ন হয়ে যায়, তখন তারা অনেক দেমাগী হয়ে উঠে। আর্থিক সাবলম্বিতা একটা নারী স্পেসিসকে অনেক বেশী ইমব্যালান্স করে দেয়। নারী স্পেসিসরা অতক্ষন পর্যন্ত ক্রিয়েটিভ, যতক্ষন পর্যন্ত তার কাছে নিয়ন্ত্রিত কমান্ড, ফান্ড, এবং রিসোর্স থাকে। যখনই এই জিনিষগুলি অঢেল আকারে হাতে চলে আসে, তখনই সে খেই হারিয়ে ফেলে বলে আমার ধারনা। ওর বেলায়ও আমার কাছে তাই মনে হচ্ছে। একা থাকা যায়, আর সেই একা থাকার জন্য যা যা লাগে এটা যখন নিশ্চিত হয়ে যায়, দেখা যায় মহিলা স্পেসিসরা অনেক বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা সাধারনত একা থাকাকে ভয় পায় না। বরং কারো চাপ নাই এটা ভেবে এক প্রকার শান্তিতেই থাকে। ব্যাপারটা আমি মাঝে মাঝেই উপলব্দি করি। কিন্তু আমি আবার ভুলে যাই। যদিও ভুলে যাই, তারপরেও আমার মধ্যে একটা ট্রান্সফর্মেশন হচ্ছে। আমি ধীরে ধীরে পরিবর্তীত হচ্ছি। হয়তো আরো সময় লাগবে।

আমার কিছু কিছু দায়িত্ত ছিলো। বিশেষ করে সংসারের জন্য। আমার এই দায়িত্ত প্রায় শেষের পথে। আমি ওকে সাবলম্বি করে দিয়েছি, মেয়েকে ডাক্তারী পড়িয়েছি। ছোট মেয়ে এখনো পাইপ লাইনে। তারপরেও হিসাব করলে দেখা যায়, সিংহভাগ দায়িত্ত প্রায় শেষ। এখন কে কিভাবে তাদের লাইফ সেট করবে বা করা উচিত বলে মনে করবে, এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এইসব ব্যাপার নিয়ে বা তাদের লাইফকে নিয়ে আমার কোনোই দরকার নাই বেশী করে ভেবে ভেবে আমার মানসিকতায় আঘাত করা। তাদের কেউ মানষিকভাবে সুখি হতে পারলো না, তাতে আমি কি করতে পারি? কেউ তার পরবর্তী লাইফে সেট করতে পারল না, তাতে আমি কি করতে পারি? আমার কাজ রশদ জোগান দেয়া। আমি সেটা করেছি কিনা তার উপর আমার নিজের সেটিসফেকসন নির্ভর করবে। হ্যা, যদি তাদের সাফল্যও আমার চোখে পরে তাহলে আমার সেটিসফেকসন হবে ডাবল যে, আমার সমস্ত চেষ্টা সার্থক হয়েছে, আমার ভালো লাগবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেয়ার পরেও যদি তারা কেউ সুখী না হয়, তাহলে আমার কি করার আছে? যদি কিছু করারই না থাকে, তাহলে উত্তম হচ্ছে, নিজেকে তার মধ্যে চুবিয়ে রেখে নিজের ক্ষতি না করা।  

আমি সেটাই করছি এখন। আমি জানি, আমার জন্য এখন অনেকেরই আর আগের মত এতো মহব্বত থাকার কথা না। সময়ও নাই। সবাই সবাইকে নিয়েই ব্যস্ত। এখন লাইফ সবার জন্য আলাদা। এক ঘরে থেকেও সবাই আলাদা আলাদা। কারো জন্য কারো সময় নাই। তারমধ্যে আবার, সবাই খালি বলতে চায়, কেউ শুনতে চায় না। তাই আমিও আর বলি না। যতোক্ষন নিজের কাছে মাল আছে, ততোক্ষন তুমি রাজা। এটা হোক কোনো মহিলারা ক্ষেত্রে, বা হোক কোনো পুরুষের জন্যে। তাই নিজের আরামের জন্য, আনন্দের জন্য সব কিছু একেবারে বিলিয়ে দিয়ে নিজে দাতা হাতেম তাই হওয়া উচিত না। এটা নিজের বউই হোক, আর ছেলেমেয়েই হোক, বা অন্য যে কেউ।

আমি একটা জিনিশ খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করছিলাম যে, তানির দাম্পত্য জীবনের ব্যার্থতার পর, ও নিজে তার পলিসি পালটেছে এইভেবে যে, যদি কখনো ওর জীবনেও এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তাহলে? তাই, আগে থেকেই এর সাবধানতার অংশ হিসাবে নিজে সাবলম্বি হই, তারপর যা হবার হবে। আর সম্ভবত এই ধারনার পরিপ্রেক্ষিতে যেখান থেকে অর্থ আসুক, সেটা আগে নিজের জন্য সেভ করে বাকী সব খরচ হতে হবে আমার কাছ থেকে যাতে তার নিজের সাবলম্বিতা নষ্ট না হয়। এই ধারনাটা আমার কেনো হয়েছে আমি জানি না, কিন্তু আমার ভিতরে যেনো এটাই মনে হচ্ছে ওর ব্যবহারবিধিতে। অনেক কিছুই যেন আগের মতো নাই। আমার কোনো দুঃখ নাই। আমি তো চেয়েইছিলাম, সর্বাবস্থায় ওরা ভালো থাকুক। এমন কি আমার জন্য না , ওদের জন্যই ওরা ভালো থাকুক।

কিন্তু আমি তো আমি। আমি সর্বদা এমন একটা ডিফেন্স লাইনে থাকতে চাই, যাতে অন্তত আমিও সর্বাবস্থায় কারো কাছে হাত পাততে না হয়। আমি জানি আমার কিছু লোন রয়েছে সোনালি ব্যাংকে। এই টাকাটা নিয়ে আমি চিন্তিত না। কারন যা লোন আছে তার থেকে অনেক বেশী আছে আমার এসেটস। তাই আমি ভাবছি, ধীরে ধীরে আমি আমার লাইফটাকেও এমনভাবে পরিবর্তন করবো যাতে কারো কাছেই আমার কোনো কিছুর জন্যই মুখাপেক্ষি হতে না হয়। এমনকি ওর কাছেও না। একসাথে থাকার মধ্যেও দূরে থাকার ব্যাপারটা আমি অভ্যস্থ হয়ে গেছি প্রায়। এটাও ও পেরেছে বলে আমার ধারনা। কিন্তু এটা আমার জন্য যতোটা না খারাপ, তার থেকে অনেক বেশি খারাপ ওর জন্যে।  

একটা কথা কখনোই আমি ভুলি না যে, যে নদীর স্রোতধারা থেমে যায়, তার জলের বিশুদ্ধতাও নষ্ট হয়। আমি কখনোই থেমে থাকতে চাই না। যেখান থেকেই হোক, যেভাবেই হোক, আমি আমার জীবনকে আনন্দেই ভরে রাখতে চাই। এটা যার বিনিময়েই হোক। আমার মাথা নত করার কোনো কারন আগেও ছিলো না, এখনো নাই।

১৫/০৫/২০২০-অর্থনীতি বিপর্যয়ের জননী

যারা এখনো মনে করছেন যে, লক ডাউনটাই হচ্ছে সমাধান, সেটা সম্ভবত সঠিক নয়। এ বিশ্ব অচিরেই করোনা মুক্ত হবে না। কোথাও না কোথাও এর পরিব্যপ্তি থাকবেই। ফলে বছরের পর বছর লক ডাউন ভাবা যায় না। কোথাও না কোথাও হয় আক্রান্ত, আক্রান্তের পর সুস্থ্য, আবার আক্রান্ত, আবার কেউ ক্যারিয়ার, কেউ আবার উপসর্গ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত ইত্যাদি নিয়েই ভবিষ্যৎ জনগোষ্ঠিতে মানুষ বিচরন করবেই। আর একজন মানুষই যথেষ্ঠ পুনরায় এই মহামারীর জন্ম দেওয়ার।

যে দেশই বলুক তারা লক ডাউনের মাধ্যমে দেশ করোনা মুক্ত করে ফেলেছে, তারা এখন সেফ। এটাও ঠিক নয়। তারা কি বিশ্ব বানিজ্য, বিশ্ব গনমানুষের আন্তরদেশীয় আনাগোনা বন্ধ করতে পারবে? পারবে না, আর পারবে না বলেই তারাও মুক্ত হয়েও আবার মুক্ত নয়। কারন যতোই চেকিং করে মানুষদেরকে নিজ দেশে ঢোকানো হোক না কেনো, উপসর্গবিহীন বহু মানুষ করোনা নিয়েও ঘুরে বেরাবেন যা সহজেই ধরা যাবে না। বছরের পর বছর লক ডাউন কার্যকরী করে রাখা সম্ভব নয়। ফলে, আজ হোক কাল হোক, লক ডাউন সবাইকে তুলে দিতেই হবে। কোনো না কোনো দেশ কোনো না কোনো কিছুর জন্যে এক দেশের না হয় আরেক দেশের উপর অবশ্যই নির্ভরশীল। ফলে অর্থিনীতির চাহিদার জন্যই সব উম্মুক্ত করতেই হবে।

লক ডাউনে যা ক্ষতি হয়েছে সেটা হচ্ছে অর্থনীতি। ক্ষতি হয়েছে সঞ্চিত সম্পদের ব্যয় এবং তা প্রায় নিঃশেষ। অর্থনীতি বিপর্যয় হচ্ছে সমস্ত বিপর্যয়ের জননী। আমি প্রথম থেকেই লক ডাউনের ফর্মুলায় বিশ্বাস করতে চাইনি। আমাদের ইসলামীক ইতিহাসও লক ডাউন করার ব্যাপারে কোনো তথ্য দেয় না। কিন্তু মহামারীতে আক্রান্ত জায়গা সমুহে অবাধ যাতায়তে নিষেধের আদেশ ছিলো। লক ডাউনে হার্ড ইম্মিউনিটি তৈরী হয় না। বরং সংক্রমন দীর্ঘায়িত হয় বছরের পর বছর। লক ডাউন একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

করোনার পরে যেটা মহামারী হয়ে আসবে তা হচ্ছে দুর্ভিক্ষ। আর এই দুর্ভিক্ষের একমাত্র মেডিসিন, অর্থনীত সবলতা। অর্থনীতি সবল হলে ঘরে চাল আসবে, ডাল আসবে, সব আসবে, সাথে স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মেটেরিয়ালও আসবে। আর এটাই বাস্তবতা। সচেতনতা এখানে বড় ব্যাপার। অসচেতন হলে ভালো রাস্তায়ও মানুষ দূর্ঘটনায় মারা যায়।

১০/০৫/২০২০-এই করোনায় যারা মাস গেলেই

Categories

(১) এই করোনায় যারা মাস গেলে মাইনে পাবেন বলে সিউর, তারা সত্যিকার ভাবেই ছুটি উপভোগ করছে, আর ফেসবুকে একটার পর একটা উপদেশ দিয়েই যাচ্ছেন, এই কইরেন না, ওই কইরেন তো ওখানে যাইয়েন না তো ওইখানে যাইয়েন ইত্যাদি। কিন্তু যারা বেতনের ব্যাপারটা সিউর না, তারা তো ডাল ভাতও পাচ্ছে না। উন্নত দেশগুলির চিত্র আলাদা। তারা ট্যাক্স দেয়, ফাকি দেয় না, ট্যাক্স পায় সরকার, বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব পায়, ফলে তারা তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে জনগোষ্ঠিকে আপদকালীন সাহাজ্য করা কোনো ব্যাপার না। কিন্তু আমাদের সরকার? তারা সবার কাছ থেকে তো ট্যাক্সও পায় না। এদেশের মাত্র ২০/২৫% লোক ট্যাক্স দেয়। আর সবাই ফাকিই দেয়। সরকারী কর্মকর্তাদের বেতনটাও করমুক্ত। অন্যদিকে, রাজস্ব আয়েও তো ভীষন রকমের ঘাটতি আছে দূর্নীতির কারনে। তাহলে সরকার বিপদকালীন সময়ে সাহাজ্যটা করবে কোথা থেকে? অর্থনীতিকে চালিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট মদদ নাই সরকারের কাছেও। ফলে যেখান থেকে সরকার যতটুকুই রাজস্ব আয় পাবে, সেগুলিকে তাকে খুলতেই হবে। প্রত্যক্ষ কর পুরোটা আদায় করতে পারে না বলে ভ্যাটের ওপর যেহেতু সরকার নির্ভরশীল, ঈদের আগে সম্ভবত সে কারণেই শপিংমল খোলার ঘোষণা। এছারা ওই ক্ষুদ্র মালিকদের জন্যেও একটা আপদকালীন কিছু অর্থ আসার আশা।

(২) এদেশ আসলে কিছু ফরেন রেমিট্যান্স আর কিছু রপ্তানীমুখী শিল্পের উপর নির্ভরশীল। ফলে এসব যদি কোনো কারনে হাতছাড়া হয় ভাবতে পারেন কি আছে সরকারের হাতে? মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির নিরিখে আমরা এখন বিশ্বের শীর্ষ কাতারে, অথচ রাজস্ব-জিডিপির অনুপাতে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে নিচের সারিতে। অর্থাৎ কর-ফাঁকির প্রবণতার দিক থেকে আমরা শীর্ষে। তাহলে সরকার করবেটা কি?

(৩) আরেকটা বিষয় হচ্ছে, এদেশে মানুষজন বেসিক্যালি ক্ষুদ্রশিল্পের উপর লোকালী নির্ভরশীল। তাদের প্রনোদনা কি? তারা কিভাবে আবার আগের প্লাটফর্মে আসবে যদি একেবারেই সব স্তব্ধ হয়ে যায়? সরকার সামাল দিতে পারবে এতো বিশাল বুভুক্ষ জনগোষ্ঠীকে লালন করতে? সরকার যদিও বেশ কিছু সেক্টরে লোন প্রনোদনা ঘোষনা করেছেন, কিন্তু আরও কয়েক সপ্তাহের আগে প্রণোদনার টাকা হাতে আসবে বলে মনেও হচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাসের বেশি এবং যেসব শর্ত ধরা হয়েছে, অনেকের জন্য এটা অর্থহীন। কে জানে, কীভাবে ওই সব শর্ত পূরণ করে কত দিনে বরাদ্দটা মিলবে? প্রণোদনার ধরনও খুবই অস্পষ্ট। তত দিনে মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে। তাদের অবস্থাটা কি? আমার আপনার বাসায় তো ডাল ভাতের জোগাড় আছে, কিন্তু ৮৬% লোকের তো সেটাও নাই? তাহলে কিভাবে তারা না খেয়ে ঘরে থাকতে বলি? আমি আপনি কি পারবো না খেয়ে দিনের পর দিন ঘরে পানি খেয়ে থাকতে?

(৪) করোনা ভাইরাস মহামারী আসলে একটা অর্থনীতি বিনাশী ঘটনা। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, অর্থনৈতিক সমস্যা—কিছুই এর সমতুল্য নয়। সমাজের ২৫ ভাগ লোক হঠাৎ স্থায়ীভাবে কঠিন বেকারত্বে পড়ে যাবেন, আর এটা সেরে উঠতে লাগবে কয়েক যুগ, হতে পারে আর আগের ফর্মে ফেরাই যাবে না। অর্থনীতি ধ্বংস হলে সমাজও থাকবে না, রাজনীতিও থাকবে না, গনতন্ত্র তো দূরের কথা। তছনছ করে দেবে পরিবার, সম্পর্ক, উদারতা, মানবিকতা কিংবা সজ্জনতা। একটা কথা আছে। অর্থনৈতিক বিপর্যয় বাকি সব বিপর্যয়ের জননী।

(৫) প্রচুর মানুষের কাছ থেকে কি পরিমান রিকুয়েষ্ট যে পাই, তা বলার ভাষা নাই। আগে তো সামর্থবান ফকির দেখলে ভিক্ষে দিতাম না, কিন্তু এখন কোনো বয়স বা জেন্ডার দেখি না, যা আছে সেটাই দিতে চাই, হয়তো এই মানুষটা ১দিন না খেয়ে তারপর হাত পেতেছে।

এই লক ডাউন কন্সেপ্টে অনেক ভুল আছে। লক ডাউনটা কত দিনের? ২ মাস, ৩ মাস,৬ মাস কিংবা আরো বেশি? কিন্তু এই করোনা ভাইরাস থাকবে আরো কম্পক্ষে ৪/৫ বছর। বর্তমানে কারখানা খোলা, শপিংমল খোলা বা এই জাতীয় বিজনেজ সচল রাখা মানে লাভের জন্য নয়, এটা পুরু দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ঠেক দেওয়া। যারা খালি ফেসবুকে বিজ্ঞের মতো মন্তব্য করেই যাচ্ছেন, তারাই বলুন তো, দেশে কত জনকে ব্যক্তিগতভাবে আপ্নি নিজে আর্থিক সাহাজ্য করেছেন? এবং কত টাকা? একটা পরিবারকে বাড়ি ভাড়া, বিল, খাওয়া এবং সব মিলিয়ে ঢাকা শহরে কম্পক্ষে ২০/২৫ হাজার টাকা লাগে। কয়জনকে পারবেন দিতে? খালি ৫ কেজি চাল আর ১ লিটার তেল দিয়ে কাউকে উপদেশ দিয়ে এটা বলা যাবে না যে, stay home. আসুন একটা জরীপ করি- কারা কারা এইসব মধ্যবিত্তদেরকে আগামি ৩/৪ মাস সাপোর্ট দিতে ইচ্ছুক। একজনকেও পাব না এ ব্যাপারে আমি শতভাগ সিউর। তাহলে এই শুকনা উপদেশে কার মন ভরবে? 

সহজ না উপলব্ধি করা। কিন্তু উপদেশ দেয়া খুব সহজ। তাই আগে অবস্থাটা আরো সামনের দিকে দ্রিষ্টি দিয়ে ভাবুন তারপর মন্তব্য বা উপদেশ যাইই করার করুন। সরকার এই মুহুর্তে আমার ধারনা একদম ঠিক সিদ্ধান্তগুলিই নিচ্ছেন।

এটার কোনো ডাউনফল পিক পয়েন্ট নাই। প্রতিটা নতুন সংক্রমন লকডাউনে থাকা ফ্রেসব্যক্তি পুর্ন উদ্যমে আবার নেক্সট স্টার্টিং পয়েন্ট হয়ে যায়। বরং কারেক্ট সোস্যাল ডিস্ট্যান্সিং (তাইওয়ানের মত, ৪৫৬ টোটাল আক্রান্ত, ডেথ মাত্র ৬, তাও আবার উহানের ঠিক পাশে থাকা দেশ) এবং হার্ড ইম্মিউন এর একমাত্র লং টার্ম সমাধান। অনেক উপসর্গহীন মানুষও করোনায় আক্রান্ত।

০৮/০৫/২০২০-দাস রায় দিতে পারেনা।

যখন আমার বান্দা ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করে, তখন আমি তাকে বন্ধু বলে জানি। যখন বন্ধু বলে জানি, তখন আমি তার কান হই যা দ্বারা সে শোনে, আমি তার চোখ হই যা দ্বারা সে দেখে, আমি তার হাত হই যা দ্বারা সে কিছু ধরে, আমি তার পদযুগল হই যা দ্বারা সে হাটে (হাদিসে কুদসি)।

ফলে, নৈকট্য লাভের উপায় অনুসব্ধান করো (সুরা মায়িদা ৫ঃ৩৫)। আল্লাহর ইবাদতে তুমি এমনভাবে মশগুল হও যেনো তুমি তাকে দেখতে পাচ্ছো। আর যদি দেখতে না পাও, তবে মনে রেখো, তিনি অবশ্যই তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন। যা আমি বলেছি, তা শরিয়ত, যা করেছি তা তরিকত, যা দেখেছি তা হাকিকত আর যা চিনেছি ও জেনেছি তা মারেফাত। (আল হাদিস)। পৃথিবীতে সফর করো ও দেখো অপরাধীদের কি পরিনাম হয়েছিলো (সুরা নমল-২৭ঃ৬৯) এবং দেখো, জানো এবং মানো আর লক্ষ্য করো পরিনতি-যারা করেছে আর যারা করেনি এবং (এক ধরনের হুমকী দিয়ে বলেছেনঃ) আমি কি এমনি এমনি ছেড়ে দেবো? (সুরা কিয়ামা-৭৫ঃ৩৬)

মন্তব্যঃ- সৃষ্টি তার, সার্বভৌমত্ব তার, তিনিই একমাত্র অধিপতি। আমরা তার দাস। যে দাস, সে রায় দিতে পারেন না। এখানে ন্যয্য কিংবা অন্যায্য কি সেটা বলার কোনো ইখতিয়ারও নাই। গায়ের জোর দিয়ে কিছুই বলা যাবে না কিংবা স্রিষ্টির সব রহস্য যেহেতু আমাদের জানা নাই, তাই আমাদের জ্ঞানের কোনো বিশ্লেষনও নাই। আমরা তো এটাও জানি না, কিয়ামতের পরে কি স্রিষ্টিকারী সব শেষ করে দিয়ে আবার চুপ করে থাকবেন নাকি পুনরায় আবার কোনো জগত তৈরী করে নতুন কোনো রহস্যা সৃষ্টি করবেন? সবই তো রহস্যা। জ্ঞানের স্তর অনেক। আমাদের যার যার জ্ঞানের পরিধিতে একই জিনিষ পরিমাপ করতে পারি না। জ্ঞান নিজেও একটা রহস্য।

০৮/০৫/২০২০-সবকিছুতেই পোষাকশ্রমিক

এই করোনা পরিস্থিতিতে মিডিয়ায়, টকশো তে গার্মেন্টসের উপর পরিবেশিত খবরগুলি দেখে ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে একটা সন্দেহ জাগছে যে, ভাবখানা যেনো এ রকম, গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে তারা সরকারের বিধিনিষেধ থাকা সত্তেও সরকারের আদেশ উপেক্ষা করে ফ্যাক্টরীসমুহ খোলা রাখছেন। আর যেহেতু খোলা রাখছে, ফলে দূরদুরান্ত থেকে শ্রমিকগন কেউ চাকুরী রক্ষার কারনে, অথবা বেতন পাবেন না অনুপস্থিত থাকলে ইত্যাদি কারনে পায়ে হেটে হেটে সেই গ্রামগঞ্জ থেকে কারখানার উদ্দেশ্যে রাস্তায় বের হয়ে গেছেন। এই ব্যাপারটা কি এইরকমই যে রকম করে বিভিন্ন মিডিয়া প্রকাশ করছে?

ব্যাপারটা অবশ্যই এই রকম না। ২৬ মার্চ ২০২০ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা মহামারী উপলক্ষ্যে দেশের উদ্দেশ্যে ভাষনের সময় কলকারখানা বন্ধ রাখার কথা কিছুই বলেন নাই। তবে প্রচুর বৈদেশিক আদেশ পর পর বাতিল হয়ে যাওয়ার ফলে এবং আরো অর্ডার বাতিল হয়ে যাওয়ার আশংকায় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী তথা দেশের অর্থনীতিতেও একটা আতংকের সৃষ্টি হয়। আবার অন্যদিকে সরকার সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিলেন যে, জরুরী কোনো কাজ না থাকলে যেন কেহ ঘরের বাইরে না যান। বিকেএমই এ সরাসরি সমস্ত কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার আদেশ জারী করে কিন্তু বিজিএমইএ সে রকম সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন নাই। এমতাবস্থায় ২৮ মার্চ তারিখে বিজিএমইএ এর অধীনে  কলকারখানাগুলি খোলা থাকবে কি থাকবে না, এটা নিয়ে মালিকপক্ষের মধ্যে বিস্তর সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তিতে ২৭ মার্চ ২০২০ তারিখেই সরকারের পক্ষ থেকে সরকারের কলকারখানা অধিদপ্তর থেকে সুস্পষ্ট একটি নির্দেশনা এলো। আর সেটি হচ্ছে, যে সমস্ত কলকারখানায় আন্তর্জাতিক এক্সপোর্ট অর্ডার আছে এবং যে সব কারখানায় করোনার প্রোটেকশনের নিমিত্তে পিপিই, মাস্ক ইত্যাদি বানানো হয়, সে সমস্ত ফ্যাক্টরির মালিকগন প্রয়োজনীয় করোনা প্রতিরোধ ব্যবস্থার গ্রহনের নিমিত্তে (যেমন শ্রমিকদের প্রবেশের সময় ১০০% সেনিটাইজার/সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে, মাস্ক পড়িয়ে, থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে বডি টেম্পেরেচার মেপে ইত্যাদি) ই্ছে করলে কারখানা খোলা রাখতে পারবেন।

কিন্তু যে কোনো ভাবেই হোক ২৯ মার্চ ২০২০ তারিখে বিজিএমই এ সভাপতি  ডঃ রুবানা হক পুনরায় মালিকদেরকে কারখানা সমুহ বন্ধ রাখার অনুরঢ করেন। বাধ্য হয়েই আমরা সেটা পালন করি। এর মধ্যে আরেকটি ঘটনা ঘটে গেলো। যারা দূর দুরান্ত থেকে ঢাকায় এসেছিলেন, তারা আবার ঢাকার বাইরে চলে গেলেন। এই যে আসা এবং যাওয়ার মধ্যে প্রচুর লোক সমাগম হ ওয়াতে টক শো এর বিজ্ঞ এবং আদার বেপারী জাহাজের খবর নেবার মতো বিশেষজ্ঞরা একটা পরিচিতি লাভের আশায় সবার সাথে তাল মিলিয়ে একবাক্যে প্রচার করা শুরু করলেন, যতো দোষ, সব যেনো নন্দ ঘোষের। অর্থাৎ গার্মেন্টস মালিকদের। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে এবারো কোনো দিক নির্দেশনা এলো না যে, কল কারখানা বন্ধ রাখা হোক। বরং কল কারখানা চালুর রাখার ব্যাপারে এবারো কল কারখানা অধিদপ্তর খোলা রাখা যাবে এই মর্মে আবারো আদেশ জারী করেই রাখলেন।

অথচ অন্য দিকে সরকার কাউকেই ঘরের বাইরে আসতে দিতে নারাজ। ফলে ব্যাপারটা এমন দেখাচ্ছে মিডিয়াগুলি যেনো, সব দোষ গার্মেন্টস মালিকদের, আর তাই অপবাদ যেনো গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের। এটা কেনো?

কিছু লোক আছে সবসময় সবকিছুতেই পোশাকশ্রমিক নিয়ে বেশি মাতামাতি করেন। এদের উদ্দেশ্য কি ?

বাংলাদেশে আজ ৮ মে পর্যন্ত ১৩০০০ করোনা রোগি, এর মধ্যে পোশাক শ্রমিক ১৯৬ জন, পুলিশ ১৫০০ জন। পোষাক শ্রমিক ৪০ লক্ষ, তাদের মধ্যে করোনা রোগি ১৯৬ জন। পুলিশ ২ লক্ষ, তাদের মধ্যে করোনা রোগি ১৫০০ জন। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি, তাদের মধ্যে করোনা রোগি ১৩০০০ জন। বাংলাদেশের মোট শ্রমিক সংখ্যা ৬ কোটি, এর মধ্যে পোশাকশ্রমিক ৪০ লক্ষ।

তাহলে সবকিছুতেই পোষাকশ্রমিক হেডলাইন করে মাতামাতি করেন কেন? এটা একটা চক্রান্ত। 

যারা গার্মেন্টস ব্যবসায়ী, তারা কি করোনাকে ভয় পান না? তাদের কি পরিবার পরিজন নাই? যে কোনো মুহুর্তে তিনি নিজে আক্রান্ত হয়ে তার পরিবারকেও তো আক্রান্ত করতে পারেন, তার কি সেই ভয় নাই? তিনি কি এতোটাই গরীব যে, তার ঘরে খাবার নাই বলে তিনি রোজগারের জন্য কারখানা খোলা রেখেছেন? তিনি কি ঘরের মধ্যে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে পারেন না? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুব সহজ।

এই গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরাও করোনাকে ভয় পান, তারা নিজেরা আক্রান্ত হলে তার নিজের পরিবার পরিজনও বিপদের সুম্মুখিন সেটাও তারা জানেন। তিনি এতোটা গরীব নন যে, তাকে অন্তত কয়েক মাস ঘরে বন্দি হয়ে থাকলেও রোজগারের বাইরে যেতে হবে। তাহলে তারপরেও তারা কারখানা খোলা রাখছেন কেনো? এর প্রধান কারন, সরকার জানেন, যে, এই সেকটর খোলা রাখা জরুরী। আর জরুরী এই জন্য যে, দেশের জনগনকে সেবা দেওয়ার জন্য যে খরচ, যে ব্যয়, যে, অর্থ প্রয়োজন, তার একটা বড় উতস আসে এই সেকটর থেকে। শুধু তাই নয়, সবচেয়ে যিনি বেশী ভেবেছেন তা হচ্ছে দেশের কর্নধার হিসাবে যিনি দেশ পরিচালনা করছেন তিনি, প্রধানমন্ত্রী। আমি কোনো দল করি না, আমি রাজনীতিও করি না। কিন্তু আমি একজন নিরপেক্ষভাবে কিছু মন্তব্য করে চাই।

সারাবিশ্ব এই মুহুর্তে প্রায় লক ডাউন। প্রতিটি নাগরীক প্রায় গৃহবন্দি। বিশ্ব বাজারের সবগুলি ষ্টোর, ওয়্যার হাউজ, বড় বড় শপিংমল সবকিছু বন্ধ থাকায় কোনো প্রকারের বেচাকেনা, বানিজ্য আদানপ্রদান একেবারেই নাই বললেই চলে। সারাবিশ্ব একেবারে স্থবির। এই অবস্থায়, ধনী দেশ গুলির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, নাগরীক ভাতা, ইত্যাদি দিয়ে কিন্তু তাদের জনগনকে মাসের পর মাস সাপর্ট দিতে বদ্ধপরকর। আর ওটা অই সব সরকারগুলি করতে পারেন কারন শান্তিকালীন সময়ে প্রতিটি নাগরীক তারা সরকারকে সঠিক ট্যাক্স দেন, তারা ব্ল্যাক মানি রাখেন না, কিংবা তারা দেশের সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করেন। তাই সরকার আপদকালীন সময়ে ঠিক সাহায্য তা করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থা কি তাদের মতো? আমাদের দেশের ৬০-৭০% মানুষই তো প্রায়  ট্যাক্স দেন না, হেলথ ইন্সুরেন্স করেন না, আবার দেশের সম্পদ যখন যেভাবে খুশী অপচয়, চুরি ডাকাতিতে এমন থাকেন যে, সরকার আপদকালীন সাহায্য করবে কি দুরের কথা প্রশাসনিক কর্মকান্ডই তো পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হয়।

এই অবস্থায় সরকারের পক্ষে কি কোনোভাবেই সম্ভব এই বিশাল জনগোষ্টিকে মাসের পর মাসে হাউজ কোয়ারেন্তাইনে রেখে ভরন পোষন করা? তার মধ্যে সরকার যেটুকু টাকা বৈদেশিক মুদ্রায় লাভ করেন, রপ্তানী থেকে, রেমিট্যান্স থেকে সেগুলি যদি একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে তো দেশের অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে উঠবে।  

২৯/০৪/২০২০-মাননীয় ইচপিকার

ফেসবুকে কিছু কিছু লোকের কিছু কিছু সাবজেক্টে কমেন্টস আর যুক্তি শুনলে মনে হয়, দুনিয়ার কোনো সাব্জেক্টেই তেনাদের জ্ঞানের কোনো কমতি নাই। রোগতত্তের উপরই হোক, অর্থনীতির উপরই হোক, গ্লোবাল রাজনীতির উপরই হোক, মনে হয়, ওরে বাবা, না জানি কত বড় জ্ঞানি। কিন্তু যদি জিজ্ঞাস করেন, বলেন তো বাংলাদেশের রাজধানীর নাম কি? অথবা বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস কোনটা অথবা বিজয় দিবস কোনোটা, দেখবেন, বলতে না পাইরা বলদের মতো দাত কেলাইয়া হাসবে। আবার হাসিটাও এমুন, যেনো নুরানী মার্কা।

আবার কিছু লোক আছে যারা জীবনে কিছুই হইতে পারে নাই, কিন্তু অন্যে কেনো সফল হইলো, তারজন্য মনে তার এক প্রকার ভীষন জ্বালা। অধিক মরিচ খাইয়া হাগু করতে গেলে যেমন জ্বলে, ঠিক এই রকম তাগো কইলজার ভিতরে সারাক্ষন জ্বলতেই থাকে। ঠান্ডা পেপ্সি কিংবা লাবাং খাইলেও কোনো কাজ হয় না। জ্বলা আর কমে না। তাই যতো পারো সুযোগ পাইলেই এই সফল লোকগুলির বিরুদ্ধে যতোপদের চিলিকবাজী মন্তব্য আছে, করতে কোন দিধা নাই। পরের পাছা, মরিচ দিতে অসুবিধা নাই। বড়ই মজা। এদের কিন্তু জীবনে বড় হইবার খায়েস কখনো যায় না। খালি সপ্ন দেখে, আর ভাবে, হালার শর্ট খাট রাস্তাটা কি? খালি সটখাট মারবার চায়, খুইজ্জা পায় না। এরা আবার মাঝে মাঝে ফেয়ার এন্ড লাভলীও মাখে। এরা কথায় বড় ধান্দাবাজ। এরা যখন কথা কয় তখন আমজনতা (আমজনতা কারা, ব্যাখ্যাটা করতাছি একটু পরে) তন্ময় হইয়া শুনতেই থাকে। আর ভাবে, আরে, ভাই, এতো দেখি মহাজ্ঞানী, এরেই তো খুজতাছি। এতোদিন কোথায় ছিলেন, বনলতা সেন টাইপের আকুতি। আমজনতা তার কথা শোনার পর আবার মোবাইল নম্বরটাও চাইয়া লয়, যদি কখনো আবার কাজে লাগে। কিন্তু মজার ব্যাপার হইলো গিয়া, এরা কারো কাজেই লাগে না, নিজেরও না। এরাই অন্যের বড় বড় বানী টাইম মতো মুখস্থ ছাইরা দেয়, অন্যের ছোট খাটো লিমিটেশন্স মস্ত বড় কইরা ঢেকুর তোলে, এরা সারাক্ষন মাইনষের পোন্দের মধ্যে মরিচের গুড়া মাখতেই থাকে।

আবার কিছু পাবলিক আছে, খায় মালিকেরটা, কাম করে পরের অধীনে, কিন্তু সুযোগ পাইলে ওই মালিকের পাছায় বাশ দিতে একটুও কার্পন্য করে না। ভাবখানা এই রকম যে, হালায় মালিক হইলো কেন? আমি তো হের থেকে আরো সুন্দর ইংরাজী কই, আমি তো ব্যাকব্রাশ চুল আচড়াই, আমার চেহারা তো হের থেকে আরো সুন্দর, হালায় আমি ক্যান মালিক না। মারো পোদে বাশ। যেই না আবার সমস্যায় পরে, পুনরায় তেল দিতে দিতে আর জুতার তলা ক্ষয় করতে করতে আবার এইসব মালিকের পা ই ওরা চাটতে পছন্দ করে, যদি একটা ইঙ্ক্রিমেন্ট পাওয়া যায় তার আশায়।

আবার কিছু পাবলিক আছে, তার তথাকথিত বুদ্ধিমান বন্ধু কোনো একটা পোষ্টে একটা মন্তব্য করছে, তার কাছে মনে হইলো, ওর বন্ধু তো মনে হয় বুইজ্জাই মন্তব্য করছে। আর কোনো চান্স নেয় না, এক্কেবারে তার সাথে ঢোল পিটাইয়া লাইক দেয় আর কয়, আমিও সহমত। আরে হালার ভাই, সহমত দিবি না সহমরনে যাবি, যা, কিন্তু বুইজ্জা তো ক? এখানেই শেষ না, পারলে আরো কিছু যোগ এমনভাবে করে যেনো আদার বেপারী জাহাজের খবর তো নেয়ইে, পাশাপাশি টাইটানিকের নেয়। কারন ওই তথাকথিত বুদ্ধিজীবি অকর্মন্যা বন্ধুর লগে সহমত না হইলে তো আমার প্যাদা খাওয়ার সম্ভাবনা আছে। প্যাদা যদি নাও খায়, বোদাই হিসাবে গন্য হইবার সমুহ সম্ভাবনা তো থাকেই। তাই সহমত হইলে আর কোনো রিস্ক থাকে না। এর মধ্যে আবার এমন কিছু আবাল টাইপের বন্ধুও আছে, যারা আবার ইচ্ছা কইরাই সহমত হয় না। ওরা আরো এক ধাঁচ উপরে। তিনি আবার সহমত না প্রকাশ কইরা, এমন এক মন্তব্য ইংরেজী বাংলায় লিখেন যেনো পইড়া মনে হয়, হায় রে ইংরাজী। যদি ব্রিটিশরা এই ইংরাজি পড়তো, তাহলে, ভারতবর্ষে ওই যে, ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলন হইছিলো, সেটার আর কোনোই প্রয়োজন হইতো না। ব্রিটিশ সরকার এম্নিতেই মাফ চাইয়া কইতো, ভাই আমাদের ইংরেজী ভাষাকে আর পোদ মাইরেন না, আমরা ভারতবর্ষ ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইবো।

আবার এমন কিছু লোক আছে, প্রিন্ট বা ছাপানো কিছু দেখলেই মনে করে, আবে হালার, এইতো পাইছি অরিজিনাল খবর। তাহলে তো ব্যাপারটা সত্যি। যায় কই। লাগলো এর পিছনে যুক্তি মারা। এটা গুজব না, সজব, না মিথ্যা নাকি একটা চক্রের কাম, সেটা কোনো ব্যাপার না। ছাপার অক্ষরে লেখা আছে না? সত্য না হইয়া যায় কই? এইসব পাবলিক আর্বি ভাষায় কোনো পর্ন পত্রিকা দেখলেও সেটা পবিত্র মনে করিয়া বুকে জরাইয়া চুমা খাইবে। কারন এই পাবলিকগুলি কোনটা যে কি কিছুই বুঝে না। হে ঈসশর, তুমি এদের হেদায়েত করো।

আবার কিছু লোক আছে, অতি সাধারন। যাহা দেখে তাহাই বিশ্বাস করে। এদের বলা হয় আমজনতা। ওই যে আগে বললাম। বেশীর ভাগ আমজনতা না বুইজ্জাই ফেসবুকের খবর, ভিডিও, পোষ্ট পড়ে আর রিয়েকশন দেয়। রাত জাইজ্ঞা জাইজ্ঞা ফেসবুক করে। এরা কখনো আবেগে কান্দে আর টিস্যু দিয়া চোখ মুছে । কখনো কখনো খিলখিল কইরা হাসে। আবার কখনো কখনো এমনি এমনি চুপ কইরা বইয়া থাকে আর কি জানি ভাবে। মাঝে মাঝে আবার দুই হাত তুলে ঈশ্বরের কাছে মুনাজাতও করে। এরা নীতিবান। কিন্তু এরা কোনো ফ্যাক্টর না। কিন্তু এরাই সবচেয়ে বেশী গুজবটা ছরায়।

কারন উপরের যা যা দেখলেন, এই আমজনতা সবগুলিই শেয়ার করে।

১৮/০৪/২০২০-Every Action has an Equal

Categories

লুকানো এক জিনিষ আর বিভ্রান্ত করা আরেক জিনিষ। আমার কাছে মনে হচ্ছে, সব সময়ই গার্মেন্টস সেকটর নিয়ে বিভিন্ন স্তরে সর্বদা শুধু সত্যকে লুকিয়েই রাখা হয় না, বিভিন্ন মনগড়া তথ্য দিয়ে একে বিভ্রান্তও করা হয়। কিছু কিছু জিনিষ সামনে আসতে অনেক সময় লাগে আবার কিছু জিনিষ সামনে আসতেই দাবিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু মজার আর সত্য ব্যাপার হলো, কিভাবে কখন জল মাথার উপর উঠে যায়, কেউ জানে না। আর জল যখন মাথার উপর উঠে যায়, তখন যা প্রয়োজন তা হচ্ছে বাইরের থেকে আচমকা সাহাজ্য। আর যদি সেই বাইরের থেকে আচমকা সাহাজ্য না আসে তখন যিনি ডুবে আছেন, তার সাথে আরো অনেকেই জ্লে ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আরএমজি সেক্টর এখন সেই অতল জলের ঠিক বিপদ সীমার‍ লাইন বরাবর চলছে। এর প্রতিফলন আমরা দেখবো জানালা দিয়ে নয়, সরাসরি সদর দরজা দিয়ে। দুর্ভিক্ষের বীজ ইতিমধ্যে বুনা হয়ে গেছে, এখন বাকী শুধু মৃত্যুর ফাদে আটকে পরার সময় গুনা। কেনো বললাম জানেন?

বললাম এ কারনে যে, যেভাবে সাইন্স প্রমানের উপর ভিত্তি করে এগিয়ে যায়, ঠিক সেভাবেই অর্থিনীতির সুচকের মাপকাঠির তথ্য প্রমানের উপর ভিত্তি করেই বিশ্ববানিজ্য এগিয়ে বা পিছিয়ে যায়। আর এই প্রমান কি করে পাওয়া যায়? পাওয়া যায় যখন সেটা নির্দিষ্ট পথে খোজা হয়। আর এইপথ কোথা থেকে খোজা হয়? অতীতের সুত্র বা ডাটা অথবা আগামি দিনের সুচক ধরে। যেটাকে বলা হয় ইম্পেরিক্যাল ডাটা। আর তদন্ত গবেষনা ডিপার্টমেন্টে একে বলে কেস হিষ্ট্রি।

কোথায় যেনো একটা ভুল থিউরী কাজ করছে, যা সবাই আন্দাজ করতে পারলেও দেখতে পাচ্ছে না। যে কোনো আলোড়ন প্রথমে মৃদুকম্পন দিয়েই শুরু হয়। একটা সময় আসবে, হয়তোবা সময়টা খুব কাছেই চলে আসছে যখন এই মৃদুকম্পন একটা বড় আলোড়ন হয়ে দেখা দেবে, তখন কেউ আতংকিত থাকবে, আবার কেউ আফসোস করবে। কিছু জিনিষ সময়েই ঠিক করতে হয়, তা না হলে পড়ে অনেক বেশী মুল্য দিতে হয়।

মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ৫ বিলিয়ন উধাও হয়ে যাচ্ছে আমাদের সুচক থেকে। অর্থাৎ বছর শেষে ২০ বিলিয়ন। কারো কলশীতেই যখন পানি থাকবে না, কারাকারি করেও কেউ পানি পাবে না। পানি থাকলেই তো তখন তা পাবার সুযোগ থাকে, কলসীটা যারই হোক। এটা সায়েন্স, কোনো স্লোগান না।

১৮/০৪/২০২০-ঝং

Categories

এই যে ছবিটা দেখছেন? এটা গার্মেন্টস শিল্পের  একটি নীডল আর প্রেসারফুট এর ছবি। ইতিমধ্যে ঝং ধরেছে। এই নীডল আর প্রেসারফুটে যতো ঝং ধরবে, দেশের অর্থনীতিতেও ততোই ঝং ধরা শুরু হবে। এই রকম হাজার হাজার শিল্প কারখানা ঝং ধরার কারনে পৃথিবীর বহু জাতী অর্থনইতিক ধংশের মুখে পতিত হয়েছে আবার যারা এর সুরক্ষা করেছে, তারাই উপরে চলে এসছে। গুটিকতক মানুষকে দিয়ে যেমন একটা বাহিনীকে বিচার করা যায় না, আবার গুটিকতক খারাপ শিল্পপতিকে কাউন্ট করেও পুরু শিল্পকেও বিচার করা যায় না। 

১৪/০৪/২০২০- ডাচ ডিজিজ।

Categories

আজ থেকে ৭ বছর পূর্বের কথা! তখন ভেনিজুয়েলার জিডিপি ছিল ৫.৬৩%। জনসংখ্যার মাত্র ২০% দারিদ্র সীমার নিচে। সৌদি আরবের পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি তেল মজুদ দেশটির! চীন তখন দেশটির খুব কাছের বন্ধু। শক্তিশালী অর্থনীতি! এত তেলের মজুদ! আমেরিকাও ওকে ঘাটাতে চাইতো না!

এখন ২০১৯ সাল। মাত্র ৭ বছরের ব্যবধানে দেশটির অর্থনীতি ভেঙে গোরস্থান হয়ে গেছে। কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা যুদ্ধ ছাড়াই দেশটি এখন বিশাল অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। যার পরবর্তী ধাপটির নাম দূর্ভিক্ষ! মূদ্রাস্ফীতি ৮০,০০০% অতিক্রম করেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে ২০১৯ শেষে তা ১০০,০০০% অতিক্রম করবে।

এই সংকটের প্রধান কারণ বলা হচ্ছে দুটি-

১. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থের হিসাবে প্রতিনিয়ত গরমিল।

২. ডাচ ডিজিজ।

ডাচ ডিজিজ রোগটা যেকোনো দেশের জন্য বেশ ভয়ঙ্কর। এই রোগের লক্ষণ ৩টি-

১. দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০% আসবে কোনো একটা নির্দিষ্ট সেক্টর থেকে।

২. জিডিপি বাড়তে থাকবে খুবই দ্রুত। মানুষ তার জীবনযাত্রার মান বাড়াবে। শ্রমিক তার বেতন বাড়াবে আরো সুখে থাকার আশায়। তাদের জীবনযাত্রার সাথে তাল মেলাতে আমদানি নির্ভর অর্থনীতি গড়ে উঠতে থাকবে।

৩. সমাজের ক্ষুদ্র একটা অংশ বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে আর সিংহভাগ মানুষের সম্পদ, উপার্জন কমতে থাকবে।

এই সুখের সংসার ততদিনই টিকে থাকবে, যতদিন একটি নির্দিষ্ট সেক্টর দেশকে ৮০% আর্থিক সাপোর্ট দিতে থাকবে।

ভেনিজুয়েলার ৮০%-ই আসতো তাদের তেল রপ্তানি থেকে। ২০১৪ সালে আরব বসন্তের ঝাকুনিতে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম কমার সাথে সাথেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তাদের এত দিনের শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত্তি!

বাংলাদেশের জিডিপি গ্রোথ রেট এখন ৮% এর উপরে (সরকারি হিসেব)। রপ্তানি আয়ের ৮১%-ই আসে গার্মেন্টস থেকে। আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধিও অন্য যেকোনো দেশের চাইতে বেশি!

এদেশেও ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে। ব্যাংকের টাকা পাচার হয়ে চলে যাচ্ছে বিদেশে। বিনিয়োগও হচ্ছে বাইরের দেশে। আবার ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধির তালিকাতেও ১ নম্বরে বাংলাদেশ! সবচেয়ে বেশি আয় বৈষম্যের দেশের তালিকাতেও বাংলাদেশ উপরের দিকে!

অর্থাৎ আমরা অলরেডি ডাচ ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে গেছি! এখন দরকার সামান্য একটা ধাক্কা, তাতেই...

এই ধাক্কাটা নানাভাবেই আসতে পারে।

কতদিন চলবে এমন সুদিন? আমাদের এই সেক্টরের ভবিষ্যত কী সুরক্ষিত?

অবশ্যই না। এই সেক্টরটা বেদুইনদের মত একদেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরে বেড়ায় এর বেঁচে থাকা নির্ভর করছে ২টি বিষয়ের উপর-

১) Low making cost

২) Low shipment cost

চীন আফ্রিকার সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলগুলাকে দখল করে নিচ্ছে। এ বছরেও ৫০ বিলিয়ন ডলার লোন দিয়েছে শুধু আফ্রিকার দেশগুলোর অবকাঠামো ঠিক করার জন্য। সেসব কাজের ঠিকাদারি করছে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোই। বেশ জোরেশোরেই চলছে নির্মাণ যজ্ঞ। বড় বড় ব্রীজ, বিরাট সব পাওয়ার প্লান্টের কাজ চলছে। টাকা দিচ্ছে চায়না, কাজ করছে চায়না, শুধু লোনটুকু ফিরিয়ে দেবে আফ্রিকা! বাজি ধরেই বলা যায়, আগামী পঞ্চাশ বছরের মধ্যে চীন বিশ্বে নতুন ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে।

চীন জানে আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলো তাদের টাকা ফিরিয়ে দিতে পারবে না, যেমনটা পারেনি শ্রীলঙ্কা। লোনের দায়ে হাম্বানটোটা বন্দরকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিতে বাধ্য হয়েছে লঙ্কানরা। আফ্রিকার সমুদ্র বন্দর এবং সস্তা শ্রমের দিকেই নজর চীনের।

এইসব সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলগুলো পুরোপুরিভাবে তৈরি করার পরপরই চীন যা করবে তা আমাদের জন্য ভয়ংকর দুঃসংবাদই বয়ে আনবে।

শিল্প বিপ্লবের প্রথম ধাপে ঘটে বস্ত্রশিল্প বিপ্লব। সুতরাং আবারো গার্মেন্টস সেক্টর চলে যাবে চীনের বলয়ে। ইতিমধ্যে ইথিওপিয়ার মত দেশও আমেরিকার কাছ থেকে বড়সড় অর্ডার নিচ্ছে। ওদের মজুরিও আমাদের চেয়ে কম। আফ্রিকা থেকে আমেরিকা-ইউরোপ বেশ কাছাকাছি। সুতরাং কমে যাবে শিপিং কস্ট। ওদের শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়লে এবং এই খাতটা একটু ম্যাচিউরড হলেই ইউরোপ আমেরিকার বায়াররা বাংলাদেশের মতো দূরবর্তী দেশে আসবে না- একথা বলাই বাহুল্য।

এভাবে যদি এই সেক্টরটা ধসে পড়ে তাহলে আমাদের বিকল্প ব্যবস্থা কী? ভিয়েতনাম ইতিমধ্যে হেভি ইন্ডাস্ট্রিতে কনভার্ট হয়ে গেছে। ইন্ডিয়া তথ্য প্রযুক্তিতে খুবই স্ট্রং জায়গায় চলে গেছে। ওরা ব্যাকআপ তৈরি করেছে। আমরা কী করেছি?

এখন প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, আয় বাড়ছে বলে কি সবসময় বাড়বে? একসময় এটা স্থির এবং মাইনাস হবেই। ভেনিজুয়েলা ২০১২-তে বেশ সুখে ছিল। এখন? দেশের মানুষগুলো কোনোরকম যুদ্ধ বিদ্রোহ ছাড়াই দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে, উদ্বাস্তু হয়ে অন্য দেশে ঢুকে মার খাচ্ছে।

ভেনিজুয়েলা মধ্যপ্রাচ্যের আরব বসন্তের পরোক্ষ শিকার। কোন দেশের কোন ঢেউ এসে এখানে আঘাত হানবে কে জানে! যাতে এখনই আমাদের সাবধানতা প্রয়োজন এবং কেবলমাত্র একটি খাতের নির্ভরতা এড়ানো উচিত আমাদের অন্যান্য খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

আমার মন্তব্যঃ

লোকাল সেক্টর দিয়ে আভ্যন্তরীন চাহিদা হয়তো কিছুটা ঠেকানো সম্ভব কিন্তু ফরেন কারেন্সী দেশে প্রবাহ না করতে পারলে না অনেক কিছুই করা সম্ভব হবে না। বাহিরে লেখাপরার ব্যয়, সাস্থ খাতে বাহিরের চিকিতসা বনাম মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টস আমদানী, পেট্রোলিয়াম কোনো আইটেম অথবা এমন সব নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ যা অন্য দেশ থেকে আমাদের আমদানী করতে হবে লোকাল সেক্টরকে জীবিত রাখতে, সেই সব মালামালের জন্য আমদানীতে ফরেন কারেন্সী না থাকলে আমাদের পক্ষে কোনো কিছুতেই দারানো সম্ভব না। রেমিট্যান্স প্রায় শুন্যের কোটায় দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, পাট শিল্প এখন আর সোনার ডিম নয়, চিংড়ি খাত ভংগুর, এখন বাকী আছে শুধু গার্মেন্টস সেক্টর। সেটাও এই করোনা এবার ভালোভাবেই আক্রান্ত করেছে।

যদি একে হাতছারা করি, তারপর কি? অনেক বিজ্ঞজনেরা অনেক কিছু না জেনেই অনেক মন্তব্য করেন বটে, কিন্তু যেদিন নিজের প্লেটে আর আগের মতো বিরিয়ানী আর পিজ্জা উঠবে না, তখন মনে হবে- সোনার ডিম পাড়া মুরগীটা গেলো কই?

 (লেখাটা আমাদের গার্মেন্টস শিল্পের এক মালিক নজরুল ভাই এর হোয়াটস আপ গ্রুপ থেকে নেয়া)

১৩/০৪/২০২০-করোনা এবং গার্মেন্টস শিল্প

যে যাইই কিছু বলুক আমাদের এই গার্মেন্টস শিল্পকে ব্যাংগাত্তক করে, কেউ একে রক্তচোষা মালিক পক্ষ বলেন, কেউ কেউ মনে করে এই শিল্পের মালিকগন মাসে মাসে কোটি কোটি টাকা আয় করেন আর ঘুরে বেরায়। যারা এইসব কথা বলেন, তারা এর সেকটরে ১% জ্ঞান রাখেন না বলেই আমার ধারনা। যে দেশে ৮৬% ফরেন কারেন্সী আয় করেন যে সেক্টর, যে সেক্টর আমাদের অন্যান্য খাতের জরুরী জিনিষ ক্রয়ের নিমিত্তে ফরেন কারেন্সি সরবরাহ করে, যে সেক্টর দেশের উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশী কারেন্সীর ব্যবস্থা করে, যে সেক্টর আপনি যে গাড়িটা চালান তার এবং সেটার পেট্রোল অকটেন কেনার ডলার আনে, সেই সেক্টরকে অনেকেই মুল্যায়ন করে বলে মনে হয় না। বর্তমান প্রতিযোগী গ্লোবাল মার্কেটিং এ যে এই সেকটর দাঁড়িয়ে আছে, সেটা তাদের নিজেদের পরিশ্রমের ফল।

এদেশে গার্মেন্টস ছাড়াও আরো অনেক সেক্টর আছে যেখানে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী কাজ করেন। সে সব কর্মচারির দায়দায়িত্ত অই সব সেক্টরের মালিকগন কেনো নিচ্ছেন না, সেটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন আসে না। আবাসন খাত, কন্সট্রাকশন খাত, কৃষি খাত, চামড়া খাত, আরো অন্যান্য খাতের শ্রমিকদের কথা তো কেউ বলেন না যে, তারা কেনো এই সব শ্রমিকদের দায় দায়িত্ত নেয় না?

একদম ক্ষুদ্র একটা উদাহরণ দেই, যারা এতো বড় গলায় বাহাদুরী করে কথা বলেন, তাদের বাসার যে ৩/৪ জন ছুটা বুয়া কাজ করে, সেই সব ছুটা বুয়ার আগামী তিন মাসের বেতন ভাতা যদি আজকে দিতে বলা হয় কোনো কাজ না করিয়ে, অথবা বলা হয় যে, কেউ ঐ সব ছুতা বুয়ার যে টাকাতা দিতে হবে তা সরকার বা অন্য কোনো লোক ধার দেবেন কিন্তু টাকাতা পাবে সরাসরি বুয়ারা কিন্তু লোনটা হবে গৃহকর্তার নামে, তখন তারা এক নিঃশ্বাসে বলবেন, আরে, কাজ করে নাই তাহলে আমি তিন মাসের বেতন ভাতা সেটা কিনা প্রায় হাজার বিশেক টাকা আমি দেবো কেনো? কিন্তু অন্যের বেলায় ঠিকই মন্তব্য করবেন, যাদের ঘামে আজ এই সেক্টরের মালিকরা কোটিপতি, তারা এই ভার নিবে না কেনো? কই, আপ্নারা যারা এতো লম্বা লম্বা কথা বলেন, তারা উদ্যোক্তা হন না কেনো? পরের গোলামি না করে দিন না একটা গার্মেন্টস কারখানা? আপ্নারাও কোটি পতি হয়ে যান!! খালি ফেয়ার এন্ড লাভলী মেখে ফেসবুক কাপালেই ইন্টেলেকচুয়াল হওয়া যায় না।

আমার এই মন্তব্য সবার বেলায় প্রযোজ্য না, কিছু কিছু লোক আছে যারা গোলামি করতে পছন্দ করে কিন্তু যার গোলাম  তাকে সে ঘৃণা করে। তার ঘৃণার একটা কারন হচ্ছে- সে কেনো পারবেনা, আর অন্য কেনো পারলো। আর যেহেতু সে নিজে পারলো না, তাই, যখনই পারো, মারো গুতা। আবারো ছোট আরেকটা উদাহরণ দেই? আমাদের প্রানপ্রিয় সেনাবাহিনীর নামেও কিন্তু কেউ কেউ কথা বলার সময় কম কয় না? কিন্তু বিপদের বেলায় এই বাহিনি ছাড়া চলে না। সার অব্যবস্থাপনা? আর্মি। বন্যা? আর্মি। মহামারী? আর্মি। যেই বিপদ শেষ, আর্মি আবার কেডা। ঠিক এইরকম, যখন ডলার লাগবে, গার্মেন্টস শিল্প, যখন রিজার্ভ বাড়াতে হবে, এই শিল্প,। চাকুরী নাই? তো গার্মেন্টস তো আছে। আবার এই শিল্পকে কিভাবে চেপে ধরা যায়, কথার ফুলঝুরি আর মাটিতে পড়ে না। অনেক শিক্ষিত মানুষের মুখেও এই রকমের কথা শুনি যিনি গার্মেন্টস এর টার্মনোলজিই জানে না। এলসি কি, ইউপাস কি, শোর টু শোর কি, ব্যাক টু ব্যাক কি, কমপ্লায়েন্স কি, ইডিএফ কি, ইউডি কি, এফ ও বি কি, থার্দ পার্টি কি, কিছুই না। কিন্তু কথা যখন বলে, মনে হয় পায়ের নীচে রাজপ্রাসাদ।

অথচ গার্মেন্টস শিল্প একটা প্রতিনিয়ত চেলেঞ্জের মুখে কাজ করছে। কখনো বিদেশীদের দাবীর মুখে একর্ড, এলায়েন্স আরো কত যে বাহানা। কই ওইসব বায়াররাও তো এতোদিন মানবতা, সোস্যাল রাইটস নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে, ১৮ বছরের নীচে শ্রমিক নেয়া যাবে না, একর্ড কোয়ালিফাই না হলে অর্ডার দেওয়া যাবে না, ইত্যাদি। তারাও তো এখন তাদের আওড়ানো বুলির ধারে কাছেও নাই। তারা তো তৈরী পোষাকগুলিও নিতে অস্বীকার করছে!! আর এবার? এই করোনা ভাইরাসের প্রভাবে খুব বেশী দেরী নাই যে, এটা আমরা পসিবল কম্পিটিটরদের কছে মার্কেট হারাতে বসেছি। এখন খালি সময়ের ব্যাপার।

একটা পরিসংখ্যান তুলে ধরছিঃ গত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত আমাদের গার্মেন্টস এর যারা প্রতিযোগী দেশ, তাদের করোনা পরিস্থিতিটা একবার দেখুন। তাহলে বুঝা যাবে, আমাদের থেকে এই অর্ডার ঐসব দেশে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা কতটা যুক্তিসংগত।

দেশ/ আক্রান্ত সংখ্যা/ মৃত্যুর সংখা/ টেস্ট এর সংখ্যা /পারসেন্টেজ হার

** বাংলাদেশ- ৮৬০/৩৯/১১২২৩ / ৭.৭%

ক। কম্বোডিয়া- ১২২/০ / ৫৭৬৮/ ২.১%

খ। ভিয়েতনাম- ২৬৫/০ /১২১৮২১/ ০.২২%

গ। শ্রিলংকা- ২১৭/৭ /৪৫২৫/ ৪.৮%

ঘ। ইথিউপিয়া-৭৪/৩/ ৫৪১০/ ১.৩৫%

চ। তাইওয়ান- ৩৯৩/ ৬ /৪৭২১৫/ ০.৮৩%

ছ। মায়ানমার ৪১/৪

জ। ইন্ডিয়া- ৯৬৩৫/৩৩১/১৮১১১১ / ৫.৩১%

এর মধ্যে আরো একটা খবর দিয়ে রাখি-

শিল্প বিপ্লবের প্রথম ধাপে ঘটে বস্ত্রশিল্প বিপ্লব। সুতরাং এই বিপ্লবে গার্মেন্টস সেক্টর চলে যাবে চীনের বলয়ে। চীন আফ্রিকার সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলগুলাকে দখল করে নিচ্ছে। এ বছরেও ৫০ বিলিয়ন ডলার লোন দিয়েছে শুধু আফ্রিকার দেশগুলোর অবকাঠামো ঠিক করার জন্য। সেসব কাজের ঠিকাদারি করছে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোই। বেশ জোরেশোরেই চলছে নির্মাণ যজ্ঞ। বড় বড় ব্রীজ, বিরাট সব পাওয়ার প্লান্টের কাজ চলছে। টাকা দিচ্ছে চায়না, কাজ করছে চায়না, শুধু লোনটুকু ফিরিয়ে দেবে আফ্রিকা! বাজি ধরেই বলা যায়, আগামী পঞ্চাশ বছরের মধ্যে চীন বিশ্বে নতুন ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে। চীন জানে আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলো তাদের টাকা ফিরিয়ে দিতে পারবে না, যেমনটা পারেনি শ্রীলঙ্কা। লোনের দায়ে হাম্বানটোটা বন্দরকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিতে বাধ্য হয়েছে লঙ্কানরা। আফ্রিকার সমুদ্র বন্দর এবং সস্তা শ্রমের দিকেই নজর চীনের। এইসব সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলগুলো পুরোপুরিভাবে তৈরি করার পরপরই চীন যা করবে তা আমাদের জন্য ভয়ংকর দুঃসংবাদই বয়ে আনবে।

ইতিমধ্যে ইথিওপিয়ার মত দেশও আমেরিকার কাছ থেকে বড়সড় অর্ডার নিচ্ছে। ওদের মজুরিও আমাদের চেয়ে কম। আফ্রিকা থেকে আমেরিকা-ইউরোপ বেশ কাছাকাছি। সুতরাং কমে যাবে শিপিং কস্ট, কমে যাবে লেবার কস্ট। ওদের শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়লে এবং এই খাতটা একটু ম্যাচিউরড হলেই ইউরোপ আমেরিকার বায়াররা বাংলাদেশের মতো দূরবর্তী দেশে আসবে না- একথা বলাই বাহুল্য।

রেমিট্যান্স প্রায় শুন্যের কোটায় দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, পাট শিল্প এখন আর সোনার ডিম নয়, চিংড়িখাত ভংগুর, এখন বাকী আছে শুধু গার্মেন্টস সেক্টর। সেটাও এই করোনা এবার ভালোভাবেই আক্রান্ত করেছে।

যদি একে হাতছারা করি, তারপর কি? অনেক বিজ্ঞজনেরা অনেক কিছু না জেনেই অনেক মন্তব্য করেন বটে, কিন্তু যেদিন নিজের প্লেটে আর আগের মতো বিরিয়ানী আর পিজ্জা উঠবে না, তখন মনে হবে- সোনার ডিম পাড়া মুরগীটা গেলো কই?

২৮/০৩/২০২০- করোনা ভাইরাস-১

Categories

রবী ঠাকুর তার "প্রায়শ্চিত্ত" নামের এক ছোট গল্পে একটা কথা লিখেছিলেন, "স্বর্গ ও মর্তের মাঝখানে একটা অনির্দেশ্য অরাজক স্থান আছে যেখানে ত্রিশঙ্কু রাজা ভাসিয়া বেড়াইতেছেন, যেখানে আকাশ কুসুমের অজস্র আবাদ হইয়া থাকে। সেই বায়ুদূর্গবেষ্টিত মহাদেশের নাম 'হইলে-হইতে পারিত'। যাহারা মহৎ কার্য করিয়া অমরতা লাভ করিয়াছেন তাহারা ধন্য হইয়াছেন, যাহারা সামান্য ক্ষমতা লইয়া সাধারন মানবের মধ্যে সাধারনভাবে সংসারের প্রাত্যাহিক কর্তব্যসাধনে সহায়তা করিতেছেন তাহারাও ধন্য; কিন্তু যাহারা অদৃষ্টের ভ্রমক্রমে হটাত দুয়ের মাঝখানে পড়িয়াছেন তাহাদের আর কোনো উপায় নাই। তাহারা একটা-কিছু হইতে পারিতেন কিন্তু সেই কারনেই তাহাদের পক্ষে কিছু-একটা হওয়া সর্বাপেক্ষা অসম্ভব।

এই কথাগুলির সাথে বর্তমান বিশ্ব মহামারী করোনা পরিস্থিতির একটা মিল রহিয়াছে। অনির্দেশ্য অরাজক স্থানের ত্রিশঙ্কু রাজা আমাদেরকে সেই সর্গ আর মর্তের মাঝে এমন করিয়া ফেলিয়া দিয়াছেন যেখানে কিছু মহৎ মানুষ অন্যের সেবা দান করিয়া অমরতা লাভ করিতেছেন, আবার কিছু নিতান্তই সাধারন মানব তাহাদের সংসারের দায়িত্ত পালন করিয়াও ধন্য হইতেছেন। কিন্তু আমরা যারা না মহৎ মানুষের দলে, না পুরুপুরি সাধারন মানবের দলে, তাহারা অদৃষ্টের ভ্রমক্রমে এই দুইয়ের মাঝে পড়িয়া হাজার খানেক গার্মেন্টস জনগোষ্টিকে লইয়া এমনরুপে হিমসিম খাইতেছি, যে, না এই বিশাল জনগোষ্টি আমাদেরকে দোষারুপ করিতে পারিতেছে, না আবার ক্ষমাও করিতে পারিতেছে, না আমরা কোনো দৈব ক্ষমতায় তাহাদেরকে এইরুপ কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারিতেছি যে, কোনো অসুবিধা নাই, আমরা আছি তোমাদের সাথে। তোমরা আকাশের পানে চাহিয়া, আর আমাদের কথার উপর ভিত্তি করিয়া যাহা নির্দেশ হইতেছে তাহাই করিয়া যাও, কোনো ভয় নাই। সর্বদাই একটা শংকা কাজ করিতেছে মনের ভিতর, মাথার ভিতর আর এই দুই শঙ্কা প্রতিনিয়ত কাবু করিয়া ফেলিতেছে জীবনীশক্তি থেকে শুরু করিয়া আয়ুষ্কালও। চারিদিকে আজ সারা বিশ্ব ব্যাপিয়া করোনা প্রতিটা ব্যক্তি, প্রতিটা সংসার আর গোটা সমাজ জীবনকে এমন করিয়া চাপিয়া ধরিয়া ত্রাসের সৃষ্টি করিয়াছে যে, নীরব শোকের ছায়াতলে সুগভীর সহিষ্ণুতা আর ধরিয়া রাখা যাইতেছে না।

ঢাকা শহরের রাস্তার একটা রুপ আছে। যত্রতত্র যানবাহনের ছড়াছড়ি, যেখানে সেখানে জটলা, হকারদের একচ্ছত্র দৌরাত্ত, পদভ্রজকদের যেনোতেনো হাটাহাটি, ফেরীওয়ার চিৎকার চেচামেচি, জনসমাগম, মিছিল, মিটিং, আরো যে কতকিছু দিয়া ভরপুর থাকে এই শহরের প্রতিটি অলগলি, আনাচে কানাচে। কোথাও দিনেরবেলায়ও অলস লাইটম্যানদের মনভোলার কারনে প্রখর সুর্যালোকেও রাস্তার স্ট্রীট লাইটগুলি আলো দিতে থাকে, উলটা পালটা গাড়ির হর্ন, স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের অবাধ চলাচল ইত্যাদি মিলাইয়া ঢাকার রাস্তাঘাট শুধু সচল নয়, যেনো মহাসচল হইয়া ব্যস্ততায় ভরপুর হইয়া থাকে। অথচ, আজ দুইদিন পর ফ্যাক্টরীর অফিসে আসিবার নিমিত্তে সকাল সাতটার সময় ঘর ছাড়িয়া আমি যেনো আমার সেই চিরাচরিত চেনা ঢাকা শহরকে নিজেই চিনিতে পারিতেছিলাম না। ঢাকার রাস্তার এই নতুন রুপ আমার চোখে আগে কখনো পড়ে নাই। ঈদের ছুটি সমুহের ইহার একটা নমুনা জানিতাম, কিন্তু আজ সেই ঈদের ছুটির সময়ের রাস্তার চেহারাও মলিন হইয়া নতুন এক রুপে আবির্ভুত হইয়াছে।

কোথাও কোনো হকার নাই, ছাত্র-ছাত্রীদের কোনো পদচারনা নাই, মিটিং মিছিল যেনো উধাও হইয়া কোথায় যেনো স্থবির হইয়া ঝিমাইতেছে, ফেরী ওয়ালাদের সেই চেনা ডাক নাই, কোনো যানবাহনের হর্নও শোনা যাইতেছে না। মাঝে মাঝে বিকট সংকাপূর্ন সুর দিয়া কিছু এম্বুলেন্স অথবা ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ফাকা রাস্তা পাইয়া  উর্ধগতিতে পাশ কাটিয়া কোথাও হারাইয়া যাইতেছে, আর তারসাথে কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জলপাই কালারের সেনাবাহিনীর গাড়ি অথবা নীল রংগের পুলিশের গাড়ি এদিক সেদিক টহল দিতেছে, অথচ দেশে কোনো যুদ্ধ নাই, কারফিউ নাই, না আছে কোনো জরুরী অবস্থা।  মাত্র ২২ মিনিটে অনায়াসেই আমি আমার অফিসে চলিয়া আসিলাম। 

বর্তমান পরিস্থিতে যেখানে প্রতিটি পরিবার তাহাদের আপনজনের সুরক্ষায় চিন্তিত, নিজেদের জানমালের সুরক্ষায় চিন্তিত, আর এই সুরক্ষার তাগিদে সবাই ঘরের মধ্যে বন্দি হইয়া আছেন। কেহই মহামারীর আক্রান্ত হইবার ভয়ে ঘর হইতে এক কদম ও বাহির হইতে নারাজ, সেখানে আমরা যারা ঐ অদৃষ্টের ভ্রমক্রমে হাজারখানেক গার্মেন্টস জনগোষ্টির দায়িত্তপ্রাপ্ত হইয়াছি, তাহারা নিজের সুরক্ষার পাশাপাশি, নিজের পরিবারের সুরক্ষা ছাড়াও এই বিশাল জনগোষ্টীর সুরক্ষায়ও চিন্তিত। আমি খুব গর্ববোধ করিতেছি যে, এই কঠিন দূর্যোগের দিনেও যেখানে প্রতিটি সাধারন মানুষ তাহাদের রুটি রোজগার লইয়া মহাচিন্তায় শংকিত, সেখানে অদৃষ্টের ভ্রমক্রমে হাজারখানেক গার্মেন্টস জনগোষ্টির দায়িত্তপ্রাপ্ত হইয়া সমস্ত দুসচিন্তা, সমস্ত দায়ভার নিজের কাধে লইয়া কিছুটা হইলেও তাহাদের রুটি রোজগারের ব্যবস্থা করিতে পারিতেছি, তাহাদের এই দুঃসময়ে পাশে দাড়াইয়া একটু হইলেও আশার আলো দেখাইতে পারিতেছি, তাহাতেই আমি সুখী এবং খুশী। মহা সংকট ময় এই দিনে যখন সবার ঘরে সুরক্ষায় থাকিবার কথা, আমি এবং আমার মতো অদৃষ্টের ভ্রমক্রমে হাজারখানেক গার্মেন্টস জনগোষ্টির দায়িত্ত প্রাপ্ত  মালিকগন এই সব শ্রমিক দের জন্য নিজের সন্তানের মতো, নিজের পরিবারের মতো নিজেদের ক্যাপাসিটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়া কারখানার ভিতরে সুরক্ষার ব্যবস্থা করিবার আপ্রান চেষ্টা করিয়া যাইতেছি। এতোগুলি মানবের জন্য যখন আমাদের প্রান নিয়োজিত, ঈশ্বর নিশ্চয় আমাদেরকে এবং আমার মতো সেইসব অদৃষ্টের ভ্রমক্রমে হাজারখানেক গার্মেন্টস জনগোষ্টির দায়িত্ত প্রাপ্ত  মালিকগনকে হেফাজত করিবেন।

ফলে রবী ঠাকুরের সেই কথাগুলি -"যাহারা অদৃষ্টের ভ্রমক্রমে হটাত দুয়ের মাঝখানে পড়িয়াছেন তাহাদের আর কোনো উপায় নাই। তাহারা একটা-কিছু হইতে পারিতেন কিন্তু সেই কারনেই তাহাদের পক্ষে কিছু-একটা হওয়া সর্বাপেক্ষা অসম্ভব" - বলিয়া মনে  হইলো না। আমরা হয়তো একটা কিছু হইতে পারিয়াছি। বাকিতা মহান ঈশ্বর জানেন।

২৮/০৩/২০২০-করোনা ভাইরাস-২

Categories

করোনা ভাইরাস প্রথম ধরা পড়ে চীনের উহান শহরে। তারা জানতো এই ভাইরাসের তীব্রত এবং ক্ষতিকারক দিকগুলি। ফলে, কর্তৃপক্ষ ব্যাপারটাকে বিশ্বসমাজে ধামাচাপা দেওয়ার নিমিত্তে উহানকে আইসোলেট করে তারা নিজস্ব সোর্স এবং দেশ বিদেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে নামে বেনামে এর প্রতিষেধক ক্রয় করে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলো। কিন্তু একটা সময়ে সেটা আর চাপা দেওয়ার সম্ভব না হওয়ায় ভাইরাসটির ব্যাপারে তারা প্রকাশ করতে যেমন বাধ্য হয়, তেমনি তাদের গাফিলতির কারনে ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসটি বিভিন্ন দেশে সংক্রমনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটা যেমন চীনের করা ঠিক হয় নাই তেমনি এই করোনার তীব্রতা নিয়েও বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান এবং জনগনও প্রাথমিকভাবে বেশী গুরুত্ত না দেওয়ায় ব্যাপারটা এখন বৈশ্বিক মহামারিতে পরিনত হয়েছে যেখানে প্রতিনিয়ত মানুষ মারা যাচ্ছে আবার নতুনভাবে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েও পড়ছে। সারাবিশ্ব এখন ঘরবন্দি। কিন্তু ঘরবন্দিই এর সমাধান নয়। এর প্রধান কারন ১৪/১৫ দিন ঘরে বন্দি হয়ে হয়তো যারা আক্রান্ত হন নাই বা হয়েছেন তাদের উপসর্গটা বুঝা যাবে কিন্তু যিনি ১৪ তম দিনে আক্রান্ত হবেন, তাকে তো আবারো ১৪/১৫ দিন বন্দি থাকতে হবে। তাহলে এভাবে কি চলতেই থাকবে কোয়ারেইন্টাইন? কিন্তু কতদিন? কত মাস বা কত বছর? একজন আক্রান্ত ব্যক্তিই পারে আরো নতুন মানুষকে আক্রান্ত করতে, ফলে ঘরবন্দি এর সমাধান নয়। এর সমাধান হতে হবে প্রতিটি মানুষ করোনা আক্রান্ত কিনা তার টেষ্ট করা। এটা সহজ কাজ নয়। জার্মানি, ইতালী, চীন, আমেরিকা, স্পেন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে পরীক্ষা করছে। যেখানে আমরা সম্ভবত এ পর্যন্ত আইইডিসিআর এর মাধ্যমে ১০৬৮ জনকে টেস্ট করতে পেরেছি। তাতে যদি চলতি মার্চ মাস পুরোটা ধরা হয়। তাহলে ২৮ দিনে,এ পর্যন্ত গড়ে ২৪ ঘন্টায় ৩৮ জনকে টেস্ট করা হয়েছে। কিন্তু করোনাতঙ্কে বিদেশ থেকে এসেছেন প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী। সেই হিসাব দেখা যায় ২৪ ঘন্টায় ৪২ জনকে টেস্ট করলে ১০ লাখ মানুষকে পরীক্ষা করতে লাগবে ২৩,৪০৯ দিন অর্থাৎ ৬৫ বছর। এই কাজ করতে যদি এই এত বছর লেগে যায়, তাহলে কি সারা দেশ এত বছরই ঘরবন্দি হয়ে থাকবেন? এটা কিছুতেই সম্ভব না।

এরজন্য সত্যিকার অর্থে যা করনীয় তা হচ্ছে, সত্যি তথ্য জানা। সরকার, এবং ব্যক্তি পর্যায়ে প্রতিটি মানুষ একযোগে সত্য পরিবেশন করা এবং তার বিরুদ্ধে কার্যকরী ভুমিকা নেওয়া। আমাদের দেশে করোনা নাই, (যদিও টেষ্টের মাধ্যমে পরীক্ষিত নয় বক্তব্যটা) বা আর নতুন কোনো করোনা হয় নাই, এইসব কথা বলে আমরা আপাতত ক্রেডিট নিতে পারি কিন্তু লং রানে যা ঘটবে যে,

(১) সারা বিশ্ব যখন করোনা মুক্ত হয়ে যাবে, তখনো আমাদের দেশে পরীক্ষা না করার কারনে হয়তো বা কিছু কিছু মানুষের করোনার উপসর্গ ধরা দিতে পারে যা অন্যদেশ এইসব গুটিকতক মানুষের জন্য আমাদের বহির্গমন যাত্রা অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করে দিতে পারে। একটা কথা আমার মনে হয় যে, এখন থেকে সমস্ত এয়ারপোর্টে করোনার বিপরীতে স্বস্ব দেশের এয়ারপোর্ট করোনা আছে কিনা এই টেষ্ট করিয়েই কোনো যাত্রীকে তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দিবে হয়ত। আর এটা যদি হয় নতুন কোনো শর্ত আরোপ, তাহলে, আমাদের দেশের যাত্রীদের মধ্যে যদি এই ধরনের কোনো সিম্পটম কোথাও পাওয়া যায়, সাথে সাথে এই তথ্য এক দেশ থেকে আরেক দেশে বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে আর তখন যেটা হবে, সেটা হলো এই যে, লোক, যাত্রী, এমন কি মালামাল স্থানান্তরেও বাংলাদেশকে সমগ্র বিশ্ব কোয়ারেন্টাইন করে ফেলতে পারে।

(২) আরেকটা মারাত্মক ব্যাপার ঘটে যেতে পারে যে, সঠিক করোনা আক্রান্ত তথ্যের অভাবে প্রকৃতপক্ষে করোনায় মৃত্যুবরনকারীর করোনা হয় নাই এইটা বিশ্বাস করে তার কবর, তার গোসল, জানাজা ইত্যাদি পালনের কারনে দেশে নতুন নতুন করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে শেষ অবধি না একটা মহামারীর রুপ নিয়ে নিতে পারে। তখন দেখা যাবে, বিশ্ব যেখানে প্রায় করোনা মুক্ত, আমরা সেখানে মহামারীতে আক্রান্ত।

(৩) এই অবস্থায় ঠিক যা যা ঘটছে, তা তা সব মিডিয়ার মাধ্যমে গুজব না ছড়িয়ে সঠিক তথ্যটা আমাদের সবাইকে জানানো দরকার এবং যত দ্রুত সম্ভব আক্রান্ত এলাকায় বা পরিবার বা যারা কোনো না কোন একটা উপসর্গে (হাচি, কাশি, জর, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদির যে কোনো একটা) মারা যাচ্ছেন, তাদের এবং তাদের সাথে মেলামেশা করেছেন এমন ব্যক্তি বর্গ/এলাকায় জরুরি টেষ্ট করিয়ে নিশ্চিত করা তিনি করোনায় মৃত্যুবরন করেছেন কি করেন নাই। এটাই এখন সমাধান। এ ব্যাপারে ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত একটা তথ্য (আমি এর সত্যতা জানি না) শেয়ার করছি যে,

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, টেস্ট না করার কারণে সঠিক সংখ্যা জানা যাচ্ছে না যে দেশে আসলে করোনা আক্রান্ত সংখ্যা কত। এদিকে জাতিসংঘের ফাঁস হওয়া একটি আন্তঃসংস্থা নথি মোতাবেক, করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রশমন ও অবদমনে জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে “৫ লাখ থেকে ২০ লাখ” মানুষের মৃত্যু হতে পারে। “জাতীয় প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা” (সিপিআরপি ভি১) শীর্ষক এই নথিতে এই সংখ্যাকে “ভয়াবহ” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ঢাকায় বিদেশী কূটনীতিকদের এই নথিটি দেওয়া হয় বলে খবর প্রকাশ করেছে সুইডেন ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম নেত্র নিউজ। ২৬ মার্চের এই নথিতে বলা হয়, “বাংলাদেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব অত্যধিক হওয়ায়, বৈশ্বিকভাবে প্রযোজ্য মডেলিং পদ্ধতি ও পরামিতি অনুমান অনুযায়ী, কভিড-১৯ রোগের প্রভাবের পূর্বাভাস হলো, মহামারী চক্রে ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ মানুষের জীবনহানি ঘটবে। অন্যান্য দেশে ব্যবহৃত মডেলিংয়ের বিপরীতে চিন্তা করলে এই সংখ্যা ও মাত্রা খুব আশ্চর্য্যজনক কিছু নয়। কিন্তু এই সংখ্যা অত্যন্ত ভয়াবহ। এই সংখ্যাকে বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো উচিৎ।”

ধীরগতির টেস্টের কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিকেও যেতে পারে। তখন শুধু লকডাউন দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না।

২৮/০৩/২০২০- করোনা ভাইরাস-৩

Categories

আগামি ৪ এপ্রিল সরকার ঘোষিত লক-ডাউন সিস্টেমে সেলফ কোয়ারেইন্টাইন শেষ হবে। গত দুই তিন দিন যাবত মিডিয়ায় দেখতে পাচ্ছি, নতুন কোনো করোনার রোগী শনাক্ত হয় নাই বরং যারা শনাক্ত হয়েছিলেন, তাদের অধিকাংশ রোগী ভাল হয়ে গেছেন। খবর যদি সত্যি হয়, আলহামদুলিল্লাহ।

কিন্তু কোনো কারনে যদি আমাদের এই তথ্যের মধ্যে গাফিলতি থাকে, তাহলে সাধারন মানুষ উক্ত তথ্যকে সত্যি মনে করে যখন নির্বিগ্নে ঘরের বাইরে চলে আসবে, ঢল নামবে, তখনই হবে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। সুতরাং যারা পারেন, যাদের সামর্থ আছে, তারা নিজেরা আরো ১৫ দিনের অঘোষিত সেলফ কোয়ারেইন্টাইনে থাকুন, ব্যাপারটা বুঝুন এবং পরিষ্কার হোক পরিস্থিতি, তারপর বের হোন।

আর যদি নিতান্তই বের হতে হয়, মনে মনে বিশ্বাস করুন যে, করোনার প্রভাব এখনো আপনার আশেপাশেই আছে, এখন যেভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছেন, বাইরে গেলেও ঠিক একইভাবে আরো অন্তত ১৫/২০ দিন সব কিছুর ব্যাপারে অধিক সতর্ক থাকুন। বাকীটা পরিবেশই আপনাকে বলে দেবে পরিসংখ্যানটা কি।

২৮/০৩/২০২০-করোনা ভাইরাস-৪

Categories

৯/৪/২০২০
আজকে মিডিয়ায় একটা খবর দেখে আমি একেবারেই অবাক হই নাই। আর সেটা হলো, আগামিতে বিশ্বে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ দরিদ্র সীমার নীচে চলে আসবে এই করোনা ভাইরাসের ব্যবসায়ীক মন্দার প্রভাবে। বিশ্বে প্রায় ১৩% বানিজ্যিক মন্দা বিরাজ করবে।

যে দেশে দরিদ্র সীমার নীচেই বসবাস করে প্রায় ২০-৩০% মানুষ, সেখানে যদি ঐ হারে দেশে দারিদ্রের হার আরো বেড়ে যায়, তখন দেশ করোনা ভাইরাস মহামারী থেকে মুক্ত হয়ে যুক্ত হবে আরেক মহামারীতে যার নাম দূর্ভিক্ষ। আমাদের দেশের লোকাল জিডিপি এমন নয় যে, অনায়াসেই সমগ্র দেশকে মাসের পর মাস সরকার তার নিজ তহবিল থেকে এই ২য় মহামারী সামাল দিতে পারবে। যেহেতু সমগ্র বিশ্ব এখন মন্দায় কাবু, সেক্ষেত্রে বহির্দানও যে খুব একটা আশা করা যায় তেমনও হবে না। প্রতিটি দেশ তাদের নিজ নিজ অবস্থা সামাল দেয়ার জন্য নিজেদের তহবিল থেকে অন্যত্র সাহাজ্যের নিমিত্তে তহবিল ছাড় দেবার সম্ভাবনা খুবই কম। এমতাবস্থায় সবক্ষেত্রে এখুনী বড় ছোট সেক্টরে হোমওয়ার্ক করা খুবই জরুরী। সেই হোমওয়ার্ক গুলি কি কি হতে পারে?

১। উন্নত দেশগুলির করোনা ভাইরাসের অবস্থা ধীরে ধীরে ক্রমশ উন্নতির দিকে যাচ্ছে। এর প্রধান কারন, উক্ত দেশগুলি আমাদের দেশের বেশ আগেই সংক্রামিত হয়েছে বিধায় তারা আমাদের আগেই প্রতিকুল অবস্থাটা পেরিয়ে উঠতে পারবে। এই সময় হটাত করেই দেখা যাবে, পুনরায় বিশ্ব বানিজ্য বিশেষ করে পোষাক শিল্পে, কৃষিখাতে, কিংবা রপ্তানীমুলক খাতগুলিতে অন্যান্য দেশ বানিজ্য শুরু করবে। ঐ সময় যদি আমাদের দেশের করোনার অবস্থার কোনো উন্নত না হয়, তাহলে অন্যান্য দেশ যারা তুলনা মুলকভাবে করোনা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে তারা সব রপ্তানীমুলক কার্যাদেশগুলি ছিনিয়ে নেবে। একবার যদি এই সুযোগগুলি দেশ থেকে হাতছারা হয়, ২য় বার পুনরায় তা বহাল রাখা বা ফিরিয়ে আনা হবে অনেক কঠিন। সেক্ষেত্রে হোমওয়ার্কের আওয়তায় পরিস্থিতি এমন হতে পারে যে, যারা যারা করোনার বিরুদ্ধে সমস্ত প্রোটেক্সন নিয়েই রপ্তানীমুলক কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন বলে আশস্থ করতে পারবেন, হয়তোবা সরকার নিরুপায় হয়েই সেসব কারখানা চালিয়ে রাখার আদেশ দিতে হতে পারে। এটা করতে হবে কারন অর্থনীতির যোগান না হলে, কোনো অবস্থাতেই কোনো সরকার, সমাজ বা পরিবার কিছুতেই অনির্দিষ্টকালের জন্য এই প্রতিকুল অবস্থা সামাল দিতে পারবেন না। এই মুহুর্তে হয়তো অনেক মিডিয়া, অনেক বুদ্ধিজীবিরা রপ্তানীমুলক শিল্পগুলির বিরুদ্ধে অনেক মজাদার কথা বলে যাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু তখন অনেক নিরুপায় হয়েই আবার এইসব মিডিয়াই কিংবা বুদ্ধিজীবিরা একটু শিথিল পরিবেশেই রপ্তানি কাজ কেনো চালিয়ে যাচ্ছেন না, করা যেতে পারত ইত্যাদি বলে বলে হয়তো মুখে ফেনা তুলে ফেলবেন। কৃষক যদি খাদ্যে দেশকে সাবলম্বি করে দিতে পারেন, আর এই রপতানীমুখী শিলপ গুলি যদি বৈদেশিক মুদ্রা এনে দিতে পারেন, তাহলেই গাড়িতার তেল পুড়িয়ে খাবারটা খেয়ে অন্তত কেউ বুদ্ধিজীবির মতো টক শোতে আসতে পারতেও পারেন। সরকারের তহবিল মোটা করতে সবার যেমন সঠিভাবে ট্যাক্স প্রদান, সবার দায়িত্তশীল ভুমিকা পালন করা দরকার সেখানে এই দেশে সবে মাত্র ৪০% নাগরীক সরাসরি সরকারকে সাহাজ্য করেন, যার থেকেই সরকার এই সব ডেভেলপমেন্ট কাজ, বিশেষ তহবিল গঠন করেন। তাই সরকার জানেন তিনি কিভাবে কোন পরিস্থিতিতে আছেন। সবার ইন্টেলেকচুয়াল কথা শুনলে তো দেশ চালানো যাবে না। সব দায়িত্তই সরকারের নয় এটা সবারই বুঝা উচিত। আপদকালীন সময়ে হয়তো সরকার তার সর্বস দিয়ে ক্রিটিক্যাল সময়টা পার করে দিতে পারেন কিন্তু মাসের পর মাস এটা কোনো সরকারের পক্ষেই পারা সম্ভব না, আর আশা করাও কোনো দায়িত্তশীল নাগরিকের কাম্য নয়। হাওয়া যখন গরম হয়, তখন আমরা বলি শনির দশা চলছে। আর শনি এমন এক হাওয়ার নাম যে, যেখানেই যাই হোক বলির পাঠা হয় সরকার। সরকারের সাথে সাথে বলির পাঠা হয় সেই সব অরগ্যানাইজেশন গুলিও যাদেরকে চোখে দেখা যায় তারা। ফলে কেনো সরকার ওটা করলেন না, কেনো সরকার ঊটা করতে গেলেন, কিংবা কেনো ঐ অরগ্যানাইজেশন গুলি এতা করছে না ইত্যাদি। সমালোচনার আর শেষ নাই। কিন্তু কেউ যেনো দায়িত্তশীল নয়, সব দোষ এই সরকার বাহিনীর।

তাই এই মুহুর্তে আমার ধারনা, রপ্তানীমুলক প্রতিষ্ঠানগুলিতে যারা কাজ করেন, তাদের শতভাগ করোনা টেষ্ট করে এটা নিশ্চিত করা যে, তারা এই মহামারীতে আক্রান্ত হন নাই এবং যখনই বাইরের দেশগুলি করোনা শেষে পুনরায় রপ্তানীর জন্য আগ্রহী হবেন, তখন যেনো আমাদের রপ্তানীমুলক শিল্পগুলি কোনো রিস্ক ছাড়া দ্রুত উতপাদনে গিয়ে শতভাগ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনতে পারেন তার ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে, এই সব শ্রমিক কর্মচারিদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে না রেখে কারখানা কোয়ারেন্টাইনে রেখেই রপ্তানীমুলক কাজে উতসাহিত করা। এটা এখনি করতে হবে সেটা বলছি না। সময়টা হবে যখন উন্নত দেশগুলি পুনরায় বানিজ্যিক কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত নেবেন তখন। মিডিয়া অনেক সময় সরকারের অনেক ঘটনমুলক কাজকে যেমন উতসাহী করেন আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেকটা না বুঝেই নিরুতসাহীও করে ফেলে। অনেকেই বলতে শুনি যে, পলিটিক্সে মিডিয়া একটা হুমকীর মতো। ফলে কখনো কখনো রাজনীতি মিডিয়ার কাছে একটা বেওয়ারিশ বোমের মতো হয়। কেউ জানে না উটা কখন কিভাবে কোথায় ফাটবে আর কে কে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এজন্য আমাদের দরকার, যারা প্রকৃতভাবেই অর্থনীতি বুঝেন, বিশ্ব রাজনীতি বুঝেন, তাদেরকে টকশোতে প্রকৃত অবস্থাটা মিডিয়ায় বাস্তবভাবে তুলে ধরা। কান্ডজ্ঞানহীন কিছু মানুষ যখন জ্ঞানবিহিন কোনো বিষয়ে কথা বলেন, তখন যারা সরল আমজনতা, তারা বিভ্রান্ত হন। আমজনতাকে বিভ্রান্ত করা দেশের জন্য একটা অশুভ কাজ।

২। কৃষি খাতকে আরো দেশীয়ভাবে সাবলম্বি করে তোলা যাতে খাদ্য নিরাপত্তায় আমাদের দেশের কৃষক এবং ভুমিগুলি অন্তত খাদ্য ঘাটতি পুরনে সক্ষম হয়। কারন একটা সময় আসবে, যখন টাকা খাওয়া যাবে না, বা ডলার খাওয়া যাবে না, দরকার খাদ্য শস্য। আর আমাদের জমি, ভুমিই হতে পারে সাময়িকভাবে তার একমাত্র অবলম্বন।

৩। ডেভেলপমেন্ট খতে এই মুহুর্তে বিশেষ নজর না দিয়ে ঐ সব ফান্ডগুলি শুধুমাত্র সাস্থখাত, ভর্তুকি এবং অন্যান্য কাচামালের উপর বিশেষ ছাড় দেয়া। যাতে করোনার উন্নতির পাশাপাশি সমস্ত শিল্প, সমস্ত উদপাদনশীল কারখানাগুলি দ্রুততম সময়ে বৈদেশীক মুদ্রা ঘরে আনতে পারে। যতো বেশী বৈদেশিক মুদ্রা ঘরে ঢোকবে, তত দ্রুত দেশের অর্থনীতর চাকা সল্প সময়ে চালু হবে। কর্ম সংস্থান বাড়বে। দূর্ভিক্ষ কমবে। (চলবে)

(লেখাটি কোনো পক্ষকেই সমালচনা করার জন্য নয়, এতা একটা ঘটনমুলক চিন্তা থেকেই ব্যক্তিগত মতামত। আপ্নারাও আপনাদের ঘটন মুলক মতামত দিতে পারেন।)

Isa Ruhul Karim Isa Food security is the base, we must put maximum efforts on agricultural at this moment.

Mohd Akhtar Hossain খাদ্য সয়ং সম্পর্নতায় যেটা হবে তা হচ্ছে, দেশের মানুষ ক্রিটিক্যাল সময়টা অন্তত না খেয়ে সাফার করবে না। আবার আমদানিও করতে হবে না। আসলে আমদানী করার কোনো স্কোপও থাকবে না কারন সব দেশই একই পলিসি এডোপ্ট করবে, কোনো খাদ্য শস্য হয়তো তেমন ভাবে রপ্তানীও করবে না। আগে নিজের দেশের চাহিদা মেটানোর পর যদি সারপ্লাস থাকে তাহলেই হয়তো চড়া দামে অন্য দেশ তা রপ্তানি করবে, আবার সেক্ষেত্রেও তোমার বৈদেশিক মুদ্রা লাগবে। ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, কিংবা অনেক কাচামাল আছে যা আমাদের রপ্তানীর জন্য কিংবা ডেইলি লাইফে চলার জন্যেও তা আমদানী করতে হবে। তাহলে সেই সব কমোডিটিজ আনতে বৈদেশিক মুদ্রা পাবো কই? সেই জন্যএই আমাদের পোষাক শিল্পকে এবং এই জাতীয় শিল্প যারা বৈদেশিক মুদ্রা সহজেই আনতে পারে তাদেরকে দাড় করাইতে হবে দ্রুত।

Mosharraf Hossain লিখেছেন ভালো ।তবে এ মূহুর্তে আপনার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সরকারের পক্ষে কঠিন হবে ।বি জি এম ই ও বিকে এমই এর নেতৃবৃন্দ কে আরও চৌকষ হতে হবে ।তাদের সাথে সদস্যদের সমন্বয়ের অভাব আছে মনে হয়। হতাশ হওয়ার কিছু নেই,যেখানে ধ্বংস সেখানে সৃষ্টির সুযোগ সৃষ্টি হয়।

Mohd Akhtar Hossain আমি এই মুহুর্তের কথা বলছি না আসলে। আমি বলছি যে, এটা হোমওয়ার্ক দরকার যখন অন্যান্য দেশগুলি করোনার ইফেক্ট থেকে বেরিয়ে এসেই বিপুল পরিমানে সব ব্যাপারে ঘাটতি পুরনে সর্বাত্তক কাজে লেগে যাবে, তখন । তখন আমাদের কি কি করা উচিত যদিও আমরা তখনো কিছুটা করোনায় কবলিত থাকবো হয়তো। এই মুহুর্তে কেহই কিছু করতে পারবে না বলেই সব দেশের সরকার আপদ কালীন ঠেক দিচ্ছেন। আমিও সেটাই বলছি, যখন স্রিষ্টির সুযোগটা আসবে, তখন আমরা সেই সুযোগটা নিতে পারবো কিনা। নাকি অন্য কেউ সেটা নিয়ে নেবে স্যার।

Mozaharul Islam Shawon গতকাল শুনেছি গার্মেন্টস মালিকের কাছ থেকে যে বেশিরভাগ অর্ডার বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। আবার মাত্র ১ সপ্তাহ সময় দিয়েছে এক্টা বড় অর্ডারের সিপমেন্ট এর জন্য। দেখলাম তারা প্রানান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন অন্তত যেটুকু কাজ বাকি আছে,সেই সেক্টরকে চালিয়ে সিপমেন্ট সময়মত করার। এই অংশে বাধা দেবার কিছু নাই। তবে মহামারির প্রয়োজনিয় পরীক্ষা করার সক্ষমতা যেন গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ নিতে পারেন,সেই সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু বাস্তবতা কি বলে?

Mohd Akhtar Hossain শাওন ভাই, বেসিক্যালি এ যাবত পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের উপর অর্ডার বাতিল হলেও গার্মেন্টস সেক্টর প্রায় ৫০/৬০ বিলিয়ন অর্ডারের কাজ করে বাংলাদেশ। বায়াররাও তাদের এই মৌলিক চাহিদা পুরন করতে হবে। ফলে অনেক আদেশ বাতিল হয় নাই, পুশ ব্যাক করেছে, বা হোল্ড করেছে। কিন্তু অনেক বায়ার আবার এই সর্তও দিয়েছে যে, পেমেন্ট করতে চায় আরো ৬ মাস পড়ে। তাতেও বাংলাদেশের রাজী হওয়া উচিত যদি বায়ার শুধু সিএমটা দেয়। কোনো কারনে যদি এই বিপুল পরিমান অর্ডার আসলেই শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায়, তাহলে যে যাইই কিছু বলুক, দেশের অর্থনীতিকে চাংগা করার মতো আর কোনো সেক্টর নাই যেখানে এই পরিমান ফরেন কারেন্সী আনা। রেমিটেন্স এই মুহুর্তে বা আরো কয়েক মাস প্রায় শুন্যের কোটায় থাকবে। সেক্ষেত্রে বিকল্প কি? বিকল্প একটাই, একে সচল করা। একটা কথা ঠিক শাওন ভাই, আপনি হয়তো এই শিল্পের সাথে জড়িত কিছু মানুষের সাথে আলাপ আলোচনা আছে বলে এই মন্তব্যতা করতে পেরেছেন যে, " অন্তত যেটুকু কাজ বাকি আছে, সেক্টরকে এলাউ করা যে সিপমেন্ট গুলি বাকী আছে তা সময়মত করার। এই অংশে বাধা দেবার কিছু নাই। তবে মহামারির প্রয়োজনিয় পরীক্ষা করার সক্ষমতা যেন গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ নিতে পারেন,সেই সুযোগ থাকা উচিত।"। কিন্তু এমনো কিছু গুনিজন আছেন যারা না জানে আদার ব্যাপারীর কাজ না জানে জাহাজের খবর কিন্তু মন্তব্য করে যেন উনীই একমাত্র কান্ডারী। যেনো এই করিলে সেই হইবে, ঐ না করিলে উহা হইবে না। হাসি মাঝে মাঝে।

Mozaharul Islam Shawon Mohd Akhtar Hossain

জি বৃহত স্বার্থে জরুরী বটে। তবে নিজ দায়িত্বে হলেও কর্মিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা জরুরী। সেজন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার সকল ব্যবস্থা নেবার ক্ষমতা গার্মেন্টস মালিকদের দেয়া উচিত এবং সেখানে সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রন রাখা উচিত। বিমানবন্দরের সনদ পাওয়ার মত যেন না হয়।1

Mohd Akhtar Hossain Mozaharul Islam Shawon একটা মালিক শুধু দেশের কমপ্লায়েন্স সিস্টেমেই দায়বদ্ধ না। সে ইন্তারন্যাশনাল লেবার আইন, কমপ্লায়েন্স, সেফটি এন্ড ওয়ার্কি এনভায়রনমেন্ট পরিপুর্ন করলেই ব্রান্ড বায়ারের কাজ করতে পারে। ফলে যে সব প্রোটেকসন নিয়ে গার্মেন্টস মালিকগন কাজ করেন, সেটা অনেকেই জানে না। রানা প্লাজার পর সব কিছু আমুল পরিবর্তন যে হয়েছে এটা অনেকের পেটেও নাই, মাথায় তো নাইই। বাসায় যতোতা না করোনার ব্যাপারে মানুষ যত্ন নেয়, তার থেকে অনেক বেশি গুনে মালিকপক্ষ করোনার ব্যাপারে যত্নশীল। আর এতার মনিটরিং রেকর্ড করে বিজিএমইএ, এবং ব্রান্ড বায়ার সবাইকে রিপোর্ট পাঠাতে হয় যেমন থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা মাপা হয়েছে কিনা, প্রতিটা সিড়ি থেকে শুরু করে টেবিল পর্যন্ত সেনিটাইজ করা হয়েছে কিনা, ফ্লোর সেনিটাইজ করা হয়েছে কিনা, সোস্যাল ডিস্ট্যান্সে বসাচ্ছে কিনা, মাস্ক পড়ছে কিনা, হ্যান্ড সেনিটাইজ দিয়ে প্রতিবার বের হওয়্যার সময় বা বাহির থেকে আসার পর হাত ধোয়া হচ্ছে কিনা, এই সব কিছুই মালিকগন নিজের সার্থেই করে থাকেন। কারন এখানে একটা লোক আক্রান্ত মানে উরা ফ্যাক্টরি আন্ডার লক দাউন। নিজেরা সহ। তো কে চায় নিজের ক্ষতি করতে? মালিকগন নিজের পরিবারের থেকেও বেশি যত্নশীল তাদের ফ্যাক্টরির ওয়ার্কারদের ব্যাপারে। এটা কেউ বিশ্বাস করুক আর নাইবা করুক। কারন আমি নিজে করি।

Mozaharul Islam Shawon Mohd Akhtar Hossain
গুড। এর সাথে তাদের আবাসস্থলের দিকেও নজর দিতে হবে এবং সুরক্ষায় আনতে হবে। সেখানেও আপনাদের তদারকিতে নিতে হবে। আমি কি খুব বেশি বিরক্ত করছি?1

Mohd Akhtar Hossain Mozaharul Islam Shawon না, আপনি ঠিকই করছেন। এটা বিরক্ত না শাওন ভাই, এতা বাস্তবতা যেতা আপনি বলছেন। আমাদের ওয়ার্কাররাও কিন্তু এখন অনেক সচেতন। তারা নিজেরাও ফ্যাক্টর থেকে হ্যান্ড সেনিটাইজার নিয়ে বাসায় যায়, মাস্ক নিয়ে যায়, আমরাই দেই। আবার সেতা ঠিক্মতো ওয়াস হচ্ছে কিনা সেতাও আমরা পরীক্ষা করি। আর তাদেরকে তো মোটিভেশন করেই যাচ্ছি।

২৮/০৩/২০২০-করোনা ভাইরাস-৫

Categories

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এমন এক মহামারী চলছে যে, তৃতীয় কোনো বিশ্বযুদ্ধ হলেও কোনো না কোনো পক্ষ বিপক্ষ থাকতো, আর এই দুই পক্ষ-বিপক্ষকে সামাল দেয়ার জন্য হয়তো তৃতীয় কোনো সমঝোতাকারীও থাকতো। কিন্তু এখানে পক্ষ যেনো একটাইঃ দৃশ্যমান মানবজাতী বনাম অদেখা অমাবশ্যারমতো করোনার মহামারী। সারাবিশ্ব আজ স্থবির। থেমে গেছে সব। সবাই আজ এক কাতারে, কেউ আজ আর কারো জাত, ধর্ম কিংবা গোত্র নিয়ে কথা বলে না। এই অমাবশ্যায় সব কিছুই উলট পালট হয়ে যাচ্ছে, সব কিছুর হিসাব পালটে যাচ্ছে। এই অমাবশ্যা কবে কাটবে সেটাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না। অনেকেই হয়ত অমাবশ্যা কাটার জন্য জজ্ঞের আয়োজন করছেন, উপাসনা করছেন, কিন্তু অমাবশ্যা কাটবে কিনা সেটা কোনভাবেই জজ্ঞ নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। কারন, এই মহামারী বর্তমান মানবজীবনের অস্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক করতেই যেনো এর আবির্ভাব। অর্থাৎ বিধাতার শুদ্ধি অভিযান চলছে। সবাই যেন দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন, কোনটা সঠিক সিদ্ধান্ত আর কোনোটা সঠিক নয় এটাও সঠিকভাবে নিতে পারছেন না, না দেশের সর্বোচ্চ মহল, না তাদের আমলাতন্ত্র না সাধারন জনগন। সবাই দিশেহারা। সারাটা বিশ্ব যেনো একটা মর্গ। মর্গে যেমন ঠাণ্ডা থাকে তেমনি থাকে নিস্তব্দতা। বিশ্ব এখন ঠান্ডা আর নিস্তব্ধ।