Chittagong and Nilgiri Tour

Please wait while flipbook is loading. For more related info, FAQs and issues please refer to DearFlip WordPress Flipbook Plugin Help documentation.

গত ২৬ মার্চ ২০১৮ তারিখ থেকে আমি আমার পুরু পরিবার নিয়ে  কক্সবাজার, হিমছড়ি, নাইক্ষংছড়ি, আলিকদম, ফসিয়াখালি, বান্দরবান, বে ওয়াচ বিচ, ইনানী বিচ, স্বর্ণ মন্দির, ১০০ ফুট বৌদ্ধ মূর্তি, সাঙ্গু নদি ভ্রমন, নীলগিরি, মেঘলা, নীলাচল, শইল্ল্যকুপা ঘুরে এলাম। প্রায় ২৮ বছর পর আমি আবার হিল ট্র্যাক্স এলাকায় গেলাম। আমার কাছে প্রতিটি জিনিষ নতুন মনে হচ্ছিলো।

একটা সময় নব্বই এর দশকে আমরা যখন হিলে চাকুরী করতাম, তখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় হেটে হেটে পেট্রোলিং করে করে যেতাম। হোক সেটা ছুটির জন্য নেমে আসা, অথবা ছুটি থেকে আবার ক্যাম্পে যাওয়া, অথবা খাবারের রেশন আনা। এক ক্যাম্প থেকে আরেক ক্যাম্পে যেতে সময় লাগতো প্রায় ছয় সাত দিন। ২০/২৫ জনের একটা পেট্রোল নিয়ে অস্ত্র হাতে অতি সন্তর্পণে প্রান বাচিয়ে বাচিয়ে ক্যাম্প থেকে আরেক ক্যাম্পে যেতে হতো। একদিকে মশার কামড়, ম্যালেরিয়ার ভয়, আরেক দিকে শান্তি বাহিনীর অতর্কিত হামলার ভয়। খুব সহজ ছিলো না জীবন। অথচ আজ এবার গিয়ে দেখলাম, প্রতিটি জায়গায় গাড়ি যায়। স্থানে স্থানে বিশাল আকারের রিসোর্ট হয়ে গেছে। মানুষ এখন হিলে যায় সময় কাটাতে, আনন্দ করতে, ফুর্তি করতে। আর আমাদের সময় আমরা প্রতিদিন আতংকে কাটিয়েছি কখন শান্তি বাহিনীর সাথে আমাদের গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। কে কখন জীবন না নিয়ে ফিরে আসে এই ভয়ে।

সময় কি জিনিষ। সব কিছুর সাক্ষী। সময় পালটে দেয় যুগ, যুগ পালটে দেয় মানুষ, মানুষ পালটে দেয় সভ্যতা। আর সব কিছুই হচ্ছে ইতিহাস। আমি যেনো সেই আদিম কালের সভ্যতার সাথে বর্তমান কালের সভ্যতাটাকে তুলনা করছিলাম আর অবাক হচ্ছিলাম। যে পথ দিয়ে আমার শরীরের ঘাম ঝরেছে হেটে হেটে, সেই পথ এখন পিচ ঢালা। যে পথে যেতে আমি সর্বদা আমার ঈশ্বরের নাম জপতে জপতে পার হয়েছি, কোনো লোকারন্য ছিলো না, মানুষ জনের চলাচল ছিলো না, সেখানে এখানে নতুন টেকনোলজি এসেছে, নতুন সভ্যতা এসেছে, মানুষের কোলাহলের সেস্নাই। এখানে জীবন আর আগের মতো নাই। এসি বাস চলে, বিদ্যুৎ আছে, নানা রকমের ফল মুল অনায়াসেই পাওয়া যায়, যখন তখন বের হওয়া যায়, কি অদ্ভুত পরিবর্তন। আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগের তোলা ছবির সাথে আজকে তোলা ছবির কতইনা তফাত অথচ জায়গাটা এক, গাছগুলিও এক, পাহাড়গুলিও এক। যে ঝর্নাটা আজ থেকে ৩০ বছর আগেও যেভাবে পানির ধারা প্রবাহিত করতো, সেই একই ঝর্নাটা আগের মতোই পানির ফোয়ারা দিয়ে যাচ্ছে। যে মেঘ মালা পাহাড়ের গা ঘেঁষে ঘেঁষে এক স্থান্থেকে উরে উরে আরেক পাহাড়ের গায়ে গিয়ে থমকে যেতো, সেই এক ই মেঘের ভেলা আজো সেই রকম করেই আক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে থমকে যাচ্ছে, কিন্তু আগে সেই নিঃশব্দে বহমান ঝর্নার পানি, অথবা মেঘের সেই অদ্ভুত পাগ লামী যার অপূর্ব শোভা দেখার কেউ ছিলো না, আজ হাজার হাজার দর্শনার্থী ঐ ঝর্নার পাশে, ঐ পাহাড়ের মেঘের সাথে কতইনা অঙ্গভঙ্গি করে স্মৃতি করে রাখছে। ঝরনার মধ্যেও যেনো একটা প্রান এসেছে। আজো মশারা আছে, হয়তো আমার মতো সেইসব জোয়ান মশারা আজকে বুড়ো হয়ে শেষ হয়ে গেছে, তাদের কাছেও হয়ত পাহাড় আর আগের মতো নাই। অনেক মানুষের গায়ে তারা তাদের ইতিহাস লিখে দিচ্ছে।